স্বাধীনতা রক্ষার দ্বায়িত্ব কার?
স্বাধীনতা অর্জনের চেয়ে রক্ষা করা কঠিন। এটা ধ্রুব সত্য। তবে এই সত্যের অনেকগুলো তাৎপর্য রয়েছে। যেমন স্বাধীনতার মর্যাদা না দেয়া, বহিশত্রুর আক্রমণ থেকে দেশকে রক্ষা করা এবং সবচেয়ে ভয়ংকর এবং চ্যালেঞ্জিং হলো ভেতরের ছদ্মবেশী শত্রু চিহ্নিত করে তাদের কাছ থেকে সাবধান থাকা। আর এই ছদ্মবেশীদের চিহ্নিতকরনের জন্য মোটামুটি একটা উপযুক্ত স্থান হলো অন্তর্জাল তথা ইন্টারনেট।
সামাজিক যোগাযোগের সাইটগুলো বেশ জনপ্রিয়। ইন্টারনেটের সহজলভ্যতার কারণে আমাদের দেশেও এর জনপ্রিয়তা নিয়ে বলার কিছুই নেই। যে কয়টি সোস্যাল নেটওয়ার্কিং সাইট আছে তার মধ্যে ফেইসবুক বেশ কয়েক বছর ধরেই শীর্ষে। যার একটি ইমেইল আছে ধরে নেয়ার যায় তার অন্তত একটি ফেইসবুক একাউন্ট আছে। যেকোন সংবাদ খুব দ্রুত ছড়িয়ে দেয়ার জন্য এই সকল সাইটগুলোর প্রতিদ্বন্দ্বিতা স্বয়ং সংবাদপত্রগুলোও করতে পারছে না, তাই প্রায় সকল সংবাদ পত্রের ফেইসবুকে অন্তত একটি করে ফ্যান পেইজ রয়েছে। এই ফ্যান পেইজে লাইক দেয়া থাকলেই সেই পেইজ থেকে যাই শেয়ার দেয়া হচ্ছে চলে আসছে আমাদের ফিড এ। এসব নিয়ে আসলে এখন আর বলার প্রয়োজন নেই। এসব এখন মোটামুটি সবাই বোঝে। তার প্রমাণ পেয়েছি যখন শুনেছি আমার এক পরিচিতজন তার শ্বশুরের সাথে ফেইসবুকে চ্যাট করছে।
আমার এই পোস্টের মূল উদ্দেশ্য আসলে ফেইসবুক নিয়ে কিছু বলা নয়। আমরা অনেকেই জানি, আমাদের দেশের স্বাধীনতার পক্ষের এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা মনে প্রাণে ধারণ করে এমন প্রত্যেকটি মানুষের প্রাণের দাবী, একাত্তরের ঘাতক দালালদের বিচার এবং তার রায় কার্যকর। তবে এর সাথে একথাও কিন্তু সত্যি আমাদের এই স্বাধীন দেশেই ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে এমন অনেক লোকজন যারা এখনো বিশ্বাস করে বাংলাদেশের স্বাধীনতার কোন প্রয়োজন ছিলো না, পাকিস্তানের সাথে থাকলেই ভাল হতো। আমার এই কথা শুনে আমি জানি অনেকের চোখ কপালে উঠে গেছে, অনেকের বুকে চিন চিন শুরু হয়েছে, আবার অনেকের মনে হচ্ছে আসলেই তা সত্যি। যারা এই কথাটিকে সত্যি ভাবছেন, ধরে নেয়া যায় তারা কিছুটা হলেও প্রত্যক্ষ করেছেনে ঐ শ্রেণীর কর্মকান্ড। আমি আজ তেমন কিছু কাজের তথ্য এবং বাস্তব প্রমাণ দিব।
গত ২০১০ সালের ২৫শে মার্চ শুরু হয়েছে একাত্তরে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর দোসর রাজাকার, আল বদর, আল শামসদের হর্তাকর্তাদের বিচারের কাজ। এদের সকলেই আমাদের জাতির ঘৃণ্যতম অধ্যায় রচনার জন্য দায়ী। এরা চায়নি স্বাধীনতা। তবে এরা চেয়েছিল পাকিস্তানী সামরিক সরকারের সহায়তায় পূর্বপাকিস্তানের ক্ষমতা। তারই ধারাবাহিকতায় স্বাধীনতার পরবর্তী সময়েও তারা পূর্বপাকিস্তান পূনরুদ্ধার কমিটি করে আন্তর্জাতিক মহলে চালিয়েছিল ব্যাপক তৎপরতা। সেই চেষ্টা যখন সফলতার মুখ দেখেনি তখন তারা শুরু করে নতুন পরিকল্পনা। তারা বুঝতে পেরেছিল বঙ্গবন্ধুর মত মানুষ থাকলে তাদের মত দালালদের এদেশে স্থান হবেনা। আর এই কারণেই স্বপরিবারে শেষ করে দেয়া হয় বাঙ্গালী জাতির শ্রেষ্ট সন্তান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান কে। তাতে সবচেয়ে বেশী লাভবান হয়েছে কারা? তা আমরা খুব সহজেই বুঝতে পারি। গোলাম আযম সহ যারা নাগরিকত্ব হারিয়েছিল, তাদের অনেকেরই দেশে ফেরা, পরবর্তীতে রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়া এবং সর্বশেষ দেশের প্রধান বিরোধী দলের ঘাড়ে চেপে বসে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বানচাল করার সর্বাত্মক চেষ্টা অন্তত এটাই প্রমাণ করে ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগষ্টের পরে সবচেয়ে লাভবান হয়েছে স্বাধীনতা বিরোধী মহল।
দেশে চলছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুন্যাল (১ এবং ২) এর অধীনে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার। আমাদের দেশ এর পূর্বে এমন বিচার কার্য হয়নি বরং এদের বিচার যেন করা না হয় সেজন্যই অনেক অনেক আইন করে গেছে তাদের সহযোগীরা। তাই পূর্ব অভিজ্ঞতার অভাবে বিচার ভুল-ত্রুটি থাকতেই পারে। এই বিচার কার্যকে নিঃস্বার্থভাবে সর্বাত্মক সহযোগীতা করে যাচ্ছে দেশে বিদেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা স্বাধীনতার চেতনা ধারণকারী হাজারো বাঙ্গালী। এদের অনেকেই আবার সামষ্টিকভাবে কাজ করার চেষ্টা করছে যার মধ্য উল্লেখযোগ্য আই সি এস এফ এর স্বেচ্চাসেবীরা। তাছাড়া ব্যক্তিউদ্দ্যেগে নিজের খেয়ে কোন লাভের আশা না করে, শুধুমাত্র দেশের প্রকৃত ইতিহাস পরবর্তী প্রজন্মের হাতে তুলে দেয়ার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন অমি রহমান পিয়াল, নিঝুম মজুমদারের মত মানুষ এর মত মানুষগুলো। এই মানুষগুলো আমাদের প্রেরণা, এই মানুষগুলোকে দেখলে নিজের ইচ্ছে হয় যদি তাদের মত করে অন্তত দেশকে ভালবাসতে পারতাম। এই মানুষগুলো এক একজন এক একটা তথ্যভান্ডার। তাদের মাধ্যমে আমার মত অনেকেই জানতে পারছি স্বাধীনতার প্রকৃত ইতিহাস এবং স্বাধীনতাবিরোধীদের অনেক অনেক ঘৃণ্য কার্যকলাপের কথা।
স্বাধীনতার পক্ষের লোকজন যেমন প্রতিনিয়ত তাদের চেষ্টা অব্যহত রেখেছে, ঠিক তেমনি এই মানুষগুলোকে দমানোর চেষ্টাও অব্যহত রেখেছে স্বাধীনতাবিরোধী মহল। আমার এই পোস্টের মূল লক্ষ্য আসলে তাদের কিছু কার্যকলাপের বিবরণ তুলে ধরা।
আমরা সকলেই জানি প্রথম সারীর যুদ্ধাপরাধীরা বাংলাদেশে একটি রাজনৈতিক দলের কর্ণধার। তারা গত ৪১ বছর ধরেই চালিয়ে গেছে তাদের মিথ্যা প্রপাগান্ডা। লক্ষ্য, নতুন প্রজন্মকে বেইন ওয়াশ দিয়ে তাদের আনুগত্য লাভ এবং এক সময় এই দেশের শাসনভার। তবেইতো তারা সফল। তবে প্রত্যক্ষভাবে শাসনক্ষমতা দখল করতে না পারলেও তারা নতুন প্রজন্মের একটি গোষ্টিকে তাদের দলে ভেড়াতে পেরেছে, তাদের ধর্মভীরুতাকে কাজে লাগিয়ে। তারা ব্যবহার করেছে শান্তির ধর্ম ইসলামের ছাতা। এখানে উল্লেখ্য যে, তাই বলে তারা ইসলামের সোল এজেন্ট হয়ে যায়নি। কিন্তু আমাদের তরুন প্রজন্মের কিছু মাথা মোটা লোকজন মনে করে ইসলাম মানেই হলো ঐ দলের আনুগত্য। এটা আসলেই ভুল ধারণা। সে কথায় যাচ্ছিনা, আসি মূল কথায়।
এই স্বাধীনতা বিরোধীরা তাদের সর্বশক্তি নিয়োগ করেছে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বানচাল করার লক্ষ্যে। এর জন্য বিদেশী এজেন্ট নিয়োগ থেকে শুরু করে, ব্যক্তি পর্যায়ে আক্রমন এবং হুমকি ধমকিও করে যাচ্ছে। তারা বিশ্বাস করে, কোনভাবে কালক্ষেপন করে এই সরকারের মেয়াদকাল পার করে দিতে পারলেই তারা বেঁচে গেল। তারা জানেনা, তাদের বিচার এই সরকারে চাওয়া নয়, এটা ত্রিশ লক্ষ শহীদ পরিবারের প্রত্যেকটি সদস্যের চাওয়া, এই বিচার প্রত্যেক বীরাঙ্গনার প্রতিটি রক্তবিন্দুর চাওয়া, এই বিচার বেঁচে থাকা প্রতিটি মুক্তিযোদ্ধা এবং তাদের সন্তানদের চাওয়া।
বর্তমানে ইন্টারনেটের সহজলভ্যতার কারণে খুব সহজেই বোঝা যাচ্ছে এবং সকল খবর পাওয়া যাচ্ছে কিভাবে যুদ্ধাপরাধীরা তাদের প্রাণ বাঁচাতে মরিয়া এবং আরো বোঝা যাচ্ছে গত ৪১ বছর ধরে তারা কিভাবে মীরজাফরীর বীজ বপন করেছে নতুন প্রজন্মের কাছে। তাই, এই সকল দালালদের উত্তরসূরীদের দেখলেই প্রতিরোধের দেয়ার দাঁড় করাচ্ছে স্বাধীনতার চেতনা ধারণ করা তরুন প্রজন্মের দল। অনেকের ধারণা শুধুমাত্র ৭১ এর দালালদের বিচার হয়ে গেলেই বুঝি দেশ শত্রুমুক্ত হয়ে গেল। এই ধারণাটিও ভুল। এই দালালগুলো যেই বিষবৃক্ষসমূহ রোপন করেছে তাদেরকেও সমানভাবেই প্রতিহত করতে হবে। এই দালালদের বিষবৃক্ষের প্রথম প্রমাণঃ

এরা কিন্তু সেই একাত্তরের প্রজম্ন নয়। এরা নতুন প্রজন্মের একটি অংশ। স্ক্রীণশটের স্ট্যাটাস এবং মন্তব্যগুলো পরলে পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে আমাদের ভাষা এবং সংস্কৃতির প্রতি এই ভালমানুষরূপী ব্যক্তির কেমন শ্রদ্ধাবোধ। আমাদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত প্রাণের প্রিয় ভাষাকে সে নির্দিধায় বলে গেল নিচু শ্রেণীর ভাষা।
শুধু কি ভাষা এবং সংস্কৃতির প্রতি অশ্রদ্ধা? মোটেই নয়। আসুন দেখি একই ব্যক্তির আরেকটি পোস্ট।

এই পোস্ট দেখে কি মনে হয়? বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের প্রতি তার শ্রদ্ধাবোধের খুব সুন্দর উদাহরণ। অনেকেই বলতে পারে, সে হয়তো আওয়ামীবিরোধী। তাই তাকে স্বাধীনতাবিরোধী আখ্যায়িত করা যায় না। তাহলে চলে আসি তার আরেকটি পোস্টে।

এবার কি বলা যায়? এরপর কি তাকে স্বাধীনতাবিরোধী বলা যায় না? হয়তো অনেকে বলবে দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর বিচার এখনো শেষ হয়নি তাই এখনো তাকে স্বাধীনতাবিরোধী কিংবা বাংলাদেশ বিরোধী বলা যায় না। তাহলে? আমি এখনো বলবো, চুলার ভাত সবকটি টিপে দেখতে হয়না। তবুও যারা সবকটি ভাত টিপে বুঝেন ভাত সিদ্ধ হয়েছে কিনা, তাদের জন্য পরবর্তী স্ক্রীণশট।

কি বুঝলেন? পাকিপ্রীতি!!!!!
এসব করেই কি তারা ক্ষান্ত? মোটেই নয়। তার উদাহরণ, ব্যপকহারে রিপোর্ট করে মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন ছবি ফেইসবুক থেকে সরানো, বিভিন্ন প্রমাণ/ভিডিও ইয়ুটিউব থেকে সরানো, এবং স্বাধীনতার পক্ষে কথা বলা মানুষগুলোর ইমেইল, সোস্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটগুলোতে একাউন্ট এবং ওয়েব সাইট হ্যাক। যার ভুক্তভোগী অনেকেই। এখন অনেকেই ভাবছেন আমি কিভাবে জানি এসব?
গতকাল দুই দফায় আমার একটি পোর্টাল সহ, যেই সার্ভারে মুক্তিযুদ্ধের বই নিয়ে সাইট bangladesh1971.org রয়েছে সেই সার্ভারের অন্তত ২০টি ওয়েব সাইট হ্যাক করে ঝুলিয়ে দেয়া হয়েছিল একটি কথা, তার স্ক্রীণশটঃ

এ থেকে বুঝতে পারলাম, এই চক্রটি খুব সক্রিয় এবং খুব গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে স্বাধীনতার পক্ষে এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিপক্ষে কথা বলা মানুষগুলোকে। বিষয়টি অনুধাবণ করেছে আমার পরিবারও, তাই ফোনে শুনতে হয়, “বাবা তুই আমাদের একমাত্র ছেলে, একটু সাবধান থাকিস। এরা করতে পারেনা এমন কিছুই নেই।”
বিগত কয়েক সপ্তাহ ধরে আমার ফেইসবুকে হ্যাক এটেম্পট হচ্ছে খুব জোড়েসোড়ে। প্রমাণ, ফেইসবুক থেকে একাধিক ইমেইল, এবং মোবাইল অথারাইজেশন চালু থাকার কারণে প্রতিদিন অন্তত ১০টির উপরে এস এম এস।
আজ সকালে ঘুম থেকে উঠে ভাবলাম, আমার মত একজন সাধারণ মানুষের প্রোফাইলে কে প্রতিদিন এসে এসে দেখতে যাবে আমি কি পোস্ট দিচ্ছি। আহা, এতেইতো বের হলো আসল রহস্য। তা হলো, আমাকে যারা সাবস্ক্রাইভ করে রেখেছেন তাদের তালিকা।

কে এই মহিউদ্দিন হিরো? এই হিরো সাহেবকেতো আমি চিনিনা !!
গেলাম তার প্রোফাইলে।

ব্যাস, সবতো ফিলিপ্স বাত্তির মতন ফকফকা। এমন আরো কতজন আছে তা খুঁজে করতে হবে। তবে আমি নিশ্চিত যারাই এই রাজাকাদের বিরুদ্ধে কথা বলছেন, তাদের সকলের পেছনে অন্তত এমন একজন করে লেগে আছে এবং নজর রাখছে সর্বক্ষণ আপনার প্রতিটি এক্টিভিটি এর উপর।
সরকার না হয়, তথ্য প্রমাণের ভিত্তিকে বিচার করবে ১৯৭১ সালের যুদ্ধাপরাধীদের, কিন্তু এই নব্য রাজাকারদের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করার দ্বায়িত্ব কার? এই দ্বায়িত্ব কি শুধু অমি রহমান পিয়াল ভাইদের মত মানুষের? এই দ্বায়িত্ব কি আই সি এস এফ এর স্বেচ্চাসেবকদের? এই দ্বায়িত্ব স্বাধীনতার চেতনায় বিশ্বাসী প্রতিটি বাঙ্গালীর। মনে রাখবেন, একজন অন্যায় কারীর চেয়ে, অন্যায় দেখে চুপ থাকা দশজনের কারণের দেশ এবং সমগ্র বিশ্বের অন্যায়কারীরা সাহস পায়, আরো নতুন অন্যার করার। তাই অন্যায়কারীকে দোষ দেয়ার সাথে সাথে আমি চুপ থাকা মানুষগুলোকেও দোষারোপ করি। একই ভাবে স্বাধীনতা বিরোধীদের সাথে সাথে ইতিহাস বিকৃত করে নতুন প্রজন্মের কাছে ভুল ইতিহাস প্রচার এবং ব্যাখ্যা প্রদানকে নিরব সমর্থন এবং তা দেখেও চুপ থাকা মানুষগুলোকেও আমার মেদিনী বিসর্জন দেয়া কাপুরুষ মনে হয়।





বলেন দাদা, কার?
এরকম জারজের সংখ্যা খুব কম না হলেও, এখনো আমাদের সংখ্যার কাছে ওরা নগন্য। বাচ্চা রাজাকারগুলো আর যাই করুক, ইতিহাস মুছে ফেলতে পারবে না, কিংবা বদলাতে পারবে না। আমরা জেগে আছি। আমাদের মতো আরো এক কোটি জেগে আছে। জারজ চামচিকেরা পরাজিত শক্তি হয়েই থাকবে আজীবন।
খুব মনোযোগ দিয়ে পড়লাম।
আমি নিজেও অনেকের ক্ষেত্রে দেখেছি; তারা আসলে মানসিকভাবেই রাজাকার আর তথাকথিত দ্বিজাতি তত্ত্ব তাদের মনের কতো গভীরে ঢুকে আছে। অন্ধকারের প্রানিদের তাড়াতে আলো জ্বালানো জরুরী। খুব জরুরী। আর তা হবে সাংস্কৃতিক-রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক সব ক্ষেত্রে। আর খুব সততার সাথে এই কাজটা করতে হবে। কথিত সাম্প্রদায়িক মানসিকতার চাষ-বাস করে স্বাধীনতাবিরোধিদের সাথে লড়াই করা অনেক কঠিন। আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা এখোনো যুগোপযোগী নয়।
ধন্যবাদ অনিমেষদা। আপনাকে ফেবুতে রিকোয়েস্ট দিব, একটু পরে।
কী বলবো মিশু? সব আপনার লেখাতে চলে এসেছে। আমি শুধু নীড়দার সাথে সুর মিলিয়ে বলি-
ধন্যবাদ মেসবাহ ভাই।
সত্যি অনেক অবাক লাগে।
এরা নগণ্য হলেও অনেক সক্রিয়। আজকাল প্রথম আলোর পাঠক কমেন্টস পড়লেই বুঝা যায় এরা ইন্টারনেটে নিজেরা কিভাবে জালের মত ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে আমাদের আসে পাশেই।
ইন্টারনেটে সক্রিয় হওয়া ও ওদের নতুন পরিকল্পনা। এই বিষ বীজ থেকে গাছ ও হবে একদিন, কিন্তু আমাদেরকে এদের চিনতে হবে। এড়িয়ে যাবার দিন শেষ। কারন, আগাছাও ছেটে না দিলে বিশাল বিল্ডিং কেও নড়বড়ে, জঞ্জালে আয়ু কমিয়ে দিতে পারে।
রাজাকার মুক্ত বাংলাদেশ দেখতে চাই।
এই জারজের বাচ্চাগুলা সংখ্যায় কম বলে এদের হেলা করার কোন উপায় নাই। এরা সংঘবদ্ধ, এবং অনেক আগেই প্রমান হয়েছে যে এরা নেটে বসে এইসব কার্যক্রম করার বিনিময়ে টাকা পায়।
শুধু নেট না বিমা ভাই, এরা সুপরিকল্পিতভাবে আরো অনেক কিছুই করার বিনিময়ে টাকা পায়।
সমস্যার উৎস হচ্ছে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। আমাদের মত দেশে যেখানে শিক্ষার হার/মান নগণ্য সেখানে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সাধারণ মানুষকে সহজে ভুল পথে চালিত করতে পারে। তাই, ধর্মভিত্তিক রাজনীতি এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দুটোই বাংলাদেশে সাংবিধানিক ভাবে নিষিদ্ধ করা উচিত।
যদিও ক্ষমতাকেন্দ্রিক দুটি দলের কেউই এটি করবে বলে আপাততঃ কোন ভরসা পাচ্ছি না।
~
ধর্মকে পুজি করে যেকোন কিছুতেই খুব সহজেই অনেকগুলো ধর্মভীরু মানুষকে দিয়ে অনেক কিছু করিয়ে নেয়া যায়।
শুধু ভার্চুয়ালই না রাস্তা ঘাটেও এরকম অনেক তরুনকে আমি চিনি!
ঠিক
অসাধারণ লেখা , খুবই সময়োপযোগী ।
খুবই সময়োপযোগী লেখা , ধন্যবাদ লেখককে ।
ধন্যবাদ। ছড়িয়ে দিন, এবং এদের ঘোমটা উম্মোচন করে দিন।
এই হলো অবস্থা !!
এই সংবাদটি দেখেছি অনিমেষদা। সাকার এক সাক্ষীকে কোর্টেই আঞ্চলিক ভাষায় হুমকি দেয়া হয়েছিল যা আমি তার পরিবারের এক সদস্যের কাছে জানতে পারি। পরে সংবাদেও এসেছিল।
সেইদিন একটি নোট লিখেছিলাম ফেইসবুকে।
https://www.facebook.com/notes/saifur-r-mishu/%E0%A6%9A%E0%A6%B2-%E0%A6%86%E0%A6%B0%E0%A7%87%E0%A6%95%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%AF%E0%A7%81%E0...
পড়লাম।
আপনার বক্তব্যের সাথে একমত !!
বন্ধু,
আমরাতো মুসলমান তাইনা। তাই বলেই যদি দাবি করিস, তাহলে নিচের কমেন্টের প্রতিবাদ করিস।
স্বপ্নের ফেরীওয়ালা | জুন ২১, ২০১২ - ১০:৫২ অপরাহ্ন
"সমস্যার উৎস হচ্ছে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। আমাদের মত দেশে যেখানে শিক্ষার হার/মান নগণ্য সেখানে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সাধারণ মানুষকে সহজে ভুল পথে চালিত করতে পারে। তাই, ধর্মভিত্তিক রাজনীতি এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দুটোই বাংলাদেশে সাংবিধানিক ভাবে নিষিদ্ধ করা উচিত।"
আমি ভয় পাই, নাস্তিক মানুষেদের সাথে অনেক ক্লোজ হতে গিয়ে, তুইও কোন একদিন নাস্তিক হয়ে যাবি। ইসলাম নিয়ে কেউ গালাগালি করলে এড়িয়ে যাবি, পাছে রাজাকার বলে কেউ গালি দেয়।
নিজের ধর্মকে ডিফেন্স করে কি রাজাকারের বিচার চাওয়া যায়না?
এখানেতো ইসলামকে কিছু বলা হয়নি? এটা খুবই সত্য যে, ধর্মের ভয়ে এবং আবেগে অল্প শিক্ষিত মানুষগুলোকে ভুল পথে পরিচালিত করা সহজ, এই মন্তব্য তাই বলা হয়েছে। যার প্রকৃত উদাহরণ জামায়াত শিবির। জামায়াত শিবির ইসলামকে এমন ভাবে ব্যবহার করেছে যে এখন তাদের নিয়ে কিছু বললেই তা মানুষ ইসলামের সাথে গুলিয়ে ফেলে।
নীড় সন্ধানী বলেছেন,
তার বক্তব্যের সঙ্গে শক্তভাবে একমত।
আমিও
এসব সহ্য করার মত ধৈর্য, শক্তি আমরা যে কোথায় পাই!
সহ্য করতে হচ্ছে, আমাদের দেশের কিছু বেইমানদের কারণে।
রাজাকার মুক্ত বাংলাদেশ দেখতে চাই।
দল মত নির্বিশেষে রাজাকার মুক্ত বাংলাদেশ দেখতে চাই
মন্তব্য করুন