ফিরে দেখা ৭১ - পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ (পর্ব - ১)

[প্রথমেই বলে নিচ্ছি এই সিরিজটা প্রায় পাঁচ বছর পূর্বে অন্য একটি ব্লগে দিয়েছিলাম, তবে এবার আরো বেশী তথ্য হাতে নিয়ে শুরু করলাম, তাই বেশ কিছু পর্বে খুব বেশি মিল থাকলেও পুরো সিরিজটা হুবুহু মিলবে না। নতুন অনেক তথ্য যোগ করার আশা রাখছি।]
পাকিস্তান শাসনামল (১৯৪৭ - ১৯৭১)
পাকিস্তান মুলত এমন একটি দেশ ছিলো যার দুই খন্ডের মানুষে মানুষে শুধুমাত্র ধর্ম ছাড়া আর কোনই মিল ছিল না। হাজার মাইলের দুরত্ত ছারাও তাদের মধ্যে ছিল অনেক অমিল। সংস্কৃতি, ভাষা, আচার-আচরন এমনকি অর্থনৈতিক ব্যবধান।
পূর্ব পাকিস্তানের জনগনের সাধীনতা আন্দোলনের সুত্রপাত মুলত ১৯৫২ এর ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়েই। পাকিস্থানিরা সেদিন আমাদের মুখের ভাষা কেড়ে কিতে ছেয়েছিল যা এই অঞ্চলের মানুষ মেনে নেয়নি। ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারী পৃথিবীতে প্রথম কোন জাতি ভাষার জন্য প্রাণ দিয়েছিল।
[In 2001, UNESCO declared 21 February as International mother language day]
পুরো পাকিস্তান শাসনামলে এই অঞ্চলে গনতন্ত্র বলে কিছুই ছিল না।
ঐ সময়ের কিছু উল্ল্যেখযোগ্য ঘটনাবলীঃ
১৯৫৪ - মুসলিমলীগের বিপক্ষে যুক্তফ্রন্টের জয় কেড়ে নেয়া হয়।
১৯৫৬ - পাকিস্তানকে ইসলামী প্রজাতন্ত্র হিসেবে ঘোষনা।
১৯৫৮ - সামরিক শাসন জারী।
১৯৬২ - ছাত্ররা সামরিক শাসন বিরোধী আন্দোলন শুরু করে।
১৯৬৭ - গনমাধ্যমে রবীন্দ্র সংগীত প্রচার নিষিদ্ধ করা হয়।
পুরো পাকিস্তান শাসনামলে এই অঞ্চলের মানুষ তাদের ভাষা এবং সংস্কৃতির জন্য আন্দোলন করে যায়। সাংস্কৃতিকর্মীদের মাঝে দেখা দেয় গভীর অসন্তোষ।
গনমাধ্যমের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। শত শত আন্দোলনকারী ছাত্র এবং রাজনৈতিক নেতাদের গ্রেপ্তার করা হয়। সংবাদকর্মীরাও আন্দোলন শুরু করে তাদের অধিকারের জন্য।
১৯৬৬ সালে আওয়ামীলীগ নেতা শেখ মুজিবর রহমান ৬ দফা দাবি নিয়ে পুর্ব পাকিস্তানে গনতন্ত্র ও সায়ত্তশাসনের আন্দোলন শুরু করেন।
১৯৬৮ - শেখ মুজিবর রহমান, কিছু বাঙ্গালী সাধারন মানুষ এবং সেনা সদস্য এর বিরুদ্ধে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা হয়।
ইতিমধ্যে কেন্দ্রীয় ছাত্র কমিটি তাদের ১১ দফা আন্দোলন শুরু করে। ১৯৬৯ এ এই আন্দোলন চরম রুপ নেয়। ইউনিভার্সিটির ছাত্র আসাদ, নবকুমার স্কুলের ছাত্র মতিউর রহমান এবং রাজশাহী ইউনিভার্সিটির শিক্ষক শামসুদ্দোহা শহীদ হন।
চরম আন্দোলনের মুখে জেনারেল আয়ুব খান নতুন সৈরশাসক জেনারেল ইয়াহিয়া খানের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করে সরে যায়।
চরম চাপের মুখে ইয়াহিয়া খান ১৯৭০ এ সাধারন নির্বাচনের ঘোষনা দেয়। সেই নির্বাচনে আওয়ামীলীগ পূর্ব পাকিস্তানের ১৬৯ টি আসনের মধ্যে ১৬৭ টি আসন পায় যা সমগ্র পাকিস্তানের সর্বমোট ৩০০ আসনের মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ট ছিলো।
তৎকালীন সামরিক সরকার এই ফলাফল মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানায়।
[ইহা একটি ধারাবাহিক পোস্ট]





আপনার লেখা আগেও পড়েছি। আপনার লেখা এই ইতিহাস মোটামুটি আমরা কমবেশী জানি। যা জানিনা তা যদি একটু ডিটেইলস দেন। যেমন ১৯৬৬সালের ছয় দফায় কে বা কারা সর্ব প্রথম সমর্থন দেন , তারপ আগরতলার ষড়যন্ত্র মামলা কি ? এই মামলা কেন ? ইত্যাদি তবে প্রজন্ম অনেক কিছু বুঝবে তাদের প্রশ্ন গুলি আর প্রশ্ন হয়ে ধোঁয়াশার সৃষ্টি করবে না। আমরা আমাদের প্রজন্মকে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানাতে চাই
সিরিজের নাম ফিরে দেখা ৭১ হলেও এবার ৫২ থেকেই শুরু করবো
সহমত।
চলুক ধারাবাহিক। সঙ্গেই আছি। ডিসেম্বরকে সামনে রেখে আরো কিছু আয়োজন হাতে নিয়েন বস্।
দেখি কতটুকু সামনে নিয়ে আসতে পারি।
আরে মিশু নাকি? পথ ভুলে?
কেন? পথ ভূলে কেন হবে? তা আপনাকেতো চিনলাম না। ASL প্লিজ
সালামের জবাব দেয়া মুমিনের দায়িত্ব /// WS

চলতে থাকুক...
দারুন কাজ ভাল পোষ্ট!
চালিয়ে যান!
এই ধরণের গুরুত্বপূর্ণ লেখায় এত্তো বানান ভুল করলে (দ্রষ্টব্য: সাধীনতা, গনতন্ত্র, জনগনের, সায়ত্তশাসনের) লেখার গুরুত্ব কমিয়ে দেয়। অপরদিকে একাধিক জায়গায় শেখ মুজিবুর রহমান এর নাম কিংবা প্রথম শহীদ বুদ্ধিজীবী ড. শামসুজ্জোহা'র নাম ভুল করলে ভ্রান্ত ইতিহাস ছড়ানোর সম্ভাবনা তৈরি হয়। কারণ, তোমার লেখাকেই অনেকে রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করবে।
তাই একটু খেয়াল করে, ভাল কাজ খারাপ ভাবে করার সুযোগ নাই...
~
মন্তব্য করুন