রুশনাফের জন্য
কত মৃত্যু সংবাদ নিয়েই যে লেখা লাগে। যেমন বাসায় এসে শুনলাম রুশনাফ ওয়াদুদ চলে গেছে। মাত্র ৩৮ বছরের ছেলে ধুম করে চলে গেল কার্ডিয়াক এরেস্টেে। এরচেয়ে দু:খের আর কি হতে পারে। আমার সত্যি ভীষণ মন খারাপ। সে আমার বন্ধু নয় আড্ডার সাথীও নয়, কিন্তু এটেম্পটেড ব্যান্ডের ভোকাল ছিল সেই সূত্রেই চেনা। মেয়েদের ভীড়ে ইনস্টাগ্রামেও ফলো করতাম ওনাকে, মাঝেমধ্যে সুন্দর ইংরেজি গান কাভার করতো। দেখলেই মনে হতো অথেন্টিক একটা লোক। তার জী বাংলা ব্লুজ নামে দুর্ধর্ষ গান আছে। আমাদের মত মিলেনিয়াল মায়েদের নিয়ে এত সুন্দর গান কম আছে, শুনলেই কান্না পায়। আর এই বিকেলে ও মৌসুমী গান দুটো আমার ভীষণ প্রিয়। কোনো একদিন গ্রামের বাড়িতে বসে এসব গান শুনেছিলাম করোনার মধ্যে। এত ভালো গান কতদিন শুনিনা, মনে হয় এসবের জন্য বেচে থাকা। সেই ব্যান্ডের একটা ম্যাকগাইভারের ওপেনিংয়ে ট্রিবিউট আছে এত জোশ। আরাফাত কাজী তো বিখ্যাত কিন্তু সে কই থেকে যোগার করেছিল এসব ইন্ডিপেন্ডেন্ট রকস্টারদের। সেই ব্যান্ডের অন্য আরেকটা গান বলার লোভ সামলাতে পারছি না, দৌড়া পিচ্চি। এত ভালো এরকম হার্টফেল্ট গান গত ছয় বছরে আমি পাইনি। প্রেয়ার হলের পুনমকে দিয়ে তারা গাইয়েছে,
মাকসুদ বলেছিল প্রেম শুধু আশায় থাকা
কৌতুকের কম্ভল গায়ে কষ্টের শীত যায় না ঢাকা
খুবই আন্ডাররেটেড তারা। এবং বাংলাদেশের গানে যেটা হারিয়ে গেছে একটু সার্কাজম কিংবা হিউমার দিয়ে গভীরে যাওয়ার প্রবণতা সেটা দারুণ ভাবে তারা করেছে। রুশনাফের অকাল মৃত্যু আসলে মেনে নেয়ার মতো না। আমাদের মা দের জন্য সে লিখেছিল জী বাংলা ব্লুজে
আমি জানি আমি জানি
তোমার চোখের পানি আমি জানি
টিভির শব্দে কান্নার আওয়াজ লুকিয়ে যায়
তেলেভাজা গন্ধে কমদামী সাবান ধুয়ে মিশে যায়।
ভালো থাকবেন রুশনাফ। আপনি নাকি কদিন আগেও বলেছিলেন মজা করতে করতে যে মোহাম্মদপুরের পালিয়ে যাওয়া সন্ত্রাসী পিচ্চি রাজাকে নিয়ে গান করবেন, সেরকম ফান আর হবে না। কি সব মজা ছিল আপনাদের গানে, মিলু ভাইয়ের বাসায় চলো কিংবা ধানমন্ডির পোলা গুলশানের মাইয়া বা মলিকিউল খন্দকার এসব গান আর কারা করবে। ও সখিনা থেকে আকাশী কত কাভার আপনারা করেছেন। আমাদের গানে এই শহরের মানুষ কিংবা নিজেদের সময়ের কথা কি সুন্দর ভাবে বলতে পেরেছিলেন আপনারা। আপনার কাভার ভীনদেশী তারার মতোই অপ্রয়োজনে অকালে ভীনদেশী হয়ে গেলেন রুশনাফ। মিস ইউ ব্রাদার।।





মন্তব্য করুন