ইউজার লগইন

এসো কিছু খাই

এক বন্ধুর কারণে সেরকম এক নাস্তা করলাম স্টারে। এমন হেভীওয়েট নাস্তা যে দুপুরেও খিদে নেই। অসংখ্য দুপুরে জীবনে আমার এমনিতেই খাওয়া হয়নি। আগে এমন দুপুরে সাবানের গন্ধওয়ালা ধোয়া হাত দিয়ে খেতাম তেহারী ডেইলী। মাংস কম, রাইস বেশি। কি আর করা! মানুষ ফেসবুকে ভালো ছবি তুলতে গিয়ে কম ভাত দেখায় হয়তো, আইটেম দেখায় বেশী, সেইটুকুই নাকি খায়। আমার কম ভাত বেশি ভাতে দুটোই গেঞ্জাম। মোটামুটি এক প্লেট ভাত লাগবে। ভালো তরকারী হলে, মুড ভালো থাকলে আরো হাফ প্লেট খাবো। মানুষ অল্প ভাত খেয়ে কিভাবে থাকে তা বুঝি না। কার্ব কার্ব করে মানুষ এখন কিছুই খায় না আমার বন্ধুর বাসায় ছিল এ কালচার। আইটেম অনেক, ভাত কম। একদিন নিয়ে গেল, দেখি মাছ মাংস ভর্তা সব আছে। কিন্তু ভাত যা দিয়েছে তা আমারই লাগবে। কিন্তু তা খেতে হবে দুজনের। কি আর করা খেলাম।

চিটাগংয়ে আমাদের কাছে বাসা থেকে বের হয়ে ভালো হোটেলে পরোটা কিংবা পুরি চা খাওয়া ছাড়া এক্সোটিক কিছু ছিলনা, চিটাগাং একটা কিমা পুরী পন্থী এলাকা, তারা বিকেলের অপেক্ষা করেনা। সবাই খেতাম। বন্ধুরা জানাতো, আমার বোনরা কম খায় তো, তাই মা ভাত রাঁধে মেপে। ঢাকায় এটা কম পাওয়া যায়, আগে চিটাগাং এ চটপটি দোকানের সাইজে খিচুড়ী আর তেহারী বেঁচতো ফুটপাতে। খুব সস্তা ছিল তখন। গার্মেন্টস শ্রমিক অধ্যুষিত অঞ্চলে এটা ছিল পপুলার। আমাদের এটার খুব ক্রেজ ছিল। আমার দুই বন্ধু কেএফসিতে এক ট্রিট খেয়ে আসছে। গাড়ী থেকে নেমেই তেহারী সাটালো, আমাকে ডেকে আনলো আমি খাবো কিনা। আমি বললাম তোরা কত কিছু না খাইলি। বলে, শুকনা চিকেন আর আলু ভাজা খায়া পেট ভরে না। তখন বাসায় রাগ টাগ করে অনেকে খেত না, তাদের ভরসা ছিল এ খিচুড়ি। খেয়ে দুই গ্লাস পানি খেলেই সব ঠান্ডা। অনেকের আবার মা বাবা বাড়িতে যেত, তখন কোনো না কোনো বন্ধু তরকারী নিয়ে যেত। যাদের বাসায় ডিশ নাই তখন বিটিভিতে কোন নাটকে ব্রায়ের ফিতা দেখা যায় অভিনেত্রীর সেটাই গবেষনাই ছিল একটা টপিক। আর ডিশ থাকলে মনে হতো সব আরাধ্য প্রোগ্রাম আজকেই হবেনা কেন। বাসায় তুমুল বকা ও মার খেয়েও আমরা কোনোদিন খাওয়ার উপর রাগ দেখাতাম না। ক্লাস এইটে অংকে করেছি ফেল, কারণ কফিল উদ্দিন নামের এক শিক্ষক খাতা নিয়ে গেছে একঘন্টা আগেই। রেজাল্টে বিশেষ বিবেচনায় পাশ। মা বলতেছে তোকে আবার পড়তে হবে এইটে। আমি তো কানতেছি। আমার আম্মু দুপুরে খাবার বেড়ে দেয় না, আমিও যাই না। রাগে ক্ষোভে শুয়ে আছি। ক্লান্তিতে ঘুমিয়েও গেলাম। উঠে দেখি বিকাল। আমি ঘুৃম থেকে ভাবছিলাম সকাল হয়ে গেছে, আম্মুকে বললাম, ' ফাইনালে অংকে ফেইল করছি তাই বলে সারারাত খাবারের জন্য ডাকবেন না'। আম্মু বলে, আইছে, বিকাল হইছে কেবল, তুই খাস নাই আমিও খাই নাই। চল খাই।

আমার এক ইউনির বড় ভাই ছিলেন তিনি সত্যিই ইউনিক। তিনি সিরিয়াস আড্ডাবাজ, একবার আড্ডায় ভাবলেন খরচ কমাতে হবে, বেনসন ছেড়ে ধরলেন ডার্বি সিগারেট, চা ও বেশী খাওয়া হয় তাই ধরলেন চিনি ছাড়া ডাইরেক্ট লিকার। ফলাফল হলো, তিনি সস্তা ডার্বি সিগারেট লাগতো তিন প্যাকেট করে, অর্ধেক খেয়ে ফেলে দিতেন, আর ডাইরেক্ট লিকার চা প্রথমে না পারলেও কদিন পরেই সেই তীব্র তিক্ত চা ১০ কাপ করে খেতেন। রোজার দিনে তিনি দুপুরে বের হয়ে বোবার বিরিয়ানী খেয়ে আমার সাথে আড্ডা মেরে ইফতারের আগে বাসায় গিয়ে বলতেন, আজ রোজা রাখতে,অনেক কষ্ট হইছে। ফেসবুকে পিপল ইউ মে নো তে দেখি তার সুখের সংসার দুটো বাচ্চা তিনিও হুজুর।

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

আরাফাত শান্ত's picture

নিজের সম্পর্কে

দুই কলমের বিদ্যা লইয়া শরীরে আমার গরম নাই!