গৌতম'এর ব্লগ
‘গাদ্দার’
কৃষণ চন্দরের কথা সম্ভবত নতুন করে কিছু বলার নেই। অসাধারণ, এবং অসম্ভব অসাধারণ এই মানুষটির লেখা আমি বরাবরই মুগ্ধ হয়ে পড়ি। তেমন মুগ্ধতায় নতুন করে পুনরায় যুক্ত হলো ‘গাদ্দার’। গাদ্দার বইটি আগেও পড়া ছিল। কিন্তু সময় বদলানোর সাথে সাথে মানুষ বদলে যায়; বদলায় মানুষের চিন্তাভাবনা কিংবা দেখার ক্ষমতা। যে কারণে একই বই নানা সময়ে বারবার পড়তে হয়, বুঝতে হয়। ধরতে হয় বইটিকে।
কাঁঠাল
জাপানি সহকর্মী হঠাৎ করেই গ্রুপ-ইমেইল ছুঁড়ে বসলেন। তিনি জানতে চান, বাংলাদেশের জাতীয় ফল হিসেবে কাঁঠাল নির্বাচিত হওয়ার কারণ কী?
আমরা পড়লাম বিপাকে। এই প্রশ্নের উত্তর তো আমরাও জানি না। কয়েকজন দেখলাম ইন্টারনেটে সার্চ দেওয়া শুরু করেছেন। কারণ বিষয়টি অতীব জন-জাপানি-গুরুত্বসম্পন্ন। তাঁকে এই সপ্তাহের মধ্যেই এই ইনফরমেশনটা দিতে হবে। জাপানের সরকারি টিভি চ্যানেল এনএইচকে এই বিষয়টার ওপর একটা ডকুমেন্টারি তৈরি করবে। শুধু তাই নয়; কাঁঠাল দিয়ে তৈরি করা কোনো খাবার বা তরকারির ছবিও লাগবে। তাছাড়া কেউ কাঁঠাল ভেঙ্গে খাচ্ছে- তেমন একটা ছবি হলে জুৎসই হয়।
ক্যাপশন: আর কী ক্যাপশন দিমু?
আম
আমাদের বাড়িতে বেশ কয়েকটা আমের গাছ ছিল। একেকটা আমের ধরন ছিল একেক রকম। আমি, শান্তি (ছোট পিসি) আর পাখি (কাকাতো বোন)- আমাদের বিকেলের রুটিন ছিল আম পেড়ে ভর্তা বানিয়ে খাওয়া। এই তিনজনের কারণে আমাদের গাছের আম গাছে পেঁকেছে- এমন উদাহরণ বিরল।
ঢাকা শহরে এসে আমি যে কয়েকটি কঠোর বাস্তবতার মুখোমুখি হই, তার একটি হচ্ছে আম কিনে খাওয়া। ঢাকায় আসার আগে কখনো মাথায়ই আসে নি যে, আম জিনিসটি কিনে খাওয়ার মতো কিছু একটা। সঙ্গত কারণেই ১৯৯৫ সালের পর থেকে আমার আম খাওয়া কমে যায়। কিনে খাওয়ার মতো সামর্থ্য তখন ছিল না, তখন বাড়ি থেকে মাসে পেতাম মাত্র ১০০০ টাকা। এই টাকা দিয়ে মেসে থাকা, খাওয়া এবং দৈনন্দিন খরচ চালাতে হতো। আমার কিনে খাওয়ার মতো বিলাসিতা তাই তখন দেখানো হয় নি।
নিতান্তই সহজ-সরল ::: ১
আসলেই কি সরল?
রবীন্দ্রনাথ ভদ্রলোক ছোট গল্পের যে সংজ্ঞা দিয়েছিলেন, তার মধ্যে ক্ষুধিত পাষাণ পড়ে?
হুমায়ূন আহমেদ
সেদিন বাসে আসার সময় হুমায়ূন আহমেদের “হাবলংগের বাজারে” দেখছিলাম। সাধারণত অখাদ্য-সুড়সুড়ি নাটকগুলো এসিবাসের ঘুমন্ত ভদ্রলোকদের দেখানো হয়। বরাবরের মতোই এটাও অখাদ্য। কিন্তু একটা জায়গায় এসে আটকে গেলাম।
একজন বলছ: হুজুর (তিনি স্থানীয় জমিদার বা এই টাইপের), ভয় বলবো না নির্ভয়ে বলবো?
হুজুর: (ধমক দিয়ে) ভয় বল। আমার সামনে নির্ভয়ে আবার কী কথা?
ভদ্রলোকের সাম্প্রতিক লেখালেখি পছন্দ না হলেও তাঁর হিউমার সেন্স বরাবরই পছন্দের। সেই ছোটবেলা থেকেই শুনে আসছি, এ জাতীয় প্রশ্নের উত্তরে সবাই বলে, নির্ভয়ে বল। এর উল্টোটা যে কেউ বলতে পারে তা কখনো মাথায় আসে নাই।
হিন্দি সিনেমা
যতো দোষ রিকশা ঘোষ!
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন জানিয়েছেন, ঢাকার ব্যস্ত রাস্তা থেকে পর্যায়ক্রমে রিকশা উঠিয়ে দেওয়া হবে। রিকশা উঠিয়ে দেওয়ার কারণ হিসেবে তিনি মূলত যানজটের কথা উল্লেখ করেছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এ উক্তির মাত্র দুদিন আগে ঢাকার রাস্তায় রিকশাচালকরা ধুন্ধুমার কাণ্ড করেছে। রামপুরা-মগবাজার-মৌচাক ব্যস্ত সড়কে রিকশা চলাচল বন্ধের প্রতিবাদে তারা সংঘবদ্ধ হয়ে রাস্তা অবরোধ করেছে, গাড়ি ভাংচুর করেছে। পরদিন ভাঙা গাড়ির আরোহী, কান্নারত ও ভয়ার্ত এক শিশুর মানবিক আবেদন-সমৃদ্ধ ছবি ছাপা হয়েছে প্রায় সবকটি শীর্ষ দৈনিকে। এ ছবি দেখে নাগরিক সমাজ স্বভাবতই বিহ্বল হয়েছেন; বোধকরি কান্নারত শিশুর জায়গায় নিজের কিংবা পরিচিত কোনো শিশুর মুখাবয়ব কল্পনা করে শিউরেও উঠেছেন।
স্বাধীনতার ৪০ বছর: শিক্ষাক্ষেত্রে অগ্রগতি কতোটুকু?
একটি দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য ৪০ বছর সময় খুব বেশি না হলেও একেবারে কমও নয়। বাংলাদেশ স্বাধীনতার ৪০ বছর পার করছে। স্বাভাবিকভাবেই এ সময়ে এসে অনেকে হিসেব-নিকেশ করতে চাইবেন- এই লম্বা সময়ে বাংলাদেশ কতোটুকু এগিয়েছে। বিশেষত স্বাধীনতার পর গণমানুষ একটি স্বাধীন দেশের কাছ থেকে যে মাত্রার উন্নতি ও অগ্রগতি আশা করেছিল, সেই প্রত্যাশা ও বাস্তবতার মধ্যকার ফারাক কতোটুকু সেটি দেখার সময় হয়েছে এখন।
ফেসবুক বাংলা অনুবাদ: গ্রামীণফোনের আহ্বান নাকি কৃতিত্ব বাগানোর ধান্ধা?
সম্প্রতি একটি জাতীয় দৈনিকে মোবাইল ফোন কোম্পানি গ্রামীণফোন ‘জরুরিভত্তিতে ফেসবুক অনুবাদক আবশ্যক’ বিজ্ঞাপন দিয়েছে। বিজ্ঞাপনটি দেখে শুরুতে মনে হয়েছিল, গ্রামীণফোন কিছু অনুবাদক নিয়োগ দিতে যাচ্ছে যাদের কাজ হবে ফেসবুকের যাবতীয় বিষয়-আশয় অনুবাদ করা। বিজ্ঞাপনটির আউটলুক এমন যেন এটি একটি চাকুরির বিজ্ঞপ্তি এবং অনুবাদক নিয়োগ করে অনুবাদের কাজটি করার জন্য ফেসবুক গ্রামীণফোনকে দায়িত্ব দিয়েছে।
মাধ্যমিক শিক্ষার প্রতি নজর দেওয়া দরকার
গত দু’দশকে বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষায় যে পরিমাণ উদ্যোগ, মনোযোগ বা সহায়তা দেখা গেছে, মাধ্যমিক শিক্ষা তার ছিটেফোঁটা পায় নি। মূলত ১৯৯০-এর পর থেকে সবার জন্য শিক্ষা, বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা আইন ও সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যে বাংলাদেশের কমিটমেন্টের কারণে এবং প্রাথমিক স্তরে রুগ্ন অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য সরকারকে বাধ্যতামূলকভাবেই এ সেক্টরে বিশেষ নজর দিতে হয়েছিল। দেশকে নিরক্ষরতামুক্ত করতে, বিশেষত দরিদ্র পরিবারের ঝরে পড়া ছেলেমেয়েদের পুনরায় শিক্ষার ব্যবস্থা করতে এনজিওরাও এসময় এগিয়ে আসে। বিদেশ থেকেও এ সময়কালে প্রচুর সহায়তা এসেছে। সেগুলোর সিংহভাগই প্রাথমিক শিক্ষাকে কেন্দ্র করে এবং তাদের সহায়তায় দেশের দুটো বড় প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কার্যক্রম ইতোমধ্যে বাস্তবায়িত হয়েছে। শুরু হচ্ছে তৃতীয়টির কাজ। বলা যায়, সবার জন্য শিক্ষা বাস্তবায়নে যতোটুকু মনোযোগ পাওয়া দরকার, প্রাথমিক শিক্ষা সেক্টর ততোটুকু বা বেশি মনোযোগ
চালু হলো নতুন বাংলা ওয়েব সাইট: বাংলাদেশের শিক্ষা
আজকে, এই ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১১ তারিখে, জাতীয় শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে বাংলাদেশের শিক্ষা নামে একটি শিক্ষা বিষয়ক ওয়েব সাইট চালু হলো। এই সাইটে কী আছে বা কী থাকবে, সেই বিষয়ে কথা বলছি একটু পরে। তার আগে কিছু ব্যক্তিগত অনুভূতি বা মতামত শেয়ার করে নিই।

২.
ভারত ভ্রমণের সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতা ও বাংলাদেশের পর্যটন
বেশ কিছুদিন আগে পর্যটন বিষয়ক একটি লেখা প্রকাশের পর পরিচিত একজন বাংলাদেশের বাইরে পর্যটনের অভিজ্ঞতা আছে কিনা জানতে চেয়েছিলেন। ‘খুব সামান্য’ জবাব দেয়ায় তিনি উপদেশ দিয়েছিলেন- সম্ভব হলে অন্তত পাশের কয়েকটি দেশ যেমন ভারত, ভুটান এবং নেপাল ঘুরে এসে তারপর যেন বাংলাদেশের পর্যটন নিয়ে আশাবাদী হই। গুরুতর কিছু না হলে সাধারণত পাঠক প্রতিক্রিয়াকে সম্মান জানিয়ে একমত হওয়ার চেষ্টা করি। কিন্তু তার বক্তব্যে এমন কিছু দৃঢ়তা ছিল যে কারণে পরবর্তী সময়ে বিষয়টি নিয়ে ভাবতে হয়েছে। নানা দৃষ্টিকোণ থেকে পর্যটন বিষয়ে তার সঙ্গে কিছু আলোচনাও হয়েছে। তার কথায় মনে হয়েছে, বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প নিয়ে আমি যে আশাবাদ ও উচ্ছ্বাস ব্যক্ত করেছি বা করছি, কিছু দেশ ঘুরলে আমার সেই বক্তব্য বদলেও যেতে পারে।
ছবি, পিকনিকের আরো ছবি
পিকনিকের যা যা ছবি দেওয়া দরকার, সবাই অলরেডি দিয়ে দিয়েছেন। ছবি তোলার অভ্যাস আমার নাই; তাছাড়া বড় বড় কামানসাইজ ক্যামেরাও আমার নাই। তারপরও বেশ কিছু ছবি তুলেছিলাম এবির পিকনিকে। ফটোগ্রাফারেরা বকা-টকা দিবেন না, সেই আশায় কিছু ছবি পোস্টালাম।
১.

সুস্বাদু পাউরুটি-কলা দিয়ে নাস্তা চলছে...
২.

মারাত্মক খাটা-খাটনি করার জন্য মেসবাহ ভাই ও অন্যদের ফুল উপহার।
৩.

আমার বন্ধু 
৪.
‘আমরা বন্ধু’ যেসব ক্ষেত্রে বন্ধুসুলভ নয়...
ডিসক্লেইমার: ‘আমরা বন্ধু’ অনেকক্ষেত্রেই বন্ধুসুলভ। কিন্তু নিন্দামন্দ না করলে নাকি পেটের ভাত হজম হয় না! গত দুদিনে দুটো বিয়ের দাওয়াত খেয়ে এসেছি, পেট এখনো ভুটভুট করছে। গত কদিন কারো নিন্দামন্দ করি নি বলেই হয়তো রোস্ট, কাচ্চি বিরানী বা টিকিয়া কাবাবগুলো এখনো হজম হচ্ছে না। সামনের শুক্রবারে আবার এবির পিকনিক। ইচ্ছা আছে অন্তত দুটো খাসি আর চার-পাঁচেক মুরগি সাবাড় করা, সাথে এক লিটার কোক আর যা যা থাকে, সেগুলোর একটু একটু করে চেখে দেখা। নিন্দামন্দ না করলে যদি ওগুলো হজম না হয়, তাইলে পিকনিকটা তাড়িয়ে তাড়িয়ে উপভোগ করতে পারবো না। তাই এই লেখা। পরিষ্কার কথা- এর মধ্যে কোনো ভংচং নেই। 
বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প: কিছু নতুন ভাবনা
ঈদ কিংবা লম্বা ছুটিতে শহরের মানুষ পরিবারের সবার সঙ্গে ছুটি উপভোগ করতে গ্রামের বাড়িতে যায়। নগরজীবনের এটা স্বাভাবিক চিত্র হলেও সাম্প্রতিককালে এর ধরন অনেকটাই পাল্টেছে। অনেকে এখন লম্বা ছুটি গ্রামে না কাটিয়ে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে অন্য কোথাও বেড়াতে যান। গত তিন-চার বছর ধরে ঈদের ছুটির সময়ে কক্সবাজার, রাঙ্গামাটি বা বান্দরবানের হোটেল, মোটেল ও রিসোর্টগুলো পরিপূর্ণ বলে পত্রিকাগুলোতে খবর বেরুচ্ছে। এমনও শোনা গেছে, হোটেলে জায়গা না পেয়ে অনেককে গাড়িতেই রাত কাটাতে হয়েছে। বেড়ানোর এই চিত্র কিন্তু কিছুকাল আগেও ভাবা যেত না। ঘরকুনো বলে যে বদনাম আছে, নাগরিক মধ্যবিত্তরা বোধহয় সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে চাইছে। আর কিছু না হোক, বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পের জন্য এটা বেশ আশাপ্রদ।
যে শখের স্পিড গেল কমে
ঘুরে বেড়ানো শখের জন্মটা যে কবে হলো, ঠাহর করতে পারি নি। একদিন হঠাৎই আবিষ্কার করলাম যে, ঘুরতে ভালোলাগে, বেড়াতে ভালোলাগে। ততোদিনে ঢাকার আশেপাশের অনেক জায়গা ঘুরাঘুরি শেষ। ঘুরাঘুরি বলতে বন্ধুবান্ধবদের নিয়ে হঠাৎ একটা জায়গায় চলে যাওয়া, যেখানে হয়তো ঠিক ঘুরে বেড়ানোর উদ্দেশ্যে কেউ আগে যায় নি; অথবা আমার বা আমাদের মতো বায়ুচড়া বড়জোড় দুয়েকজন গেলেও যেতে পারে। একদিন যেমন আমরা ধামরাই বাসস্ট্যান্ডে নেমে রিকশাওয়ালাকে বললাম, এই রাস্তায় ১০ টাকা দিয়ে যতোদূর যাওয়া যায় ততোদূর যাব। সেখান থেকে বাকি ঘণ্টা কয়েক হাঁটাহাটি করে সময় পার। দুপুরে খেলাম একটা রেস্টুরেন্টে- যদি তাকে আদৌ কেউ রেস্টুরেন্ট বলে। আবার একদিন মাওয়া যাওয়ার রাস্তায় হুট করে কোথায় যেন নেমে গেলাম- হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎই দেখি সামনে পদ্মা। তীরে ভাতের দোকান। দুই পিস ইলিশ, এক পিস রুই মাছ ভাজা, এক পিস খাসির মাংস, সবজি, ছোট মাছ আর ভর্তা দিয়ে এক প্লেট ভাত খেয়ে শুনি
মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী, এতো তাড়াহুড়ার কি কোনো দরকার আছে?
আগামী জানুয়ারি থেকে প্রাথমিক বিদ্যালেয় কারিগরি শিক্ষা চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। প্রতি উপজেলার অন্তত একটি বিদ্যালয়ে এ শিক্ষা চালু করা হবে এবং ওই বিদ্যালয়ের তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণী শিক্ষার্থীদের এর আওতায় আনা হবে।