ইউজার লগইন

গৌতম'এর ব্লগ

অফ-সিজনে পর্যটন

বছরকয়েক আগে এক তুমুল বর্ষার দিনে কয়েকজন বন্ধুবান্ধব মিলে হাজির হয়েছিলাম কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে। প্রচণ্ড বৃষ্টির মধ্যে তুলনামূলকভাবে নতুন কলাতলী বিচে নামি যখন, সেখানে তখন আমরা ছাড়া আর মাত্র ৫-৬ জন পর্যটক উপস্থিত ছিলেন। অফ-সিজনে কক্সবাজারে বেড়ানোর ওই স্মৃতি এখনও আমাদের মনে পড়ে। বেড়াতে ও অন্যান্য কাজে বেশ কয়েকবার কক্সবাজার যাওয়া হয়েছে, কিন্তু সেই ভ্রমণে যে আনন্দ করেছিলাম আমরা, তার সঙ্গে অন্য ভ্রমণগুলোর তুলনা করা দায়। সেই স্মৃতির কথা মনে রেখে এবারও দিন কয়েক আগে ঘুরে এলাম কক্সবাজার থেকে। বলতে দ্বিধা নেই, অফ-সিজনে কক্সবাজারে বেড়ানোর আনন্দ একেবারেই অন্যরকম। অন-সিজনে পাওয়া সুযোগ-সুবিধার সঙ্গে তুলনা করলে অফ-সিজনে বেড়ানো রীতিমতো ঈর্ষণীয়।

ফ্রেমবন্দী অনুভব: ২

ক. প্রফেসর ব্রায়ানের সাথে যাচ্ছি কিছু ইন্টারভিউ নিতে, সুনামগঞ্জের কোনো এক জেলেপাড়ায়। তিনি একজন নৃতাত্ত্বিক, সম্প্রতি বাংলাদেশের সাক্ষরতার উন্নতি এবং এর সাথে মোবাইল ফোনের বিস্তৃতি তাঁর মনোযোগ কেড়েছে। একজন নিরক্ষর মানুষ কীভাবে প্রচলিত অক্ষর কিংবা সংখ্যার সাথে পরিচিত না হয়েও সাবলীলভাবে মোবাইল ব্যবহার করে যাচ্ছে- এটি তার বিস্ময়ের অন্যতম উৎস! গাড়িতে তিনি একের পর এক প্রশ্ন করে চলেছেন, আমি যথাসম্ভব উত্তর দিচ্ছি নিজের মতো করে এবং যেহেতু ছবি তোলার চেয়ে তাঁর প্রশ্ন করায় উৎসাহ বেশি এবং উল্টোদিকে আমার উত্তর দেয়ার চেয়ে ছবি তোলায় উৎসাহ বেশি- সুতরাং তাঁর ক্যামেরা এবারো আমার হাতে। তবে ব্রায়ানের ক্যামেরায় আমার ছবি তোলার এটাই শেষ পর্ব।

ফ্রেমবন্দী অনুভব: ১

ক. নিজের চোখের চেয়ে বড় কোনো ক্যামেরা আছে কিনা জানা নেই। এই তত্ত্ব ধারণ করে বহুদিন ক্যামেরা কেনা হয় নি। ক্যামেরা ফ্রেমের বাইরে যায় না, চোখ দেখে কোনা দিয়েও। যে কাদা-ময়লা-মাখা-জীবন চোখ সহ্য করতে পারে না, ক্যামেরা তাকে ফুটিয়ে তুলতে পারে নিপুণ শিল্পে! আকাশে বয়ে যাওয়া সাদা মেঘ চোখে তাই বাড়তি আলোড়ন না তুললেও ক্যামেরা এবং এইচডিআর মুখ দিয়ে বের করে নেয়- ওয়াও!

খ. জানতে চেয়েছিলাম, পড়ালেখা শিখে তোমরা কী করতে চাও?

ছোট আকাঙ্ক্ষা, বড় স্বপ্ন

বিদ্যালয় ও পরীক্ষাকে হরতালের আওতামুক্ত রাখা হোক

বিএনপির ডাকা সাম্প্রতিক তিনদিনের হরতালে সম্ভবত সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা। আমাদের দেশের শিক্ষার্থীদের এ এক বড় অসুবিধা!

নিতান্তই সহজ-সরল ::: ২

সামাজিকতার রকমফের!

আহত বোধ কিংবা স্মরণ

আয়ূধ
হাজার হাজার নরম মাটির ঢেলা ভেঙ্গে শক্ত ইটের বাড়িগুলো বাইরে থেকে শক্ত-ই ভীষণ! ভেতরের পানিটুকু আগুনে পোড়ার পর মাটির আর্দ্রতা শত্রুজ্ঞানে প্রতারক ভাবে ইটের দেয়ালকে। বৃষ্টিভিজে শুকায় গায়ের লোশনমাখা কিংবা পেইন্টেড চামড়া, তরল অনুপ্রবাহ ভেতরের কিছুই নরম করতে পারে না; যদিও পঁচাগলা পানি কোনোমতে হয়তো চুঁইয়ে চুঁইয়ে নষ্ট করে দেয় দেয়ালের কার্যকারিতা।

প্রতারণা
আমি করেছি এক, করিয়েছে বহু ছলনার আকাঙ্ক্ষা, উপাধিতে হয়েছি ভরপুর। ভেতরের গাঁথুনিটুকু অটুট থাকলেও ইঞ্জিনিয়ারের কাছে তা বাতিল। ঘুমন্ত দিনগুলোর কাছে চোখের পানির লবণটুকু সঞ্চিত হয়ে আছে কেবল- অশ্রুটুকু বাস্পীভূত!

বোধি

মধ্যবিত্তের নাভিশ্বাস

শিরোনামে মধ্যবিত্তকে হাইলাইট করা হলেও লেখার বিষয়বস্তু উচ্চবিত্ত কিংবা উচ্চ-মধ্যবিত্ত ছাড়া আর যে কোনো শ্রেণীর জন্যই প্রযোজ্য হতে পারে। তবে লেখক যেহেতু মধ্যবিত্ত (অর্থনীতির সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম বিচারে সেটা নিম্ন-মধ্যবিত্তও হতে পারে) শ্রেণীতে পড়েন, সেহেতু মধ্যবিত্তকে কেন্দ্র করে লেখাটাই নিরাপদ। বলা ভালো, অর্থনীতির সংজ্ঞা অনুসারে মধ্যবিত্তের প্রকৃত সংজ্ঞা (অর্থাৎ কী পরিমাণ আয় হলে একজন মানুষ বা একটি পরিবারকে মধ্যবিত্ত বলা যাবে) লেখকের জানা নেই, তবে মধ্যবিত্ততা নিশ্চয়ই কেবল আর্থিক অবস্থা দ্বারা নিরূপণ করা হয় না- এর সাথে মধ্যবিত্তীয় মানসিকতাও অনেকটা মিশে থাকে।

সংশয়যুক্ত অভিনন্দন!

এ সপ্তাহে দু-দুটো গুরুত্বপূর্ণ পাবলিক পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হলো। পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণীর পড়ালেখা শেষ করার পর শিক্ষার্থীদেরকে যথাক্রমে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা এবং জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) বা জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়। দুটো পরীক্ষাই তুলনামূলকভাবে নতুন হলেও সেগুলো যথেষ্ট সাড়া জাগিয়েছে। বিশেষত এসএসসি কিংবা এইচএসসি পরীক্ষার আদলে অনুষ্ঠিত হওয়া এই নতুন পাবলিক পরীক্ষাগুলো শিক্ষার্থী এবং তাদের অভিভাবকদের কাছে সমাদৃত হয়েছে বলেই মনে হচ্ছে। এবার প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় পাশের হার ৯৭ শতাংশ (এবতেদায়ীতে ৯১ শতাংশ) এবং জেএসসি/জেডিসিতে ৮৩ শতাংশ ছাড়িয়েছে। শিক্ষার্থীদের এই পাশের হার যথেষ্টই আশাপ্রদ এবং তারা যদি এ ধরনের ফলাফল ভবিষ্যতে ধরে রাখতে পারে, তাহলে তা দেশের জন্যই মঙ্গলজনক হবে। যে সমস্ত শিক্ষার্থী এবারের প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা এবং জেএসসি/জেডিসিতে উত্তীর্ণ হয়েছে তাদের

প্রচণ্ড ঠাণ্ডায় আজ দুপুরে মরে গিয়েছিলাম

প্রচণ্ড ঠাণ্ডায় আজ দুপুরে মরে গিয়েছিলাম।
চামড়াগুলো তেমনভাবে কুঁচকে যায় নি; নখ কিংবা চুলগুলো আরেকটু বেড়েছিল কিনা খেয়াল করি নি তখন
আমার ঘুমিয়ে পড়া দেহটিকে কেউ
উষ্ণতার পরশ দিতে চেয়েছিল কিনা-
জানতে জানতে আসল সময় পেরিয়ে গিয়েছিল;
শুধু আস্তে আস্তে টের পাচ্ছিলাম- গলিত ঠাণ্ডা লাভা জমতে শুরু করেছে ঠিক চামড়ার নিচে-
যেখানে জমা হয় রং ফর্সাকরী ময়েশ্চার ক্রিম।

প্রচণ্ড ঠাণ্ডায় আজ দুপুরে মরে গিয়েছিলাম-
তখন যদিও হাতের নাগালে তিনটি কবিতা, একটি উপন্যাস এবং কয়েকটি প্রবন্ধের বই ছিল
ওগুলো ছুঁতেও ইচ্ছে করে নি,
মোটা কাপড়ের শাড়িটাকে শুধু গায়ের ওপরে তুলে দিয়েছিলাম।
কবিতার বইয়ের বদলে শাড়ি দিয়ে শীত নিবারণ বিপ্লবীদের শোভা পায় না-
ফলে দুপুরবেলাতেই মরে যেতে হয়েছিল।

প্রচণ্ড ঠাণ্ডায় আজ দুপুরে মরে যেতে যেতে
সমাজ-রাজনীতি সব বাদ দিয়ে কেবল নিজের সুখটুকুর কথাই মনে হচ্ছিল।

গ্যাস উত্তোলন: স্থানীয় চাহিদাও মেটানো উচিত

কিছুদিন আগে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা থানার অধিবাসীরা গ্যাসের দাবিতে আন্দোলন-বিক্ষোভ করেছে। এই থানার অন্তর্গত সালদা নদীতে যে গ্যাস পাওয়া গেছে, সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সেই গ্যাস কসবা থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে চট্টগ্রামে সরবরাহ করার। পত্রিকার খবর অনুসারে, সালদা গ্যাস ফিল্ডের তিন নম্বর কূপ থেকে ২২ নভেম্বর থেকে বাখরাবাদ গ্যাস সিস্টেম লিমিটেডের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে অন্তত ৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হবে যা মূলত চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকার চাহিদা মেটানোর কাজে ব্যবহার করা হবে। সরকারের এই সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে সেখানকার বাসিন্দারা শান্তিপূর্ণভাবে মিছিল-সমাবেশ-মানবন্ধনসহ নানা ধরনের প্রতিবাদ করেছে। অবশ্য পাইপলাইনে কোনোমতেই গ্যাস না দেওয়ার হুমকিধামকিও দেয়া হয়েছে আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে। কসবাবাসীর পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, স্থানীয় পর্যায়ে গ্যাসের চাহিদা মিটিয়ে তবেই কেবল বাকি গ্যাস দেশের অন্যত্র সরবরাহ করা য

অসবর্ণ

সন্দেহের ফসলে ভরে গেছে অবিশ্বাসী কৃষকের মাঠ,
বিষণ্ন মাটি খুঁজে বেড়ায় আরেকটি ঘোর অমাবস্যার রাত;
যত কিছু রয়ে যাবে সুনির্মল দরজাটুকু করে হাট,
অঝোর ধারার কাব্যশব্দ ঘুমাবে সাথে নিয়ে বৃষ্টির ছাট।

পাইন বনের সুদীঘল মিছিলে একলা ঘুরে কদমের কাঠ,
দুটো নৌকার দড়ি থেকে হিম শব্দে তবে একটি ছাড়ে ঘাট;
বেশি হয়ে গেলে পুরনো পাতার বহর দিতে তো হয় ঝাট,
তাই বেলা শেষে নিজেকে লুকাতে যায় শ্রান্ত বালকের পাঠ।

আমরা কি পরীক্ষানির্ভর শিক্ষার দিকে ঝুঁকছি?

নভেম্বর মাসের শুরুতে অষ্টম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের জন্য জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) এবং জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষা শুরু হয়েছে। ঈদের পরপরই পরীক্ষাগুলো শেষ হবে। ঈদের পর শুরু হবে পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের জন্য সমাপনী পরীক্ষা। এই দুটো পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর বাকি শ্রেণীগুলোর বার্ষিক পরীক্ষা শুরু হবে। সমাপনী কিংবা জেএসসি/জেডিসি পরীক্ষার আগে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অনেকেই তাদের শিক্ষার্থীদের একাধিক মডেল টেস্টের আয়োজন করেছে যেন তারা মূল (!) পরীক্ষায় ভালো করতে পারে। এছাড়া বছরজুড়ে নানা ধরনের পরীক্ষা তো রয়েছেই যার মধ্যে প্রথম সাময়িক ও দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষাগুলো অন্যতম।

মিরসরাই: যে দুর্ঘটনা হত্যার শামিল

(ডিসক্লেইমার: মিরসরাইয়ে দুর্ঘটনার পর ক্ষোভে-রাগে দুটো লেখা লিখেছিলাম। একটি প্রকাশিত হয়েছে আমরা বন্ধুতে, বাকিটা পাঠিয়েছিলাম একটা বিখ্যাত জায়গায়। তারা ছাপে নি। অনুরোধ করেছিলাম না ছাপালে অন্তত জানাতে। তারা সেই অনুরোধটুকুও রাখে নি। এতোদিনেও যেহেতু ছাপে নি, ধরে নিচ্ছি তারা আর ছাপবে না। অপ্রকাশিত এই লেখাটি এতোদিন পর প্রকাশ করা উচিত কিনা, বিলম্বিত প্রতিক্রিয়ার আদৌ কোনো মূল্য আছে কি না জানি না, তারপরও দিলাম। কেন, তা জানি না। বোধহয় নিজের রাগটুকু অন্যকে জানানোর একটা আকাঙ্ক্ষা খুব বেশি করে কাজ করছে নিজের মধ্যে।)

লটকন

খুব অল্পবয়সে কাব্যপ্রতিভা দেখা দিলে যা হয় আর কি- আমার নামডাক বেশ ছড়িয়ে পড়লো। বিশেষ করে ইয়ারদোস্তরা এই প্রতিভা দেখে মুগ্ধ!

সম্ভবত ক্লাশ ফাইভেই হবে- কী করে কী করে যেন বুঝে গেলাম ছড়া লেখা খুব একটা কষ্টের ব্যাপার না। হাতির সাথে ছাতি, ডলার সাথে মলা ইত্যাদি শেষ দিকের শব্দগুলোর মধ্যে একটা মিল থাকলেই সহজে ছড়া লেখা যায়। ঠিক সেই সময়েই একটা ছড়া পড়ি যার লাইনগুলো মোটামুটি এরকম- চলে হনহন/ছোটে পনপন/বায়ু শনশন/ফোঁড়া কনকন...। এই ছড়া পড়ে আমার সেই ধারণা আরেকটু পোক্ত হলো।

যে দুর্ঘটনা অনেক দায়িত্বের কথা মনে করিয়ে দেয়...

চট্টগ্রাম মীরেরসরাই দুর্ঘটনায় বাংলাদেশ আক্ষরিক অর্থেই থমকে গেছে। ঘটমান নানা খবরের প্রবাহে কিছুদিন পর হয়তো আমরা এর কথা ভুলে যাবো; শুধু যে পরিবারগুলোর সন্তান নিহত বা আহত হয়েছে তারা বছরের পর বছর এই শোকের ভার বইতে থাকবে। ঘটনার জন্য প্রত্যক্ষভাবে দায়ী চালককে খোঁজা হচ্ছে; হয়তো তার শাস্তিও হবে। কিন্তু এই দুর্ঘটনার কারণে ইতোমধ্যে যেসব প্রশ্ন উঠেছে, সেগুলোর কি কোনো সুরাহা হবে?