রাজনীতির রঙ্গ
দু’জন বৃটিশ এক হলে নাকি আবহাওয়া নিয়ে আলাপ শুরু করেন। দু’জন ফরাসী এক হলে শিল্প-সংস্কৃতি নিয়ে আলোচনায় করেন। দুজন আমেরিকান এক হলে মশগুল হয়ে পড়েন শেয়ার মার্কেট নিয়ে। আর দু’জন বাঙ্গালী এক হলে নির্ঘাত রাজনীতি নিয়ে ঝগড়া শুরু করে দেন। গণতান্ত্রিক দেশ অথচ গণতন্ত্রের কোন চর্চা নেই, যতটা না রাজনীতির চর্চা হচ্ছে। পল্টন ময়দান থেকে চায়ের দোকান পর্যন্ত, প্রধানমন্ত্রী থেকে রিকশাচালক পর্যন্ত-এদেশে সবাই রাজনীতি নিয়ে ব্যস্ত।
আমাদের দেশের রাজনীতি এখন নীতিহীনতার বেড়াজালে আবদ্ধ, অর্থাৎ রাজনীতির মধ্যে 'পলিটিক্স' ঢুকে গেছে। আমাদের জাতীয় ঐক্যের পথে মূল বাঁধা হলো রাজনীতি। ঘরে বাইরে সর্বত্র এখন বিভক্তি। আর এ বিভক্তির প্রধান কারণ হলো রাজনীতি। যে কোন জাতীয় ইস্যুতে আমাদের নেতা-নেত্রীরা জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করবেনকি...নিজেরাই বরং বিভক্ত হয়ে পড়েন। অথচ এ বিভক্তি কোন নীতির জন্য নয়, আদর্শের জন্যও নয়, কেবলই ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য অথবা ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য।
আমাদের রাজনৈতিক অঙ্গন যেন এক রঙ্গমন্ঞ, আর রাজনীতিবিদগণ যেন একেকজন পাক্কা অভিনেতা কিংবা তুখোড় ভাঁড়। এদেশের রাজনীতির রং-তামাসা আর ভাঁড়ামি দেখলে স্বয়ং গোপালভাঁড়ও (এযুগে জন্মালে) লজ্জায় মুখ লুকাতেন। আমাদের রাজনৈতিক ভাঁড়ামি আর ভন্ডামির কিছু নমুনা নিম্নে প্রদত্ত হলো।
আমাদের রাজনীতিবিদগণ কথায় কথায় বুকের রক্ত রাজপথে ঢেলে দিতে চায়, কিন্তু ‘খোঁজ-দ্য সার্চ’ করলে দেখা যাবে, অনেক রাজনীতিবিদই জীবনে একফোঁটা রক্তও ব্লাডব্যাংকে দান করেন নাই। ব্লাডব্যাংকে অবশ্য দূষিত রক্ত নেয়া হয়না।
‘রাজনীতিবিদদের চরিত্র, ফুলের মতো পবিত্র’। তবে ওটা কোন ফুল! ধুতরাফুল, ডুমুরেরফুল, না ফুলকপি ফুল?
এরা নির্বাচনের আগে ভিখারীর মতো জনগণের কাছে ভোট ভিক্ষা করেন। কিন্তু ভিক্ষা পেয়ে ক্ষমতায় গিয়ে মনিবের মতো আচরণ শুরু করেন।
ক্ষমতায় যাওয়ার আগে এরা জনগণকে স্বপ্ন দেখান, ক্ষমতায় গিয়ে সে স্বপ্ন নষ্ট করেন। অত:পর নিজের চৌদ্দগুষ্টির স্বপ্ন পূরণ করেন।
রাজনীতিতে নীতি কোথায়! দূরে....বহুদূরে...। তাইতো রাজনীতিতে এতো দূর্নীতি। আর দেশ দূর্নীতিতে চাম্পিয়ন।
রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি আর আষাঢ়ের গল্পেব মধ্যে কোন পার্থক্য নেই, জনগণ দুটোই মুগ্ধ হয়ে শুনে এবং খুব সহজে ভুলে যায়।
রাজনীতিবিদগণ হলেন দেশের সবচে সুবিধাবাদী শ্রেণী। এরা বলতে গেলে কোন কাজই করেন না, (পারলে সকল কাজে বাগড়া দেন) অথচ সব কাজের ফল ভোগ করেন।
এরা হলেন ব্যঙের মতো। ব্যঙকে যেমন এক পাল্লায় মাপা যায়না, দুএকটা লাভ দিয়ে এদিক-সেদিক সটকে পড়বেই। আমাদের রাজনীতিবিদরাও একই প্লার্টফর্মে বেশীদিন স্টে করেনা, একসময় ডিগবাজী মারবেই।
রাজনীতিবিদগণ তখনই সত্য কথা বলেন, যখন একে অন্যকে চোর আর দূর্নীতিবাজ বলে গালিগালাজ করেন।
রাজনীতি হলো ‘আলাদিনের আশ্চর্য প্রদীপের মতো, এদেশে রাজনীতি করলে আর কিছুই করা লাগেনা, টাকা-পয়সা, বাড়ি-গাড়ি, ক্ষমতা-সব হাতের মুঠোয় চলে আসে।
রাজনীতি অতি লাভজনক এক পেশা। তাই সব পেশার লোক এখন রাজনীতিতে ঢুকছে। এযেন এক মধুর হাঁড়ি, তাই মৌমাছি আর পিঁপড়ার সারির মতো সবাই রাজনীতিতে এসে ভীড় করছে।
রাজনীতিবিদ আর ছারপোকার মধ্যে দারুন মিল, উভয়েই জনগণের রক্তচুষে মোটাতাজা হয়। তবে ছারপোকা রক্তচুষে লুকিয়ে থেকে, কিন্তু রাজনীতিবিদদের অপকর্ম অনেকটাই প্রকাশ্য।
রাজনীতিবদগণ এবং সন্ত্রাসীদের সংগে জেলখানার সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড়। কিন্তু সন্ত্রাসীরা জেলে গেলে কুখ্যাত হয়, আর রাজনীতিবিদরা হোন বিখ্যাত।
রাজনীতিবিদরা যা বলেন তা করেন না, যা করেন তা বলেন না। এদের স্মৃতিশক্তিও কাউয়ার মতো ক্ষণস্থায়ী, এরা সকালে যা কিছু বলেন, বিকালে তা ভুলে যান।
রাজনীতি এবং ব্যবসা দুটোই এখন অতীব লাভজনক । তাই সকল রাজনীতিবিদ এখন ব্যবসায়ী, তবে সব ব্যবসায়ীই রাজনীতিবিদ নন।
রাজনীতিবিদগণ ক্ষমতায় থাকলে বিরোধীদলের হাত থেকে ‘জনগণের জানমাল’ রক্ষার জন্য অতিমাত্রায় তৎপর হোন, আর ক্ষমতায় না থাকলে নিজেরাই জনগণের জানমাল ধ্বংস করেন।
আমাদের রাজনীতিবিদগণ দেশের সব সমস্যা দূর করার জন্য প্রাণপাত করেন, কিন্তু তারা জানেননা যে তারাই দেশের মূল সমস্যা। তারা যত কর্ম-অপকর্ম করে থাকেন, সবই জনগণের দোহাই দিয়ে করেন।
ক্ষমতায় থাকলে এরা কথায় কথায় হরতালের বিরুদ্ধে ফতোয়া দেন, আর বিরোধীদলে থাকলে ‘ হরতাল গণতান্ত্রিক অধিকার’ বলে এর অপব্যবহার করেন।
‘মেরেছ কলসীর কানা, তাই বলেকি প্রেম দিবনা !’ হাঁ, আমাদের রাজনীতিবিদদের আমরা খুব ভালোবাসি। ভালোবেসে বারবার প্রতারিত হই, তারপরও ভালোবাসি। জানিনা আমাদের এ অন্ধ ভালোবাসার শেষ কোথায় !
পূনশ্চ:আমাদের দেশে এখনো অনেক সৎ, নীতিবান, দেশপ্রেমিক রাজনীতিবিদ রয়েছেন। সব দলের মধ্যেই তাদের বিচরণ রয়েছে। কিন্তু...সন্ত্রাস, কালোটাকা, আর পেশীশক্তির দাপটের কাছে তারা অসহায়। তাদের কন্ঠ যেন আজ স্তব্দ, বিবেক যেন ঘুমন্ত, সাহস যেন লুপ্ত। এখন সময় এসেছে তাদের জেগে ওঠার, অন্যায়-অবিচারের বিরূদ্ধে বজ্রকন্ঠ আওয়াজ তোলার। এসব সৎ, দেশপ্রমিক নেতারা জেগে উঠলেই রাজনীতি থেকে দূর হবে অনাচার, দূর হবে জন্জাল।





হবে না বস... কোন আশাই দেখিনা আর
ঠিকই বলছেন কোথাও আশার আলো নাই, নতুন প্রজন্মতো ফেন্সী আর ইয়াবা খাইয়া ঘুমাইতাছে। যারা যাইগা আছে তারাতো নষ্ট রাজনীতি আর টেন্ডারবাজী নিয়া ব্যস্ত।
টুটুল ভাইয়ের সাথে সহমত জানিয়ে গেলাম। আমিও এক সময় আশাবাদী ছিলাম। এখন আর তা নই! আশাহত!
এই সরকার আসার পর ভাবছিলাম, এবার মনে হয় আমাদের জাতি 'সত্য ও সুন্দরের' রাস্তায় উঠে যাবে। প্রায় দুইয়ে এসে মনে হচ্ছে, আমরা আরো 'খারাপ ও পুতিগন্ধময়' পরিবেশে চলে যাচ্ছি। যে পরিবেশ থেকে আমাদের হয়ত আর কোন দিন মুক্তি মিলবেই না।
যে দেশে মন্ত্রী পরিষর্দবর্গ মিথ্যা বলে, কোন ঘটনার মিথ্যা ব্যাখা দেয় - তাদের আর আমরা কি বলব!
(অনেক কথা লিখতে পারি, কিন্তু মন চায় না। কারন আমার লেখা কারো কোন পরিবর্তন আনবে বলে মনে হয় না। আর সে জন্য ফান টাইপ বিষয় নিয়ে ব্লগে থাকতে চাই। বন্ধু বাড়াতে চাই, বন্ধু হতে চাই।)
বন্ধু, মনে হইতাছে তুমি একটু বেশী আশা করছিলা, তাই তোমার হতাশার মাত্রাও বেশী, আমি অবস্থার বেশী উন্নতি আশা করিনাই, অর্থাৎ দশটাকা সের চাইল খাইতে চাই নাই। আবার চালের কেজি পন্ঞাশ টাকা হইবো সেই আশংকাও করি নাই। অর্থাৎ অবস্থার উন্নতি, অবনতি কোনটাই চাই নাই, চাইছি শুধু একটি স্থিতিশীল রাজনৈতিক,অর্থনৈতিক এবং সামাজিক পরিবেশ- যা নিশ্চয়তা বিধানে আমাদের রাজনীতিকরা পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে...।
* জবাব
ঈশান মাহমুদ, দেশীয় রাজনীতিবিদ সম্পর্কে তোমার নাতিদীর্ঘ রচনার জন্য দশে দশ নাম্বার ।
আর শেয়ার বাজার নিয়ে আলোচনা শুধু আমেরিকান নয়, আমারও প্রতিদিন করছি । দিলবুরা লীনা, সাহাদাত উদরাজী আর আহাদরা তো কম যায় না এব্যাপারে। আহাদ উদরাজীরা ইদানীং অবশ্য শরবত এর বোতল নিয়েও আলোচনা কম করছে না। আহাদ গ্লাস প্রতি খরচটা একটু কমানোর জন্য শরবতের বোতলটাই হাতের নাগালে এনেছে। আর গুরু উদরাজীতো শরবত পান করবেন জনাব... বলে সবাইকে উৎসাহিত করছে। সাহাদাত, গুরু কোথায় তুমি ...................
লিটন, আপনার কাছ থেইকা দশনম্বর পাইয়া সত্যি লজ্জায় পইড়া গেলাম। ভালো কিছু নিয়া লেইখা নম্বর পাইলে ভালো পাইতাম। কিন্তু লিখলামতো ভাঁড়দের ভাঁড়ামি নিয়া। আপনারে ইদানীং খুব 'গুরু ভক্ত' মনে হইতাছে... বিশেষ করে 'গুরু'কে (কোরবানীর গরু)বাঁশ দেয়ার পর থেকে। কিন্তু... কথিত গুরুর প্রতি আপনার অতি গদগদ ভাব দেখে আমার আবার সেই প্রবাদবাক্যটি মনে পড়ে গেল-'অতিভক্তি .....' উদরাজী সাবধান।
হাঃ হাঃ ঈশান। হাসালে বন্ধু। উদরাজী গুরু কিছু কও।
লিটু, তোমাকে দিয়ে আজকাল কিছু হবে বলে মনে হচ্ছে না। তুমি আমাদের বস্তা পচা রাজনীতিবিধদের মত হয়ে গেছ। দুই বছর পার করে দিয়েও উনারা যেমন আগের কথা বলে সহানুভুতি পেতে চান, তোমার অবস্থাও তাই দেখছি!
পারলে নুতন কিছু দেখাও। নতুবা বাসায় বসে বসে শরবত খাও!
@লিটন,
আরেক জন্ম বলতে তো কিছু নেই তাহলে হয়তো অবস্থার পরিবর্তন হবে গোছের আশা করতাম, তা যখন নেই তাহলে আর কি
হাঁ লীনা, কিছু না করতে পারার অক্ষমতা থেকেই আমার এই ক্ষোভ । ঘৃণা...ঘৃণা...ঘৃণা।
১. এখন দুইজন বাঙ্গালী এক হইলে শেয়ার নিয়া আলাপ করে
২. পুরা পুষ্ট কিন্তু মাইনাস টু থিউরির মূখবন্ধ

বস, গণিমতের মাল মনে কইরা আমাদের দেশটারে নিয়া যারা ছিনিমিন খেলতাছে, তাদের প্রতি কিন্চিৎ ঘৃণা প্রকাশের জন্য আমার এই ক্ষুদ্র চেষ্টা। হাঁ আপনি ঠিকই বলেছেন মাইনাস টু ফর্মুলাকে বন্ধু সিরাজীর মতো আমিও আবার একটু একটু পছন্দ করতে শুরু করেছি।
রাজনীতি ও রাজনীতিবিদদের সবকিছুই আমার কাছে ঘৃণ্য মনে হয় এখন, তাই তাদের সম্পর্কে কোন মন্তব্য করতেও রুচীতে বাধে । "রাজনীতিবিদগণ হলেন দেশের সবচে সুবিধাবাদী শ্রেণী। এরা বলতে গেলে কোন কাজই করেন না, (পারলে সকল কাজে বাগড়া দেন) অথচ সব কাজের ফল ভোগ করেন।" ঈশান মাহমুদের এ বক্তব্যের সাথে অল্প একটু দ্বিমত থাকায় মন্তব্য করতে হচ্ছে । উপরের উদ্ধিৃতির 'ফল' শব্দটি 'সুফল' দ্বারা প্রতিস্থাপিত হলে তা হবে বাস্তবতা ।
গ্রহণযোগ্য তথ্যের সমাবেশে সুন্দর উপস্থাপনা ভাল লাগলো ।
হুদা ভাই, আপনার সঙ্গে দ্বিমত করার অবকাশ নেই, রাজনীতি নিয়া কথা বলতে আমিও উৎসাহবোধ করিনা। কিন্তু রাজনীতিবিদদের কর্মকান্ড আর বাড়িবাড়ি দেখে মনের মধ্যে যে ক্ষোভ তৈরী হয়, তা প্রকাশ না করেওতো থাকতে পারিনা।
অবশ্যই । প্রকাশ তো করতেই হবে । একচেটিয়া খেলে যাবে নাকি ? খালি মাঠে গোল করতে দেওয়া তো অন্যায়, বিরাট অন্যায় হবে ।
মহান প্রভু আমাদেরকে মানব কূলের বহুবিধ গুণসম্পন্ন এই সম্প্রদায় থেকে নিরাপদ রাখেন।
আমীন । সবাই বলুন, আমীন । আরো জোরে বলুন, আ মী ন ।
কিন্তু সকাল নিরাপদ থাকার উপায় কি? পুরো দেশইতো এ আপদদের দখলে...।
এ জন্যই তো মহান প্রভুর শরনাপন্ন হওয়া । সর্বশেষ ভরসা । [সকালের পক্ষে আমি জবাব দিলাম, জানিনা সকাল আমার সাথে একমত হবেন কিনা]
আমাদের দেশে এখনো অনেক সৎ, নীতিবান, দেশপ্রেমিক রাজনীতিবিদ রয়েছেন। সব দলের মধ্যেই তাদের বিচরণ রয়েছে। কিন্তু...সন্ত্রাস, কালোটাকা, আর পেশীশক্তির দাপটের কাছে তারা অসহায়।
তারা কারা?
তানবীরা, আপনি আমাকে কঠিন প্রশ্নের মুখোমুখি ফেলে দিয়েছেন, তারা কারা -সেটা আমারও অজানা, তবে সব কিছু যেহেতু এখনো পচে-গলে যায়নি, সেহেতু বলা যায় ভাল লোক এখনো আছে, হয়তো তারা নেতৃত্বে নেই....।
এরকম উপাদেয় লেখা আমরা নিয়মিত চাই ।
ধন্যবাদ শিপন।
বন্ধু, মনে হইতাছে তুমি একটু বেশী আশা করছিলা, তাই তোমার হতাশার মাত্রাও বেশী, আমি অবস্থার বেশী উন্নতি আশা করিনাই, অর্থাৎ দশটাকা সের চাইল খাইতে চাই নাই। আবার চালের কেজি পন্ঞাশ টাকা হইবো সেই আশংকাও করি নাই। অর্থাৎ অবস্থার উন্নতি, অবনতি কোনটাই চাই নাই, চাইছি শুধু একটি স্থিতিশীল রাজনৈতিক,অর্থনৈতিক এবং সামাজিক পরিবেশ- যা নিশ্চয়তা বিধানে আমাদের রাজনীতিকরা পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে...।
মন্তব্য করুন