ইউজার লগইন

জাকির'এর ব্লগ

কুলি

এয়ারর্পোট রেলস্টেশন, চাতকের মত তাকিয়ে আছে একদল মানুষ। কখন আসবে ট্রেনটা...উফ ৫ মিনিট দেরী করেছে ট্রেনটা । এগার সিন্দুর আন্তঃনগর ট্রেন, আসছে কিশোরগঞ্জ থেকে।সবাই ভোঁ দৌড় দিল একসাথে ।হুইসেল বেঁজেছে মানে আসছে ট্রেনটা ।

হিরণ এই স্টেশনের পাশে থাকে।ভাঙ্গা একটা ঘরে।হতবাগা বেচাড়া কুলির কাজ করে
স্টেশনে।কথায় বলে না কপালে কষ্ট থাকলে ফেরায় কে?
বাবা বাসের ড্রাইভার ছিল । হরতালে গাড়ি চালাতে গিয়ে পুড়ে মরেছে।আর মেরে গিয়েছে একগুচ্ছ স্বপ্ন আর তাজা প্রাণ দুটোকে। এখন মা আর ছোট বোনের আহার জোটাতে হিরণকেই নামতে হয়েছে এই পেশায় ।
কত আর বয়স ছেলেটার...১২ কী ১৪ হবে।

জীবন যুদ্ধে ঠিকে থাকতে এখন প্রাণপণে দৌড়াচ্ছে হিরণ ।আগে ট্রেনে উটতে হবে,চলন্ত ট্রেনে।না হলে খদ্দের পাওয়া যাবে না। এখানেও জীবনের প্রতিযোগীতা প্রচন্ড।প্রাণ হাতে রেখেই সবাই উটে ট্রেনে।আশা একটাই দিন
শেষে অন্তত একবেলা পেট পুরে আহার করা যাবে । হিরণের আশা এবং প্রচেষ্টাও অন্য সবার মতই ।
অনেক কষ্টে বড়দের ফাঁক ফোকর দিয়ে ট্রেনে উটেছে হিরণ । কিন্তু কেউই মালামাল চাপাবে না ওর মাথায়।বাচ্চা ছেলে বইতে পাড়বে না ?

উনিশ শত ৫২

শীতকাল !
চারদিকে ঘোর কুয়াশার চাদর। কয়েকদিন ধরে র্সূয রশ্নিরও ক্ষমতা হচ্ছে না এই চাদর ভেদ করার। ঘন কুয়াশায় নিমজ্জিত জনপদ যেন নীরবতার অতল গহ্বর। মাঝে মাঝে জনপদের এই নীরবতা ভাঙ্গে ঠান্ডায় কেঁপে ওঠা কুকুরের আর্তনাদে।তারপর আবার সেই সুনশান অবস্থা ।

ষ্টেশনের পাশে ঝুপরির মত একটা তাল পাতার কুটিরে শুয়ে আছে মানস। গায়ে র্জীণ কম্বলের আচ্ছাদন।শীতের নির্মম কষাঘাত পারলে তার পাজর ভেঙ্গে দেয় ।
টুপ টুপ করে শিশির ঝরছে আর তা তার তাল পাতার নীড় বেয়ে নেমে আসছে এই পৃথিবীতে।মাঝে মাঝে দুই এক বিন্দু শিশির ছিদ্র আন্বেষণ করে ঝরে পড়ছে অন্তঃপুরিকায়। আর এই শিশির ভেজা কম্বলের অস্তিত্ব অনুমান করেই কেঁপে ওঠছে মানস ।

বয়স বাড়ছে দিনের।বের হয়ে যেতে হবে জীবন যুদ্ধে। কষ্টমাখা পৃথিবীর কৃত্রিম জীবন আর যুদ্ধ !

মানস ভিক্ষুক ! তবে অন্য সকলের মত সে কারো কাছে হাত পাতে না।সকালের এক কাপ চা হাতে লোকদের পত্রিকা পড়ে শোনায়,গল্প করে আর উপদেশ বাণী শোনায়।
সামনে একটা কার্টুন রাখা এক পা হারানো এই বৃদ্ধের।একটা লেভেলে লিখা "সাহায্য প্রত্যাশী" ।