আমাদের হতাশ করবেন না
বেশ কিছুদিন যাবত একটা ব্যাপার খুব মনের মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে, কিছুতেই বের করতে পারছিনা আর তা হলো, এই যে গত নির্বাচনে নতুন প্রজন্ম এভাবে রায় দিয়ে আওয়ামীলীগকে ক্ষমতায় বসালো একটি যুগপোযোগী নির্বাচনী ইশতিহারের পুরষ্কার স্বরূপ, সেই আওয়ামীলীগ সরকার এই নতুন প্রজন্মকে শেষ পর্যন্ত হতাশ করবে না তো?
১
গত নির্বাচনে আমি দেশেই ছিলাম। নির্বাচনের পরপরই দেশ ছেড়েছি। ১/১১ এর পরপর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়টুকুতে বেশ শান্তিতে ছিল সাধারণ জনগন। এখানে সাধারণ জনগন বলতে বুঝিয়েছি আমাদের মত মধ্যবিত্তশ্রেণীর কথা। উচ্চবিত্ত শ্রেণীর মানুষ বেশীরভাগ সময় শান্তিতেই থাকেন। কোন সরকারী অফিসে ঘুষ লাগতো না, থানায় যেয়ে কোন ব্যাপারে অভিযোগ করলে চমৎকার ব্যবহার পাওয়া যেত। তবে সেক্ষেত্রেও একটা ব্যাপার ছিল, যাদের কোন নিকট আত্মীয় অথবা পরিবারের কেউ সেনাবাহিনীতে ছিল তাদের জন্য ছিল সেটা স্বর্ণযুগ। যাই হোক আজ সেই কথা বলবো না।
গত নির্বাচনে আমি আওয়ামীলীগকে ভোট দিয়েছি এবং তার পেছনে একটাই কারণ ছিল তারা বলেছিল সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করবে। আমি সেটা বিশ্বাস করেছি, এবং আমার ধারণা আমার মত নতুন প্রজন্মের অনেকি সেটা বিশ্বাস করেছিল। এর কারণ একটাই, এই দেশদ্রোহী চক্রের হাতে ১৯৭১ এর পর বার বার ধর্ষিত হচ্ছিল আমাদের এই দরিদ্র দেশটা। (এখানে দরিদ্র আসলে দেশ হবে না, হবে আমাদের মন মানসিকতা) আমরা তার আগের সরকারের সময় চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীদের টেলিভিশনের পর্দায় নির্লজ্জ্বের মত বুক ফুলিয়ে বলতে দেখেছি "দেশে কোন যুদ্ধাপরাধী নেই।" আমরা দেখেছি, দেশদ্রোহী/যুদ্ধাপরাধীদের মন্ত্রীত্বের মসনদে বসতে। আমরা দেখেছি যেই নরপশুগুলো এই দেশের স্বাধীনতা চায়নি তাদেরকে বিজয় দিবসে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করতে, আবার তাদেরই গাড়ীতে এই পতাকা ঊড়তে।
বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধাদের মাসিক ভাতা দেয়া হয় সরকারের পক্ষ থেকে, যদিও পরিমাণটা খুবই সামান্য। এই মাসিক ভাতা অর্থমন্ত্রনালয়ের অনুমোদনে বিভিন্ন জেলায় বন্টন এবং এই ব্যাপারটা নিয়ন্ত্রিত হয় সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে। সেই সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে্র মন্ত্রী ছিলেন বর্তমানে যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত জামায়াত ইসলামীর সেক্রেটারী আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদ। এর মানে কি দাঁড়ালো? একজন মুক্তিযোদ্ধাকে তার ভাতা নিতে হবে একজন রাজাকারের কাছ থেকে। কত বড় অপমানজনক ব্যাপার ছিল জাতির বীর সন্তানদের জন্য ব্যাপারটা। এই ব্যাপারটা আমাদের শিক্ষিত সমাজ একটুও লক্ষ্য করেননি। এমনকি এই অনুভূতিটা আমার নিজেরও নয়।
২০০৬ এর দিকের কথা। আমি তখন ঢাকায়। একরাতে (আনুমানিক সাড়ে এগারটা) রিকশার জন্য দাঁড়িয়ে ছিলাম ঝিগাতলার মোড়ে বাসার আসবো বলে। কোন রিকশায় মোহাম্মদপুর আসতে চাচ্ছিল না। অনেক কষ্টে এক বয়স্ক রিকশাচালককে রাজী করাতে সফল হই। রিকশায় চড়ে খুব খারাপ লাগছিল, কারণ দেখছিলাম সেই রিকশাচালকের খুব কষ্ট হচ্ছিল রিকশার প্যাডেল চাপতে। স্টার কাবাবের মোড় পর্যন্ত এসে নেমেই গেলাম। জিজ্ঞাস করলাম, চাচা আপনার এত কষ্ট হচ্ছে তবুও কেন রিকশা চালাচ্ছেন আপনি? আপনার ঘরে কে কে আছে? প্রথমে তেমন কিছু বলতে না চাইলে পরবর্তীতে আমার জোরাজুরিতে মুখ খুললো। সেই রিকশাচালক আমাদের দেশের অন্যতম বীর সন্তান এক মহান মুক্তিযোদ্ধা। ১৯৭১ এ তিনি ছিলেন দূরন্ত তরুন। বঙ্গবন্ধুর কথায় কোন কিছু না ভেবে যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েছিলেন। খেয়াল করেছিলাম বঙ্গবন্ধুর কথা মুখ দিয়ে উচ্চারণ করতেই তার চোখ ভিজে আসছিল।
এই মুহূর্তে আমার মনে পড়ছেনা তার গ্রামের বাড়ি কোথায় বলেছিল, তবে সেদিন তার কথাগুলো ছিল এমন। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে হত্যা করার পরে বাংলাদেশে আবারো স্বাধীনতা বিরোধীরা প্রকাশ্যে আসতে শুরু করে। তিনি ৭১ এ সম্মুখ যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন এবং ১৯৭৮ সালে তাকে তার গ্রামের বাড়ী থেকে বিতারিত হয়ে যেতে হয় তার গ্রামের চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীদের অত্যাচারে। তারপর থেকে তিনি ঢাকায়। এবং যতদিন শরীরে শক্তি ছিল ততদিন তিনি দিনমজুরের কাজ করে সংসার চালিয়েছেন। তার কোন ছেলে নেই, দুই মেয়েকেই বিয়ে দিয়েছেন অনেক কষ্ট করে। ১৯৯৬ সালে যখন আওয়ামীলীগ সরকার গঠন করে তখন সে গ্রামে ফিরে যায় এবং পৈতৃক সম্পত্তি সবই বেদখল হয়ে যাওয়ায় ঢাকা ফিরে আসতে বাধ্য হয়। ২০০১ সালে চার দলীয় জোট ক্ষমতায় আসার পরে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় একজন চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীর দ্বায়িত্বে দেয়াতে ঘৃণায় সে তার ভাতা নেয়নি। তার ভাষ্য ছিল এমন, "৭১এ মরে গেলেতো আর এই দিন দেখতে হতো না। আমার পতাকা লাগিয়ে ঘুরবে ঐ রাজাকার, আর আমি তার কাছে হাত পাতবো খাওয়ার জন্য। দরকার হলে, নদীতে ঝাপ দিব তবুও দেশ বেঁচতে পারবো না।"
সেদিন উপলব্ধি করেছিলাম প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা এবং রাজাকারদের মধ্যে মূল পার্থক্য কোথায়। একজনের আত্মসম্মানবোধ হিমালয়সম, আরেকজন টিভি ক্যামেরার সামনে দাঁত কেলিয়ে বলে "দেশে কোন যুদ্ধাপরাধী নেই।"
২
বেশ অনেকদিন যাবত আমার পরিচিত অনেকেই আমার উপর খুবই বিরক্ত। কারণ আমি নাকি নিজেকে বেশী দেশ প্রেমিক হিসেবে দেখাতে চাচ্ছি। যারা তাদের বন্ধু তালিকায় আমাকে ফেইসবুকে রেখেছেন তারা ব্যাপারটা বুঝতে পারবেন খুব সহজেই। আমার প্রোফাইল জুড়ে শুধু এই মুক্তিযুদ্ধ, যুদ্ধাপরাধী, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুন্যাল, আই সি এস এফ এসব পোস্টে ভরে থাকে। একারণে অনেকেই আমাকে চক্ষু লজ্জ্বার খাতিরে বন্ধুতালিকা থেকে বাদ দিতে না পারলেও লিমিটেড অথবা আন সাবস্ক্রাইভ করে রেখেছেন। ব্যাপারটা আমার জন্য মোটেই বেদনাদায়ক নয়। তবে আমার ব্যাথাটা অন্য জায়গায়। যখন দেখি শিক্ষিত ছেলে মেয়েরা গোলাম আযমের নামের পূর্বে জনাব ব্যবহার করে আর বঙ্গবন্ধুর মত একজন মহান নেতাকে গালি দিয়ে কথা বলে।
কিন্তু আমি কেন যেন এমনটি দেখলে চুপ থাকতে পারিনা। প্রতিবাদ করে বসি, আর তার জন্য ইনবক্স ভর্তি গালি এবং হুমকি। এসকল হুমকি আমার ভেতরে ভীতির সঞ্চার করতে না পারলেও এক ধরনের ব্যাথার উদ্রেক হয়। এই ব্যাথা ঐ সকল দালালদের জন্য নয়। কষ্ট হয় এই ভেবে যে এই যে নতুন প্রজন্মের একটা অংশকে আমাদের ভুল ইতিহাস শিক্ষা দেয়া হয়েছে, আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধকে খাট করে দেখতে শেখানো হয়েছে, যারা দেশের স্বাধীনতা চেয়েছে তাদেরকে ভারতের দালাল ভাবতে শিখিয়েছে, এরাও তো ভবিষ্যতে ঠিক একই শিক্ষা দেবে তাদের পরবর্তী বংশধরদের। তাতে কি হবে? অনন্তকাল ধরে একটা দালাল শ্রেণী রয়ে যাবে জাতির ভেতরেই? তাহলে কি এই রাজাকার, আল বদররা সফল? আমরা কি আমাদের এই দেশটাকে পুরোপুরি রাজাকার মুক্ত করতে পারবো না কখনোই?
৩
আমি সাধারণত মুখ খারাপ করিনা। তাই যখনই কেউ আমার সাথে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে কথা বলতে আসে, কিংবা কেউ ভুল তথ্য ছড়াচ্ছে বলে আমার দৃষ্টিগোচর হয়, আমি চেষ্টা করি তথ্য প্রমাণ দিয়ে তার মিথ্যের জবাব দিতে। তাই দিয়ে আসছি এবং ফেইসবুকে বিভিন্ন গ্রুপে, পেইজে দিয়ে আসছি। এমনকি ব্যক্তিগত জিবনেও অনেকের সাথে এইসব নিয়ে আমার অনেক আলোচনা হয়। (আমি ব্যক্তিগত ভাবে এসকল আলোচনা খুবই পছন্দ করি) তাদের সাথেও যুক্তি, প্রমাণ, তথ্য উপাত্ত দিয়ে কথা বলি। কিন্তু ইদানিং একটা ব্যাপার খেয়াল করছি বিভিন্ন গ্রুপে যখন এসব নিয়ে তর্ক হয়, তখন কোন এক তৃতীয় ব্যক্তি এসে খুব ব্যক্তি আক্রমণ করে কথা বলতে থাকবে এবং যার সাথে শুরু থেকে তর্ক হচ্ছিল সে খুব কৌশলে তার পক্ষে কথা বলতে থাকে। এতে করে তারা যে চেষ্টা করে তা হলো, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের যারা কথা বলছে তাদেরকে উত্তেজিত করে তাদের মুখ থেকে খারাপ কোন ভাষা বের করে তা নিয়ে হৈহৈরৈরৈ করা। যাতে করে, তার আগ পর্যন্ত যুক্তি প্রমাণে যে তারা হেরে গেছে সেদিক থেকে সকলের দৃষ্টি অন্য দিকে সড়িয়ে নেয়া।
এসকল কারণে খুবই বিরক্ত হয়ে এখব ঘোষণা দিয়েছি, এরপর থেকে আর যুক্তিপ্রমাণ দেবন না। বিরক্ত হবার পেছনে কারণ অনেক। একটা ছোট্ট প্রমাণ দেই।
অনেকদিন পূর্বে আমার পরিচিত একজনের সাথে খুব তর্ক হয়েছিল আমার ফেইসবুক প্রোফাইলে। শুরুটা ছিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে মুজিব্যা বলার কারণে। প্রথমে সে সরকার তথা আওয়ামীলীগ বিরোধী কথা বলছিল। সেটা যে কেউ বলতে পারে, সরকার যে বর্তমানে সব কিছু লেজে গোবরে করে ফেলেছে সেটা যে কোন সুস্থবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষই বুঝবে, হয়তো মুখে স্বীকার করবে না। যাই হোক, আমার বন্ধু তালিকায় থাকা সেই ব্যাক্তি তর্কের এক পর্যায়ে দেখলাম গোলাম আযমের নামের সাথে সাহেব যুক্ত করে কথা বলছেন, অথচ বঙ্গবন্ধুকে বেশ অপমানজনকভাবেই সম্বোধন করছেন। তখনি বলে দিলাম ভাই আপনার সমস্যা আছে, আপনার সম্পর্কে আমার জানতে হবেনা, আপনি দেশ নিয়ে কতটা দরদী তা গোলাম আযমের নামের পরে সাহেব যুক্ত করাতেই আমি বুঝে গেছি। সে বলে, বাঙ্গালী নাকি যুদ্ধ চায়নি, আমাদের উপর শেখ মুজিবুর রহমানের ক্ষমতার লোভের কারণে যুদ্ধ চাপিয়ে দেয়া হয়েছে। এক পর্যায়ে সে খুবই আপত্তিকর কিছু কথা বলে বসলো আমাদের জাতীয় চার নেতাকে নিয়ে। এরপর আমার মন্তব্য ছিল, আপনার রক্তের সমস্যার কারণে আপনাকে বন্ধুতালিকা থেকে বাদ দিলাম এবং ভবিষ্যতে আমার কোন কিছুতে আপনাকে আমি দেখতে চাইনা।
আমি সাধারণত যুদ্ধাপরাধী বিষয়ক কোন কিছু শেয়ার দিলে তা পাব্লিক করে দেই যেন অন্যেরাও চাইলে শেয়ার করতে পারে। এমন ভাবেই গোলাম আযমের একটা ইন্টারভিউ শেয়ার করলাম আমার প্রোফাইলে। রাতে শেয়ার করে সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি সেই ব্যক্তি মুখে যা এসেছে বলে গেছে মন্তব্য করে। ভাল কথা, তার সকল কথার জবাব দিলাম। তার সাথে ছিল আমার এবং তার এক মিউটুয়্যাল ফ্রেন্ড। সে খুবই যুক্তি দিয়ে কথা বলে এবং কোন অশালীন শব্দ উল্লেখ করেনা বলে তাকে বন্ধু তালিকা হতে বাদ দেইনি।
এবছর আমাদের শহীদ দিবস (আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস) একুশে ফেব্রুয়ারীতে হয়তো অনেকেই সংবাদটি খেয়াল করেছেন, কোন এক স্থানে শহীদ মিনার ভাঙ্গার দায়ে এক মাদ্রাসা শিক্ষককে আদালতে হাজির হবার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আমার বন্ধুতালিকা থেকে বাদ দেয়া সেই ব্যক্তির প্রোফাইলে সেদিন দেখলাম সে সরাসরি লিখেছে "বালছাল শহীদ মিনার।" আমার রক্ত তখন টগবগ করছে, মনে হচ্ছিল সামনে পেলে খুন করে ফেলবো তারে। তার সেই স্ট্যাটাস স্ক্রীনশট নিয়ে আমার ফেইসবুকে পোস্ট দিয়ে সবাইকে তার পরিচয় দিয়ে দিলাম এই সেই ব্যক্তি যে আমার সাথে অনেক ব্যাপারে তর্ক করার পরে তাকে আমি বন্ধু তালিকা থেকে বাদ দিলাম। এরপর সে এবং তার বন্ধুরা একের পর এক আমাকে ইনবক্সে, ওয়ালে আক্রমণ। সে ভদ্র ঘরের সন্তান, কেন তাকে এভাবে ছোট করছি আমি, আরো অনেক কিছু। ভাল সেটাও সহ্য করলাম। সেদিন আমাকে একজন মানুষ খুব অনুরোধ করে বলেছিল "আপনি এই ব্যাপারটি না করলেও পারতেন, এতে আপনার প্রতি আমার শ্রদ্ধাবোধ অনেকাংশে কমে গেছে, আপনি বরং পোস্টটি মুছে ফেলুন। " আমার জবাব একটিই, "না।"
আমার ভেতর অনেক কষ্ট হচ্ছিল, আসলে আমি বিশ্বাস করতে পারছিলাম না, আমাদের দেশের আলো বাতাসে বেড়ে উঠা কেউ আমাদের জাতীয় সংস্কৃতিকে এতটা অপমান করে কথা বলতে পারে। তাই চোখ রাখলাম সেই ব্যক্তির প্রোফাইলে। দেখি সে তার অপর এক পোস্ট এ সরাসরি বলছে, "বাংলা ভাষা নিচু শ্রেণীর মানুষের ভাষা।" এরপর আমি সেটার স্ক্রীণশট নিয়ে যেই ব্যক্তি আমাকে ঐ পোস্ট মুছে দিতে অনুরোধ করেছিল তাকে পাঠিয়ে বলি, এখনও কি আপনি বলবেন তার রক্তে সমস্যা নেই? সেই ব্যক্তি চুপ কোন জবাব নেই।
তার ৪/৫ দিন পরে তার আরেকটি পোস্টে দেখি সে সরাসরি লিখেছে পাকিস্তানকেই এই মুহুর্তে এই অঞ্চলের নেতৃত্ব নিতে হবে। সেটারও স্ক্রীনশট নিয়ে পাঠালাম, এবারো কোন জবাব নেই।
৪
আমরা জানি, দীর্ঘ ৩৯ বছর পরে ২০১০ সালের ২৫শে মার্চ গেজেটে প্রয়োজনীয় প্রজ্ঞাপণ জারীর মাধ্যমে গঠিত হয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুন্যাল। ১৯৭৩ সালে প্রণীত আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইবুন্যালস) আইনের আওতায় প্রতিষ্টিত এই ট্রাইবুন্যালের মূল লক্ষ্য ১৯৭১ সালে বাঙ্গালী জাতির উপর যেসকল মানবতা বিরোধী অপরাধ সংগঠিত হয়েছে সেগুলোর সাথে সম্পৃক্তদের আইনের আওয়ায় এনে বিচার করা। এ দাবীটি এই জাতির প্রাণের দাবি। আর কতকাল এই কলঙ্ক বয়ে বেড়াবে এই জাতি? আর কতকাল আমাদের শহীদদের আত্মা তাকিয়ে থাকবে আমাদের দিকে কবে হবে তাদের খুনীদের বিচার, কতকার বীরঙ্গনারা মুখ বুজে চেয়ে থাকবে রাজাকারের গাড়িতে আমাদের জাতীয় পতাকার দিকে? আর কতকাল মুক্তিযোদ্ধা এবং তাদের পরিবারের সদস্যরা অত্যাচার সহ্য করবে সেই দালালদের আর লুকিয়ে কাঁদবে? এর শেষ হওয়া উচিত। আমার বিশ্বাস সেটা অনেকেই মানেন এবং মনে প্রাণে চায়। তবে সমাজের এক শ্রেণীর মানুষের মধ্যে এই চাহিদা কোন এক অজ্ঞাত কারণে খুব কম পরিলক্ষিত হয়। তাদেরকে সবাই চেনে। তাদের নাম আমরা সকলেই জানি। আমি কোন জামায়াত নেতার নামের কথা বলছিনা। তারা হলেন আমাদের দেশের বিভিন্ন জনপ্রিয় লেখক, কলামিস্টরা। এর কিছু কারণ আমি বোঝার চেষ্টা করেছি। যদিও এসব একান্তই আমার ব্যক্তিগত মতামত।
আজ পর্যন্ত কোন প্রথম সারির কলামিস্টকে দেখলাম না এই নিয়ে কোন কলাম লিখতে। তারা কি জানেনা তাদের কথায় তরুন প্রজন্ম বেশী উদ্দিপ্ত হবে? তারা কি জানেনা, তাদের কথার গুরুত্ব এবং প্রভাব অনেক বেশী? দেশের সবাই জানে, আমাদের দেশে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চলছে। কিন্তু এর পক্ষের খবরের চেয়ে বিপক্ষের খবর বেশী জানতে পারছে আমাদের দেশের জনগন। তার কারণ একটায়, যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত আসামীদের বাঁচাতে যেই গোষ্ঠি মরিয়া হয়ে উঠেছে তাদের পক্ষের লেখক এবং সামাজিক কর্মীরা অনেক বেশি সক্রিয়। ঐ পক্ষের লেখকরা ব্যবসায়ী লেখক নন কিংবা তারা তেমন জনপ্রিয় লেখকও নন। তাই তাদের হারানোর ভয় নেই, যে ভয় আছে দেশের প্রথম সারির কিছু লেখকদের। তারা যুদ্ধাপরাধীদের বিপক্ষে এক সময় অনেক বড় বড় কথা বলেছেন, কিন্তু কোন এক অলৌকিক শক্তি তাদের আজ এ বিষয়ে লিখার ক্ষমতা কেড়ে নিয়েছে। তারা যদি আজ যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের পক্ষে লিখা শুরু করেন তাহলে মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী শিবিরে তাদের যে পাঠকচাহিদা রয়েছে তা কমে যাওয়ার ভয় আছে। তারা দেশ নিয়ে ভাবেন না, ভাবেন তাদের কোন বই/কিংবা লিখাকে কিভাবে বিক্রি করা যায়। সেকারনেই এক বইকে অন্য ভাষায় অনুবাদ করে প্রচার, জাতির জনকের হত্যার ইতিহাস নিয়ে রূপকথা, টিনেজারদের মত রোমান হরফে বাংলা লিখা এসব বেশ চোখে পরে। কেউ কেউ তো আছেন, পারলে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বন্ধ করেই দেন।
আপনাদের মধ্যে যারা মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে উপন্যাস লিখে কিংবা নাটক/সিনেমা বানিয়ে এক সময় দেশের মানুষকে জানিয়েছেন এই ছোট্ট দেশটি কিভাবে স্বাধীনতা অর্জন করেছিল ১৯৭১ সালে, তারা আজ এভাবে চুপ থাকার কারণে জাতি কি ভাববে না, আপনাদের সেই সকল উপন্যাস/নাটক/সিনেমা ছিল শুধুমাত্রই ব্যবসায়ীক কিংবা জনপ্রিয়তা অর্জনের কৌশল? সব কিছু বাদ দিয়ে, আপনারাতো অন্তত অনেক বেশী জানার সুযোগ পেয়েছেন আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে এই রাজাকার, আলবদর বাহিনীর বর্বরতা সম্পর্কে, অনেকে নিজের চোখেও দেখেছেন, আপনাদের বিবেকে কি আপনাদের দংশন করেনা বিন্দুমাত্র, যখন কোন যুদ্ধাপরাধী আদালতে কোন এক সাক্ষীকে সরাসরি হুমকি দিচ্ছে আর আপনারা স্বপরিবারে গ্র্যান্ড ক্যানিয়নে বেড়াতে যেয়ে সেই ছবি আপলোড করছেন ফেইসবুকে? হয়তো আপনাদের মত জনপ্রিয় মানুষ অনেক কিছু হিসেব করতে হয় কিছু একটি ব্যাপার নিয়ে লিখতে, তবে আমার মত মানুষের তা করতে হয় না, কারণ আমাদের মত ক্ষুদে যোদ্ধারা ৭১ সালে যেমন ছিল, এখনো আছে। তারা নিরন্তর যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে। যেখানেই দেখছে রাজাকারের বাচ্চাগুলো আমাদের জাতির ইতিহাসকে বিকৃত করার চেষ্টা করছে কিংবা আমাদের জাতীয় বীরদের খাট করার চেষ্টা করা হচ্ছে, সেখানেই এই খুদে যোদ্ধারা প্রতিরোধের দেয়াল তুলে দাঁড়াচ্ছে। হয়তো এ কাজগুলো আমাদের এই সকল খুদে যোদ্ধাদের পক্ষে যতটা কঠিন ঠিক ততটাই সহজ ছিল আপনাদের। কিন্তু, আমরা নতুন প্রজন্ম আপনাদের দিকে তাকিয়ে বসে নেই। আমরা প্রতিবাদ করতে শিখে গেছি, আমরা আমাদের রণ কৌশল নির্ধারণ করতে জেনে গেছি, আমরা নিজেরা পাশে কাউকে না পেলেও একা এগিয়ে যেতে হবে সেটাও জানি। তবে আমরা একা নই, আমরা তরুনদের সাথে নিয়ে নতুন প্রজন্ম একটা একটা করে রাজাকার এবং তাদের বীজজাতগুলোর মুখোশ উম্মোচন করবো। আমরা ব্যবসায়ী নই, আমরা আমাদের জাতীর শ্রেষ্ঠ সন্তানদের আশাহত করবো না। অন্তত আমাদের তরুন প্রজন্মের ইতিহাস সচেতনতা থেকে এ কথা বলতে পারি, এক সময় আর আমাদের কোন জাতীয় দিবসে কেউ ভুল ইতিহাস বলবে না। চল্লিশ বছর ধরে আমাদের গলায় যে কাঁটা আঁটকে আছে সেটা বের করে ছুড়ে ফেলবই।
মোদ্দাকথাঃ এই মুহূর্তে দেশের যেই চরম অস্থিতিশীল অবস্থা, তাতে আমি শংকিত, যেই উদ্দেশ্যে এই সরকারকে ভোট দিয়ে আমাদের প্রজন্ম সংসদে পাঠিয়েছিল, আমাদের সেই আবেগকে এই সরকার গুরুত্ব দিবেতো? আমাদের আস্থা রাখবেতো, আমাদেরকে নিরাশ করবেনাতো? আমরা মনে প্রাণে চাই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হোক, সরকারের এই মেয়াদেই হোক। পরবর্তী নির্বাচনের জন্য এই ব্যাপারটিকে ঝুলিয়ে না রেখে অন্তত যেই কয়জনের বিচার শুরু হয়েছে তাদের বিচার শেষ করুন, আপনাদের অন্য সকল ব্যর্থতাকে পাশ কাটিয়ে আপনাদের আমি অন্তত আবারো ভোট দিব।





সবই রাজনীতি।
আমাকে একজন এটাও বলেছে, মুক্তিযুদ্ধ কি আমি চোখে দেখেছি। এসব অনেক আগের ব্যাপার। এগুলো বাদ দেয়া উচিত আমাদের।
২০০৮ এর নির্বাচনের পর সারা সনধ্যা রাসতায় হেটেছিলাম। কোণ খুশিতে কে জানে। আজ আর তা মনেও করতে পারি না
চরম লিখলেন .।
আশাভঙ্গ হবে, তবে আশাহত হবেন না ভাই মিশু।
বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতি এখন এক দারুণ ক্রান্তিলগ্নে এসে দাঁড়িয়েছে। আমরা যারা হাসিনা সরকারের ভুলভ্রান্তিগুলোর কঠোর সমালোচনা করি। তা এই সরকারের পতন কামনা করি না। করি এ জন্য যে, নিজেদের ভুলভ্রান্তির জন্য যদি এই সরকার আবার ক্ষমতায় আসতে না পারে ‘মহাবীর’ তারেক এবং তার জামায়াতী আত্মীয়দের (তারেকের নিজ বর্ণনামতে) যদি আবার ক্ষমতায় বসার সুযোগ ঘটে, তাহলে বর্তমানের পাকিস্তান ও আফগানিস্তানকে বাংলাদেশের তুলনায় মনে হবে স্বর্গোদ্যান। বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে শেখ হাসিনা এখনও ‘শিবরাত্রির সলতে।’ এই সলতেটি নিভে গেলে সামনে আবার দীর্ঘ অন্ধকার।
করোনিও কি?
বোকা মিত্রের চাইতে বুদ্ধিমান শত্রুকে গুরুত্ব দেওয়া। মন্ত্রিসভায় যেসব বেকুব সদস্য আছে, তাঁদের কম কথা বলতে বলুন, অথবা অপসারণ করা। সমুদ্রজয়ের চাইতে দেশের মানুষের মন জয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া। ছাত্রলীগ, যুব লীগের দ্বারা ঘনঘন সংবর্ধনা নেয়া বন্ধ করা। অন্য সব কিছুর আগে বিদ্যুত, পানি, গ্যাসের সঙ্কট হ্রাস, সড়ক দুর্ঘটনায় নিত্য প্রাণ বলির সংখ্যা কমানোকে প্রায়োরিটি দেওয়া। দেশে গুম, হত্যা, ধর্ষণসহ সন্ত্রাস বেড়েছে এই সত্যকে স্বীকৃতি দেওয়া। আগে দলের দুর্নীতিবাজদের কঠোর হাতে শাস্তি দেওয়া।
চিহ্নিত দুর্বৃত্তদের ক্ষমাভিক্ষা দিয়ে রাষ্ট্রপতিকে যেন বিতর্কিত করে তোলা না হয়, তার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।
একটি যোগ্য ও দক্ষতাসম্পন্ন মন্ত্রিসভা না থাকলে আওয়ামী লীগ সরকারের কর্মসূচী যতই ভাল হোক, তা বাস্তবায়ন করা যাবে না। সেনাপতি যতই দক্ষ হোন, আনাড়ি সেনাবাহিনী নিয়ে যেমন যুদ্ধ জয় করা যায় না, তেমনি প্রধানমন্ত্রী যতই অভিজ্ঞ ও দক্ষ হোন, আনাড়ি মন্ত্রী নিয়ে তিনি দেশকে সুশাসন উপহার দিতে পারবেন না।
’৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে আমরা রণাঙ্গনে জিতেছি, কিন্তু রাজনৈতিক জয় সম্পূর্ণ করতে পারিনি। মিলিটারি ভিক্টোরিকে আমরা পলিটিক্যাল ভিক্টোরিতে রূপান্তর করতে পারিনি। তারই পরিণতি ’৭৫-এর আগস্ট ও নবেম্বরের নিদারুণ ট্র্যাজেডি।
বঙ্গবন্ধু মিত্র বাছাইয়ে ভুল করেননি। ভয়, শেখ হাসিনা মিত্র বাছাইয়ে ভুল করেন।
সরকারের জনবিচ্ছিন্নতা দ্রুত বাড়ছে। আত্মসন্তোষ ও আত্মপ্রসাদের সর্বনাশা কুহক থেকে শেখ হাসিনাকে অবিলম্বে বেরিয়ে আসা দরকার।
বঙ্গবন্ধু বলতেন, ‘যুদ্ধ জয় করা সহজ, কিন্তু এই জয়ের সাফল্যকে ধরে রাখা কঠিন কাজ।
গোয়া, নিজামী, মুজাহিদ, সাঈদী আর সাকা- এই পঞ্চুখাটাশকে অবিলম্বে ঝুলিয়ে দেয়া হোক।
এইবারেই বিচার হয়ে গেলে নেক্সট ইস্তেহারে আর কি রাখা যাবে?
এমনটা ভেবে, এইটা ঝুলিয়ে রাখতে দেখলে এখন আর খুব একটা অবাক হব না।
আওয়ামী লীগ জানে দেশের মধ্যে একটা বড় গ্রুপ আছে যারা বিএনপিকে কখনোই ভোট দেবে না। তাই যা মন চায় তা করার একটা প্রবণতা আছে তাতের মধ্যে। সমস্যাটা আসলে এখন ভোটারদের।
এক মেয়ের বিয়ে হয়েছে, কিন্তু জামাই তুলে নেয় নাই, মেয়ে বাবার বাড়িতেই থাকে। জামাই মাঝে মধ্যে আসে, কয়েক দিন শ্বশুর বাড়িতে থাকে, তারপর আবার চলে যায়। এই রকম একবার জামাই আসার পরের দিন মেয়ে বাবাকে বললো, বাবা আমার আর কোন দুঃখ নাই, তোমাদের জামাই কালকে রাত্রে আমাকে বলেছে, কয়দিন পরেই আমাকে নিয়ে যাবে, নতুন ঘর তুল্বে, আমাকে সোনার চেইন বানিয়ে দিবে। বাবা মেয়েকে জিজ্ঞেস করলো, জামাই কখন এই কথাগুলি বলেছে, আগ রাত্রে না শেষ রাত্রে? মেয়ে উত্তর দিল শেষ রাত্রে। হতাশ বাবা তখন মেয়েকে বললো, মা রে আগ রাত্রের কথার কোন মূল্য নাই। তেমনি নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির কোন মূল্য নাই, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতে ভরসা করলে হতাশ হতেই হবে।
মানবতা-বিরোধী অপরাধের বিচার অবশ্যই হতে হবে, কিন্তু মানবতা-বিরোধী অপরাধের বিচারের মূলা পরের পাঁচ বছর ধরে খেতে চাই না। আর এক দিকে বিচার, অন্যদিকে ফুটোপকেটের দিলীপ বড়ুয়াদের রাতারাতি ছয় প্লটের মালিক হওয়া, দুই’দিনের এপিএসদের কোটিপতি হওয়া, রাজ-পরিবারের সেলিম সাহেবের আবু সায়ীদ স্যারকে সংসদে দাঁড়িয়ে অপমান, মুক্তিযুদ্ধেরই অপমান…
~
আমি আপনার অনুভূতিকে সম্মান করি। কিন্তু জাফর ইকবাল স্যারের একটা কথা এখানে উল্লেখ করবো, স্যার বলেছেন, "এই দেশে অনেক মানুষ আছে যাদের আওয়ামী লীগ নিয়ে অ্যালার্জি আছে, তার মানে কিন্তু এই নয় যে তাদের মুক্তিযুদ্ধ নিয়েও অ্যালার্জি আছে!"
এবং, আরেকটি কথা এখানেই আছে,
অতএব আমার নতুন করে বলার আর কিছু নেই।
আশার কিছুই দেখি না আর তবুও পড়ে থাকি এই দেশেই!
আওয়ামীলীগ যে যুদ্ধাপরাধের বিচার নিয়ে কতটা আন্তরিক তা এই নিউজ টা পড়লেই আপনার কাছে পরিস্কার হয়ে যাবে
http://barta24.net/index.php?view=details&data=Bank&news_type_id=1&menu_id=64&news_id=4930 আমার মতে ভোটের সময় দল বিচার না করে প্রার্থী বিচার করা গুরুত্বপূর্ণ. যেমন আমার আসনে প্রার্থী ছিল এরশাদ আর হান্নান শাহ. আমি জানি হান্নাহ শাহ ব্যক্তিগত ভাবে সৎ. আর এরশাদ সম্পর্কে নাইবা বলি. এখন আপনি বলেন আমার কি করা উচিত ছিল. যুদ্ধাপরাধের বিচার হবে এই আশায় এরশাদ কে ভোট দেওয়া.
আরেকটা উদাহরণ. মিরপুরে দুইজন প্রাথী. সেক্টর অথবা সাব সেক্টর কমান্ডার হামিদুল্লাহ খান বীর প্রতিক আর কামাল মজুমদার. জনগণ যুদ্ধাপরাধের বিচারের আশায় কামাল মজুমদারের মত চিহ্নিত দুর্নীতিবাজ, সন্ত্রাসের গডফাদার, গণধিকৃত ব্যক্তিকে ভোট দেয়. যার ফলাফল সাড়ে তিন বছরে বিচার তেমন না আগালেও, আমাদের মজুমদার সাহেব কিন্তু তার পারফরমেন্স দেখাতে দেরী করেন নাই. নারী সাংবাদিক নির্যাতন সহ কিছু আর বাকি রাখেন নাই.
স্কুলের ধর্ম বইয়ে একটা হাদিস ছিল এইরকম যে ' প্রত্যেক কাজের ফলাফল নিয়তের উপর নির্ভরশীল'. আমাদের মত দেশে কখনই কোনো দলকে একচেটিয়া ভোট দেওয়া টা উচিত না. যার প্রমান বি এন পি আর আওয়ামীলীগ ইতিমধ্যে রেখেছেন. গতবার দেশে ছিলাম, প্রার্থী দেখি ভোট দিয়েছি. এইবার ও যদি ভোট হয়, আর দেশে যেতে পারি, তবে গতবার এর মতই কাজ করব. প্রার্থী দেখে ভোট দিব. বি এন পি আর আওয়ামী লীগ দেখে না. কারণ কোনো দল ই কথা রাখে না.
তবে হাওয়া দেখে মনে হচ্ছে, আওয়ামীলীগ এর পক্ষে আবার জিতে আসা খুব কঠিন নয় বরং অসম্ভব.
আপনি সবই বুঝেন শুধু এটা বুঝেননা যে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হচ্ছে একটা "মোয়া", যেটা জনগণের নাকের ডগায় ঝুলিয়ে হাসিনা গং ক্ষমতায় এসেছে।
আ।লীগের মুজিব পরবর্তী ইতিহাস ঘাটলেই দেখা যাবে, সেটা শুধুমাত্র ভন্ডামী আর ক্ষমতার লোভ ছাড়া আর কিছু হয়।
আমি বললাম, আপনি লিখে রাখেন, এদেশে রাজাকারদের বিচার হবেনা। সত্যিই হবেনা, কারন সব ভন্ড। শুধু যারা ভাল মানুষ তারা কষ্টই পাবে।
কথা একটাই 'যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চাই'।
মন্তব্য করুন