ইউজার লগইন

আরাফাত শান্ত'এর ব্লগ

তখন থাকবে পরে এক ফালি এই দিন!

দিন যাচ্ছে যত বাঙ্গালী মধ্যবিত্তের যত স্মৃতিময় সময়ের গল্পগুলো ছিল, সেই গল্পের মানুষগুলো হারিয়ে যাচ্ছে। সুচিত্রা সেন তো সেই কবেই সিনেমার সোনালী দুনিয়া থেকে চলে গেছেন, থাকতেন একেবারেই অন্তরালে। এবার সেই অন্তরাল থেকেও হারিয়ে গেলেন। আমার অবশ্য তাতে খুব একটা কষ্ট নাই, অনেস্টলি স্পিকিং আমি সুচিত্রা সেনকে আমার সময়ের সঙ্গে রিলেট করতেও ফেইল করেছি। তাঁর সপ্তপদী কিংবা হারানো সুর আমিও টিভিতে দেখছি কিন্তু আগের মানুষদের মত সেরকম মুগ্ধ হই নাই। ফ্যান্টাসীও জাগে নাই। তার চেয়ে রাজ্জাক ববিতার সিনেমা কম্পারেটিভলি আমার বেশী স্টানিং লাগছে টিভিতে। আর আমরা এমন এক নষ্ট প্রজন্মে জন্ম নিছি যারা সিনেমা হলের চেয়ে টেলিভিশন কিংবা কমিকস বইকে বেশী আপন করে পেয়েছে। তাই সিনেমার যে চার্ম তা আমি খুব বেশী ফিল করতে পারেন না। তাই সুচিত্রা সেনের গ্ল্যামারের বর্ননা আমার মুরুব্বীদের মুখেই শুনতে হয় আর পত্রিকাতেই পড়তে হয়। এরকম একটা গল্প আছে- জানি না সত্য মিথ্যা, পাকিস্তান আমলে একবার নাকি বোর্ডের কোন পরীক্ষায় আসছিলো বাংলায় উত্তমের বিপরীত শব্দ, সবাই নিঃসংকোচে লেখে আসছে- সুচিত্রা। আসলে সময় মানুষকে নানান ভাবে ভাবায় ও নানান কিছুতে আচ্

বঙ্গ ফ্রীল্যান্স বুদ্ধিজীবির বানিজ্যমেলা যাত্রা!

নামটা ধার করেছি মুনতাসীর মামুনের বই থেকে। বইটার নাম সবাই জানে- ঢাকা স্মৃতি বিস্মৃতির নগরী। তার সেকেন্ড খন্ডে হরিপ্রভা তাকেদার গল্প আছে। হরিপ্রভা তাকেদা হলো ঢাকার প্রথম আধুনিক মহিলা। তার স্বামী উয়েমন তাকেদার ঢাকায় আসেন ভাগ্যের সন্ধানে, ১৯০৩ সালের দিকে খোলেন 'ইন্দোজাপানিজ সোপ ফ্যাক্টরী'। ঘনিষ্ঠতার সুত্র ধরে ১৯০৬ সালে তারা বিবাহ করেন। ১৯১২ সালে ব্যাবসা গুটিয়ে তাঁরা জাপান যাত্রা শুরু করেন। কোনো বঙ্গ মহিলার প্রথম জাপানী বিয়ে করে জাপান যাত্রা সেই প্রথম। ১৯১৫ সালে তিনি বইটা লিখেন নাম 'বঙ্গমহিলার জাপান যাত্রা'। নেতাজী সুভাষ চন্দ্রের দেখা করেন, জাপানের নানা শহরে ঘুরেন, শ্বশুর শ্বাশুরীর ও এলাকাবাসীর ব্যাপক আদর স্নেহ পান। তার বই পড়ে মুগ্ধ হয়েছেন কিশোর বয়সী অন্নদাশঙ্কর রায় থেকে বুদ্ধদেব বসু। একজন সাধারন বঙ্গমহিলা যিনি কিছুই দেখেন নি তার দুনিয়ার তার চোখে জাপান ও জাপানীদের সেই সময়ের সমাজ নিয়ে লেখতে পারা নিঃসন্দেহে অসাধারণ ব্যাপার। এশিয়ার বাইরে কিংবা এশিয়ার অন্য কোনো ভাষায় এরকম জাপান নিয়ে সম্পুর্ন কোনো বই বের হয়েছে কিনা তা গবেষনার বিষয়। ওয়াতানাবে নামের এক জাপানী জানাচ্ছেন জাপানীদের সেই সময়ের মন মানস

শেষ বলে কিছু নেই!

ভেবে ছিলাম টানা অবরোধ ও হরতালেই দিনগুলো কেটে যাবে সামনের সময়, কিন্তু তা হলো না অসীম অবরোধেরও একটা আপাত শেষ ঘটলো। অবরোধহীন এই দিনগুলো কেমন যেনো ম্যারমেরে লাগছে। যদিও আমার জন্য সবই একই রকমের দিন, অবরোধ হতে হতে কেমন জানি আমড়া কাঠের অলসতা ভর করেছে শরীরে। ভুড়ি বাড়ছে শুধু, অবরোধ নেই, আগুন নেই তাও কোথাও যাই না খালি ঝিম মেরে বাসায় বসে থাকি আর দুবেলা করে চায়ের দোকানে চার ঘন্টা, এই আপাতত এক্টিভিটি। আবীর ছিল বাসায়, দিন গুলো কাটলো আনন্দেই। শনিবারে যখন চলে গেল এবার আর তুলে দিতে যাই নি, বাসে তুলে দিয়ে এসে মন খারাপের সেই উদাসী রিকশা ভ্রমন ছিলনা, সিএঞ্জি খুজে চলে গেলো কমলাপুর আর আমি বাসাতে। সেই শনিবার ব্যাপক হাসাহাসির ভেতরে ছিলাম সারাদিন, সন্ধ্যায় আদনান জন্মদিনের পার্টি দিল ক্যাম্পে- ব্যাপক খেলাম। ক্যাম্পে দলবেধে গেলে বিপদ। রিকশা থামালেই ছেকে আসে পোলাপাইন, মামা আমাদেরটায় আসেন, ভাইয়া আমাদেরটায় আসেন, কেউ বলে উঠে এতো আমাদের ভাই আসেন ভাই মুসলিমে, কেউ বলে সারাজীবন মুসলিম মুস্তাকিমে তো বহুত খাইলেন এবার আমাদেরটায় খান রহীম নতুন আসছে। ডিসিশান নেয়া খুব বিপদ হয়ে যায়, তবে দেখা গেছে ঘুরে ফিরে সেই মুসলিমের দোতালা

সিনেমার নামঃ ভালোবাসা জিন্দাবাদ

দেবাশীষ সাহেবরে আমার আগে খারাপ লাগতো না। সেই একুশে টিভির আমলে পথের পাচালী নামের এক অনুষ্ঠান যা আদতে বিদেশী স্ট্রিট শো থেকে মেরে দেয়া তা খুব গিলেছি এইট নাইনে যখন পড়ি। সেই অনুষ্ঠানের একটা সেগমেন্ট মজার ছিল- তা হলো গান গাইতে বলতো যা খুশী। বিস্তর হিন্দি বাংলা গান শোনা যেত মানুষের মুখে, মানুষকে বোকা বানিয়ে প্যাচালী মদন কনসেপ্টটাও খারাপ না। সেই অশ্লীলতার যুগে হিন্দি সিনেমার গল্প নিয়ে তিনি বানিয়ে ফেলেছিলেন 'শ্বশুরবাড়ি জিন্দাবাদ'। ভালোই নাকি চলেছিল সিনেমাটা। বিখ্যাত পরিচালক দিলীপ বিশ্বাসের ছেলে সে। তার বাবা বানিজ্যিক সিনেমার পরিচালক হলেও মানসম্মত সিনেমা বানাতেন। কিন্তু বিখ্যাত ব্যাক্তিদের ছেলেগুলো দুই রকমের হয়- এক হয় বাবার চেয়ে বেশী মেধাবী, আরেক হয় বলদের শিরোমনি। তার তিনটি সিনেমা দেখার কপাল আমার হয়েছিল-- এক। শ্বশুরবাড়ী জিন্দাবাদ, দুই। শুভ বিবাহ, তিন। ভালোবাসা জিন্দাবাদ! সবগুলোই লেইম বলে খারিজ করে দেয়া যায়, শেষ নামের সিনেমাটা হলে গিয়ে দেখার কথা ছিল, কিন্তু আমার আর পুলকের সময় হয় নি বলাকায় যাবার, তাই আজ ইউটিউবে একটা মোটের উপর ভালো প্রিন্ট আসছে তা দেখেই লিখতে হচ্ছে এই পোষ্ট।

এখানে আর ভালো লাগার মতো কিছুই পাবে না, সহজে!

আইলসা ভাইদের জীবন চলে যাচ্ছে আগের মতোই, ওহ তার আগে বলে নেই আইলসা ভাইদের গল্প। এক গ্রামে ছিল এক আইলসা ভাই, তাকে জিগেষ করা হয়েছিল 'কলা খাইবা নি? তার উত্তরে সে বলেছিলো ছিল্লা দিলে খাইতাম, নয়তো ইচ্ছা নাই কষ্ট করে খাবার । আমার দিন যাপনও এখন সেরকমই যাচ্ছে, অবরোধ হরতালে একগেয়ে বসে থাকার অলস জীবন। ঘুমাই খাই দাই, ভার্সিটি নাই, বেলায় বেলায় চায়ের দোকানে যাই, কেউ ডাকলে লাজ শরমের বালাই ভুলে বাসায় চলে যাই, এই করেই চলছে। আগে হরতালে একান্তই কাজ না থাকলে, কেউ না আসলে চলে যেতাম পাবলিক লাইব্রেরীতে। এখন প্রানভয় আর পুলিশের ভয়ে কোথাও যাওয়া হয় না মন চাইলেও। তার ভেতরে মুখে ১০-১৫ দিনের দাড়ি আর পড়নে পাঞ্জাবী থাকলে খুব হুশ নিয়ে চলতে হয় এই শহরে। কোন সময় কে বাটি চালান দিয়ে দেয় তাই নিয়ে ভাবি! মানুষ নাকি এখন অনেক ব্যস্ত শুনি সামান্য মোবাইলে গেইম খেলারই সময় নাই, বই পড়ার সময় নাই, দেখা করার সময় নাই, খালি সময় স্বল্পতার ফিরিস্থি শুনি চারিদিকে। আমার জীবনে দেখি খালি সময় আর সময়, অফুরন্ত সময়!

ইলেকশন, সিলেকশন, অভজারবেশন এন্ড ফ্রাসটেসন!

যা হবার ছিল তা হয়ে গেল। কোনো উত্তাপ ছিল না, ছিল না কোনো টানটান উত্তেজনা জামাত শিবিরের অব্যহত আক্রমনের শিকার হয়েছে সাধারন মানুষ ও স্কুল কলেজ, পুড়ছে প্রকৃতি শত সহস্র গাছপালা এত কিছুর ভেতরেই সরকারের সংবিধান রক্ষার ইলেকশনটা হয়ে গেল। গাছাগাছালি কাটা নিয়ে আবীরের কথাটা খুব মনে পড়ে- গাছ কাটে নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুরে শিবির বিএনপির লোকেরা আর তা সুন্দর মত বেচে দেয় ছাত্রলীগের পোলাপান, এই করেই চলছে বাংলাদেশ। আরেকটা গল্প মনে পড়লো ইলেকশন নিয়ে- আমার এক পরিচিত লোকের ফ্যামিলী আওয়ামীলীগ করে, তার বাবা বাড়ী থেকে নিষেধ করে দিলো মিরপুরে ভোট না দিতে, কেন? জীবনের ঝুকি নিয়ে খালি মাঠে গোল দেয়ার মানে নাই, জীবন অনেক মুল্যবান! আমার এক ভাই আছে এনসিসি ব্যাংকের কর্মকর্তা উনার বাড়ী থেকে ফোন আসছে,-- ভাইস্তা তোমরা তো আসলা না, তোমাদের সব ভোট দিয়া দিছি। দুর্দান্ত সব ঘটনা আরো জানি সব বলা যাবে না!

১৪৬০ দিন

বছরের প্রথম পোষ্টটা হোক স্মৃতিচারন মুলক, তাই এই লেখার সুত্রপাত। ১৪৬০ দিনের মর্মার্থ অতি সরল, ৪ বছরকে ৩৬৫ দিয়ে গুন দিলেই এই সংখ্যা পাওয়া যায়। তার মানে হলো ১৪৬০ কিংবা ১৪৬৫ দিন ধরে আমার এই ব্যাচেলর লাইফের মেস জীবন চলিতেছে সাড়ম্বরে। শুরু হয়েছিল ২০০৯ সালের ২৮ কিংবা উনত্রিশ ডিসেম্বরে- সেই দিনটার কথা খুব মনে পড়ে। আম্মু আব্বু চলে যাবে জামালপুর, বাসার নিচে ট্রাক সেখানে জিনিস নিয়ে চলছে ও লোড হচ্ছে, আমি নরমালই ছিলাম, করম আলীর দোকানে চা খাচ্ছি সাথে নিচে নেমে জিনিসপত্তের নামানো দেখছি। কাজ সব শেষ হয়ে গেল, আব্বু আম্মুর ট্রেন বিকেলে তাই সব গুছিয়ে আড়াইটাই বের হলো। বিদায়ের সময় আমার সেকি কান্না, তা আর দেখে কে! আমার কান্না দেখে আম্মুরও কান্না, বারবার মাথায় হাত বুলাচ্ছে আর আমার কোথা থেকে এত চোখের পানি আসলো তা ভাবতেই ভাবতেই সিএঞ্জি পাওয়া পর্যন্ত এসে পড়লাম। রাস্তায় সবার সামনেই কাঁদছি, কিছুতেই মানাতে পারছিলাম না যে চিরস্থায়ী ভাবে আম্মু আব্বুর সাথে এক বাসায় আর থাকা হবে না। রাতে ঘুম আসে না খালি মনে হয় আমি এখন কি করবো?

তবু ঘুম যে আমার চলে আসে ডিসেম্বর মাসে...

কাল লিখতে বসেছিলাম এই পোষ্ট, কিছুদুর লিখে মনে হলো বাদ দেই এরচেয়ে অনলাইনে ধুম থ্রি দেখা যায় কিনা খুঁজি, পেয়ে গেলাম এক আপুর মেয়ে ইউটিউবের বিকল্প ডেইলীমোশন নামে এক সাইটের কথা বলেছিল অনেক কাল আগে- সেখানেই। প্রিন্ট খারাপ না, কিন্তু খারাপ কাজ হলো যে লেখাটা আর লেখা হলো না। সিনেমাটা শেষ করলাম খারাপ না। হাজী আমির খানরে আমার ভালো লাগে, কিন্তু তার ধুম থ্রি খুব বেশী ভালো লাগে নাই। কারন হিসেবে বলছি জর্জ ক্লুনিকে দিয়ে যদি ফাস্ট সিক্স বা এমেরিকান পাই করানো হয় যেমন হবে তেমনই লাগলো। তাও আমির খান হাজী বলে কথা, সিনেমা ব্যাপক হিট, ব্যাবসা করে ডজন খানেকের উপরে রেকর্ড ব্রোক করছে, সব চাইতে বেশী অর্থ উপার্জনকারী মুভি হওয়া সময়ের ব্যাপার মাত্র। একজন আমির খানের ফ্যান হিসেবে আমার সুখী হওয়া উচিত, কিন্তু আমার ওতো ভালো লাগছে না। সামনের বছর আমিরের আরেকটা ছবি আসবে রাজকুমার হিরানীর বানানো নাম 'পিকে'। সেইটা নিয়েই সামনে এ বিষয়ে আশায় বাঁধি বুক!

বড়দিন-ছোটদিন-মাঝারি দিন!

কলকাতার জয়তীর গান ছিল একখান, যার শিরোনাম হলো- 'দিন শুধু দিন গেল'। আমারো নিজের জীবনে তাই মনে হয় যে দিনগুলো সব চলেই গেল অবহেলা আর অনাদরে। মাঝে মাঝে সালের হিসেব গুলিয়ে ফেলি, মনে হয় এখনো ২০১০-১১ই চলছে। বেকাররাই এইভাবে সময় নিয়ে হেলাফেলা করে, ১৮ মাসে বছর বাগধারাটা তো আর হুট করে আসে নি! আমাদের জন্যেই এসেছে। দিন গুলো যে নিমিষে হারিয়ে যাচ্ছে তা টেরই পাচ্ছি না। শুধু দেখছি হারাচ্ছে আর চলে যাচ্ছে এরই ফাকে মানুষ কত কি করছে। বাংলাদেশটার অবস্থাও তাই দুনিয়া উলটে পালটে গেল, কত কি ঘটে গেল, কত দেশে কত প্রগতি উন্নতির চমক, আমরা পড়ে রইলাম সেই পুরোনো প্রশ্নেই, ক্ষমতা পালাবদলের শান্তিপুর্ন উপায় খুজতে খুজতেই আমাদের দিনগুলো সব চলে গেল, একদিনের যে গনতন্ত্র ভোটাধিকার তা নিশ্চিত করতেই আমাদের জান দফারফা, ৩৬৫ দিনের এক গনতান্ত্রিক বাংলাদেশ পেতে এখনো কত দেরী তাই ভাবি বসে!

দৈনন্দিন সুখ দুঃখ!

দেশের অবস্থা খুব একটা যুতের কিছুতে না, পঞ্চম কিস্তির অবরোধ চলছে কিন্তু মনে হচ্ছে কেয়ামত পর্যন্ত এইভাবেই অবরোধ চলবে। এক বন্ধুর মুখে শুনলাম আস্তে আস্তে নাকি মানুষ অবরোধ মানিয়ে নিচ্ছে, মনে মনে ভাবছিলাম মানানোর আর জিনিস নাই দেশে শেষমেষ অবরোধ দাঙ্গা হাঙ্গামা এইসবও মানিয়ে চলতে হবে। মানাতে মানাতে আর সবুর করতে করতে জানা নাই আর কত? এদিকে তো আমাদের পিঠের চামড়ার আর কিছুই বাকী নাই, তবুও আমরা ঝিনুকের মত নীরবে সয়ে যাচ্ছি। এর বাইরে মনে হয় না আমাদের তেমন কিছু করার আছে! আমার দোড় সমন্ধে আমি অবশ্য সচেতন- ল্যাপটপে বসে ফেসবুকে জ্বালাময়ী স্টেটাস লেখা আর চায়ের দোকানে বসে চাপা পিটানো। তার ভেতরে আব্বু খালি ফোন দিবে আর জিগেষ করে বলবে বাসায় যা-বাসায় থাক- এত বাইরে কি? ঢাকায় গন্ডগোল, জামালপুরে এসে পড়!

মোরশেদ শফিউল হাসানের লেখনীতে বেগম রোকেয়ার সময় ও সাহিত্যকে দেখা!

বড় অসময়ে এই পোষ্ট লিখতে বসলাম। কয়েল আছে বাসায় কিন্তু ম্যাচ নাই তাই বসে বসে রাত জেগে মশার কামড় খাচ্ছি, মন মেজাজের অবস্থাও ভালোনা তার ভিতরেই এই লেখাটা শুরু করার শখ হলো। যদিও মন মেজাজ খারাপ থাকার কথা না, যেমন ভালো দিন আমি আশা করি তেমন ভালো দিনই আজ আমি কাটালাম- খানা খাদ্যময় ও আড্ডাময় দিন চলে গেল ভালোই, কিন্তু গুলশান দুইয়ে গনজাগরন মঞ্চের উপর পুলিশের হামলার শিকার হলো তা নিয়ে মন বিক্ষিপ্ত। অবশ্য পুলিশ তো প্রতিদিনই কত মানুষকে মারে তা নিয়ে আমার চিন্তা হয় না, আমি নিজে গা বাচিয়ে চলা শিখে গেছি। কিন্তু নিজেদের সহযাত্রীরা এরকম বেদম মার খাবে তা দেখতে অসহ্য লাগছে। কিন্তু কি আর করা, আমাদের মন খারাপে কারো কিছু যায় আসে না। অলরেডি দলকানারা ত্যানার ছবক নিয়ে বসে গেছে আর ছাগুরা হাতে তালি দিচ্ছে, ভালোই তো- ভালো না!

মন মাতানো দেশের গান যখন শুনি!

কথা হচ্ছিলো ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগ নিয়ে, কাল আর্সেনাল হারছে ম্যানসিটির কাছে তা নিয়ে এক আর্সেনাল সাপোর্টার ছোট ভাইকে পচাচ্ছিলাম। আমি অবশ্য ক্লাব ফুটবল খেলা তেমন দেখি না কারন ইচ্ছা কম আর উপায় নাই বাসায় টিভি না থাকার কারনে। তাও আপডেট রাখি কারন চারিদিকে আলাপ হইচই শুনি । লোকজন যেভাবে একেকটা ফুটবল ক্লাবকে ওউন করে তাতে অবাক লাগে। আমি অবশ্য দুনিয়াতে এমন করে কোনো কিছুই ওউন করতে পারি না। নানান জাতের প্রাইভেট ভার্সিটিতে পড়ে ইয়াং পোলাপান যেভাবে ইউনির প্রচার করে, ইশক মোহাব্বতের প্রমান দেয় তাতে অদ্ভুত লাগে। আমি কখনোই নিজের ফেলে আসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়ে গৌরবগাথা রচনা করতে যাই না, কেউ যদি জিগেষ করে তখনই জানাই। কারন সবাই যেমন করে যা করে, আমিও তেমনই। নিজের সব কিছুকেই সামান্য বলে মনে হয়। খালি এই দেশটা বাদে, যতই দীনহীন হোক আর যতই অসময় অনাচার চলুক এই দেশ বাদে আর কোনো কিছুকেই আমি নিজের বলে মনে করি না। তেমন

টু হানড্রেড!

শাহবাগের উত্তাল দিনগুলোতেও ব্লগে সিরিজ ধরে পোষ্ট লিখে ছিলাম, গাল ভরা নাম ছিল 'নিস্ফলা শ্রেষ্ঠ সময়'। সেই সিরিজের সম্ভবত দুই হালির উপর পর্ব ছিল। অনেকে প্রশ্ন করতো শ্রেষ্ঠ সময় কিভাবে ফলবিহীন হবে?

অবরুদ্ধ নগরের ছাপোষা দিনলিপি!

অবস্থা বিশেষ সুবিধার না, কিছুই ভালো লাগে না এই থমথমে অবরোধের দেশে। সব কিছুই বোরিং লাগে, আর আনন্দময় সময় যাদের সাথে আগে উদযাপন করা হতো তারাও নাই। আগে কথায় কথায় বাইরে খেতাম ঘুরতাম তাও এখন বন্ধ। বাইরে খেতে গেলেই মেজাজ খারাপ লাগে। মুখে রুচি নাই। আর কোথাও যেতেও ভালো লাগে না। ক্রমশো একা হয়ে পড়ছি কেমন জানি। তা টের পাই বেশী দিনের বেলায়। নিজের ভালো একটা অভ্যাস ছিল ভোরে উঠার তা তো হারালাম, নয়টা দশটায় উঠি ভয়াবহ দুঃস্বপ্ন দেখে। সপ্তাহে সাতদিনের ভেতরে তিনদিনই আমার এরকম খারাপ স্বপ্ন দেখে ঘুম ভাঙ্গে। ভাগ্যিস স্বপ্ন সত্যি হয় না হলে কি যে এক দুর্বিষহ জীবন হতো তা ভাবি। কতো দোয়া কালাম পড়ে ঘুমাই, কাজ হয় না কিছুতেই। আম্মুকে যদিও বলা হয় না, বললেই বলবে নামায ঠিক মতো পড়। কিন্তু নামায পড়িলেই সব সমস্যার সমাধান নাই। স্বপ্ন সম্পর্কিত আমার জটিলতা অবশ্য নতুন না, আগেও হয়েছে। কিন্তু মেজাজ খারাপ কমাতে পারে নাই এই অভ্যস্ততায়!

এই অসময়ে জলপাইপুরে ধ্রুপদী সংগীতের রাতগুলো!

শিরোনামটা একটু বেশী বেশী হয়ে গেল, তাও দিয়ে ফেললাম। কিচ্ছু করার নাই এই আগুনে পোড়ার অসময়ে, এতকাল শুনেছি দাহকাল- যা একটি শব্দ হিসেবে ধরে নিয়েছি, কিন্তু এখন দেখি আসলেই দহনের সময়। কেউ পুড়ছে কিংবা কেউ পোড়াচ্ছে, আমরা শুধু সব তাকিয়ে তাকিয়ে দেখছি। তবুও এর প্রতিকারে আমাদের ফেসবুকে স্ট্যাটাস লেখা ছাড়া আর কোনো কিছু করার উপায় জানা নেই। আমি ৯৫-৯৬ এর আমলে ছিলাম নিতান্তই ছোট মানুষ, হরতালে বাসার পাশেই স্কুল থাকতো বন্ধ, সারাদিন খেলা আনন্দ আর আনন্দ। বিটিভিতে নাটক হতো আর খবরে দেখতাম খালেদা জিয়া নানান কিছুর ফলকের সামনে দলবেধে দোয়া করছে। তখনই আমার মনে প্রশ্ন আসছে- ক্যামেরার সামনে দোয়া করে কেন?