আরাফাত শান্ত'এর ব্লগ
রাজনীতি, পেটনীতি , পেশীনীতি ও বড়লোকের নীতি!
শিরোনাম দেখে টেনশন নিয়েন না কেউ, এইটা অতি সাধারণ দিনলিপি ঘরনারই পোষ্ট। রাজনীতি নিয়ে তথ্যভিত্তিক জ্ঞানগর্ভ পোষ্ট লেখার বিদ্যে আমার ছিল না কোন কালেই। রাজনীতি ও ইতিহাস নিয়ে পড়তে ভালো লাগে তা নিয়ে সর্বোচ্চ চায়ের দোকানেই আলাপ করি এর বাইরে আমার রাজনীতি করার কোনো চেষ্টা নাই। মাঝে মধ্যে প্রেস ক্লাবে বা শাহবাগে মানববন্ধনে দাঁড়িয়েছি, মিছিলের আগে বাম নেতাদের বক্তব্য শুনেছি এতটুকুই আমার রাজনৈতিক অংশগ্রহন বলা চলে। এর বাইরে মোহাম্মদপুরের এক চিপায় দিনের পর দিন বসে বসে আড্ডা পিটানোর কারনে সেখানকার রাজনীতির হাওয়া বাতাস সমন্ধে জানি। আর পত্রিকার পাতায় দেশ নিয়ে দুঃসংবাদ পড়ে টেনশন নেই নিজে নিজে তারপর ভুলে যাই এই করেই চলছে। তাও আমি আজ লিখতে বসলাম ইদানিংকালের নিজের চোখে দেখা পাড়া মহল্লা থেকে শুরু করে বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে!
কোলাহলের দিনরাত্রী!
জানি না লিখতে পারবো কিনা তাও চেষ্টা যদি লিখে ফেলতে পারি।।। মনিটর নষ্ট একদম তাই নতুন ল্যাপটপে লিখছি নানাবিধ টুকটাক সমস্যা তো লেগেই আছে, তার ভিতরে লেখার জন্য এই চেষ্টাটা করছি। লিখতে আসলে আমার খুব ভালো লাগে, ভালো লিখতে না জানলেও।। অল্প বিদ্যে যেমন ভয়ংকরী তেমনি আমার এই টুকটাক ব্লগ লেখার জন্য চেষ্টা আরো ভয়ংকরী। সেই কবে শেষ লিখেছিলাম তারপর আর লেখাই হলো ্না। কতদিন মোবাইল দিয়ে লেখার চেষ্টা করছি কিন্তু এক প্যারা লিখে আর ইচ্ছা করে নি কারন মোবাইলটার বয়স হয়ে গেছে সন্দিহান ছিলাম লেখা শেষ করতে পারবো কিনা! আর এখন আর সেই আগের মতো বেগার খাটতে ইচ্ছা করে না। যা লিখতে চাই তাই লিখতে না পারলে লেখার কোনও মানে হয় না। সাইবার ক্যাফেতেও একদিন বসছিলাম কিন্তু শ্যালকদের অভ্র নাই তাই আমারও লেখার মন উঠে গেল। অবশ্য বাড়ী থেকে এসে সেমিস্টার ফাইনাল নিয়ে ছিলাম তারপর বন্ধু নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়লাম কিন্তু প্রতিটা দিনের শেষে মনে পড়তো লেখার কথা।। গরীবের ঘোড়া রোগ আর কি! আজ পাওয়া গেল যোগার যন্ত্র রাতে বসে গেলাম লিখতে এ যেন ঈদের খুশী!
টেলিভিশনের ঈদ কিংবা ঈদে টেলিভিশন!
এই পোষ্টটা সবার জন্য না। প্রধানত তাদের জন্যই যারা কাচা হাতের সমালোচনা সহ্য করার মানসিক ক্ষমতা রাখেন, যারা তাদের পছন্দের তারকাকে বকা সহ্য করতে পারবেন, যাদের দেখতে পারেন না তাঁদের যদি আমার পছন্দ থাকে তবে তাঁদের নিয়ে ভালো কথাবার্তা শুনেও মন ঠিক রাখতে পারবেন আর শেষমেষ যারা টিভি দেখাকে পছন্দ করেন কিংবা এখন না দেখলেও খোজ খবর জানতে ভালোবাসেন তাদের জন্যই এই বিলম্বিত প্রয়াস। জর্নাল আকারে লিখলে তিন চার পর্ব করে লেখা যেত,সেরকমই ইচ্ছা ছিলো। কিন্তু এখন প্ল্যান চেঞ্জ। এক পোষ্টেই সব কিছু তুলে দেয়ার চেষ্টাতে আছি। তাই যা দেখছি তার অনেক কিছু নিয়েই লেখা হবে না। লেখার এক বিন্ধু ইচ্ছা নাই তাও মনে হলো আজ যদি না লিখি তাহলে আর লেখাই হবে না। বাড়ীতে দুই ব্যাটারীর রিমোটে কত হাজার বার টিপলাম সমানে তার ফিরিস্থি জানানোই গেল না। আমাদের বাড়ীতে সব চ্যানেল আসে না। বাংলা চ্যানেল গুলার ভেতরে এশিয়ান, ইন্ডিপেন্ডেন্ট, এস এ টিভি, এটিএন নিউজ এই সব আসে না। হিন্দী চ্যানেল তো রাশি রাশি আসে না, একটা হিন্দী গানের চ্যানেল পর্যন্ত নাই। তাও এই সীমিত সামর্থ্য দিয়েই দেখতে দেখতে হয়রান। তবে রাত সাড়ে দশটা এগারোটার পরে আর টিভি দেখি নি। কার
নির্বাসিত লেখক এবং এক আশ্চর্য আবেগময় বন্ধুর জন্মদিনে!
জন্মদিনকে খুব গুরুত্বপূর্ণ কিছু ভাবার লোক আমি না। অন্যের জন্মদিন সমন্ধে ভাবলেও নিজের জন্মদিন সমন্ধে মোটেও তা ভাবি নাই। ঘটা করে নিজের জন্মদিন পালন কখনো করা হয়ে উঠে নি। নিতান্তই পারিবারিক ভাবে ভালো মন্দ খেয়ে দেয়েই আমার জন্মদিন পালন করেছি বাল্যকালে। তবে মানুষ তো আমাদের মত ছিল না। বেশীর ভাগই জন্মদিন পালন করতো আর দাওয়াত পেতাম। দাওয়াত পেয়ে নিজের বাসায় না জানিয়েই দাওয়াত খেয়ে আসতাম। বিকেলে যে জামা পড়ছি, গোলকিপিং করে তার অবস্থা বারোটা তাও গিফট বিহীন সেই ভাবেই হাজির হয়ে যেতাম। জানতাম বাসায় জানালে যেতে দিবে না এরকম আবুলের ন্যায়। রাতে বাসায় ফিরে বলতাম আমাকে জোর করে নিয়ে গেছে। আমি কি করবো!
বুর্জোয়া জেনারেলের তথাকথিত সৈনিক জীবনে ফিরে দেখা!
বই নিয়ে আমার গত পোষ্ট ছিল কর্নেল হুদা ও তার সময়কে নিয়ে তার স্ত্রীর লেখা বই, সন্দেহ নাই বইটা অসাধারণ। তিন চার দিন আগে আমি পড়া শেষ করলাম মেজর জেনারেল মনজুর রশীদ খান (অব,) লিখিত 'আমার সৈনিক জীবনঃ পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ'। বইটা বীর মুক্তিযোদ্ধা সেক্টর কমান্ডার হুদা কে নিয়ে লিখিত বইটার প্রায় বিপরীত মুখী আরেক সেনা কর্মকর্তার বুর্জোয়া দৃষ্টিভঙ্গীতে তার যাপিত সেনা জীবনের বিবরন। এইটাও প্রথমা থেকে বের হওয়া, বইটার দাম অনেক, ৫০০ টাকা। দারুন বাধাই ও ঝকঝকে মুদ্রন, প্রচ্ছদে দেখতে আকর্ষনীয় একটা বই। ভারতে রুপীর দাম নাকি শেয়ার বাজারের কারনে হু হু করে নামতেছে। কার মুখে জানি শুনলাম ১০০ টাকায় এখন ৮২ রুপি। সমান সমান হয়ে গেলে বড়ই সুখের দিন। কলকাতার বইয়ের দাম আরেকটু সুলভ মুল্যে পাওয়া যাবে। কিন্তু বাংলাদেশী একেকটা বইয়ের যে অগ্নিমুল্য তা খুব বেশী প্যাশান না থাকলে কিনতে পারাটাও খুব কষ্ট। লোকজনের মুখে শুনি বিদেশে বইয়ের দাম কত সস্তা তা নিয়ে আলাপ। কিন্তু বাংলাদেশে আগামী দিনে ৪- ৫ ফর্মার তরুন তরুনীদের জন্য লেখা হালকা উপন্যাস চারশো পাচশো টাকাতে বেচতে দেখলেও খুব বেশী অবাক হবো না!
যখন সব ভেঙ্গে যায়, আমি দাঁড়িয়ে কিনারায়!
শিরোনামটা যথারীতি অযথাই দেয়া। এক বড় ভাইয়ের মুখে আর্বো ভাইরাস ব্যান্ডের খবর শুনলাম যে তাদের নতুন এ্যালবাম আসছে এবং তা তাদের সাইটেই ফ্রীতে পাওয়া যাচ্ছে। অডিও বাজারের ব্যাবসা যেহেতু খুব খারাপ। তাই ফ্রীতেই তারা তাদের গান গুলো দিয়ে দিলো। শ্রোতারা শুনুক। আর্বো ভাইরাস ব্যান্ডটা পারফর্ম করে খুব জোস। সেইটা আরসিসিতেই হোক বা আর্মি স্টেডিয়ামেই হোক। কিন্তু তাদের উচ্চারনরীতি একটু গেঞ্জাম প্রবন। এখনো ভোকাল সুফী বা আগে সুহার্ত ভাইয়ের র আর ড় য়ে সমস্যা রয়েই গেল কিংবা আছে। কিন্তু তাদের লিরিক অত্যন্ত পাওয়ারফুল। যেমন এই গানটার কোরাস লাইন গুলার কথাই বলি।
যখন সব ভেঙ্গে যায়, আমি দাঁড়িয়ে কিনারায়
তাকিয়ে দেখি মেঘের পরে রোদের সীমানায়
কেন সব ভেসে যায়, নবজাতক প্রেরনায়
আজ তবে শেষ হোক সব অন্ধকার!
what is love?
আজ সকালে ঘুম থেকে দশটায় উঠে ভাবতেই পারি নাই- যে আজ দিনটা এতো দুর্দান্ত কাটবে। আমার মনে হয় গত একমাসে যত হাসছি তার চেয়েও বেশী হাসছি আজ সারাদিন। উঠতে বসতে এক্সামে বাসে হেসেই চলছি শুধু। এত হাসির কোন মানে নাই তাও হাসতে হাসতে অবস্থা কাহিল। ভার্সিটিতে এক্সাম শেষে- চায়ের দোকানে আড্ডা শেষে, বাসায় ঢূকতেই মামাও জিগ্যেস করে ফেললো শান্ত আজ এত খুশী কেন? ভাগ্যিস এক্সামটা ঠিক মতোই দিলাম সেখানে হাসাহাসি টা মনে মনেই করেছি। শাহবাগ থেকে বাসে উঠে মেগাসিটিতে ব্যাপক ভীড়। আমি কিভাবে জানি সিট পেয়ে গেছি দরজার পাশে, নারী পুরুষ বুড়ো সবাই আমাকে পারা দিয়ে যাচ্ছে তাও আমার বিরক্ত লাগছে না। অন্য সময় হলে কিছু না করলেও বিরক্ত নিয়ে গরম চোখে তাকাই তাও করি নি আজ। এতো আনন্দ আহলাদের উপলক্ষ্য একটাই তা হলো হুট করেই ঝোকের মাথায় আমার আর পুলকের- একশন হিরো মেগাস্টার জলিলের বলাকায় নিঃস্বার্থ ভালোবাসা বা ওয়াট ইস লাভ নাম বস্তুটা দেখে আসা!
বাড়ী থেকে ফিরে!
পিসিতে বসে পনেরো ষোলো দিন পরে আজ লেখার সুযোগ পাচ্ছি। আমি সবসময়েই চিরাচরিত ডিলেমার মধ্যে থাকি। যখন মোবাইলে লিখি অজস্র লিমিটেসনের মধ্যে, তখন মনে হয় একটা পিসি পেলে ফাটিয়ে লেখা যেত এখন। আর এখন পিসিতে বসে মনে হচ্ছে মোবাইলে লিখতেই কত আরাম, কত কিছু সহজে এসে যায় আর চাইলে চোখ বুজেও লেখা যায়। কিন্তু পিসিতে তার সুযোগ কই? তবে বাড়ী থেকে এসে পিসি নিয়ে বসতে ভালোই লাগে। মনে হয় অনেকদিন পর পিসিতে বসার সুযোগ পেয়েছি, অনেকটা নতুন বই পড়ার আনন্দের মতো। সেই ২০০৬ সালে যখন প্রথম ইন্টারনেট চালিয়েছিলাম , কিছুটা সেই সময়ের মুগ্ধতাও এসে যায় অকপটে!
লাইভ ব্লগিং!
এই পোষ্টটা লিখছি সাহস করেই। জানি না পোষ্ট দিতে পারবো কিনা এতো জটিলতায়, তাও লিখছি। কালকেও একটা পোষ্ট দুই ঘন্টা ধরে লিখেও দিতে পারি নাই কারন লেখা শেষেই ঠিকমত মোবাইলটা করলো হ্যাং। রাগে দুঃখে সেটটা বেডরুমের দেয়ালের দিকে ছুড়ে মারলাম। খুব বেশী ক্ষতি হয় নি মোবাইলটা। দিব্যি সুস্থ আছে। যাই হোক পোষ্টটা লিখছি সিক্সটি পারসেন্ট চাদঁ জানালায় দেখতে দেখতে। খুব দ্রুত চলছে ট্রেন, সাড়ে তিন ঘন্টা লেট করে। শিডিউলের অবস্থা বারো টা। যতক্ষন ট্রেন জামালপুর থেকে ছাড়লো সেই অপেক্ষার সময় টুকুতে প্রাইভেট কারে ঢাকায় পৌছে যাওয়া যাবে জ্যাম না থাকলে। কিন্তু কি আর করার ব্যাক্তিগত গাড়ী নাই, বাসে যাওয়ার রুচি নাই তাই ট্রেন ছাড়া গতি নাই। আমাদের বেগতির যাত্রীরাই বাংলাদেশ রেলের সম্পদ। শত অব্যাবস্থাপনাতেও এই কু ঝিক ঝিক গাড়ীতে করেই ঢাকায় আসা যাওয়ার কাজটা করছি ফি বছর। এখন খুব চা খেতে ইচ্ছা করতেছে তাও আজ ট্রেনে চায়ের কোন ব্যাবস্থা নাই। উল্টা যাত্রায় ট্রেন সফরে যখন তাড়াকান্দিতে ইন্জিন বদল করে ঢাকা মুখী রওনা দিলো তখনই আটটায় দুই কাপ চা একত্রে মেরে দিলাম। মামাকেও খাওয়ালাম। অনেক দিন পর দুধ চা খেয়ে মন আহলাদিত। মা
পনেরোই আগষ্ট, মান্টোর শ্রেষ্ঠ গল্প!
শোক দিবসের এই সকালে ঘুম থেকে উঠেই চা খেতে খেতে এই পোষ্ট লিখতে বসলাম। কি লিখবো তা আসলে এখনো মাথাতে আসে নি, আর পনেরোই আগষ্টের সকালে লেখা খুব সহজ না। সেই দুঃসহ স্মৃতি যা আজো বাঙ্গালীর এক ভয়াবহ ট্রাজেডীর নাম। আমি অবশ্য খুব শোকার্ত হই না। কারন এই নির্মম হত্যাকান্ডের এক যুগ পরেই আমি দুনিয়াতে আসছি। নিতান্তই আওয়ামী মনস্ক পরিবারে না জন্মালে এই ব্যাপারটা নিয়ে তেমন জানারই সুযোগ রাখে নি সেই সময়ের রাষ্ট্রক্ষমতার মানুষেরা। ছোটবেলায় জিয়ার ক্যাপ সানগ্লাস পড়া ছবি দেখছি ততবার বঙ্গবন্ধুর ছবিও দেখি নি। সেই শিশু মনে আমার জিয়াকেই বেশী গ্ল্যামারাস লাগতো। ৯৬ এর ইলেকশনের পর আমি বঙ্গবন্ধু চিনতে শুরু করি। তা টিভির কল্যানেই। টিভিতে যখনই সাতই মার্চের ভাষন দেখাতো সেই বজ্রকন্ঠের আহবানে শিহরিত হতাম। আমার ক্লাস ফাইভ সিক্সের রাফ খাতা যদি পাওয়া যায়, তবে দেখা যাবে সুযোগ পেলেই আমি এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তি সংগ্রাম এমন লাইন গুলো লিখে রাখতাম। একবার এক টিচার এই জিনিস দেখে তিরস্কারের সুরে বলছিল তুই কি পলিটিশিয়ান হতে চাস?
মায়েরা যেমন হয়!
মায়েরা যেমন হয় এই নামে পোষ্ট কেন লেখছি তা জানি না। অনেকক্ষণ ব্লগের পাতা খুলছিলো না। অভিসম্পাত দিচ্ছিলাম ব্লগকে। কানে বাজছিলো শিলাজিতের গান। হঠাত্ করেই দেখি ব্লগ পেজের খোলা গেল। ঈদসংখ্যা আরো দুটো শেষ তা নিয়ে লিখতে ইচ্ছা করছে না। তাই এই পোষ্টটা লিখতে শুরু করলাম শুয়ে শুয়ে মোবাইল দিয়ে। জানি না আদৌ প্রকাশিত হবে কিনা! এই ছোট পরিসরে আম্মুকে নিয়ে আদিখ্যেতা দেখানো লেখা ঠিক হবে কিনা জানি। তাও লিখছি কারন মা কে নিয়ে ছোট বড় পরিসরে যে যেভাবেই লিখুক কথার শেষ হবে না। এক বাধ ভাঙ্গা উচ্ছাসের মতোই অনেক কথা বলে ফেলা যায় খুব সহজেই। আর মায়েদের ভালোবাসি না বাসি, আমাদের জাতির আদিখ্যেতার তো শেষ নাই মাতৃভক্তি নিয়ে। তাই সেই চিরচেনা স্নেহ ভালোবাসার কথাগুলাই লিখতে বসলাম!
ঈদ এসে ঈদ চলে যায়!
ঈদ শেষ হয়ে গেলো। মুক্তি পেলাম। এখন ঈদ আমার কাছে একটা দিন যেদিন ভোর বেলায় গোসল করে সকাল নামায পড়া, সারাদিন টিভি দেখে, আম্মুর হাতে ভাল খাওয়া আর হাসি সুখীময় মুখ নিয়ে বসে থাকা! অনেকেই বলবেন ভালোই তো যাচ্ছে, বাবা মার কাছে বাড়ীতে একাকি এত আতিথেয়তায় দিন কাটানোর সুযোগ সময় কয়জনের হয়? তা অবশ্য ঠিক। কিন্তু ঠিক বেঠিকের এই দোলাচলে বন্ধু বান্ধব ছাড়া দিন পার করা আমার পক্ষে কষ্ট। কতটা কষ্ট তা বলা কঠিন! তবে এই গত তিনবছর ধরে ক্রমাগত ঈদে এই একাকি ঈদ পালন করতে যেয়ে বড্ড বোর হচ্ছি। নানুবাড়ীতে গেলেই অবশ্য সমস্যার সমাধান, সেখানে মামা আছে আরো অনেক মানুষ। কিন্তু যেতেই ইচ্ছা করে না। কি অদ্ভুত আমার নিস্পৃহতা। সারাদিন টিভি আর বই পড়েই ঈদের দিন গুলো পার করলাম। টিভিতে আসলে দেখার মত কিছুই হয় না। তাও অনবরত চ্যানেল পাল্টে গেছি, ভুষি মাল মার্কা সব প্রোগ্রাম গিলে খেয়েছি। গিলে আবার মনেও রেখেছি ঢাকায় ফিরে লিখবো বলে । আমার মত পিছ জগতে বিরল এইসব রদ্দি মাল দেখে তা নিয়েও কেউ এতো সময় নষ্ট করে আবার লিখবে!
ইত্তেফাকের ঈদসংখ্যা ২০১৩ পাঠ প্রতিক্রিয়া
সবাই মোবাইল দিয়েই পোষ্ট লেখার কথা বলতেছে জোরেসোরে। আমি আবার মাটির মানুষ কারো কথাই খুব একটা ফেলতে পারি না। আর আমার লেখা পড়তে যারা চায় তাদের জন্য এই চোখে হাতে অসহনীয় ব্যাথা করে হলেও লেখার চেষ্টা করা যেতে পারে। গুটি কয়েক মানুষও যদি আমার লেখা পড়ে ভালো লাগা মন্দ লাগা কাজ করে- তাহলে এরচেয়ে সুখের আর কী। রাতে তো জেগেই থাকি। সময়টাকে কাজে লাগানো যাক। তবে কাল মোবাইলে লিখতে গিয়ে নতুন এক সমস্যা আবিস্কার করলাম, তা হলো স্পেস টিস্পেস সহ মাত্র পাচ হাজার ক্যারেক্টার টাইপ করা যায়। খুব বেশি কিছু চাইলেও লেখা যায় না। পাচ হাজার যদি লিখিও দেখা যাবে আউট অফ মেমোরী। তাতে পুরো জিনিসটাই পন্ডশ্রম! যাক লেখা শুরু করি। ঝুকি তো থাকছেই আদৌ পোষ্টটা প্রকাশ করতে পারি কিনা!
বিষণ্ণ বাউন্ডুলের জন্মদিন ও আমার দিনকাল!
ভেবেছিলাম মোবাইলে পোষ্ট লিখবো না তাও সাহস করে লিখতে বসলাম। মোবাইল হ্যাং করার কারনে পোষ্ট না প্রকাশ করতে পারার হান্ড্রেড পারসেন্ট সম্ভাবনা নিয়েই এই পোষ্ট লিখছি। আড়াই ইন্চির স্ক্রীনে লিখতে গেলে ব্যাপক ধৈর্য তার সাথে চোখের ও হাতের অনেক ব্যাথা সহ্য করতে হয়, অনেকদিন মোবাইলে লিখি না তাই পারবো কিনা জানি না তাও চেষ্টা করি। দেখা যাক কী হয়!
ফিরবো ঘরে, কোথায় এমন ঘর?
ঘরে ফেরা বাঙ্গালীর সব সময়ের নস্টালজিয়ার জায়গা। সিনেমায় এই নষ্টালজিয়া দেওয়া হয়, গান বাজনায় ঢুকিয়ে দেয়া হয়, কর্পোরেটরা এখন এডেও ঈদের বাড়ী ফেরা নিয়ে মোটামুটি স্বপ্নের ভ্রমন বানিয়ে ছেড়েছে। মিস্টি জিংগেলে জানান দেয় স্বপ্ন যাবে বাড়ী এবার কিংবা কোরাস গানে ঘরে ফেরা বলে আবেগাক্রান্ত করে দেয় মধ্যবিত্তকে। আমরা আসলে সবাই বাড়ীতেই ফিরতে চাই। কিন্তু বাড়ীতে আত্মীয় স্বজন, অসীম স্নেহ ভালোবাসা আর স্মৃতি ছাড়া আর কিছুই নাই। এতো সব মোহ-মায়া ও পিছুটান কাটিয়ে মানুষ এই নষ্ট শহরে থাকে শুধু উপার্জন কিংবা উপার্জনের পড়াশুনার জন্যেই। এই আয় রোজগারের পথ আর ভাল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যদি বিস্তৃত ভাবে সব জেলা শহর আর বিভাগে থাকতো তাহলে আমার মনে হয় না কেউ এই শহরে আসতো মরতে!