ওদের জানিয়ে দাও
কাল গিয়েছিলাম কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেলের (সিএজি) অফিসে, একটা প্রশিক্ষণ কর্মসূচীতে। যারা আমারে আদৌ পাত্তা দিতে চান না, তাদের বলি, সেখানে আমি একটা ক্লাশ নিতে গেছিলাম। সিএজি কার্যালয়ে একটা মিডিয়া সেল খোলা হবে, তাই সাংবাদিকতা কী জিনিষ আর সাংবাদিকরা কী বস্তু সেইটা জানানোর উদ্দেশ্যেই যাওয়া। এইটা একটা আমার জন্য লাভজনক প্রকল্প।
সেখান থেকে বের হওয়ার পর মনে হলো পথেই যেহেতু, তাই একবার সাগর পাবলিশার্স ঘুরে যাই। আগে এক সময় উপন্যাস ও গল্পের পাড়ায় খালি ঘুরতাম। এখন সেখানে আর যাইই না। আর নতুন কোনো ভাল উপন্যাস বের হয়েছে বলে অনেকদিন খবর খবর পাই না। তাই বিশেষ কিছু না হলে উপন্যাস থেকে আগ্রহ কমে গেছে।
নতুন একটা সখ হয়েছে। সেটা হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধ, রাজনৈতিক স্মৃতিচারণ আর আত্মকথা-এই তিন ধরণের ভাল বই চোখে পড়লেই কিনে ফেলা। আর অর্থনীতির বই। অবশ্যই তা পকেটের সঙ্গে সামঞ্জস্য হতে হবে। যেমন, আফসান চৌধুরীর মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে চার খন্ড কিনতে চেয়েও পারলাম না। ২২৩০ টাকা চাইলো। বড়ই আফসুস।
নতুন প্রকাশিত বইয়ের তুলনায় একটু পুরানো বইয়ের দিকেই আমার চোখ থাকে বেশি। মুভি কিনতে গেলেও পুরান মুভি খুঁজি। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে এমন অনেক বই আছে, নাম জানি, কিন্তু এখন আর পাওয়া যায় না। সেই সব বইয়ের জন্য বড়ই আফসুস হয়।
কাল সাগরে অনেক পুরানো একটা বই পেলাম। নতুন সংস্করণ। দেখেই মনটা ভাল হয়ে গেল। আমার কাছে বইটা আছে, অনেক পুরোনো। বইটার বাধাই খুলে গেছে। কেউ পড়তে নিলে হয়তো আর অক্ষত থাকবে না। কিন্তু বইটি পাওয়াও যাচ্ছিল না। কিন্তু কাল দেখলা, নতুন করে ছাপা।
এমন অনেক হয়েছে যে, একটা মুভি নিয়ে লিখলাম বা বই নিয়ে। কিন্তু এখন হয়তো আর পাওয়াই যায় না। ফলে যারা পড়বেন তাদের পক্ষে আর দেখা বা পড়া হয় না। বরং আফসুস বাড়ে। এই বইটা নিয়েও আগে সামুতে লিখছিলাম। কিন্তু তখন বইটা পাওয়া যেতো না। তাই ভাবলাম, আবার লিখি বইটার কথা। আমার অল টাইম ফেভারেটের মধ্যে এই বইটি অবশ্যই উপরের দিকে থাকবে।
এবার একটু ফাঁকিবাজি করি। ফাঁকিবাজি করাই যায়, কারণ মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান বলেছেন, দেশটা নাকি এখন বাজিকরদের দখলে। আমি তো ফাঁকিবাজির কথা স্বীকার করলাম। পারলে বের করেন কি
ফাঁকিবাজি করলাম।

নুলিয়াছড়ির সোনার পাহাড় না পড়ে যারা বড় হয়েছেন তাদের প্রতি আমার খানিকটা করুণা হয়। কিশোরদের জন্য শাহরিয়ার কবির অবশ্য পাঠ্য। জাফর ইকবালের যুগ শাহরিয়ার কবিরের পরে। বড় হয়েছি শাহরিয়ার কবির পড়ে। বুড়ো হচ্ছি, এখনো পড়ছি। জাফর ইকবালেও এখনও মজে আছি।
শাহরিয়ার কবির আমার প্রিয় লেখক। তবে তাঁর লেখা আমার প্রিয় বই আরেকটি-ওদের জানিয়ে দাও। এটি একটি রাজনৈতিক উপন্যাস। নিষিদ্ধ রাজনীতির মানুষরা এর মূল সব চরিত্র।
সময়কাল ১৯৭৪। অস্থির এক সময়। দুর্ভিক্ষ তখন দেশের পথে-ঘাটে। রাজু, জাফর আর দীপু। এই তিনজনের উপর দায়িত্ব পড়েছে শ্রেনীশক্র খতমের। সাহেবালী একজন জোতদার, তাকে খতম করতে হবে। দীপুর প্রথম খতম। জাফরের অভিজ্ঞতা ৩শর বেশি খতমের। রাজু ওদের বড় নেতা। তিনজনই বেড়িয়ে যায় খতমের উদ্দেশ্যে।
তারপরেই বসে দলের গোপন বৈঠক। বিষয় রাজু আর জাফররা খতম লাইন মানতে চাচ্ছেন না। তারা ভাবতে শুরু করছে যে এতে বিপ্লব হবে না। যে কৃষকের জন্য খতম, সেই কৃষক কিন্তু সচেতন না। ফলে আগে ক্ষেত্র তৈরি করতে হবে। এই নিয়ে দলে শুরু হয়েছে দ্বন্দ্ব। রফিক দলের মূল নেতা। গোপন বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় বিপ্লবকে এগিয়ে নিতে হলে হঠকারী যারা তাদের সরিয়ে দেওয়া প্রয়োজন। পার্টির মধ্যে আপোষের বীজ রাখলে পার্টিরই ক্ষতি। সিদ্ধান্ত হয় রাজু ও জাফরকে খতম করতে হবে। দায়িত্ব নেয় কেন্দ্রীয় কমিটির কমরেড মানু।
পুরবীর মধ্যেও খতম নিয়ে দ্বিধা দেখা দিয়েছে। পুরবী গিয়েছিল পাশের জেলায় সভা করতে। ফেরার কথা ছিল না, কিন্তু ফিরতে হলো। গোপনে শুনে ফেলে কেন্দ্রীয় কমিটির এই গোপন সিদ্ধান্ত।
সাহেবালীকে খতম করে ফিরছিল ওরা। পথে যোগ দেয় পুরবী। ওরা পালায়। সেই পালানোটাও সহজ হয় না। পুলিশের হাত থেকে বেঁচে যায় দুইবার। জঙ্গলে হেটে দীর্ঘ রাস্তা পার হতে হয়। ট্রেনে উঠে ধরা পড়তে পড়তে বেঁচে যায়। এভাবেই একদিন পৌছে যায় ঢাকায়। সেখান থেকে চট্টগ্রামের জেল পাড়ায়।
এখানেও আছে প্রেম ভালবাসা ও দ্বন্দ্ব। পুরবী বা রাজু। কিংবা পুরবী ও জাফর। বিয়েও করতে হয় পুরবীকে। কিন্তু সময়টা গোপন রাজনীতির জন্য সহজ সময় ছিল না। সিরাজ শিকদারকে মেরে ফেলা হয়। চরমপন্থীদের ধরতে জারি হয় জরুরী অবস্থা। তার আঘাত লাগে এই চারজনের জীবনেও।
এই হচ্ছে বইটির মূল কথা।
পশ্চিমবঙ্গের চারু মজুমদারের লাইন বাংলাদেশেও ছড়িয়ে পড়েছিল। বাংলাদেশে চিনাপন্থীরাই মূলত এই লাইন বেছে নেয়। ভুলও ছিল তাদের। এদের একটা গ্রুপ স্বাধীনতা যুদ্ধেরও বিরোধীতা করেছিল। তারপরেও এই চরমপন্থীরা বঙ্গবন্ধু সরকারের ভিত কাপিয়ে দিয়েছিল।
বাংলাদেশে বিষয়টি নিয়ে খুব বেশি লেখালেখি হয়নি। অথচ আদর্শের জন্য তরুণ সমাজের একটি বড় অংশ এই খতম লাইনের মধ্যে জড়িয়ে পড়েছিল। ১৯৭১ সালে ও এর পরে কোলকাতার রাস্তায় অনেক যুবকের লাশ পড়ে থাকতো। এ নিয়ে পশ্চিম বঙ্গে অনেক লেখালেখি হলেও বাংলাদেশে তেমননি হয়নি।
শাহরিয়ার কবির বলেছেন, এটি কাল্পনিক উপন্যাস নয়। তার ভাষায়, ঘটনার কেন্দ্রবিন্দুতে বসে লেখা। কেবল ছদ্মনাম ব্যবহার করা হয়েছে।
উপন্যাসটি ছোট আকারে ১৯৭৪ সালে বিচিত্রায় ছাপা হয়েছিল। পড়ে এটিকে খানিকটা বড় করা হয়েছে।
শুরুতেই জানা থাকে যে ঘটনা ও চরিত্র কাল্পনিক নয়। ফলে পড়তে গিয়ে ভিন্ন এক অনুভূতি হয়। আমাদের বয়সী তরুণরা দেশকে ভেঙ্গেচুরে নতুন করে গড়তে চেয়েছিলেন। লাইন ভুল বলে এখন আমরা জানি। তারা কিন্তু সঠিক মনে করেই তখন ঝাপিয়ে পড়েছিলেন।
এটি আমার প্রিয় বই। আমি পড়েছি অসংখ্যবার। আমি জানি আমি আবারও পড়বো।
যারা সমরেশ মজুমদারের গর্ভধারিনী পড়েছেন তারা কি কাহিনীর মিল পাচ্ছেন? একই কাহিনী। শাহরিয়ার কবির এটি লিখেছিলেন ১৯৭৪ সালে। আর গর্ভধারিনী প্রকাশ পায় ১৯৮১ সালে।
আমি প্রথম বইটি পড়ি ১৯৮৮ সালে। তখন আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। ঐবার বই মেলায় শাহরিয়ার কবিরকে জিজ্ঞেস করেছিলাম গর্ভধারিনীর কথা। উনি বলেছিলেন, তিনি বইটি পড়েননি, তবে সমরেশ মজুমদার যে ওদের জানিয়ে দাও পড়েছেন সেটা তিনি জানেন।





নস্টালজিক কইরা দিলেন মাসুম ভাই...
বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন। আলাদা পোস্টও হইতে পারে।
ব্যখ্যা তেমন বড়ু কিছু না, এসএসসির ফেয়ারওয়েলে দুইটা বই গিফ্ট পাইছিলাম শাহরিয়ার কবীরের,
১) পূবের সূর্য্য
২)ওদের জানিয়ে দাও
পূবের সূর্য্য তার ১৮/২০ বছর বয়সে লেখা বই। মূক্তিযুদ্ধের পটভূমিকায় লেখা এই বই পইড়া লেখকের বয়স কখনোই আন্দাজ কইরা উঠা সম্ভব না।
আমি ভাবলাম খতম লাইন নিয়া কিছু বলবেন।
এই লাইন দুটো না লিখলে মনে একটু খোচঁখচানি থেকে যেত।
আপনি এইগুলো এমন সময় শুরু করলেন যখন আর পড়ার উপায় নাই।

গর্ভধারিনী পইড়া চরম বিরক্ত হইছিলাম।
'ওদের জানিয়ে দাও' পড়তে চাচ্ছি।
এখন পাওয়া যায়
বইটা পড়তে চাই। গর্ভধারিণী নিয়ে নাটক হলো, 'ওদের জানিয়ে দাও' নিয়ে হতে পারতো।ধন্যবাদ ভাইয়া।
মনে হয় না ওদের জানিয়ে দাও নিয়ে নাটক করার সাহস কেউ করবে।
আপনে ১৯৮৮তে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তেন? মাসুম চেহারা দেখে এই সত্য বোঝা মুশকিল
যাউকগা, চেহারায় কি আসে যায়
। গর্ভধারিনি পড়েছি কিন্তু ওদের জানিয়ে দাও পড়িনি। আপনি আমার জন্য আর এক কপি কিনে রাখেন। আমি কাউকে পাঠিয়ে আপনার কাছ থেকে কালেক্ট করে নিবো, প্লীইজ লাগে
কী আশ্চর্য! মাসুম ভাইয়া, তাতাপু, আমি, জয়িতা...সবার শৈশবের মাঝে ৩/৪/৫ বছরের ব্যবধান, অথচ আমাদের সবার এই অধ্যায়ের মিল আছে। বেবি আইসক্রীম, কটকটি, শন পাপড়ি, বিভিন্ন খেলা...
মাসুম ভাই ১৯৮৮তে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়লে আমার সাথে পাঁচের বেশি গ্যাপ রাশীদা
আমি অরিজিনাল মাসুম
বইটার কথা অনেক আগে শুনেছিলাম, পড়া হয় নাই। পকেটের সাময়িক মন্দাটা কাটলে কিনে পড়বো আশা করি।
পড়ে ফেলেন। ভাল লাগবে।
নুলিয়াছড়ি পড়ছিলাম সেই ক্লাস সিক্স বা সেভেনে ... ওদের জানিয়ে দাও পড়া হয়নি
আপনার এই উদ্যোগটা চমৎকার ... সত্তরের দশক নিয়ে সে সময়ের লেখালেখির উপর ভিত্তি করে খোঁড়াখুঁড়িটা খুব প্রয়োজন
মুভি নেশা একটু কমাইয়া বইয়ের মধ্যে আবার ঢুকছি। আরও লেখার ইচ্ছা আছে এসব নিয়ে।
বইটা পড়া আমার, সে অনেক কাল আগের কথা। হারিয়ে গেছে বা কেউ নিয়ে গেছে বাসা থেকে। এরকম অনেক বই খুইয়েছি। আফসুস। বইটা আবার কিনবো। হয়ত হারাবোও আবার...। মনে করিয়ে দিলেন। ধন্যবাদ দিয়ে আপনাকে ক্ষাণিকটা খাটো করা যায়। আপনি মেলা লম্বা... ।
আপনি খালি বই কিনবেন। হারানোর দায়িত্ব আমার।
আপনার এধরনের পোষ্টগুলো আমার ভীষণ রকম প্রিয়। কতো কতো নাম না জানা বইয়ের কথা জানা হয়ে যায়। কতো না দেখা সিনেমার নাম জেনে, সেটা দেখবার আগ্রহ জন্ম নেয়। সে জন্য অশেষ কৃতজ্ঞতা মিয়াভাই
ফাঁকিবাজির ব্যাপারটা মনে হয় প্রচ্ছদ নিয়ে না? আপনি পুরোনো প্রচ্ছদটাই পোষ্টে উঠিয়ে দিয়েছেন। নতুন কেনা বইটা তো বাড়িতে..ফটুক তোলাই হয়নি তার। কে যায় বাবা এত্তো ঝামেলায়
.. এই ফাঁকিবাজিতে খোঁজ দ্য সার্চের হাত আছে মনে কয়। ঠিক কইলাম কী
ভুল বলে থাকলে ক্ষমাপ্রার্থী ভাইটি।
"ওদের জানিয়ে দাও" নামটা আজই প্রথম শুনলাম। নকশালপন্হীদের উপর বেশ কিছু বই পড়েছি। কিন্তু বাংলাদেশের কোনো লেখক যে সে বিষয়ে এরকম একটা উপন্যাস লেখেছেন জানতামই না। যদিও শাহরিয়ার কবীরের বেশ কিছু কিশোর উপন্যাস, আর মুক্তিযুদ্ধের বই পড়েছি। কিন্তু এইটা পড়িনি।পাইলে পড়বো হয়ত কোনোদিন। আর আপনি তো মোটামুটি বলেই দিলেন। সেজন্য ধইন্যা। ভাইটি, সেদিন একখান সিনেমা দেখছি, 'আবহমান' ঋতুপর্ণ ঘোষের। দেখছেন নাকি? এট্টু আলোচনা করবেন দেখে থাকলে। নতুন বই একখান পড়া শুরু করেছি মাত্র, 'চাঁদের পাহাড়' আপনি নিশ্চয়ই এইটা সেই কবেই পড়ে ফেলেছেন না? অনেক বকবক করলাম। আর না...ভালো থাকুন। পোষ্টের জন্য আবারও ধন্যবাদ
বইটি নিয়ে একসময় সামুতে লিখেছিলাম। সেখান থেকে কিছু অংশ তুলে দিছিলাম। এইটাই ফাঁকিবাজি। তবে পোস্টের উদ্দেশ্য হচ্ছে বইটা আগ্রহীদের পড়ানো।
আবহমানটা দেখি নাই। তবে বেশ প্রশংসা শুনলাম। কেমন? দেখবো।
চাঁদের পাহাড় পড়েছি।
নুলিয়াছড়ির সোনার পাহাড় সাত লক্ষ আটশ বিয়াল্লিশ বার পড়ছি।
আমি মনে হয় পচিশ লক্ষ দুই বার।
আমিও কাছাকাছি
চারু মজুমদারে বেশ কিছুদিন মগ্ন ছিলাম একটা সময়
আমাদের কিছু জানান।
আফসান চৌধুরীর কয় সেট উপহার পাইলেন?
নুলিয়াছড়ির সোনার পাহাড় যারা না পড়ে বড় হয়েছে তাদের প্রতি আসলেই মায়া হয়। আমাদের সময় পর্যন্ত শাহরিয়ার কবীরের বই এর বই এর খুবই প্রচলন ছিল। তখনও তিনি লেখালেখিতে প্রচুর সময় দিতেনগ। জাফর ইকবালের কিশোর উপন্যাসগুলোর প্রতাপের আগে আমাদের কিশোর মনে রাজত্ব করতেন শাহরিয়ার কবির একাই।
ওদের জানিয়ে দাও বইটা আসলে যখন পড়েছিলাম তখন ওতটা ভাল লাগেনি। বয়স খুবই কম ছিল। আবার পড়তে হবে, তবে জানি না পাঠক মরে গেছে কিনা। পড়াপড়ি থেকে বহুদিন অনেক দুরে।
৮৮ সাল! আমি কি জন্মাইছিলাম ?
শাহরিয়ার কবিরের বইটা পড়া হয় নি।। পড়তে হবে।
মনে হয়েছিল, জুতা দিয়ে দুইটা বাড়ি দিই! সিনিয়ার বলে কিছু বলার সাহস পাই নি!
'গর্ভধারিনী' পড়েছি। সে সময়ের একটা ঘটনা শেয়ার করি।
তখন স্কাউটিং করতাম। বাৎসরিক জাম্বুরিতে বইটা নিয়ে গিয়েছিলাম। সারাদিনের খাটাখাটনির পরে রাতে তাঁবুতে শুয়ে বইটা পড়ছি, এমন সময় এক 'মহাজ্ঞানী' সিনিয়ার লীডারের প্রবেশ। "কী বই পড়তেছ যে?"। বই দেখালাম। "কী ব্যাপার! তুমি মেয়েদের বই পড়তেছ কেন যে?"
অঃটঃ ১৯৮৮ সালে আমি তো দুধের শিশু। প্রথমবারের মত ক্লাস ওয়ানে পড়ি।। পড়াশুনায় 'বেশী' ভাল থাকায় পরেরবছর আবার পড়তে হয়েছিল।

মন্তব্য করুন