ইউজার লগইন

শেয়ারবাজার: দায় সরকারেরই

দেশের শেয়ারবাজার যে পর্যায়ে গিয়েছিল, তাতে পতন অনিবার্য ছিল। প্রশ্ন ছিল, পতন কখন হবে এবং কী গতিতে হবে। শেষ পর্যন্ত পতন ঘটল। তবে ধারণার আগে এবং অনেক দ্রুতগতিতেই সেটি হয়েছে। যত দ্রুতগতিতে বাজার বেড়েছিল, তার তুলনায় অনেক কম সময়ে বাজারের পতন ঘটল।
বাজার এখন ক্রেতাশূন্য বলা যায়। রাতারাতি লাখপতি হওয়ার জন্য যাঁরা বাজারে ছুটে এসেছিলেন, তাঁরা এখন যেকোনোভাবে বাজার থেকে বেরিয়ে যেতে মরিয়া হয়ে পড়েছেন। আর এ কারণেই কিছুতেই পতন ঠেকানো যাচ্ছে না। সবাই এখন শেয়ার বিক্রি করার দীর্ঘ সারিতে।
আশি ও নব্বইয়ের দশকে বেসরকারি খাতের একটি অংশের প্রবণতা ছিল, একের পর এক কোম্পানি খুলে ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়া। এই ঋণের বড় অংশই আর পরিশোধ করা হয়নি। সময় পাল্টেছে। এখন আর ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে খেলাপি হওয়ার সুযোগ কম, তবে প্রবণতা বন্ধ হয়নি। এখন টাকা তোলার জায়গা হিসেবে তৈরি হয়েছে শেয়ারবাজার। আর এ জন্য রীতিমতো আমন্ত্রণ করে আনা হয়েছে লাখ লাখ ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীকে। তাঁদের বড় অংশ বাজার ভালো বোঝেন না, ভালো শেয়ার চেনেন না, গুজব ছাড়া অন্য কিছু কানে তোলেন না, কখন শেয়ার কিনতে ও বিক্রি করতে হয়, জানেন না। আর এ কারণে বাজার থেকে টাকা তুলতে এঁদেরই প্রয়োজন বেশি। এসব বিনিয়োগকারী উচ্চমূল্যে শেয়ার কিনে ফেলেন বলেই কারসাজি করা সহজ। কারণ, তাঁরা না থাকলে তো শেয়ারের দাম বাড়ানো যাবে না।
দুই বছর আগেও যেসব উদ্যোক্তা নিজ প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত বেতন দিতে পারতেন না, ঋণখেলাপি হিসেবে সমাজে কুখ্যাতি কুড়িয়েছিলেন, তাঁরাই রাতারাতি হাজার হাজার কোটি টাকা দিয়ে একের পর এক প্রতিষ্ঠান কিনেছেন। শেয়ারবাজার অনেকের কাছেই আলাদিনের প্রদীপ হয়ে দেখা দিয়েছে। বেসরকারি খাতকে আকৃষ্ট করতে বুক বিল্ডিং পদ্ধতি প্রবর্তন করা হয়েছে। এই পদ্ধতির অপব্যবহার করে কয়েক শ কোটি টাকা তুলে নিয়েছে বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান। অথচ বেশি দামে শেয়ার বিক্রির পরপরই এসব কোম্পানির শেয়ারের দাম পড়ে যাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বিনিয়োগকারীরা।
চিটাগাং ভেজিটেবল অনেক দিন বন্ধ ছিল, অথচ গুজব ছড়িয়ে সাড়ে তিন হাজার টাকার শেয়ার এক মাসে করা হয়েছে সাড়ে ছয় হাজার টাকা। এ রকম অনেক ‘জেড’ গ্রুপের শেয়ারের দর অযথাই বেড়েছে। অর্থাৎ সবকিছুই হয়েছে বাজারে, কিন্তু দেখার যেন কেউ ছিল না। যাঁরা দেখবেন, তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ এসব কারসাজির অংশ হয়েছিলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
চুয়াত্তরের দুর্ভিক্ষের কারণে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলেই খাদ্য নিয়ে অতি সতর্ক থাকে। কিন্তু ’৯৬-এর শেয়ার কেলেঙ্কারির ঘটনা থাকা সত্ত্বেও এবার দলটি সরকার গঠন করে শেয়ারবাজার নিয়ে সে রকম সতর্ক ছিল না। ’৯৬-এর ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের একটি বড় অংশ এবারও শেয়ারবাজারে সক্রিয় ছিল। তারা নানাভাবে বাজারকে প্রভাবিত করেছে। তদারকিও ছিল ঢিলেঢালা। যে যার ইচ্ছামতো আচরণ করেছে। আর তার ফল বাজারের পতন।
বাজার এত দিন ধরে মোটেই বাজারের শক্তিতে চলেনি। তদারকির অভাব, একের পর এক ভুল সিদ্ধান্ত, কারসাজি, নেতৃত্বের দুর্বলতা এবং কিছু মানুষের লোভের ফল আজকের বাজার। বাজার তদারকির মূল কাজ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি)। গত দুই বছরে অসংখ্য সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থাটি এবং বারবার সিদ্ধান্ত বদল করেছে। এ সময় এসইসিকে পরামর্শ দেওয়ার মানুষের সংখ্যাও কম ছিল না। যে যার মতো পরামর্শ দিয়ে গেছে এসইসিকে। এদের মধ্যে স্বার্থান্বেষী মহলই ছিল বেশি। ফলে বারবার সিদ্ধান্ত বদল হয়েছে। সিদ্ধান্ত বারবার পরিবর্তন করিয়ে বাজারকে ওঠানো হয়েছে।
বাজার বিশ্লেষণেও বড় ধরনের ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে এসইসি। শেয়ারের মূল্যসূচক কত থাকাটা অর্থনীতির মৌলশক্তির সঙ্গে সংগতিপূর্ণ, তা কখনোই মূল্যায়ন করা হয়নি। সেটি কি পাঁচ হাজার, ছয় হাজার নাকি সাড়ে ছয় হাজার। অথচ বাজারকে অব্যাহতভাবে বাড়তে দেওয়া হয়েছে। এসইসি ঋণসীমা বাড়িয়ে বিনিয়োগকারীদের উৎসাহ দিয়েছে। বেশি প্রিমিয়ামে শেয়ার ছাড়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। ফলে বাজার হয়ে যায় অতিমূল্যায়িত।
বাজার যে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে, এটি কিন্তু বিভিন্ন মহল থেকেও বারবার বলা হয়েছিল। গত বছরের ৯ আগস্ট দুই স্টক এক্সচেঞ্জের সভাপতি অর্থনৈতিক সাংবাদিকদের সংগঠন ইআরএফের একটি অনুষ্ঠানে যৌথভাবে বাজারকে অতিমূল্যায়িত উল্লেখ করে বলেছিলেন, ‘বাজারে কোনো বিপর্যয়ের দায় সরকারের ওপরেই বর্তাবে।’ তার পরও বাজারকে সামলে রাখার কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। বরং একই সংগঠনের আরেকটি অনুষ্ঠানে ২৪ আগস্ট অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছিলেন, ‘পুঁজিবাজারে তেজি ভাব থাকলেও অতিমূল্যায়িত হয়ে পড়েছে বলে আমি মানতে নারাজ।’ বাজার ’৯৬-এর মতো হবে না বলেও তিনি আশ্বস্ত করেছিলেন।
বাজারের আজকের পরিস্থিতির জন্য সার্বিকভাবে দায় সরকারেরই। সরকারের হাতে থাকা বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ার ছেড়ে দেওয়ার একাধিক তারিখ নির্ধারণ করেও ব্যর্থ হয়েছে। কিন্তু এই ব্যর্থতার জন্য কারও শাস্তি হয়েছে, এমনটি জানা যায়নি। বাজারে বিনিয়োগকারীদের ডেকে এনে চাহিদা বাড়ানো হলো অথচ বাড়ল না ভালো শেয়ারের পরিমাণ। ফলে ভালো শেয়ারের পাশাপাশি খারাপ শেয়ারের দামও বাড়ানোর কাজটিও কারসাজিকারীদের পক্ষে সহজ হয়েছে।
নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে বড় দায় কিন্তু এসইসির। তাদেরই মূল কাজ ছিল বাজারকে সুচারুভাবে পরিচালিত করার। তারা তা করতে পারেনি। আবার দায়ের ভাগ বাংলাদেশ ব্যাংককেও নিতে হচ্ছে। দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মূল কাজ শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করা নয়। অথচ মনে হচ্ছিল, এটাই তাদের মূল কাজ। তারা শিল্প বিনিয়োগে ঋণ না দিয়ে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগেই বেশি উৎসাহ দেখায়। এ কারণে বিনিয়োগ মন্দার সময়েও চাঙা শেয়ারবাজারের সুযোগ নিয়ে ব্যাংকগুলো ২০১০ সালে অতিরিক্ত পরিচালন মুনাফা করেছে। আর এর বড় অংশই এসেছে শেয়ারবাজার থেকে। আবার অনেক উদ্যোক্তাও শিল্প প্রতিষ্ঠার নামে ঋণ নিয়ে শেয়ারবাজারে খাটিয়েছেন। বাজারের পতনের মধ্যেও এর কোনো আঁচ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের গায়ে লাগেনি। ডিসেম্বরের ব্যাংক সমাপনীর সুযোগ নিয়ে সবাই বের হয়ে গেছে।
নতুন বছরের শুরুতে বাজার যখন হোঁচট খাওয়া শুরু করে, তখনো বাজারকে নিজ গতিতে চলতে না দিয়ে কৃত্রিমভাবে বাড়ানো হয়। এই সুযোগে কারসাজির সঙ্গে জড়িতরাসহ অনেক বড় বড় বিনিয়োগকারী বাজার থেকে বের হয়ে গেছেনও বলেও মনে করা হচ্ছে। কেবল আটকা পড়েছেন শেষ সময়ে আসা অসংখ্য ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী।
এক বছর ধরে বাজারে দুটি সংকেত দেওয়া হয়েছে। যেমন—বাজারে কারসাজি করলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। ’৯৬-এর ঘটনায় কেউ শাস্তি না পাওয়ায় এই সংকেতটি সব সময়ই জোরালো ছিল। আরেকটি সংকেত হচ্ছে, সূচক পড়লেও যেকোনো উপায়ে তা আবার বাড়ানো হবে। ফলে একধরনের আশ্বস্ততা থেকেই বিনিয়োগ করে গেছেন অনেকে। কিন্তু একবার আতঙ্ক ছড়ালে সেখান থেকে বের হওয়া সহজ নয় বলেই এখন আর পতন ঠেকানো যাচ্ছে না।
ডিএসইর পক্ষ থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার বাজারে জালিয়াতি আছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এই অভিযোগের সত্যতা খুঁজে বের করা এখন সরকারের কাজ। আর এই কাজটি করতে না পারলে বাজারে আস্থা ফিরে আসবে না। এখনো বাজারে বিনিয়োগযোগ্য অনেক শেয়ার রয়েছে। অনেক ভালো ভালো কোম্পানি আছে। ৩৩ লাখ বিনিয়োগকারী আছেন। এখন প্রয়োজন সঠিক কাজটি করা। অর্থ মন্ত্রণালয়, এসইসি ও বাংলাদেশ ব্যাংককে সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে হবে।

লেখাটি আজকে প্রথম আলোয় প্রকাশিত। তবে আলোচনার সুবিধার জন্য কিছু সংযোজন করলাম

আস্থা ফিরিয়ে আনতে দ্রুত কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া দরকার-
১. এসইসির পুনর্গঠন প্রয়োজন দ্রুততার সঙ্গে
২. অর্থ মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির সভাপতি পদ থেকে আহম মোস্তাফা কামালকে পরিবর্তন
৩. প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি খাত বিষয়ক উপদেষ্টার পদ থেকে সালমান এফ রহমানকে অব্যাহতি
৪. আরো কিছু ব্যক্তিকে নিষ্ক্রিয় করা
৫. বুক বিল্ডিং পদ্ধতির সুযোগ নিয়ে যারা অতিরিক্ত অর্থ তুলেছে বাজার থেকে তাদের জরিমানা করা
৬. ব্যাংকগুলো শেয়ার বাজার থেকে কত মুনাফা করেছে তার হিসাব প্রকাশ করে তার উপর অতিরিক্ত কর আরোপ করে বেইল আউট এর পরিকল্পনা করা
৭. কারসাজি বের করতে তদন্ত কমিটি গঠন
৮. ৯৬ এর কেলেংকারির বিচার দ্রুত শেষ করা
৯. মিথ্যা তথ্য দেওয়া নীরিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিষিদ্ধ করা
১০. বিভাগীয় শহরের বাইরে ব্রোকারেজ হাউজের শাখা বন্ধ করা
১১. পুজি বাজারের আয়ের উপর কর আরোপ করা

পোস্টটি ১৯ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

টুটুল's picture


১. এসইসির পুনর্গঠন প্রয়োজন দ্রুততার সঙ্গে

এটা শুনছিলাম মার্চে হবে?

২. অর্থ মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির সভাপতি পদ থেকে আহম মোস্তাফা কামালকে পরিবর্তন
সহমত Smile

৩. প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি খাত বিষয়ক উপদেষ্টার পদ থেকে সালমান এফ রহমানকে অব্যাহতি

একমত। আরো কিছু যোগ করি, দুই বছর আগে সে ছিল ঋণ খেলাপী। সেই টাকা পরিশোধ করছে কোথা থেকে? সিঙ্গারের মত একটা বিশাল কোম্পানী, ওয়েস্টিন হোটেল, জিএমজি এয়ারলাইনস, ইউনাইটেড হাসপাতাল, এবং একটা বিখ্যাত স্কুল কিনে ফেলা কিভাবে সম্ভব?

৪. আরো কিছু ব্যক্তিকে নিষ্ক্রিয় করা

জানা নাই

৫. বুক বিল্ডিং পদ্ধতির সুযোগ নিয়ে যারা অতিরিক্ত অর্থ তুলেছে বাজার থেকে তাদের জরিমানা করা

বুক বিল্ডিং পদ্ধতির অপব্যবহার বাংলাদেশে আটকানো প্রায় অসম্ভব। যদিও সরকার আপাতাত বুকবিল্ডিং পদ্ধতি বন্ধ ঘোষণা করছে। এটা বন্ধই থাক

৬. ব্যাংকগুলো শেয়ার বাজার থেকে কত মুনাফা করেছে তার হিসাব প্রকাশ করে তার উপর অতিরিক্ত কর আরোপ করে বেইল আউট এর পরিকল্পনা করা
৭. কারসাজি বের করতে তদন্ত কমিটি গঠন
৮. ৯৬ এর কেলেংকারির বিচার দ্রুত শেষ করা
৯. মিথ্যা তথ্য দেওয়া নীরিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিষিদ্ধ করা
১০. বিভাগীয় শহরের বাইরে ব্রোকারেজ হাউজের শাখা বন্ধ করা
১১. পুজি বাজারের আয়ের উপর কর আরোপ করা

সবগুলোর সাথে এক মত

শওকত মাসুম's picture


সহমতের উপর সহমত।
নিস্ক্রিয় করার তালিকায় আছে ডিএসইর একজন সাবেক প্রেসিডেন্ট, এসইসির একজন অনেক পুরানো সদস্য, একজন উপদেষ্টা,..........এরকম একটা তালিকা করা যায়।

স্বপ্নের ফেরীওয়ালা's picture


এখন সব নাম ই প্রকাশ্যে আশা উচিত... পুরো তালিকা করে

~

রোহান's picture


প্রধানমন্ত্রীর দুজন উপদেষ্টা, এসইসি এবং ডিএসইর কিছু সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তারে নিস্ক্রিয় করার পাশাপাশি কয়েকটা হাউজ এবং মার্চেন্ট ব্যাংকের নেগেটিভ রোল প্লের বিরুদ্ধে কিছুটা হার্ড লাইনে যাওয়ারও দরকার হয়তো...প্রিন্ট মিডিয়া কিংবা টক শো তে যেসব বিশেষজ্ঞ কদিন আগেও ম্যাংগো পাব্লিকরে বোকা বুঝাইতে ব্যস্ত ছিলো তাদেরও অনেকেই আজকাল বলছেন যে এমন দু তিনটা নাম নাকি মার্কেট ওপেন সিক্রেট, সবাই জানে কিন্তু কারো কিছু করার নাই...এই নাম গুলো আসলেই তালিকা আকারে আসা দরকার, সরকার না পারুক পাব্লিকেরও তো কিছু করার থাকলেও থাকতে পারে...

ইনডেক্স ব্রেকার এর থেকে বরং প্রতিটা শেয়ারের প্রাইসের যে সার্কিট ব্রেকার ব্যবস্থা আছে সেটার রেন্জ আরও কমিয়ে দিলে কি ভালো হতো...যেমন এই রেন্জ প্লাস মাইনাস পাঁচ কি সাত পার্সেন্টে নামিয়ে আনলো আপাতত...

নীড় সন্ধানী's picture


একটা বেলুন কতোটা ফোলানো হলে ফেটে যেতে পারে সেই জ্ঞান যার নেই তাকে দিয়ে বেলুন ওড়ানোর ব্যবসার চিন্তাও অবাস্তব। সরকার যদি সেই বেলুনঅলা হয়, তাহলে?

শিবলী মেহেদী's picture


চিটাগাং ভেজিটেবল অনেক দিন বন্ধ ছিল, অথচ গুজব ছড়িয়ে সাড়ে তিন হাজার টাকার শেয়ার এক মাসে করা হয়েছে সাড়ে ছয় হাজার টাকা।

আমি বুঝিনা এরপরও শেয়ার ব্যবসা হালাল হয় কেমন করে। আমি একদম প্রথম থেকেই এই শেয়ার বাজার বুঝিনি এখন পর্যন্ত বুঝিনা। কিন্তু দাম বাড়ার কারনে যখন অনেকের মুখে হাসি দেখতাম, আমার অবচেতন মন একটু সন্দেহই করতো। শুনতাম অমুকের ভাই বেকার ছিলো কিন্তু আজ লক্ষ লক্ষ টাকার মালিক। আর সেই বেকার ছোট ভাই তার পড়ালেখা করা বড় ভাইকে বলে, "তুমি মাষ্টার্স পাশ করে, প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে, অফিস যাও। ৩০ দিন নিয়মিত অফিস করে বেতন পাও। আর আমি প্রতিদিন মাত্র কয়েক ঘন্টা অফিস করে প্রতিদিনে যা কামাই করি তা তুমি এক সপ্তাহেও করনা।" এই সব যখন শুনতাম, তখনি বুঝে গেছি যে এখানে বড় একটা সমস্যা হতে চলেছে।

শওকত মাসুম's picture


এইটা অনিবার্য ছিল। তবে আমার ধারণা ছিল পতন হবে আরও ৪-৬ মাস পরে।

টুটুল's picture


একজন সচিব তো কইছে যে ... দায় নাকি সরকারের না Smile

টুটুল's picture


প্রধানমন্ত্রীর অর্থনীতিবিষয়ক উপদেষ্টা মসিউর রহমান বলেছেন, শেয়ারবাজার স্থিতিশীল রাখতে সরকার ব্যবস্থা নিয়েছে।
তার মত হলো, শেয়ারবাজার ধসে সরকারের মাথাব্যথার কোনো কারণ নেই। শেয়ারবাজারের পুঁজি প্রকৃত বিনিয়োগে যায় না।
মসিউর রহমান আরও বলেন, যদি শেয়ারবাজার কাজ করত, তাহলে এখান থেকে পুঁজি সংগ্রহ করে বিনিয়োগ বাড়ানো যেত। কিন্তু শেয়ারবাজার সে কাজটি করছে না। তিনি শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকে দ্রুত কোটিপতি হওয়ার ব্যবসা বলে উল্লেখ করে বলেন, যেহেতু প্রকৃত বিনিয়োগে এই অর্থ যাচ্ছে না, তাই অর্থনীতিতে এর তেমন কোনো প্রভাব পড়বে না।
এক প্রশ্নের জবাবে মসিউর রহমান বলেন, ‘শেয়ারবাজারকে কেন্দ্র করে যারা অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি করছে, আপনার এবং আমার দায়িত্ব তাদের বাধা দেওয়া এবং বলা, তোমরা সমাজের শত্রু। সরকার এবং জনগণ উভয়ের সোচ্চার হয়ে বলা দরকার, তোমরা সমাজের শত্রু; সমাজের ক্ষতি করছ। জনগণের সমর্থনেই সরকার কাজ করবে। কেউ যদি মনে করেন, এদের প্রতি সহানুভূতি বেশি প্রকাশ করা উচিত, তাহলে তা জনগণের বিপক্ষে কাজ করবে।’
মসিউর রহমান বলেন, ‘কতগুলো লোক যদি অর্থনীতিতে অবদান না রেখে নিজেরাই লাভবান হতে চায়, তাদের কষ্টে আমার হূদয় কাঁদে না।’ তিনি এই বাজার ধসের পর যারা রাস্তাঘাট অবরোধ করেছে, তাদের প্রতিহত করার জন্য সাংবাদিকসহ সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

১০

স্বপ্নের ফেরীওয়ালা's picture


মসিউর রহমান বলেন, ‘কতগুলো লোক যদি অর্থনীতিতে অবদান না রেখে নিজেরাই লাভবান হতে চায়, তাদের কষ্টে আমার হূদয় কাঁদে না।’ তিনি এই বাজার ধসের পর যারা রাস্তাঘাট অবরোধ করেছে, তাদের প্রতিহত করার জন্য সাংবাদিকসহ সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

সৎ সাহস থাকলে এই কথাগুলি শাপলা চত্বরে এসে বলুক...

~

১১

শওকত মাসুম's picture


নতুন সুপারিশ: কিছু মানুষের কথা বলা বন্ধ করতে হবে।

১২

বাফড়া's picture


বিভিন্ন জনকেই অব্যাহতি দেয়ার সাজেশান দিলেন, কিন্টু অর্ঠমন্ত্রী মাল মুহিত কে অব্যাহতি দেয়ার ব্যাপারে আপনার মতামত টা জানা গেল না!! অথচ এটা একটা সিরিয়াস আলোচনার দাবি রাখে....

মুহিত কাকুরে নিয়া আপনার ভাবনা জানতে আগ্রহী। আপনি কি মনে করেন হি ডিড হিঝ জব ওয়েল? নাকি না? "না" হলে তাকে অব্যাহতি দেয়ার ভাবনা কি আসা উচিত? যদি উচিত না হয় তবে সেটাই বা কেন?

১৩

তানবীরা's picture


বাফড়ার পিছে খাড়াইলাম

১৪

শওকত মাসুম's picture


আগে মুহিতের দুর্বলতাগুলো বলি
১. যথেষ্ট বয়স।
২. পুরো শেয়ারবাজার নিয়ে সমন্বয়হীনতার দায় তাঁর
৩. বাজার অতিমূল্যায়িত না এটা বলা ছিল তার জীবনে বলা অন্যতম সেরা ভুল
৪. অর্থমন্ত্রী হলেও সব কিছু নিজের নিয়ন্ত্রণে তিনি রাখতে পারেন না
৫. কাউকে শাস্তি দেন নি, এখনও না

এবার শক্তির দিক
১. ব্যক্তিগতভাবে সৎ, তিনি মাঠের প্লেয়ার না, শেয়ারবাজার নিয়ে খেলাধুলা করেন না
২. তার বিকল্প হিসেবে যে সব নাম আসবে তাদের সততা নিয়ে প্রশ্ন আছে
৩. এ এম এ মুহিত ভুল স্বীকার করতে জানেন, এখন তিনি যদি পরবর্তী দুইদিন সত্যি বোল্ড কিছু করতে পারেন তাহলে আমি পদত্যাগ চাইবো না।

আগামি দুই তিন যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। আমি এই কটা দিন দেখতে চাই

১৫

রোহান's picture


মুহিতের থেকে বরং মশিউর সাহেবকে এই ইস্যুতে নিস্ক্রিয় করা বেটার হবে মনে হয়...মুহিতের কনফেশন একটা ভালো দিক যদিও আমাদের নোংরা পলিটিক্সে এমন কনফেশন করা মানে বল বিরোধী পার্টির হাতে তুলে দেওয়া...

১৬

মীর's picture


আলোচনা ফলো করতেসি। এ লাইনে এক্সপার্ট লীনা'পুর মতামত চাই।

১৭

জ্যোতি's picture


উনার মতামত চেয়ে কষ্ট দিবেন না। Tongue উনি তো কাইত।

১৮

শওকত মাসুম's picture


জাতীয় শুক দিবস মনে হয় চলতাছে.....

১৯

মাহবুব সুমন's picture


অপদার্থ বাল মুহিতকে বরখাস্ত করা হোক। এই ভাম নির্লজ্ব যে পদত্যাগ করার মতো সাহস দেখানোর হ্যাডম নাই।

২০

মেসবাহ য়াযাদ's picture


ভাই, বন্দুকের নলটা এট্টু অন্যদিকে ঘুরান... Wink তাইলে আপনেগো পিছনে লাইন দিতে সাহস পাই Sad

২১

মাহবুব সুমন's picture


দাদাভাই ইডা "উজি" এসএমজি Steve বন্দুক নহে Cool

২২

রাসেল আশরাফ's picture


আম-জনতা হিসাবে খালি আলুচোনা শুনতেছি।আর ক্যালকুলেটরে লসের হিসাব করেছি।

২৩

জ্যোতি's picture


আমজনতা হিসেবে লেখাটা কাল সকালে পত্রিকায পড়েই ব্যাপক লাইক দিয়েছি।

২৪

সাহাদাত উদরাজী's picture


মাসুম ভাই, আমি শেয়ার বাজার তেমন বুঝি না। সামান্য কিছু এক বন্ধু মারফত বিনিযোগ করেছিলাম, যা প্রায় হারিয়ে ফেলেছি! আল্লাহ মালিক, আমাদের কোপালে কি আছে দেখা যাক।

আপনার কাছে কয়েকটা বিষয় জানতে চাই

১। দিনের শুরুতে প্রতিটা শেয়ারের মুল্য কে নিধারন করে দেয়।
২। আমার কাছে যে শেয়ার আছে তার মুল্য কি আমি আমার ইচ্ছা মত বসাতে পারব।
৩। বাজার অতি মুল্যায়িত হয়ে এখন পড়ে গেছে, মাঝের এই টাকা গুলো কার কাছে আছে। কিভাবে।
৪। একটা শেয়ারের দাম যখন বাড়ে, এতে মুল কোনপানীর কি লাভ হয়, ওরা কি টাকা পায়।
৫। বোকারেজ হাউজ গুলো কি দিনের টাকা দিনে ডিএসসি কে জমা দেয়।

আশা করি বিরক্ত করি নাই।

২৫

তানবীরা's picture


টিভিতে একটা গেম হতে পারে।

আপনারা কি অর্থমন্ত্রীর পদত্যাগ চান তাহলে টাইপ করুন ....হ্যা..... আর পাঠিয়ে দিন ৫৫৯৮

আপনারা কি অর্থমন্ত্রীর পদত্যাগ চান না, তাহলে টাইপ করুন ....না........আর পাঠিয়ে দিন ৫৫৯৮

Wink

২৬

আসিফ's picture


Sad Sad

২৭

নুশেরা's picture


শওকত হোসেনের লেখা কপিপেস্টের দায়ে মডুর নিকট রিপুটিত। বাড়তি সংযোজন ভালৈছে। মুখ বন্ধ রাখার সাজেশানটাও অ্যাড করে দিয়েন।

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

শওকত মাসুম's picture

নিজের সম্পর্কে

লেখালেখি ছাড়া এই জীবনে আর কিছুই শিখি নাই।