অস্কার পুরস্কার পছন্দ হয়নি
জ্বরের কারণে চারদিন বাসায় ছিলাম। সময় অবশ্য খারাপ কাটেনি। বাসায় এমনিতেই থাকা হয় না, বাচ্চারা মিস করে। আমিও করি। উপরি পাওনা ছিল টানা কয়েকটি সিনেমা দেখা। বিশেষ করে এবারের অস্কার পাওয়া অনেকগুলো ছবি পর পর দেখলাম। সেই সব মুভি নিয়েই লেখা।
সিনেমাগুলো দেখে মনে হলো এবারের পুরস্কারের নির্বাচন সঠিক হয়নি। এটা আমার ব্যক্তিগত মত। সবার সঙ্গে মিলবে না তা বলাই যায়। লীনার সাথে তো মিলছেই না। কারণ লীনা জীবনে প্রথম বারের মতো মুভি নিয়া পোস্ট দিছে, দি আর্টিস্ট দেখে মুগ্ধ হয়েই তো।
অস্কারের ছবিগুলো দেখে মনে হয়েছে আমার যে, তারা আবারও ভুল করলো। ১৯৮০ সালে সেরা ছবির অস্কার পেয়েছিল রবার্ট রেডফোর্ডের অর্ডিনারি পিপল। এখন এই ছবির কথা তেমন কেউ মনে করে না। কিন্তু ওই বছর মুক্তি পাওয়া রেগিং বুল ক্লাসিকের মর্যাদা পেয়েছে অনেক আগেই। আবার ১৯৭৬ সালে সেরা ছবির অস্কার পায় স্ট্যালোনের রকি। অথচ সবাই মনে রেখেছে ওই বছরের ছবি হিসেবে ট্যাক্সি ড্রাইভারকে।
মজার ব্যাপার হলো রেগিং বুল আর ট্যাক্সি ড্রাইভারের পরিচালক ছিলেন মার্টিন স্করসিজ। অস্কারওয়ালারা সেই পাপ ঢাকতে ২০০৬ সালে সেরা পরিচালক হিসেবে পুরস্কার দিল মার্টিন স্করসিজকে, দি ডিপার্টেড ছবি থেকে। যদিও সেই বছরের সেরা ছবি ডিপার্টেড ছিল না।
এবারে মার্টিন স্করসিজের একটা ছবি সেরা ছবির মনোনয়নে ছিল, হুগো। স্করসিজ যে ধরণের ছবি বানান, হুগো ঠিক সেরকম না। একদমই ভিন্ন ধরণের একটা মুভি। আসার ব্যক্তিগত মত হচ্ছে ২০১১ সালের সেরা ছবির দুটোর একটি হচ্ছে হুগো।

হুগো নামের ১২ বছরের এক ছেলের গল্প, বাবা মারা যাওয়ার পর আশ্রয় মিলেছে প্যারিসের এক রেল স্টেশনে। কাজ হচ্ছে ঘড়ির সময় ঠিক রাখা। গল্পটা বললে ছবি আকর্ষণ চলে যাবে, তাই গল্পটা না হয় থাক। তবে টানটান উত্তেজনার এই ছবি দেখলে মার্টিন স্করসিজকে নিয়ে আপনাকে আবার ভাবতেই হবে। খুশী হতাম পুরস্কারটা 'বস' স্করসিজ পেলে।
আমার আরেক পছন্দের ছবি মিডনাইট ইন প্যারিস। পরিচালক উডি অ্যালেন। সমালোচকদের মতে এটাই সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে উডি অ্যালেনের সেরা ছবি। ছবিটা দেখলাম। খালি মুগ্ধ বললে কম বলা হয়। প্যারিস হচ্ছে শিল্পীদের দেশ। আর প্রতি রাতে যদি সেইসব শিল্পীদের দেখা পাওয়া যায় তাহলে কেমন হয়? শিল্পীদের তালিকাটা শুনুন-আর্নেস্ট হেমিংওয়ে, লেখক-লেখিকা দম্পতি হেলডা ও স্কট ফিটজারেল্ড, নায়িকা-গায়িকা জোসেফাইন বেকার, কবি-লেখক গারত্রুদ স্টেইন, জুয়ানা বারনেস, টি এস ইলিয়ট, চিত্রশিল্পী ম্যান রে, পিকাসো, সালভাদর দালি, পল গগা, এডগার দেগা, পরিচালক লুই বুনুয়েল-এরকম আরো অনেকে।

মডার্নিজম আর নস্টালজিয়ার এক অপূর্ব সংমিশ্রন এই মুভি। অসাধারণ একটা মুভি। বিশেষ করে শিল্পী-সাহিত্যিকদের তো এই ছবি দেখা তো দায়িত্বের মধ্যে পড়ে।
মার্টিন স্করসিজের বয়স এখন ৬৯ আর উডি অ্যালেনের ৭৬। বেঁচে আছেন এমন পরিচালকেদের মধ্যে তাঁরা নি:সন্দেহে সেরা। দুজনকে একসঙ্গে এতো ভাল দুই মুভিসহ আর কবে পাওয়া যাবে তা নিয়ে সন্দেহ আছে।
দি আর্টিস্ট অবশ্যই ভাল ছবি। সমালোচকরাও পছন্দ করেছেন। সেরা ছবি ও অভিনেতার পুরস্কার পেয়েছে ছবিটি। সেরা অভিনেতা ঠিক আছে, তবে সেরা ছবি হুগো বা মিডনাইট ইন প্যারিস পেলে আমি খুশী হতাম।

কাকতালীয় হলেও এবার ফরাসী সৌরভ ছড়িয়েছে পুরো অস্কার জুড়ে। হুগোর পুরো কাহিনী প্যারিস ঘিরে। মিডনাইট ইন প্যারিস তো পুরোটাই প্যারিস। আর দি আর্টিস্ট ফরাসী ছবি। সব মিলিয়ে এবার প্যারিসেরই জয়জয়কার।
মুভি ক্রিটিকদের মধ্যে রজার এবার্টকে অন্যতম সেরা বলা হয়। তার টপ-টেন লিস্টটা এরকম-
১. এ সেপারেশন-ইরানী এ ছবিটি এবার বিদেশী ভাষার সেরা ছবির পুরস্কার পেয়েছে। যারা এখনও দেখেননি, তারা জানেন না কি মিস করছেন।
২. শেইম-ব্রিটিশ মুভি
৩. দি ট্রি অব লাইফ-বুঝি নাই ছবিটা ভাল
৪. হুগো
৫. টেইক শেল্টার
৬. কিন্যারোয়ান্ডা-রোয়ান্ডার গণহত্যা নিয়ে মুভি
৭. ড্রাইভ-মার্কিণ মুভি, দর্শকদের খুব পছন্দ
৮. মিডনাইট আন প্যারিস
৯. লে হাভরে-ফিনিস ছবি
১০. দি আর্টিস্ট।
এর বাইরে দেখেছি ব্রিটিশ স্পাই মুভি, সেরা ছবিন মনোনয়ন পাওয়া টিংকার টেইলর সোলজার স্পাই, মেরিল স্ট্রিপের দি আয়রন লেডি, বিদ্যা বালানের ডার্টি পিকচার এবং রনভীর কাপুরের দারুণ অভিনয়ের ছবি রকস্টার। এগুলোও দেখার জন্য দারুণ মুভি।





আপনার সাথে অনেকাংশে একমত।
গত বছরের আরেকটা বিদেশি (স্প্যানিশ) সিনেমা দেখলাম দ্য হিডেন ফেস , যদিও রেটিং কম কিন্তু থ্রিলার মুভি হিসেবে ভাল্লাগছে (সিনেমাটাতে প্রাপ্তবয়স্কদের কনটেন্ট আছে)
স্পাই থ্রিলার হিসাবে টিংকার টেইলর সোলজাল স্পাই দেখতে পারো, তবে একটু স্লো, তাই অনেক মনোযোগ লাগে
আমার মতে মার্টিন স্করসিজ এর সেরা সিনেমা 'Shutter Island'
ওর আরেকটা সিনেমা অনেক অনেক আগে দেখছিলাম 'Alice Doesn't Live Here Anymore' সেইটাও ভাল্লাগছিলো।
আর ট্যাক্সি ড্রাইভার,গুড ফেলাস এর কথা তো বাদই দিলাম।
স্করসিজ একজন বস মানুষ
মিড নাইট ইন প্যারিস আমার ভালো লাগে নাই, অবশ্য আমার উডি এলেনের ছবিগুলা ভালো লাগে না তেমন।
ছবিটা মাঝের পাকনামি কিংবা সাইকোলজিক্যাল ট্রমা বাদ দিলে একেবারেই সোজা সাপটা, টাইটানিক টাইপ,
উডি এলেনের সিনেমা আমারো তেমন একটা হজম হয় না।
তয় মিডনাইট ইন প্যারিস ভাল্লাগছে....অসাধারন কিছু না হইলেও ভাল্লাগছে
নিজের সমকালীন সময়কে কেউই পছন্দ করে না, তার সব সময়ই মনে হয় যা কিছু বিগত সেখানেই সর্বশ্রেষ্ঠ ঘটনাগুলো ঘটেছে
----
ছবি হিসেবে বেশ পরিচ্ছন্ন ছবি এটা, কিন্তু অস্কার মনোনয়ন পাওয়ার মতো মনে হয় নি আমার,
আমার কাছে তো এবছরের সেরা ছবির একটি মনে হয়েছে এই ছবিকে।
আমি আবার উডি অ্যালেন পছন্দ করি। তাই ম্যাচ পয়েন্টের মতো ত্রিলার দেখেও মুগ্ধ হই। অ্যানি হল তো আছেই
জ্বর কমছে না এখনো আছে
আপনার পোষ্ট পইড়া মনে হইল কত পিছাইয়া আছি, কতদিন আগে যে কোন মুভি দেখেছি ঠিক মনে পড়ে না
জ্বর ছিল বলেই তো মুভিগুলো টানা দেখতে পারলাম।
সিনেমার নাম পরিচালকের নাম প্লট গুলান মুখস্থ রাখছি বন্ধু বান্ধবদের সামনে পান্ডিত্য দেখানোর আশায়!
কমেন্টস অব দ্য মাস...
এই কৌশল কইরাই তো সিনেমাবোদ্ধা হইয়া গেছি
মিডনাইট ইন প্যারিস টা ভাল বাট অস্কার পাবার মত না। হুগো এক কথায় অসাধারণ। অবশ্য আর্টিস্ট ও আমার কাছে হুগো থিমের ই ছবি মনে হল।
হুম, আর্টিস্ট আর হুগোর থিম প্রায় এক
পছন্দ একটা আপেক্ষিক ব্যাপার।
অবশ্যই
অস্কারের আগেই সেরা ১০ এ স্থান পাওয়া ৮ টি দেখেছিলাম।
সেপারেশন দেখেছিলাম অনেক অনেক আগে , এই সিনেমাটা মোটামুটি সবখানে জিতে টিতে প্লাবন সৃষ্টি তো করেছেই ।
আপনার সাথে আমার মিলল একটা জায়গায় -- মিডনাইট ইন প্যারিস আর হুগো দু'টো দেখেই আমি তুমুল আলোড়িত। দেখেছি থিয়েটারে , থ্রি-ডিতে , স্বপ্ন দেখার ফিলিংস একেবারে।
আর্টিস্ট দেখেছি বাসায় বসে , অনেক অনেক ভাল লেগেছে । কিন্তু ঐ দু'টোর চেয়ে সামান্য একটু কম। কিন্তু আমি জুরি বো্র্ডে থাকলে আর্টিস্টকেই সেরার পুরস্কার দিতাম। ঠিক সেই একই যুক্তিতে , অনেকদিন পরে আর্টিস্ট এর কথা বেশি মনে রাখবে মানুষ ।
আমরা অনেকেই নির্বাক মুভির কথা শুনেছি , কিন্তু বেশিরভাগ মানুষই কখনোই দেখেননি, আগ্রহও বোধ করেননি। আর্টিস্ট এমন একটা কিছু সেট করে দিয়ে গেল , মুভিখোররা এখন নির্বাক যুগের স্বাদ পেতে একটি মুভি অন্তত দেখবেন , সেটা আর্টিস্ট । সে অর্থে এই মুভিটা মোটামুটি দু'টো দশকের একক প্রতিনিধি হয়ে অনেকদিন বেঁচে থাকবে
যুক্তিটা ভাল। এবারের সেরা ছবি সেপারেশন, তারপর হুগো।
এ সেপারেশন--- সাউন্ড আসে না বলে দেখতে পারলাম না। তবে আপনার লিস্টের মুভিগুলো দেখে মুগ্ধ হই। লিস্ট রেখে দেই, তবে সব দেখা হয় না। হয়ত কোন একদিন সুযোগ হবে।
সেপারেশন আবার ট্রাই কইরো
আপনার এই বই-পড়াময়, সিনেমা-দেখাময় আনন্দের জীবনের প্রতি বিশুদ্ধ ঈর্ষা!
আমার পড়াশোনা খুবই সীমিত কামাল ভাই।
কোন সিনেমা পুরস্কার পাইলেই আমার ডর লাগে যে কিছুই বুঝবো না। একবার গেলাম ইন্টারভিউ উইথ আ ভ্যামপায়ার দেখতে, ব্র্যাড পিট, টম ক্রুজ। বেচারা ছোটকালের পছন্দ টম ক্রুজরেতো প্রথম খুঁজেই পাচ্ছিলাম না
তারপর গেলাম ঘুমাইয়া। বান্ধবী ধাক্কাইয়া জাগালো বাড়ি ফেরত
দি হার্ট লকার জিদ চেপে গেছিলো, কতো কষ্ট করে যে শেষ করলাম। এতো বোরিং সিনেমা হয়
সেদিন দেখলাম রঞ্জনা আমি আর আসবো না, ন্যাশনাল এওয়ার্ড উইন করেছে, কেন কে জানে? ডার্টি পিকচার দেখেও তাই ভাবলাম আসলেই আমি কিছু বুঝি না
মন্তব্য করুন