ইউজার লগইন

এঞ্জেলিনা জলি পরিচালক, ছবির নাম ইন দ্য ল্যান্ড অব ব্লাড এন্ড হানি

আমাদের জলি আফা। কামিং হোম দেখে জন ভয়েটের অভিনয়ে মুগ্ধ হয়েছিলাম। অস্কার পাওয়া সেই জন ভয়েটের মেয়ে এঞ্জেলিনা জলি। অরিজিনাল সিনের মতো হট-হাট সিনেমা যেমন আছে, তেমনি আছে মাইটি হার্ট আর চ্যাঞ্জেলিং এর মতো সিনেমা।
Angelina-Jolie-on-set-007.jpg
সেই এঞ্জেলিনা জলি অবশেষে পরিচালকও হলেন। তিনি একটি ছবি পরিচালনা করেছেন, মুক্তিও পেয়েছে, এবং আমি দেখেও ফেলেছি।
ছবিটার নাম ইন দি ল্যান্ড অব ব্লাড এন্ড হানি। শুরুতে ছবিটা নিয়ে আমার তেমন কোনো আগ্রহ ছিল না, উচ্চাসাও না। তবে দেখার পর লিখতে আগ্রহ বোধ করছি। মনে হচ্ছে সবাইকে বলি আপনারাও দেখেন।
angelina-jolie-chat-1.jpg
এঞ্জেলিনা জলি জাতিসংঘে বসিনিয়ার শুভেচ্ছা দূত। সেখানে যাওয়া আসার মধ্যেই তিনি কাছ থেকে দেখেছেন বসনিয়াকে। সিনেমার পটভূমি বসনিয়ার যুদ্ধ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ। গল্পটা এঞ্জেলিনা জলির নিজের লেখা।
0.jpg
বসনিয়ার যুদ্ধ বা বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার যুদ্ধ হচ্ছে একটি আন্তর্জাতিক সামরিক যুদ্ধ। ১৯৯২ থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত বসনিয়া ও হার্জেগোভিনায় এ যুদ্ধ সংঘটিত হয়। এই যুদ্ধে বিভিন্ন পক্ষ সংশ্লিষ্ট ছিলো, যার মধ্যে রয়েছে, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা এবং সেখানে বসবাসকৃত স্বতন্ত্র পরিচয়দাবীকৃত বসনীয় সার্ব ও বসনীয় ক্রোয়েট গোষ্ঠী, রেপুব্লিকা স্পোর্সকা ও হার্জে-বসনিয়া, যারা ছিলো যথাক্রমে সার্বিয়া ও ক্রোয়েশিয়ার সহায়তাপুষ্ট।
INTHELAND1-articleLarge.jpg
এই যুদ্ধের ফলশ্রুতিতে যুগোস্লাভিয়া ভেঙে যায় ও সোশালিস্ট ফেডারেল রিপাবলিক অফ যুগোস্লাভিয়া ও সোশালিস্ট রিপালিক অফ বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা নামের নতুন দুটো রাষ্ট্রের জন্ম হয়। এর মধ্যে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা ছিলো মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ রাষ্ট্র, যার মোট জনগোষ্ঠীর ৪৪% মুসলিম বসনীয়, ৩১% অথোর্ডক্স সার্বীয়, এবং ১৭% ক্রোয়েশীয় ক্যাথলিক। বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা ২৯ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯২-এ তাদের স্বাধীনতার ঘোষণা পাস করে। কিন্তু এই ঘোষণা বসনীয়-সার্ব রাজনৈতিক প্রতিনিধিরা প্রত্যাখান করে এবং নিজেদের রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করে। এর ফলে সার্বিয়ান সরকারের প্রধান স্লোবদান মিলসোভিচের সহায়তায় বসনীয়-সার্ব বাহিনী এবং যুগোস্লাভ পিপল’স আর্মি রাষ্ট্রটির সার্বীয় অংশ নিজেদের দখলে নিতে রিপাবলিক অফ বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা আক্রমণ করে। এর পর খুব তাড়াতাড়িই সমগ্র বসনিয়া জুড়ে যুদ্ধ শুরু হয়, এবং বসনিয়ার বিভিন্ন অংশের (বিশেষ করে পূর্ব বসনিয়ার) জাতিগত জনগোষ্ঠী এই যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে।(উইকি থেকে)
in-the-land-of-blood-and-honey.jpg
১৯৯০ এর দশকের শুরুতে বলকান যুদ্ধ যখন শুরু হলো, তখন একটানা তিন বছর আট মাস ধরে সারায়েভো ছিল এক অবরুদ্ধ শহর।

শহরটি ছিল প্রধানত মুসলিম অধ্যূষিত। চারপাশের পাহাড়ের আড়াল থেকে যখন সার্বিয়ান বন্দুকধারীরা গোলাগুলি শুরু করলো, শহরের মুসলিম বাসিন্দারা তখন নিজেদের শহরেই জিম্মি হয়ে পড়লেন।
in-the-land-of-blood-and-honey-trailer_450x254.jpg
তবে বসনিয়ার যুদ্ধে ছিল আরও একটি পক্ষ, এই ত্রিমুখী লড়াইয়ে সার্বিয়ান এবং মুসলিমরা ছাড়াও জড়িয়ে পড়েছিল ক্রোয়েশিয়ানরাও। ১৯৯৫ সালে সংঘটিত হয়েছিল এই যুদ্ধের সবচেয়ে নারকীয় হত্যাকান্ড। স্রেব্রেনিৎসায় আট হাজার মুসলিম পুরুষ এবং বালককে হত্যা করা হয়।

জেনারেল রাটকো ম্লাদিচের নেতৃত্বে মুসলিমদের বিরুদ্ধে যেখানে এই অভিযান চালানো হয়, সেটি ছিল জাতিসংঘের ঘোষিত নিরাপদ অঞ্চল।

যুদ্ধের বিশ বছর পরও বসনিয়া জুড়ে এর ক্ষতচিহ্ণ এখনো স্পষ্ট। অনেক ক্ষতিগ্রস্থ অনেক ভবন সংস্কার করা হয়েছে। কিন্তু এই যুদ্ধের ভয়ানক স্মৃতি এখনো ভুলতে পারেন নি অনেক মানুষ।

বসনিয়ায় জাতিগত দ্বন্দ্বের নিরসন হয়েছে সেটাও বলা যাবে না, তার আঁচ এখনো টের পাওয়া যায়। বসনিয়ায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের দূত পিটার সোরেনসনের ভাষায়, এই যুদ্ধ ধ্বংস করেছিল মানুষে মানুষে বিশ্বাস, এত ভয়ংকর একটা ঘটনা কোনদিনই ভোলা যাবে না, মুছে ফেলা যাবে না। (বিবিসি থেকে)

ডেনিয়েল বসনিয়ান সার্ব আর আজলা বসনিয়ান মুসলিম। যুদ্ধের আগে দুজনের মধ্যে একটা সম্পর্ক তৈরি হচিছল কেবল। তারপর শুরু হয় যুদ্ধ, সময়টা ১৯৯২। সার্বরা ঝাপিয়ে পড়ে মুসলিমদের উপর। আজলাকে বন্দি করে আনা হয় আরও অনেকের সাথে। মূলত যৌনক্রিতদাসী বানানোর হয় তাদের।
সেখানে দেখা হয় ডানিয়েলের সঙ্গে। তার বাবা সার্ব জেনারেল। ডানিয়েল রক্ষা করে আজলাকে। দুজনের প্রেম নিয়ে শুরু হয় সিনেমা। মূলত প্রেম কাহিনী। আজলাকে সব সময় রক্ষা করতে পারে না ডানিয়েল। তাই আজলা পালায়, আবার ধরাও পড়ে। প্রতি আক্রমন করে বসনিয়ার মুসলমানরা। আসে জাতিসংঘ শান্তি রক্ষী বাহিনী। কিন্তু কমে না সার্বদের হত্যাযজ্ঞ।
ডানিয়েলের বাবা মানতেই পারে না যে, একজন মুসলিম মেয়ের সঙ্গে সম্পর্ক রাখছে তার ছেলে। ফলে ধর্ষিত হয় আজলা। তারপরেও প্রেম থেকে যায়।

এটাই মূল কাহিনী। শেষটা আর বলছি না। কারণ প্রেমের জয়-এ ধরণের অতিসরলী করণ করা হয়নি সিনেমাটিতে। আগ্রহীরা শেষটা দেখে থমকে যাবেন।

ছবিটা দেখতে গিয়ে বহুল সমালোচিত মেহেরজানের কথা মনে পড়লো। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় এক পাকিস্তানি সৈন্যের সঙ্গে প্রেম। সব কিছুর উর্ধে দেখানো হয়েছিল সেই প্রেম। পাকিস্তানি বাহিনীর অত্যাচারের কথা মনে রাখেনি ছবির নায়িকা।
ইন দ্য ল্যান্ড অব ব্লাড এন্ড হানি এখানেই অন্যরমক। ডানিয়েল একবারও ভোলে না যে, সে সার্ব। আজলাও ভুলতে পারে না যে সে বসনিয়ান মুসলিম।
মুল পরিচয় থেকে কেউই সরে আসেনি সিনেমাটিতে।

ছবিটি গোল্ডেন গ্লোবের জন্য মনোনীত হয়েছিল। সার্বরা একদমই পছন্দ করেনি এটি। আমার ভাল লেগেছে ইন দি ল্যান্ড অব ব্লাড এন্ড হানি।

পোস্টটি ১৪ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

মীর's picture


ছবিটি দেখার আগ্রহ তৈরি হলো।

শাপলা's picture


হুম বস, ছবিটি দেখার আগ্রহ তৈরী হল।

টুটুল's picture


একি অঙ্গে কত রূপ... শেষ পর্যন্ত স্ক্রিপ্ট এবং পরিচালনা... জোশ

রাসেল আশরাফ's picture


দেখেছি একবার। আরেকবার দেখতে ইচ্ছা হচ্ছে।

স্বপ্নের ফেরীওয়ালা's picture


ছবিটা নামাতে দিলাম Smile

কার্যসূত্রে বহুদিন ধরে অনেক সার্ব আর বসনীয়দের সাথে যোগাযোগ আমার, তাঁরা বাংলাদেশেও আসছে বহুবার। আমার কাছে বেশ অবাকই লাগে, সার্বদের ছুটি কাটানোর সবচেয়ে প্রিয় জায়গা বসনিয়া, আর অনেক বসনীয় কোম্পানীর আন্তর্জাতিক বাজারজাতকরণের দায়িত্বে সার্ব কোম্পানী। এই বছর ২৬শে মার্চ বাংলাদেশ সরকার মুক্তিযুদ্ধের বিদেশী বন্ধুদের যে দাওয়াত দিয়েছিলো তাতে সার্বিয়া আর ক্রোয়েশিয়ার প্রতিনিধি (মার্শাল টিটোর ছেলে) একসাথে এখানে এসেছে। বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়া প্রথম কয়েকটি দেশের একটি যুগোস্লাভিয়া, স্বাধীনতার পরেও নানাভাবে সহযোগিতা করেছে বাংলাদেশকে। একটা দেশ ভেংগে ৭টা ছোট ছোট দেশ হওয়ার জন্য ঘুরে-ফিরে ওই অঞ্চলের মানুষ তাদের তৎকালীন রাজনৈতিক নেতাদের দোষ দেয়। ছোট দেশ হওয়ায় আঞ্চলিক বা বৈশ্বিক রাজনীতিতে তাদের আর আগের মত গুরুত্ব নাই। অথচ এইখান থেকেই প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়েছিল। আবার বয়স্করা দোষ দেয় জার্মানদের সাথে তাদের বহু পুরোনো শত্রুতাকে।

যারা দেখেননি তারা স্রেব্রেনিকা ম্যাসাকার নিয়ে A Cry from the Grave দেখতে পারেন।

~

জ্যোতি's picture


আপনার মুভি পোষ্ট পড়ে তো সব মৃভিই দেখব ভাবি , দেখা হয়ে উঠে না তেমন। যা দেখি মুগ্ধ হয়ে যাই। লিকতে তো পারি না। বেচে থাকলে , সময় সুযোগ হলে এই সব সিনেমা দেখব।

নীড় সন্ধানী's picture


ছবিটা খুঁজতেছিলাম আরো আগ থেকে। আজকে আপনার রিভিউ পড়ে আবারো খোঁজ লাগাইলাম এবং পেয়ে গেলাম। Smile

কদিন ধরে মুভির নেশায় পাইছে। দিনে কমসে একটা করে মুভি দেখতেছি। বন্ধের দিনে দুইটা। বউ মহা বিরক্ত। Laughing out loud

তানবীরা's picture


এটা মিস করবো না। প্রেম কাহিনী বলে কথা Smile

আরাফাত শান্ত's picture


জোলির কথা আসলেই আমার কে হতে চায় কোটিপতি অনুষ্টানের কথা মনে পড়ে যায়। সেখানে এক বলদ বলেছিল জোলিকে নিয়ে সে নির্জন দ্বীপে থাকতে চায়। বলদের কি আব্দার!

১০

আনিসুজ্জামান উজ্জল's picture


ছবিটা আমারও ভালো লেগেছে। বিশেষ করে প্রেমিক-প্রেমিকার নিজেদের পরিচয় সম্পর্কে সচেতনতাটা আরও ভালো লেগেছে। প্রেমের সময় দুজনেই এক, একটু পরেই অনেক দুরের মানুষ।

১১

বিষণ্ণ বাউন্ডুলে's picture


পাইলে দেখুম নে।

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

শওকত মাসুম's picture

নিজের সম্পর্কে

লেখালেখি ছাড়া এই জীবনে আর কিছুই শিখি নাই।