ইউজার লগইন
ব্লগ
গল্প: অক্ষিপ্রশান্তিদায়ক দৃশ্যকল্প
১.
দিনটা শুরু হয়েছিল প্রখর সূর্যতাপে পোড়ার মধ্য দিয়ে। গরমের সময় বিষয়টা বিরল নয় যদিও। মাঝে মাঝে তাপমাত্রার পারদ চড়তে চড়তে প্রায় চল্লিশ ডিগ্রি সেলসিয়াসও যে ছোঁয় না- তা না। ছোঁয়। আর না হলেও অন্তত ৩৮ তো হয়-ই।
সেদিনের সকালটাতেও তেমনি ছিল তাপমাত্রা। কিছুক্ষণ এক জায়গায় বসে থাকলেই চামড়ায় হুল ফোঁটার মতো অনুভূতি। যেন ম্যাগনিফাইং গ্লাস ধরে পুড়িয়ে দিচ্ছে শরীরের চামড়া কেউ একজন। আমাকে সেদিন এক জায়গায় বসেই কাজ করতে হচ্ছিল। পেরেক ঠুকে জোড়া লাগাতে হচ্ছিল বড় বড় কাঠের তৈরি পাটাতন। খোলা পিঠে টের পাচ্ছিলাম সূর্যরশ্মির তপ্ত ছোঁয়া। দিনটা শুরু হয়েছিল তখনই।
গল্প: কেন প্রতিটি দিনই একটি নতুন সম্ভাবনা
১.
রামপুরা ব্রীজ, মুগদা, মান্ডা, নর্দ্দা, নতুন বাজার, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, কুড়িল বিশ্বরোড, প্রগতি স্মরণী দিয়ে বের হয়ে এমইএস-এর সামনে হওয়া নতুন ফ্লাইওভারটার ওপর দিয়ে সেদিন মোটরসাইকেলে ঘুরছিলাম। জেসমিন আর আমি। ওকে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখাচ্ছিলাম আমার বেড়ে ওঠার পর্যায়ে যে শহরটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল তার ঠাক-ঠমক এবং জারি-জুরি। যদিও ঢাকা শহরের জারি-জুরি বলতে রাস্তাঘাট ঠান্ডা থাকলে ফ্লাইওভারগুলো, রাতে হাতিরঝিলে বসানো কৃত্রিম আলোর পসরা, আর নিকুঞ্জ থেকে এয়ারপোর্ট পর্যন্ত ফাঁকা রাস্তাটাই আছে। আর মাটিকাটা এলাকায় করা নতুন রাস্তাগুলো। যার পেছনে সেনানিবাস।
Calling of the Carnival
My day was good because I slept early, and woke up in time. Like every other morning, I arrived at the workplace thirty five minutes before four o'clock, and had my breakfast with a piece of dry bread while rushing there on the bicycle. The sleep was not the best but of course, it was better than 'no sleep'.
কক্সবাজারে রোজার মাস - কি খাবি, কি খেতে চাস?
অনেকদিন ধরেই ইচ্ছা ছিল আম্মাকে নিয়ে কক্সবাজারে বেড়াতে যাবো। ভদ্রমহিলা জীবনে কোনও দিন সমুদ্র দেখেন নাই। ভাবলাম এই রোজাতে কাজের চাপ একটু কম! আবার বিভিন্ন হোটেলে / রিসোর্টে রমজানে বেশ ছাড়-টাড় দেয়! এটাও সুযোগ একটা বটে! আবার আবার আম্মার সাথে ভাই ফ্রি! তাই সব বিবেচনা করে দুইবার তারিখ পরিবর্তন করে ৭ এর রাতে রওনা দিলাম কক্স-এর উদ্দেশ্যে। সেন্টমার্টিন ট্রাভেলস এর বাস- এবং সে আরেক ভিন্ন ইতিহাস! তবুও উপরওয়ালার অশেষ কৃপায় সকাল সকাল পৌছে গেলাম যেটা আশাতীত! উঠলাম বেস্ট ওয়েস্টার্ন হেরিটেজ হোটেলে যেটা আমার মতে সাগরের তীর না হয়েও বেস্ট লোকেশন! বারান্দায় দাঁড়ালে সমুদ্র! আর সমুদ্রের গর্জন।
গুফনসূত্রের সন্ধানে
১.
- বৎস, তোমাকে একটি বই লিখিতে হইবে।
- জ্বি, আমার নাম বাৎসায়ন।
-বৎসয়ন , তোমাকে একটি বই লিখিতে হইবে।
- জ্বি, আমার নাম বাৎসায়ন।
- আরে তোরে একটা বই লিখতে কইতাছি, তোর নাম লিখতে কইতাছি না। দিলিতো সুশীল ভাষার ইলোকুয়েন্স নষ্ট কইরা, চোদনা।
-জ্বি, চোদনা ডাকলেও চলবে। আমার প্রিয় শব্দ।
- আবার, শুরু করছে... ডিম চিনস, ডিম?
- জ্বি, বলেন।
- এই পৃথিবী নিয়া আমার বড় আহলাদ ছিলরে।
- কি বলেন এইসব!! আহলাদ শেষ হয়া গেছেগা? সমাপ্তি আসন্ন??
- চুপ কর। পৃথিবী নিয়া আশা ছাইড়া দিছলাম। কিন্তু তারা আবার আলোর দিশা খুজে পেয়েছে। আমি পৃথিবীর ভাগ্যাকাশে উন্নয়নের রেখা দেখতে পাচ্ছি; রেখাটা কর্কটক্রান্তি রেখার মত ঠিক বাংলাদেশের উপর দিয়া গেছেরে ব্যাটা।
- তা ঐ রেখাটা বাকীদেরেও দেখায়ে দেন, ব্যাস।
- সেটাই চাচছিলাম, কিন্তু তারাতো উন্নয়নের সূত্র টা গুফন করে ফেলেছে।
- তো আমার কি করণীয়?
অণুজীবন
বৃষ্টির পর ঘরের জানালায় জলের ফোঁটারা খুব সুন্দর একটা টেক্সচার তৈরি করে। ঠিক যেন তোমার গভীর ছোঁয়া, হৃদয়ের নীল বন্দরে। আমি ভালো আছি। তোমার মালাখানি তুমি যাকে ইচ্ছে তাকে দিয়ো। আমার ভিতরে বাহিরে না হয় তুমি নাই বা থাকলে, জানালার কাঁচে বৃষ্টির ফোঁটা লেগে থাকুক সারা সকাল।
আমি কারো বিচ্ছেদের আগুনে পুড়ি না, কারো জন্য কবিতা লিখি না।
রাধারমনের গান যখন কেউ গায় তখন আমি শুধু শুনি। আজও কতো মানুষ ডেকে যায়, মনের আগুনে জ্বলে যায়, আমি তাই দেখি আমার বৃষ্টির ফোঁটা লেপটে থাকা জানালার কাঁচে চোখ রেখে।
জীবন বয়ে চলেছে ধৈর্যশীল নদীর মত, কোনো অভিযোগ নেই। কোনো চাওয়া নেই। কারো জন্য অপেক্ষা নেই। নিজের গভীরে ডুব দেবার মত একটা জীবন আমার নদীটা। আজ আকাশে ছড়িয়ে দেবার মত একটা হৃদয় আমার। যেখানে যাবার যাক, বাতাসের মত ভেসে যাক, সুতো কাটা ঘুড়ির মত উড়ে যাক।
কোনোকিছুর কি সূচনা হবে? কোথাও থেকে..
একরামুল হত্যাকাণ্ডের অডিও টেপটি নিয়ে মানুষের উপলব্ধি এবং তার স্বতঃস্ফূর্ত বিস্ফোরণ দেখে মনে হয়েছে আমরা আসলে হেরে যাওয়ার জাত নই। সবসময়ই আমরা একটু পিছিয়ে শুরু করে আসছি। এমনকি বিংশ শতকের শুরুতে যখন প্রতিবেশি ভারত নিজেদের সার্বভৌমত্ব নিয়ে ভাবতে শুরু করেছিল, তখন আমরা ছাগলের তৃতীয় সন্তানের মতো লাফিয়েছি নিজেদের কথা না ভেবে। নিজেদের নিয়ে চিন্তিত হতে হতে- প্রায় শতাব্দীর দ্বিতীয় অর্ধের মাঝামাঝি সময় পেরিয়ে গিয়েছে। তারপরও একসময় চিন্তিত হতে পেরেছিলাম বলে স্বাধীনতাটুকু অর্জিত হয়েছিল। সমুদ্রসম রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা দিয়ে কি করা যেতে পারে সেটা ভেবে বের করতে করতে ইতোমধ্যে প্রায় অর্ধশতাব্দী বিগত হতে চলেছে। এমন সময়েও আমরা বারংবার একই ভুল করি, বৃত্তবন্দী বিস্ফোরণেরা আলোড়ন তোলে, কিন্তু তারপর একসময় ঠিকই সবকিছু ভুলে যাই।
অর্ধ-যোগাযোগের কুফল: একটি কেস-স্টাডি
কমিউনিকেশনের ছাত্র হিসেবে আমি প্রায়ই একটা জিনিসের মুখোমুখি হই, যেটা হচ্ছে অর্ধেক যোগাযোগ। ধরুন কেউ কিছু একটা বলা শুরু করলো কিন্তু মাঝপথে যেকোন কারণে আগ্রহ হারিয়ে জাস্ট হাত নেড়ে 'বাদ দাও' বলে শেষ করে দিলো। মনোবিজ্ঞানীদের মতে এটা অত্যন্ত ক্ষতিকর। যার সাথে আপনি অর্ধেক যোগাযোগ করে মাঝপথে ক্ষ্যান্ত দিলে তার মনের গভীরে কিন্তু আপনার সম্পর্কে ওই ধারণাটাই রয়ে গেল। তার মন পরে আর চাইলেও আপনার প্রতি পূর্ণ মনোযোগ দিতে পারবে না। যা দিতে পারবে তা হচ্ছে- অর্ধ মনোযোগ।
ছহি রকেট সায়েন্স শিক্ষা
রকেট (ইংরেজি: Rocket) একটি বিশেষ ধরনের প্রচলন কৌশল। এটি এমন এক ধরনের যান যেখানে রাসায়নিক শক্তির দহনের মাধ্যমে সৃষ্ট উৎপাদকগুলিকে প্রবল বেগে যানের নির্গমন পথে বের করে দেয়া হয় এবং এর ফলে উৎপন্ন ঘাতবলের কারণে রকেট বিপরীত দিকে প্রবল বেগে অগ্রসর হয়। এক্ষেত্রে নিউটনের গতির তৃতীয় সূত্র অনুসৃত হয়।
(সূত্র উইকিপিডিয়া)
ওয়ার্নার ভন ব্রাউন (মার্চ 23, 1912 - জুন 16, 1977) ছিলেন জার্মান রকেট সায়েন্টিস্ট, অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ার ও স্পেস আর্কিটেক্ট । দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নাৎসি জার্মানির এবং যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর আমেরিকার রকেট প্রযুক্তির উন্নয়নের এক নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিত্ত্ব ছিলেন তিনি ।
(সূত্রঃ সামহোয়্যার ইন ব্লগ, ব্লগার আপেল বেচুম)।
আরে ‘অমুক’ কাজটা তুমিও পারবে, দিজ ইজ নট আ রকেট সায়েন্স!
আরে তুমি পারবে। এটা রকেট সায়েন্স না।
জীব থেকে জড়, জড় থেকে বিলুপ্তি, বিলুপ্তি থেকে নক্ষত্রকণা
ছোট ছোট অনেক সুখের কথাই আমি মনে রাখতে পারি না। অথচ দুঃখগুলো ঠিকই মনের কোথায় যেন ঘাপটি মেরে থেকে যায়। সবচেয়ে অপ্রয়োজনীয় সময়গুলোতে ফিরে এসে মনে করিয়ে দিয়ে যায়- হু হু বাবা আমরা কিন্তু আছি। কোনোকিছুতেই যেন খুশি খুশি না মনে হয়।
ব্ল্যাক সী বা কৃষ্ণসাগর আর মারমারা সাগরকে যে প্রণালীটি সংযুক্ত করেছে তার নাম বোধ করি আমরা সবাই জানি। বসফরাস প্রণালী। এ প্রণালীটির নাম স্থানীয় ভাষায় সোনালী শিং। ওখানে গিয়ে রানী হেরাডিটাস গাভীর রূপ ধারণ করে নিজের সম্ভ্রম রক্ষা করেছিলেন জিউসের কাছ থেকে। সেই গাভীর শিং ছিল সোনালী বর্ণের।
Tutul
"মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ" শ্লোগান সামনে রেখে গত ১০ দিনে বাংলাদেশে শতাধিক মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত প্রশ্নের উত্তরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন "এ পর্যন্ত যত ঘটনা ঘটেছে, তার মধ্যে একটা ঘটনাতেও যদি কেউ দেখাতে পারেন যে কোন নিরীহ ব্যক্তি এর শিকার হয়েছেন, সরকার নিশ্চয়ই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে।"
গল্প: ফ্রাউ ভের্নার আর ফর্কলিফটের সাথে জড়িয়ে থাকা স্মৃতিটা
১.
ফোর ইনটু ফোর হান্ড্রেড মিটার রিলের মত প্যারেড গ্রাউন্ডের কংক্রিটের দিন
পড়তে বসার সময় মনে হলো একটা গান না শুনলেই নয়। ইউটিউবে টাইপ করলাম ময়না গো। হাবিবেরটাই ছাড়লাম। মিউজিক ভিডিওতে দেশের রেল স্টেশন দেখে মনে পড়লো আমার গত ছয়টা বছর এলোমেলো ছুটে বেড়ানোর দিনগুলোর কথা। আর তাছাড়া হাবিবের শুরুর দিকের গানগুলোর সাথে আমাদের একটা অন্যরকম সম্পর্ক আছে। বরিশাল ক্যাডেট কলেজে দুহাজার চার থেকে দশ সময়টাতে যারা থেকেছে তারা জানে ডিসেম্বর মাসে অ্যাথলেটিক্সের দিনগুলোতে এইসব গানের কথা। মোয়াজ্জেম স্যার আর কলেজ কালচারার প্রিফেক্ট মাঠের ভিতরে একটা গোল ছাউনির ভিতর বসে মাইকে এটা সেটা ঘোষণা দিতো আর এই সব গান বাজাতো। ফোর ইনটু ফোর হান্ড্রেড মিটার রিলে দৌড় বা ম্যাডামদের পিলো পাসিং খেলা বা হয়তো কিছুই হচ্ছে না, কিন্তু মাইকে ঐ গানগুলো ঠিকই বাজছে। কি একটা কানেকশন যে হয়ে গেলো কিছু কিছু গানের সাথে, সত্যি অবাক করার মত একটা ব্যাপার। তখন আমি ক্লাস এইট কি নাইনে পড়ি। লাইফ ভর্তি খালি মজা আর মজা।
কেননা আমি বেঁচে থাকি শেখার মাধ্যমে
I'm sorry, Momma, I never meant to hurt you
I never meant to make you cry
But tonight I'm cleaning out my closet.Song: Cleaning out my closet
Artist: Eminem
শীত আর বসন্ত পেরিয়ে গ্রীষ্ম প্রায় চলেই এলো। আমার সুষম জীবনে আরও একটি একাকী গ্রীষ্ম। এক সময় বছরের পর বছর একাকীত্বের জন্য হাহাকার করেছি। আমার কথায়, লেখায়, চিন্তায় সে সময় বারবার ঘুরে ফিরে এসেছে নায়ক আর নায়িকার বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার দৃশ্য আর তারপর এক একলা জীবনের গল্প। সে সময় আমি একা ছিলাম না একেবারেই। অথচ এখন যখন একলা জীবন কাটাই তখন মাথায় যেসব চিন্তা ঘোরে তার বেশিরভাগই একটা ছেলে আর একটা মেয়ের এক হয়ে যাওয়ার গল্প।
খারাপ দিনের কথা
সোমবার।
একটা খারাপ দিন শুরু করার জন্য সকালে দেরি করে ওঠাই যথেষ্ট। একটা ক্লাসের অর্ধেকেরও বেশি মিস করার পরও কোনো রকম ব্রেকফাস্ট করে ক্লাসে ঢুকলাম।
দেখি যে এক্স গেট অ্যান্ড গেট পড়াচ্ছে। একজন ইঞ্জিনিয়ারিং ছাত্রের জীবনে একটাই দিন থাকে যেদিন ক্লাসে প্রথম বার গেইট পড়ানো হয়। আর আমি সেইটা মিস করলাম। বেটার লেট দ্যান নেভার। সেই জন্য ক্লাসে গেসিলাম, গিয়ে দেখি সব শেষ।
কিন্ত আরও খারাপ ঘটনা ঘটতে হলো। এর পরে প্রোগ্রামিংয়ের ক্লাসটা সবকিছু আরও খারাপ করে দেবার সংকেত দিতে লাগলো, কিন্ত সেই সিগ্নাল আমি ধরতে পারি নাই।
বিকেল বেলা ম্যাথ টিউটোরিয়ালে টিউটর ছোকরা একগাদা কমপ্লেক্স ম্যাথ নিয়ে হাজির। প্রফেসর এতো কঠিন ম্যাথ করায় না, তবু সে এইসব ম্যাথ সামনে নিয়ে আসতে চায়। প্রফেসর শিখাইসে কেম্নে একটা বীজগানিতিক ফাংশনের সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন মান বের করতে হয়, যেইটা খুব একটা জটিল প্রক্রিয়া নয়, কিন্ত এই