ইউজার লগইন
ব্লগ
ভালিটোভা নদীর তীরে
রাত এগারোটার সময় গাড়ির মালিক যখন আমায় জিজকভ টেলিভিশন টাওয়ারের নিচের নামিয়ে দিয়ে চলে গেল, তখন আশপাশে একটা খোলা দোকান কিংবা মানুষ কোনোকিছুই ছিল না। চারদিকে ভিনদেশি ভাষায় লেখা সাইনবোর্ড দেখে ঠিক কোথায় এসেছি ঠাহর করা যাচ্ছিল না। শুধু জিজকভ-এর লোগোটা পড়া যাচ্ছিল। আগেই জানতাম ওখান থেকে কাছেই আমার দুইদিনের প্রাগ সফরে থাকার জায়গা।
১
ওয়েদার
আবহাওয়া বড় সমস্যা নয়, সমস্যা হলো এইভাবে বেঁচে থাকায় অভ্যস্ত হওয়া। বাইরে বাতাসে বসে আড্ডা মারার কোনো সুযোগ নেই। সবাই ঘরের ভেতরে।ফলে যার কোনো বন্ধু নেই তার শীতের রাস্তা বা নিজের ঘরে একা একা বসে থাকা ছাড়া তেমন কিছু করার নেই। অক্টোবর শেষ প্রায়। রুমের জানালাটাও খোলা রাখার উপায় নাই। আমি আসলে একটা ছোট শহরে থাকি। জাঁকজমক বা নাইট লাইফ বলতে তেমন কিছুই নেই। দিনের বেলায় সিটি সেন্টারের দিকে গেলে কিছু মানুষ দ্যাখা যায়। কেউ বাজার ঘাট করে, কেউ ফুটপাতে সাজিয়ে রাখা জামা কাপড় দ্যাখে। রোদ্দুর থাকলে ফুটপাতে পাতানো চেয়ার টেবিলে বসে বীয়ার বা কফি খায় কেউ কেউ। সন্ধ্যা বা রাতের বেলা বাইরে আমি যত জনকে দাঁড়িয়ে বা বসে থাকতে দেখেছি, তারা নিশ্চয়ই বাস বা বন্ধুর জন্য অপেক্ষা করছিলো।
বুয়াসাবা
দুঃস্বপ্নের ঘণ্টাধ্বনি
জানালা গলে বিচ্ছিরি গন্ধটা ঘরময় ছড়িয়ে পড়লে পেটের ভেতরটা গুলিয়ে উঠলো। বৃষ্টি হলেই এই উৎকট গন্ধটা ঝিল থেকে ডানা মেলে আকাশে, তারপর দৈত্যের মত ছুটে এসে আশপাশের পুরো এলাকা গ্রাস করে নেয়। তখন টিকে থাকাই দায়। ঘরের ভেতরে গুমোট অন্ধকার। কেমন যেন আষ্টেপৃষ্ঠে মিশে আছে ঘরের কোণে কোণে, চারপাশের টিনের বেড়া আর চালের সাথে। বৃষ্টিটা থেমে গেলেই একটা ভ্যাঁপসা গরম ছাড়ে। কী অসহ্য! ইলেক্ট্রিসিটি নেই এক ঘণ্টা হল। বাঁশের সাঁকোর মোড়ে দু’টো কুকুর একটানা চেঁচাচ্ছিল। কে যেন ধমকে উঠল- অ্যাই চুপ, যাহ!
-উফ! আর তো পারা যায় না- মহিদুলের কণ্ঠে বিরক্তি।
-কী পারা যায় না? মহিদুলের দিকে ঘুরে জিজ্ঞেস করল জয়নাব। ছেলেকে তালপাখায় বাতাস করছিল সে।
-গন্ধে তো বমি হওয়ার দশা। এইহানে আর থাকা যাইবো না।
ক্ষমা করো বাবা
এয়ারপোর্টের ভিতর একটা কোনের চেয়ারে বসে অপেক্ষা করছি। আর একটু পর চলে যাব হাজার মাইল দূরে। প্রিয়জনেরা গেইট পর্যন্ত দিয়ে গেছে। বুক ফেটে গেছে ছেড়ে আসতে তবু চোখ ফাটে নি। আড়াই বছর পর দেশে ফিরে গেছি। জীবনসঙ্গী করেছি একজনকে। ২২ দিন একসাথে সংসার করেছি। এখন তাকে রেখেই চলে যাচ্ছি। আর পারলাম না। কোলের ব্যাগে মুখ লুকিয়ে কেঁদে ফেললাম। হয়ত অনেকে দেখছে। দেখলে দেখুক। এত কষ্ট প্রিয়জনদের ফেলে দূরে যেতে আগে বুঝি নি। ভাবতে ভাবতে আকাশের দিকে তাকালাম। যেখানে মনের কথা সব বাবাকে বলি।
এই উইন্টারে যারা জার্মানিতে পড়তে আসছেন
এটি একটি উপদেশমূলক লেখা। অক্টোবরের ১ তারিখ থেকে জার্মানিতে উইন্টার সেমিস্টার শুরু হচ্ছে। এখানে উইন্টার সেমিস্টারে সামারের চেয়ে বেশি সংখ্যক আন্তর্জাতিক ছাত্র-ছাত্রী নেয়া হয়। তাই এই সময়টাতে ছাত্র-ছাত্রীদের জার্মানির পানে ভিড়ও থাকে বেশি। যে বা যারা দুই-একদিনের মধ্যে প্রথমবারের মতো জার্মানির উদ্দেশ্যে দেশের বাইরে পা বাড়াচ্ছেন, তারা এই লেখা থেকে উপকৃত হলেও হতে পারেন।
আজ থেকে ঠিক তিন বছর আগে এই দিনটাতে আমি মনে মনে ভাবছিলাম, এখন হাতের কড় গুণে হিসেব করে ফেলা যায় কয় ঘন্টা পর আমার ফ্লাইট; কয় ঘন্টা পর আমি এমন একটা জায়গায় থাকবো, যেখানকার কোনোকিছুর সাথে আমার পরিচয় নেই; কয় ঘন্টা পর আমি প্রিয় পরিবার-পরিজন, বন্ধু-বান্ধব, এবং আমার স্বদেশ থেকে হাজার মাইল দূরে চলে যাবো। হিসেব করে ফেলা যাচ্ছিল সবকিছুই। কঠিন ছিল সময়টা, স্বীকার করতেই হবে।
পিএইচডি অ্যাপলিকেশন ব্যর্থ হওয়ার অভিজ্ঞতা: পর্ব ১
অনেকেই যখন পিএইচডি করতে যায় তখন বেশ জ্ঞাননির্ভর পোস্ট দিয়ে ব্যাখ্যা করে কিভাবে কিভাবে সে পিএইচডি পেলো। এই জ্ঞানটা নিশ্চিতভাবেই খুব জরুরি। তাদের নিয়মগুলো, পরিশ্রমগুলো থেকে হবু পিএইচডি করতে আগ্রহীরা অনেক কিছু শেখে।
তবে আমার মনে হলো, আচ্ছা ব্যর্থ পিএইচডি অ্যাপলিকেন্টদের অভিজ্ঞতাও জানানো জরুরি। এটাও হবু আগ্রহীদের কাজে দেবে। যদিও যারা আমার মতো পিএইচডি ফান্ড পায় না তারা লজ্জায় বলেও না। আমি তাই ভাবলাম নিজেরটাও তুলে ধরি। ব্যর্থতার কথা কেউ তো বলে না। বলে সফলতার কথা। আমি না হয় ব্যর্থতার কথা বলেই যা যা শিখলাম সেটা জানালাম। বিষয়টা হলো, আমি চেষ্টাটাকে চালিয়ে যাইনি। কেন পস দিয়ে রেখেছি। সে ব্যাখ্যা দ্বিতীয় পর্বে বলবো। আপাতত গল্পটা শুরু করা যাক---
অসমাপ্ত বাস্তবতা... ১১
১.
'যদি আকাশের গায়ে কান না পাতি তোমার কথা শুনতে পাবো না'। এটা একটা গানের লাইন। ইদানীং খুব শুনছি গানটা। যদিও লুপে আটকা পড়াটা ঠেকিয়ে রেখেছি ইচ্ছে করে। আমি জানি, আমি খুব সহজে লুপে আটকা পড়ে যেতে পারি। ভালবেসে ফেলতে পারি চোখের পলকে। মন দিয়ে নিজেকে খুন করে ফেলতে মুহূর্ত কাল সময় লাগে না। সুযোগটা নেয় নি এমন মানুষের সংখ্যা খুবই নগণ্য। তাই আজকাল নিজেকে বন্ধ করে রাখি সন্তপর্নে।
জন্মদিনের শুভেচ্ছা অভি!
সময়টা যে খুব ভালো তা বলা যাবে না। আমার অবস্থা খুব একটা খারাপ না হলেও দেশের অবস্থা তেরোটা। আগে যেসব দুর্যোগ- দুর্বিপাক ছিল, এখন তা আরো বেড়েছে। রাস্তায় জ্যাম মাত্রা ছাড়িয়ে অনন্তকালের দিকে যাচ্ছে। রোহিঙ্গা ইস্যুতে মানবতা দেখাতে গিয়ে আমরাই কোনো জালে আটকে পড়ে যাচ্ছি কিনা, সে খবর আর কে রাখে। বন্যা হলো, পাহাড় ধ্বসে কত গুলো প্রাণ চলে গেল তখন আমাদের লুকিয়ে থাকা মানবতা অন্য অনেক সময়ের মত লুকিয়ে ছিল। কিন্তু এখন ফেসবুক খুললেই দেখি মানবতার জয়গান। আমি অবশ্য তাতে অসন্তুষ্ট না। আমি চাই এই মানবতা ব্রাদার হুড অন্য সময়তেও খাড়া থাকুক। আবার আরেক পক্ষ আরো সরেস। তারা একাত্তরকে ছাড়িয়ে যাবার ও মেলানোর ধান্দায় বিজি। একাত্তরকে যারা ছোট করতে চায়, তাদের দিয়ে আর যাই হোক মানবতা আশা করা ঠিক না।
অসমাপ্ত বাস্তবতা... ১০
রোহিঙ্গা জাতিগোষ্ঠীকে নিয়ে এ ক'দিনে অসংখ্য লেখা পড়া হলো। দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমে অনেক খবরই দেখলাম। বিচার-বিশ্লেষণে যেতে চাচ্ছি না, কিন্তু বিষয়টিকে আর পাঁচ-দশটা স্বাভাবিক ইস্যূর মতোই নিয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো। কোনো কোনো দিন রোহিঙ্গা গণহত্যার খবর বিবিসির লিড হচ্ছে, আবার খানিক পরেই ওটা নেমে যাচ্ছে। উঠে আসছে ব্যবসা-বাণিজ্য কিংবা অন্য কোনো খবর। সিএনএন, আল-জাজিরারও একই অবস্থা। মানুষের প্রাণের মূল্য কতোটা কমে গেলে গণহত্যার মতো একটা বিষয়কে পাশে সরিয়ে রেখে উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সংবাদ নিয়ে অধিক মাতামাতি হতে পারে?
এপিটাফ অফ লাভার'স ফ্রেইগ্র্যান্স
তোমার ঘ্রাণের জন্য আমার স্মৃতিরা বিষাক্ত নীল হয়ে এলে
আমি ক্যাফেটেরিয়ার ভাঙা সিঁড়ি ধরে একদম উপরে উঠে যাই।
দেখি প্রিয় মানুষেরা ডুবে যাচ্ছে ট্রাফিকে,
দেখি সিগন্যালের মতো পালটে যাচ্ছে প্রেমিকার মন।
দেখি এই দালানের ইটেরা কতো চুমু দেখছে অনিচ্ছাতে
তবু সয়ে গেছে,
এই খসে যাওয়া পলেস্তরা-রেলিংও টিকে আছে অনেক দিন;
এইখানে।
শুধু আমরা টিকিনি।
এই জঞ্জাল
এই কবি বেশ্যা খেলা
এই শব্দ বুনন
তোমার শহরের ধুলো চোখে লেগে গেলে,
আমি ছুটে আসি এই ক্যাফেটেরিয়ার ছাদে।
আমি আবার দেখেছি ওরা ছুটছে গোলাপ নিয়ে
গুনেছি প্রতিটা হুইসেল
দেখেছি ব্যস্ত মানুষ আর বেকার,
এসব বিকেলের আগে আগে দেখেছি
তোমার শহরের রোদেরা 'রোববার' ছুটি কাটিয়ে বাড়ি ফিরছে
শুধু আমরা ফিরিনা আর, আমাদের কাছে।
গল্প: ঢাকা শহরে যেটা একটা স্বাভাবিক ঘটনা
১.
ঢাকায় আসার পর প্রথম কয়েকমাসের কথা সানি কোনোদিন ভুলবে বলে মনে হয় না। উচ্চ মাধ্যমিক শেষের আগে থেকেই জানতো তারা পরীক্ষার পরই চলে যাচ্ছে ছোট্ট মফস্বল শহর ছেড়ে। বাবার বদলী হয়ে গিয়েছিল আগেই। শুধু ওর পরীক্ষার জন্যই ছোট বোনকে নিয়ে মা রয়ে গিয়েছিলেন সেখানে। বাবা আগেই ঢাকায় গিয়ে বাসা সাজিয়ে রেখেছিলেন।
অসমাপ্ত বাস্তবতা... ৯
১.
শেষ লেখাটায় যদিও উল্লেখ করেছিলাম রোহিংগা ইস্যু নিয়ে চারিদিকে ডামাডোল দেখা দেয়ার সম্ভাবনা নেই- কিন্তু কথাটা ভুল প্রমাণিত হয়েছে। দেশের ফেসবুক ব্যবহারকারীর মধ্যে সাড়া জাগিয়ে তুলেছে রোহিংগা ইস্যু। সবাই নিজ নিজ মতামত ব্যক্ত করছেন এই ইস্যুতে। কেউ কেউ সংবিধানের দোহাই দিয়ে সাজাচ্ছেন নিজের যুক্তি। কেউবা টেনে আনছেন একাত্তরে ভারতের সীমান্ত খুলে দেয়ার উদাহরণ। কেউবা বলছেন বাংলাদেশের নিজের সমস্যারই তো কোনো সমাধান নেই, অন্যের সমস্যা সমাধান করবে কিভাবে? মোট কথা রোহিংগা ইস্যুতে ফেসবুক পৃথিবীর বাংলাদেশি জাতি এখন পরিস্কার দুই ভাগে বিভক্ত।
সুখ অসুখের মনোলগ
![]()
আমার শহরে বৃষ্টি এলে সীমাহীন শূন্যতা আমারও হয়।
আমারও মনে হয় 'এসবের কোন দরকার ছিলো না'।
ক্যাম্পাসের ক্যাকোফোনিতে আমার বিষাক্ত লাগে,
বিষাদ মনে হয়,
অথবা আমি ঈর্ষান্বিত হই ওরা সব্বাই সুখী বলে।
আমি বুঝি, নিজের ভেতর এতো শূন্যতা অনুভব করিনি আগে।
এসব স্থিরতা, জ্যামে আটকে থাকা মানুষ আমাকে মোটেও ভাবায় না।
আমি তখনও ভেবেছি 'ওসব না করলেও পারতে'।
এরপর একা ঘরে, রাত নেমে এলে
দারোয়ানের হুইসেল ক্লান্ত হয়ে গেলে
মানুষেরা ওপাশে ফিরে শুচ্ছে যখন
তখনও আমি ভাবি 'মানুষ চেনা দায়'।
অসমাপ্ত বাস্তবতা... ৮
দেশে অবশেষে ষোড়শ সংশোধনী, নায়করাজ ইত্যাদি ইস্যূর দাপট খানিকটা কমেছে। এখন একটা প্রায় ইস্যূহীন সময়। মিয়ানমার সীমান্তে খানিক গন্ডগোলের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। যদিও বড় কিছু হয়ে দাঁড়ানোর মতো বলে মনে হচ্ছে না। আর পাহাড়ের ওইদিকে কি হচ্ছে তা নিয়ে ওয়েস্টেরোসের রাজা-রাণীরা খুব চিন্তিত বলেও মনে হয় না। এই সময়টাকে তাই গান, গল্প, কবিতা, বই কিংবা সিনেমার সাথে কাটানোর মতো খানিকটা সময় হিসেবে চিহ্নিত করা যায়।
সামনেই কোরবানীর ঈদ। পশু কোরবানীর মাধ্যমে রূপকার্থে স্রষ্টার প্রতি মানুষের শ্রদ্ধা-ভক্তি ইত্যাদি প্রদর্শনের ঈদ। এর আগ পর্যন্ত মনে হয় না কেউ আর নতুন কোনো ইস্যূ চায়। অস্ট্রেলিয়ার সাথে টেস্ট ম্যাচ দেখতে দেখতে ঈদটা এসে পরলেই ভাল। কে আর সেধে সেধে গ্যাঞ্জাম আর স্ট্রেসফুল পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে চায়?
বাবা তোমায় মনে পড়ে
ঊনিশশ’ সাতাত্তর সাল
বাবার হলো এ কী হাল
ধরেছে ঘাতক রোগ
যন্ত্রণায় কাতর বুক।
দেহে বইছে পদ্মার ঢেউ
থামাতে পারছে না কেউ
দাও একবার শুইছে
বালিশে খানিকটা নুইয়ে।
এবার ধরে একটু তোলো
বাবার এ কী হাল হলো
যাও ঈদের নামাজ পড়ো
এসে পশু জবাই করো।
বাবাকে এই হালে রেখে
জামায় একটু সুগন্ধি মেখে
নামাজে হলো যাওয়া
হলো না ফিরনি খাওয়া।
ছয় তাকবিরে দুই রাকাত
ওয়াজিব হলো সারা
এসে দেখি বাবাকে এবার
যমদূত করছে তাড়া।
জিলহজ মাসের দশ তারিখ
রোববার সকাল বেলা
বাবা আমার নিলেন বিদায়
সাঙ্গ জীবনের খেলা।
-আগস্ট ২৬, ২০১৭ খ্রি.
গেন্ডারিয়া, ঢাকা
পুনশ্চ: (মরহুম বাবার ৪০তম মৃত্যুবার্ষিকী স্মরণে। যিনি ১৯৭৭ খ্রিস্টাব্দে, ২২ নভেম্বর, পবিত্র ঈদুল আজহার দিন সকাল বেলা পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে মহাসত্যের কাছে আত্মসমর্পণ করেন)।