ইউজার লগইন
ব্লগ
Tutul
"মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ" শ্লোগান সামনে রেখে গত ১০ দিনে বাংলাদেশে শতাধিক মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত প্রশ্নের উত্তরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন "এ পর্যন্ত যত ঘটনা ঘটেছে, তার মধ্যে একটা ঘটনাতেও যদি কেউ দেখাতে পারেন যে কোন নিরীহ ব্যক্তি এর শিকার হয়েছেন, সরকার নিশ্চয়ই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে।"
গল্প: ফ্রাউ ভের্নার আর ফর্কলিফটের সাথে জড়িয়ে থাকা স্মৃতিটা
১.
ফোর ইনটু ফোর হান্ড্রেড মিটার রিলের মত প্যারেড গ্রাউন্ডের কংক্রিটের দিন
পড়তে বসার সময় মনে হলো একটা গান না শুনলেই নয়। ইউটিউবে টাইপ করলাম ময়না গো। হাবিবেরটাই ছাড়লাম। মিউজিক ভিডিওতে দেশের রেল স্টেশন দেখে মনে পড়লো আমার গত ছয়টা বছর এলোমেলো ছুটে বেড়ানোর দিনগুলোর কথা। আর তাছাড়া হাবিবের শুরুর দিকের গানগুলোর সাথে আমাদের একটা অন্যরকম সম্পর্ক আছে। বরিশাল ক্যাডেট কলেজে দুহাজার চার থেকে দশ সময়টাতে যারা থেকেছে তারা জানে ডিসেম্বর মাসে অ্যাথলেটিক্সের দিনগুলোতে এইসব গানের কথা। মোয়াজ্জেম স্যার আর কলেজ কালচারার প্রিফেক্ট মাঠের ভিতরে একটা গোল ছাউনির ভিতর বসে মাইকে এটা সেটা ঘোষণা দিতো আর এই সব গান বাজাতো। ফোর ইনটু ফোর হান্ড্রেড মিটার রিলে দৌড় বা ম্যাডামদের পিলো পাসিং খেলা বা হয়তো কিছুই হচ্ছে না, কিন্তু মাইকে ঐ গানগুলো ঠিকই বাজছে। কি একটা কানেকশন যে হয়ে গেলো কিছু কিছু গানের সাথে, সত্যি অবাক করার মত একটা ব্যাপার। তখন আমি ক্লাস এইট কি নাইনে পড়ি। লাইফ ভর্তি খালি মজা আর মজা।
কেননা আমি বেঁচে থাকি শেখার মাধ্যমে
I'm sorry, Momma, I never meant to hurt you
I never meant to make you cry
But tonight I'm cleaning out my closet.Song: Cleaning out my closet
Artist: Eminem
শীত আর বসন্ত পেরিয়ে গ্রীষ্ম প্রায় চলেই এলো। আমার সুষম জীবনে আরও একটি একাকী গ্রীষ্ম। এক সময় বছরের পর বছর একাকীত্বের জন্য হাহাকার করেছি। আমার কথায়, লেখায়, চিন্তায় সে সময় বারবার ঘুরে ফিরে এসেছে নায়ক আর নায়িকার বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার দৃশ্য আর তারপর এক একলা জীবনের গল্প। সে সময় আমি একা ছিলাম না একেবারেই। অথচ এখন যখন একলা জীবন কাটাই তখন মাথায় যেসব চিন্তা ঘোরে তার বেশিরভাগই একটা ছেলে আর একটা মেয়ের এক হয়ে যাওয়ার গল্প।
খারাপ দিনের কথা
সোমবার।
একটা খারাপ দিন শুরু করার জন্য সকালে দেরি করে ওঠাই যথেষ্ট। একটা ক্লাসের অর্ধেকেরও বেশি মিস করার পরও কোনো রকম ব্রেকফাস্ট করে ক্লাসে ঢুকলাম।
দেখি যে এক্স গেট অ্যান্ড গেট পড়াচ্ছে। একজন ইঞ্জিনিয়ারিং ছাত্রের জীবনে একটাই দিন থাকে যেদিন ক্লাসে প্রথম বার গেইট পড়ানো হয়। আর আমি সেইটা মিস করলাম। বেটার লেট দ্যান নেভার। সেই জন্য ক্লাসে গেসিলাম, গিয়ে দেখি সব শেষ।
কিন্ত আরও খারাপ ঘটনা ঘটতে হলো। এর পরে প্রোগ্রামিংয়ের ক্লাসটা সবকিছু আরও খারাপ করে দেবার সংকেত দিতে লাগলো, কিন্ত সেই সিগ্নাল আমি ধরতে পারি নাই।
বিকেল বেলা ম্যাথ টিউটোরিয়ালে টিউটর ছোকরা একগাদা কমপ্লেক্স ম্যাথ নিয়ে হাজির। প্রফেসর এতো কঠিন ম্যাথ করায় না, তবু সে এইসব ম্যাথ সামনে নিয়ে আসতে চায়। প্রফেসর শিখাইসে কেম্নে একটা বীজগানিতিক ফাংশনের সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন মান বের করতে হয়, যেইটা খুব একটা জটিল প্রক্রিয়া নয়, কিন্ত এই
পর্ণোগ্রাফিক প্রোফাইল
আইজ্যাক অসিমভের ৩ খন্ডের ফাউন্ডেশন সিরিজ প্রথম প্রকাশিত হয়েছিলো ১৯৫১-৫৩ সালে। ফাউন্ডেশনের প্রধান চরিত্র হ্যারি সেলডন " সাইকোহিস্টোরিক্যাল সমিকরন" সমাধান করে গ্যালাকটিক এম্পায়ারের উত্থান- বিস্তার এবং পতনের ভবিষ্যতবানী করেছিলেন।
সাইকোহিস্টোরিক্যাল এনালাইসিসের শর্ত বলছে একটি নির্দিষ্ট ভূখন্ডের সকল মানুষের সামষ্টিক ব্যবহার বিশ্লেষণ করে ঐতিহাসিক বাস্তবতা বিশ্লেষণ করে সে মানবগোষ্ঠীর ঐতিহাসিক বিবর্তনের সম্পর্কে নির্ভুল ভবিষ্যতবানী করা সম্ভব। বৈজ্ঞানিক কল্প উপন্যাসের এই ধারণার সফল প্রয়োগ করেছে কেমব্রিজ এনালাইটিকা।
ভ্লাদিমির ঝেলঝৎভস্কি, তার দাবা খেলা ও তিনটি প্রেমকাহিনী
বুক পকেটে টুকে রাখা স্বরলিপি, পেছনের পকেটে রাখা সুর
অনেক দিন এমনও হয়, প্যান্টের পেছনের পকেটে এক টুকরো পাতায় একটা সুর নিয়ে ঘুরছি, সারা দিন কয়েকটা শব্দ ওলোট-পালোট করছি, ঘরে ফিরছি, দিন রাত বদল হচ্ছে, দৈনন্দিন কাজের তালিকার সারি দীর্ঘ হচ্ছে, ক্যালেন্ডারের পাতা বদলাচ্ছে, প্যান্টের পেছনের পকেট থেকে খসখস আওয়াজ শুনে বের করে দেখছি- একটা টুকরো সুরের রঙ বদলে গেছে।
কিছু তাৎক্ষণিক বিচ্ছিন্ন অনুভব ধরে রাখা আলাদা আলাদা অনেকগুলো শব্দ, পারস্পর্য্যহীন, হয়তো অনেকটাই এলেমেলো, একটা সুরের বরশীতে গেঁথে ফেললে নিজস্ব অর্থ খুঁজে পায়। শব্দগুলোতে আলাদা স্বর থাকে, সুর থাকে না কোনো। হয়তো সুরের প্রত্যাশাও থাকে না সেভাবে।
সুখ যখন লেডোয়ার্ড ব্যারাকের পুরু দেয়ালের সঙ্গ
আমার সবকিছু এরকম ধূসর হয়ে যাবে তা জানতাম না আমি। কী করে লেখা যায় এই মলিনতার স্বরূপ আমি তাও জানি না। টেবিল ভরা আমার বই পত্র, ছুঁয়েও দেখিনি গত কয়েকদিনে, অথচ এই ছুটিতে সব পড়ে শেষ করার কথা।
আমার রান্না বান্না কে করে, কে আমার দাঁত মেজে দ্যায়, রুম গুছিয়ে দ্যায় আমি জানি না। আমি ঘড়িটার কাছে পরাজিত হই প্রতি সকালে। আমার সব কিছু ছিন্নভিন্ন।
বিছানা ছাড়া সবচেয়ে কঠিন কাজ এই জীবনে। রোজ দুপুর বেলা আলসেমির চুড়ান্ত রূপ দেখে তারপর বিছানা ছাড়ি। আর আমার রোজ রাতের প্রতিশ্রুতি সকাল সকাল বিছানা ছাড়ার।
এইসব করতে করতে এইভাবে আরও কত বছর বাঁচার আছে আমার? আমার এক কালীন বন্ধু বান্ধবেরা কে কেমন আছে কিছুই জানা হয় না। মাঝে মাঝে এক কালীন প্রেমিকার কথা ভাবি বিছানায় শুয়ে থেকে। সেই যে প্রেমিকাকে খুব ভালোবেসেছিলাম একদা, কেমন আছে এখন সে আর তার প্রেমিক? কেমন আছে ওদের ভালোবাসা? খুব ভালো ওরা। আর আমি সবচেয়ে অসভ্য।
আমাদের অজ্ঞতা, আমাদের মুগ্ধতা, আমাদের বিষ্ময়
নিবির নিষ্ঠায় খালি চোখে আকাশের দিকে তাকিয়ে আমরা নক্ষত্র কিংবা মৃত জ্যোতিস্ক দেখেছি। আমাদের প্রাচীন অগ্রজেরা অসংখ্য স্থির নক্ষত্রের পটভুমিতে যে ৭টি চলমান জ্যোতিস্ক দেখেছে (চন্দ্র- সূর্য, বুধ, শুক্র, মঙ্গল, বৃহঃস্পতি, শনি ) তাদের প্রত্যেককে এক একটা দিন উৎসর্গ করেছে। এসব নিয়মিত জ্যোতিস্কের সাথে তারা উল্কা, ধুমকেতু দেখেছে। প্রতিটি চলমান গ্রহ, গ্রহকণা, নক্ষত্রের সাথে নিজেদের চলমান সময়ের অনুভুতি মিশিয়ে অসংখ্য গল্প-গাঁথা নির্মাণ করেছে। মহাবিশ্ব বিষয়ে আমাদের প্রাচীন অগ্রজদের কোনো মুগ্ধতা ছিলো না, ছিলো ভীতিমিশ্রিত বিস্ময়।
জীবনে গেছে চলে
আমার ছোট বেলায় এইসব ছিলো না। সবকিছু অন্য রকম ছিলো। আমি কোনোদিন ভেবে দেখিনি কতোটা বদলে গেছে সবকিছু। একটা পড়ার টেবিলে তখন বই খাতা কলম পেন্সিল ছাড়া আর কিছু থাকতো না। হেডফোন নামের যে তারের জটলাটা আজকাল আমার পকেটে বা টেবিলে পড়ে থাকে সেটাকে মনে হত ধরা ছোঁয়ার বাইরের জগতের কোনো মহান আবিস্কার। কম্পিউটার বলে যে কিছু একটা তৈরি হবে এবং রাতদিন চব্বিশ ঘন্টা সেটার সাথে আঠার মত লেগে থাকতে হবে- এটা কোনোদিন কল্পনাতেও আসেনি।
ইলেক্ট্রনিক্স বলতে ছিলো একটা ক্যাসেট প্লেয়ার। সেটাতে রেডিও ছিলো। কয়েক বছর পর এলো একটা টিভি। পাড়াপ্রতিবেশীদের বাড়িতেও ততদিনে টিভি চলে এসেছে। তখন একটা গান আমরা গাইতাম শুনতাম, ও আমার বন্ধু গো, চিরসাথী পথ চলার..।
Coming out of the dark
The first house where I grew up was the one in a place, which to most people would be a slum. There was no privacy, no one cared about that. There was no space between two houses, and one family could hear the next family talking to each other. Next to our house lived the a family with three children and their grandma. The father of the children would sometimes scold his wife for no reasons and we could hear all their shouting at each other living next to them.
রাতেরা আমার মতই নিঃসঙ্গ
তোমার ফোন নাম্বার, ইমেইল অ্যাড্রেস বাসার ঠিকানা সবই এখনও মনে আছে। মনে আছে বিকেলবেলায় এখানে সেখানে ঘুরে বেড়ানো তোমার সাথে, তোমার হাতটা ধরার জন্য কেমন করতাম আমি, তোমার মনে আছে?
চায়ের দোকান, অলিগলি আর অজস্র রিকশার হুডেরা কি মনে রেখেছে আজও আমাদের প্রেম করার দিনগুলো? খুব সহজ ছিলো এ শহরের ভীড়ে আমাদের হারিয়ে যাওয়া, অথচ আমরা খুঁজতাম নিরিবিলি, চলে যেতে চাইতাম দূরে কোথাও, বহুদূরে।
আজ আমি কেমন আছি তুমি জানো? আজ আমি চাইলেই তোমাকে ফোন করতে পারি না, তোমার বাসার গলি অব্দি যেতে পারি না, আজকাল আমার কোনো ইচ্ছেরা ঠিক বেঁচে নেই। নিজেকে মৃত মনে হয়। ঠিক যেন মরণের ওপারে বসে লিখছি এইসব কথা।
অসমাপ্ত বাস্তবতা... ১৩
আজকের লেখাটা যে ডার্ক টাইপের হবে খুব বুঝতে পারছি প্রথম থেকেই। তাই ভাবছি লেখাটা কি চালিয়ে যাবো নাকি বন্ধ করে দেবো। ভাবছি এবং লিখছি সমানতালে। আজকাল আমার প্রিয় প্রশ্ন হচ্ছে, কেন মানুষের জীবন এত যন্ত্রণাদায়ক? এই প্রশ্নটা কেউ আমাকে করতে পারলো মানে সে অনেকদূর পর্যন্ত আমার কাছে চলে আসতে পারলো। সাধারণত যেসব প্রশ্ন আমরা একে অপরের সাথে দেখা হলে করি, যেমন কি খবর বা কেমন আছেন বা দেখেছেন খালেদা জিয়া নাকি বলেছে বড় বড় আইনজীবীরা কি করে? এটা একটা নেত্রীর মতো কথা!- ইত্যাদি যাবতীয় প্রশ্ন আমাকে শুধু প্রশ্নকর্তার কাছ থেকে দূরে সরিয়ে নিয়ে যায়। মহীনের ঘোড়াগুলির মতো তুমি আর আমি যাই ক্রমে সরে দূরে।
https://www.youtube.com/watch?v=cyBBZGfUnMs
লাইব্রেরি বন্ধ হতে আর ৭ মিনিট বাকি। বাইরে আকাশে আলো নেই। লাইব্রেরির কাঁচ দেয়ালে আমারই প্রতিফলিত ছবি। এরকম সন্ধ্যাবেলায় কম্পিউটার সায়েন্স পড়তে আর ভালো লাগে না, থেমে যায় ভিতরের সব চলমান প্রসেস। এশিয়া প্যাসিফিকের পাহাড়ে চলে যায় মন।
একে একে সবাই চলে যায়, আমাকেও লাইব্রেরি ত্যাগ করতে হবে দুই মিনিটের ভিতরে। কিন্তু যেহেতু দুই লাইব্রেরিয়ান দোকান বন্ধ করার তোড়জোড় ভুলে হালকা গল্পে মজে আছে, তাই সাতটার বেশি বেজে গেলেও আমি এখনও এখানে বসে লিখতে পারছি। তাই পৃথিবীতে বিপরীত লিঙ্গ সৃষ্টি করার জন্য প্রকৃতিকে ধন্যবাদ!
কিন্তু এমনও হতে পারে যে সপ্তাহের এই দিনে লাইব্রেরি আটটা অব্দি খোলা। সেটাই হবে খুব সম্ভবত। কিন্তু তার মানে আমাকে এখন আটটা অব্দি পড়তে হবে। হে প্রকৃতি এ তোমার কেমন বিচার!
