কৌশিক আহমেদ'এর ব্লগ
একটা সুদীর্ঘ চুম্বনের বিপরীত ক্রিয়া
শরীর খেয়ে হয়ে উঠেছো আমার নিরাপত্তা দেয়াল
পাসওয়ার্ডের প্রতিটা অক্ষরে এক একটা শেকল খন্ডে
ঝুলে থাকা
বেঁচে গেছো ভেবে কফের সমুদ্রে বেলচা ভরা
উড়াতে গেলে নিশ্বাস
তোমাকে আমার শরীরও মনে হয় না
দন্ডিত অ-নারী, অ-যোনী আর অক্ষত নাবালিকার
বিন্দু বিন্দু পলায়ন
হৃদয় খেয়ে হয়ে উঠেছো আমার ঝুঁকিপূর্ণ ভুমি
টালমাটাল স্পর্শে কেমন সন্দেহে বলো ভালোবাসি
দূরে থাকা
মরে গেছো ভেবে এমন কফিনে শেষ পেরেক ঠোকা
আটকে দিতে স্মৃতি
তোমাকে আমার কেবল হৃদয়হীন মনে হয়
বিরলপ্রজন্মা নারী, যোনীময়, প্রেমময়
আকড়ে ধরি
আনসাবস্ক্রাইব
এখন নিশ্চিতভাবেই বলা যায় মানবদেহে কেবল এক প্রকারের রক্ত থাকে না
হৃৎপিণ্ডের কাছের, যেখানে ধুকধুক করে ছাকনি
তার চারিপাশে বিশেষ প্রকার রক্তের বসবাস
আর মস্তিস্কে চলমান নিরেট হিসেব গুলি পালিত হয় ভিন্ন প্রকারে
এসব রঙও আবার স্থির নয়, যখন তখন পাল্টে যেতে পারে
বিশেষ করে যখন চোখের ভেতর থেকে বের হবে বলে কাঁপুনি জাগায়
সহস্র দুর্বার শ্বেতকণিকা!
এখন নিশ্চিতভাবেই বলা যায় রক্ত ফোঁটায় কেবল মানবদেহের নির্যাস থাকে না
এর সতর্ক সদ্য সংবাদ, বার্তাবাহক ফেরি করে ফেরে
অজানিত রাজপথে, ঠিকানাবিহীন ফটকে, বাতাসের বিন্যস্ত ভেতরে সিগনাল ছুঁয়ে
রিংটোনের স্বল্প ক্রেডিটে বিকোয় বিরহী ভালোবাসা
একবার শুনলে আনন্দিত হবেন, বারবার শুনলে
দয়া করে সবগুলো চ্যানেলের নব ঘুরিয়ে
রক্তভেদে চেপে দিন আনসাবস্ক্রাইব
নতুন প্রকারের রক্ত জন্মাবে সাইবার হৃৎপিণ্ডে!
আগুন পোহাতে হলে নিজেকে জ্বালাবেন: এলিজি ফর তারেক মাসুদ
সর্বদক্ষিণে বাস করে এক অরাজক কাল। তার পাশের চেয়ারে একজন অসুখী মানুষ। একেবারে উত্তরে বাস করে ভালগার আউটফিট। তার সম্মুখে দণ্ডায়মান স্ফুর্তি।
এসব দেখে শিক্ষা নেয়া যায়। প্রতিজ্ঞা করি আর কখনও ডান বাম থেকে বিচলিত পর্যবেক্ষকের জায়গা দখল করবো না। গান এবং তান নিয়ে ব্যস্ত থাকবো।
অথবা এক কাজ করা যায়। এর পর থেকে প্রতি অক্ষরের পরে দুটো ব্যাকস্পেস। আশা করা যায় বেশ দীর্ঘসময় পরে ফিরে যাওয়া যাবে শুরুতে। শীর্ষে।
যখন এটা পতনেরই দ্রোহ, তখন তরান্বিত হোক। যদি প্রয়োজন হয় বলবেন। মশলা যোগান দেবো। যদি অন্তরঙ্গ যাপন চান - দয়া করে ভিজিটিং কার্ড রেখে যাবেন। হিসেব মত গোটা দশেক ফেসবুক একাউন্ট পাঠিয়ে দেবো। প্রতিটা ফুল থাকবে বন্ধুতে। নিখুঁত বন্ধু নামক অমানিশা ভর করবে না।
ফেরারী হুইসেল
উড়তে গেলেই
আমার ভেতর থেকেই একটা হাত এসে থামিয়ে দেয়
যখন সকল দিকভ্রম আর সম্মুখের আঁধার হতে
গোটাগোটা মানববৃক্ষ গ্রন্থিত হয়ে যায়
ইতিহাসের ওয়েব পৃষ্ঠায়
থরো থরো লিংকবাহনে চড়ে খুঁজতে থাকি বায়োডাটা
আর ছবির ধারাবাহিক
সদ্য ইতিহাস হয়ে পড়া জীবিতরা
কেউ এক একটা পৃষ্ঠা খুলে
সহচর নানান বইয়ের ভেতরে জমাট কোনো মন্ত্র বলে
কেবল একবার জানিয়ে যায়
উড়তে গেলে আর কোনো বাঁধায় বিদ্ধ হবে না প্রজাপতি মন
ফের অঙ্কিত হবার আগে
সকল সড়ক মোড়ে হয়তো দাঁড়িয়ে থাকবে
ফেরারী হুইসেল
সেদিন মটরসাইকেলটা বিক্রি হয়ে গেছিলো!
ক্লাস এইটে পড়ি। বাবার মটরসাইকেলের দিকে ঝোঁক। সুযোগ হয় না চালাবার। চুরি করে চালাতে হয়। একদিন জানলাম বিক্রি করে দেবে। যেদিন সন্ধ্যায় মটরসাইকেলটা নিয়ে যাবে, সেদিন আর বাবা মটরসাইকেল চালাননি। রিকশায় অফিসে গেছেন।
দুপুরের দিকে সুযোগ পেয়ে মায়ের চোখ ফাকি দিয়ে চাবিটা হস্তগত করলাম। তারপরে চুপিসারে মটরসাইকেল বের করে স্টার্ট দিলাম। শব্দে মায়ের ঘুম গেলো ভেঙে। তিনি বাইরে নামার আগেই ভো করে মটরসাইকেল চালিয়ে পাশের কলেজের মাঠে চলে এলাম। মা জানতেন না যে আমি চালাতে পারি। দেখলেন এসে উল্কার মত মটরসাইকেলের ছুটে যাওয়া। ভীষণ ভয় পেয়ে তিনি দৌড়াতে দৌড়াতে কলেজের মাঠে এসে উপস্থিত হলেন।
ভুলেই গেছিলাম। একটু আগে মা ফোন করলেন। বললেন, তোর মনে আছে সেই ঘটনাটার কথা? কিভাবে আমি দৌড়ে গেছিলাম তোর পেছনে পেছনে?
পুরাতন কিছু প্রকাশ না করার বিধান অস্বীকার করি
কিছু প্রকাশ যখন করতেই হবে তখন নতুন কিছুর চেয়ে
পুরাতনই ভালো, সেসব নির্মিত আখ্যান যার ভেতরে সটান ইচ্ছেবালক
দাপিয়ে বেড়িয়েছে এতকাল তার ঝাপটায়
পেছনে ফেরাই ভালো!
নতুন কিছু বলার চাইতে তোমাকে আগের কথাই বলি
যারপরে মূলত নতুন কিছুই জমে না, জন্মের কবন্ধ নেই
তার মুখোশ থেকে কালিঝুলি মাখা সংলাপগুলি
পালকের মত উড়িয়ে দিয়ে, দেই।
যখন কিছু প্রকাশ করতেই হবে নতুন,
তখন পুরাতনকেই তৈরী করি মনের মতন।
২০৭১ - এ ব্লগ স্টোরি (২৩)
যখন সময় থাকে তখন আমরা গান শুনি। নন-ডিভাইসাল। একটা পে-চ্যানেল আছে – যেখানে রিকুয়েস্ট পাঠালে শিল্পী সরাসরি গান শুনিয়ে থাকেন। এই বৃদ্ধবয়সে কোনধরণের গান উপযোগী হবে সে নিয়ে কিছুদিন আগে একটা মিউজিক্যাল ক্লিনিকে ভর্তি হয়েছিলাম। ডাক্তার সাহেব মাইডিয়ার টাইপের। লাউড স্পিকারে উদ্ভট কিছু শুনছেন। আমাকে দেখে বললেন, বাহ! অনেকদিন পরে ভালো একজন প্যাশেন্ট পাওয়া গেলো! আমি একটু ভিমড়ি খেলাম, প্যাশেন্ট? তারপরে একটু ব্যাখ্যা করে বললাম, দেখুন আমি স্রেফ কিছু গানের রিকমন্ডেশন নেবার জন্য এসেছি! উনি বললেন, ওই হলো- আপনি হিউম্যান ভোকালই তো শুনতে চাইবেন! দেখেই বুঝেছি!
২০৭১ - এ ব্লগ স্টোরি (২২)
একসময় আমাদের দেশে অনেক ধরণের কাব্য-সাহিত্যের ছড়াছড়ি ছিলো। এখন যা সাধারণত উর্বুদ্ধিজীবিদের ঝুলিতে পাওয়া যায়। ইলিশ আহমেদ একজন উদীয়মান উর্বুদ্ধিজীবিও বটে। আমার সাথে মূলত যোগাযোগ ছিল আন্ডারগ্রাউন্ড লিটারেওয়ার কেন্দ্রিক। প্রাগৈতিহাসিক সাহিত্যিকদের স্টাইল মৌলিকভাবে অনুকরণ করার লিটারেওয়ার তৈরীর নামে আসলে যে মেধাস্বত্ব চুরি হচ্ছে এ বিষয়ে এক ক্যাম্পেইনে তার সাথে পরিচয় ঘটে। এরপর থেকে বকশলামের নানাবিধ প্রচারণায় আমাকে গোপনীয়ভাবে প্রলুব্ধ করে। মাঝে মাঝে আমিও নিউরনাল মেসেজ বিতরণ করি। শাকরি থেকে নেমে আমাকে দেখে সে যেন আকাশের চাঁদ হাতে পেলো। বললো, আমিও আশা করেছিলাম আপনি হয়তো ইঙ্গিতটা ধরতে পারবেন!
২০৭১ - এ ব্লগ স্টোরি (২১)
সাতসকালে আগন্তুক মানে অপ্রত্যাশিত দুর্ঘটনার হাতছানি। আমরা খুব সাধারণ জীবন যাপন করি। বাড়তি প্রযুক্তি এড়িয়ে। ঘরে কেউ আসতে চাচ্ছে শুনলে ভিডিও কানেক্টরগুলো অন করতে হবে, কমপক্ষে তিনটা ইয়োলো এলার্ট সেন্ড করতে হবে। কিছু স্যোশ্যাল উদ্যোগের সাথে ইদানিং আমরা জড়িত, ফলে তাদেরকে জানাতে হবে। সবচেয়ে বড় কথা একটা গবেষণা প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন যাবত পর্যবেক্ষণ করছে আমাদের বাসায় আগত অতিথিদের শ্রেণীবিন্যাস। আমরা যে কোন অভিশাপে তাদের গবেষণার গিনিপিগে পরিণত হয়েছিলাম জানি না, তবে এখন আর বের হবার উপায় নেই। কত ফ্রিকোয়েন্সিতে অতিথি আসে, তাদের বয়স, আগমনের উদ্দেশ্য, হিডেন, কমার্শিয়াল নাকি মেকানিক্যাল এমনতরো হাজারো বিষয় অনুসন্ধানে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। আজ সকালে আগন্তুক এলার্ট পাবার পরে টাপুরের মা যথারীতি ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়েছে। যেসব বিষয়ে আমি বিরক্ত হবো, সেটাতেই তার ততোধিক উৎসাহ। যূথবদ্ধতার এই অমোঘ সূত্র অনুযায়ী বিশ্ব চলছে, আমিও
২০৭১ - এ ব্লগ স্টোরি (২০)
সেদিন পাশের বাড়ীতে একটা বড়সড় ডাকাতি হয়ে গেলো। তিনটা সিকিউরিটি এজেন্সি আগে থেকে বিষয়টা জানতো। টাপুরের মা যে মহিলার সাথে এন্টি-সুইসাইডাল থেরাপি নিতো তার বাসা। সিকিউরিটি এজেন্সি থেকে এলার্ট করা হয়েছিলো। এমনকি ডাকাত গ্যাং প্রস্তুতি নিচ্ছে এমন লাইভ কভারেজ ট্রান্সমিট করেছিলো তাদের বাসার সবকটি লেজার স্ক্রিন, সেলফোন, এমনকি যেকোন অপটিকাল সারফেসে। অদ্ভুত বিষয় হলো বাসার লোকজন নাকি বলেছে ডাকাতি ঠেকাবার সময় নেই। ছেলেমেয়েদের গেট টুগেদার হচ্ছে বারো বছরে প্রথমবারের মত, রাষ্ট্র যদি চায় তবে যেন ডাকাতদের ধরে। সমস্যা হলো সংবাদটা কোনো বখাটে ওয়েবার একটা ফান টিভিতে জানিয়ে দিয়েছে। যারা মুহূর্তে বিষয়টাকে রাষ্ট্রীয় তাৎপর্যময় সংকট হিসাবে উপস্থাপন করলো। বিশাল ডিবেট শুরু হয়ে গেলো রাষ্ট্র কেনো জনগণের মাইক্রো নিরাপত্তার দায়ভার নেবে – এসব নিয়ে। আমার পাশের বাড়ির ঘটনা আর আমি ডাকাতির সংবাদ পেয়ে হাত-পা গুটিয়ে ডিবেটে অংশ নেবো
২০৩৬ - এ ব্লগ স্টোরি (১৯)
টাপুরের মায়ের চলনশক্তি ফিরে এলে আমরা ভার্চুয়াল ওয়ার্ল্ড থেকে অবহরোহন করি। ঘুম থেকে জেগেই তিনি আমাকে জড়িয়ে ধরলেন, চলো এবার একটা সাবমিশন করি। তুমি ধর্মকর্ম একেবারে ভুলে গেছো! মেনে নিলাম। ধর্মে অনাসক্তি আমার বরাবরের। প্রথম টেকপ্রফেটের অনুসারী হয়েও যে হারে রিচুয়াল অমান্য করে যাচ্ছি, রীতিমত আতঙ্কজনক। যেকোনো সময় আমার ভার্চু-অস্তিত্ব ধ্বংস হয়ে যেতে পারে। টাপুরের মা বললো, গতরাতেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, যদি এমাসের বিগ রিকভারী ঘটে তবে সফটওয়ারম্যানের ওয়েবক্যামের সামনে বসে দশ হাজার টেট্রা ডাটা সরাসরি সার্ভারে যুক্ত করে দেবো। আমার কাছে বিরক্তিকর মনে হয়। এইসব টেকধর্মগুরুদের বুজরুকি হাড়ে হাড়ে টের পাই। কিন্তু প্রচলিত বিশ্বাসের বাইরে কিছু করতে গেলে অস্তিত্ব রীতিমত বিপন্ন হয়ে পড়বে। প্রেয়সী আমার তার পার্সোনাল ম্যাটারের সাবমিশন করুক, তুমুল বিরক্তি নিয়েও হয়তো আমার পাশে বসে থাকতে হবে।
২০৩৬ - এ ব্লগ স্টোরি (১৮)
টাপুরের মা এবং আমি ভার্চুয়াল জীবনে বন্দী। একই ঘরে, একই শয্যায় – তারপরেও যোগাযোগের জন্য আশ্রয় নিতে হয় ওয়েবে। বডিরিড নামক শারিরীক যোগাযোগ মিডিয়ার এখন দাপুটে বিচরণ। আমরা হচ্ছি ফেসবুক জেনারেশন, অনেক বেশী সেকেলে, নতুন কোনো ভার্চুয়াল জগতে পা রাখতে ভয় পাই। কিন্তু টাপুরের মা দিনের একটা বড় অংশই থাকে অচল, হাইপার সেন্সসুয়্যাল সেন্সরের কারণে তার কেবল বডিরিডের সাথে সংযুক্ত থাকা সম্ভব। বিষয়টা সম্বন্ধে আগে তেমন ভালো ধারণা পোষণ করতাম না। বরঞ্চ ইদানিংকালের ছেলেছোকরাদের বডিরিড আষক্তি দেখে প্রচন্ড বিক্ষুব্ধ ছিলাম। সোমালিয়ান এই শারিরীক যোগাযোগ মাধ্যমটির এখন প্রচন্ড বাড় বেড়েছে। যেকেউ তার অঙ্গপ্রত্যঙ্গের শিরা-উপশিরায় অনুভূতি প্রদান ও অনুসরণকারীর মধ্যে সরবরাহ করতে পারে। বডিরিড অন্তর্ভূক্ত কমিউনিটি এসবের স্পর্শ ও দৃশ্য পেয়ে থাকে। আজকে সকাল থেকেই টাপুরের মা’ টিজিং করে যাচ্ছে। একটু আগে বডিরিডে ভেসে ওঠা তার ঠোঁটের ই
২০৩৬ - এ ব্লগ স্টোরি (১৭)
আমাদের যাবার কথা ছিলো পোভার্টি মিউজিয়ামে। মিরপুর যাবার জন্য সাবওয়ে বেস্ট হয়তো, স্কাইরিভার থেকে দশমিনিটের পথ। কিন্তু ইদানিং সাবওয়ের ভেতরে হকারদের উৎপাতে দাড়িয়ে থাকা দায়। বসার তো কোনো সুযোগই নেই। এত ঘিঞ্জি, স্যাতস্যাতে আর টেকনো-এডাল্টির দাপট যে সাবওয়েতে পারতপক্ষে আমরা চড়ি না। গাড়ীতে যেতে ঘন্টাখানেক লাগবে বটে, কিন্তু তারপরেও আমরা ফ্লাই-ওভার বেছে নিলাম। বিলাসিতার লোভ সামলাতে না পেরে একেবারে পেট্রোল-কারই ভাড়া করলাম। টাপুরের মা আর আমি খরচ এড়াতে ওয়াটার রিফুয়েলারই ব্যবহার করি নন-ইন্সুরেন্সড ঝুঁকি নিয়ে। তবে পেট্রোল-কারে চড়ার পরে টাপুরের মা বেশ ফুরফুরে হয়ে উঠলো, যাক – এটলিস্ট এই পথটুকুনে কিছু হয়ে গেলে ইন্সুরেন্সের বেনেফিটের সাথে আমার দেহটা ঠাঁই পাবে স্ট্রিট-এক্সিডেন্ট ভিকটিম মিউজিয়ামে। তোমাকে দেখবো ভুত হয়ে!
২০৩৬ - এ ব্লগ স্টোরি (১৬)
সড়কে ফুটপাথ নেই। তবে হাঁটার জন্য আলাদা লেন আছে। বিষয়টা বিরক্তিকর। একসময় ঢাকার রাস্তায় ফুটপাথ ছিলো। যদিও তাকে চাকাপথ বলা হতো - মটর বাইক, রিকশা দিব্যি সেঁধিয়ে যাওয়ায়। তারপরেও আলাদা একটা জায়গা তো ছিলো। এখন চার লেনের সড়কের একটা থাকে পথচারীদের জন্য। তবে ক'জন আর সত্যিকারের পায়ে হেটে চলে! রোলার-স্কেটিং আর স্টিং-কেডসের প্রাদুর্ভাবে জুতা পায়ে হাঁটার জো নেই। যে হারে মানুষ এখন যান্ত্রিক পায়ে অভ্যস্ত হয়ে উঠছে - প্রখর রোদ্র সেবন একেবারে অসম্ভব হয়ে পড়ছে। ক্যানসার প্রিভেনসনের জন্য ডাক্তার আমাকে দুপুরে ঘন্টা দুই প্রখর রোদে হাঁটতে বলেছিলো। অযান্ত্রিক গ্রাস সু পায়ে। আমার সবুজ রঙা দেহে সূর্যের আলোকরশ্মি একধরনের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরী করবে, যা গ্রাস সু’তে বন্দী হবে। এর ভেতরে কি এমন ধারক রয়েছে নাকি। ঘরে ফিরলে রিএনার্জিকলার হবে।
২০৩৬ - এ ব্লগ স্টোরি (১৫)
সুপ্রাচীন জায়গাটায় অর্বাচীনের মত শুয়ে আছি। ইন্টারভ্যু নামক আপদখানি কখন কার উপরে নাজিল হবে বলা মুশকিল। গতকাল প্রচন্ড চেস্ট-পেন নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হবার পরে যন্ত্রণার শুরু। হসপিটালের একটা কমার্শিয়ালের লাইভ টেলিকাস্ট হচ্ছে। আমাকে একজন সুন্দরী ডাক্তার কাম উপস্থাপিকা জিজ্ঞেস করলো, পেইনটা কোথায় হচ্ছে? বুকের একটা অংশ দেখালে, তিনি ধমকে উঠলেন, কই আপনার মুখে তো এক্সপ্রেশন নাই! বুকে ব্যাথা হলে মুখ একটু কুচকে বলতে হবে না, নইলে দর্শক কিভাবে বুঝবে আপনি রিয়েল প্যাশেন্ট?