তিনি (এইটা একটা গল্পের বাচ্চা)
তিনি মানুষটিকে মনে রাখিয়াছেন। বিপদের দিনে আশ্রয় দিয়াছিলেন। তখন সামান্য ঐ আশ্রয়টুকুই ছিল জীবনের জন্য মহামূল্যবান। সেই মানুষটি আজ মৃত্যুশয্যায়। তিনি হঠাৎ করিয়া ব্যক্তিগত সচিবকে ডাকিয়া বলিলেন, তিনি মানুষটির বাসায় যাইতে চান।
জীবন অনেক বদলাইয়া গিয়াছে। এখন আর হঠাৎ করিয়া কোথাও যাওয়া হইয়া উঠে না। তবুও আজ তিনি বাহির হইলেন। মানুষটিকে আর কখনো দেখিতে পারিবেন না বলিয়াই মনে হইতাছে।
তিনি মানুষটির শয্যা পাশে বসিয়া বসিয়া প্রচন্ড ঘামাইতেছেন। কেউ একজন হাত পাখা দিয়া বাতাস করিতেছে, কিন্তু শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের যন্ত্রে এতোটাই অভ্যস্ত হইয়া পড়িয়াছেন যে, এই বাতাস বরং আগুনের হলকা হইয়া যেন বিধিলো। তিনি ব্যক্তিগত সচিবকে সঙ্গে নিয়া আসিয়াছেন। আরও আছে বিশাল এক বাহিনী। প্রত্যেকেই উত্তেজিত এবং বিব্রত। প্রথমে মনে হইয়াছিল ইহা কেবলই লোড শেডিং। বিদ্যুৎ অফিসে ফোন করিয়া জানা গেল, আসলে বিদ্যুৎ বিভ্রাট। যন্ত্র বিগড়াইয়াছে। ঠিক করিতে সময় লাগিতেছে। মানুষটির বাসায় আইপিএস ছিল, কিন্তু দিনের বেশি সময় ধরিয়া বিদ্যুৎ থাকে না বলিয়া সেটিও আর কাজ করিতেছিল না।
তিনি আজকাল আর হঠাৎ করিয়া কোথাও যাইতে পারেন না। কোথায় কোথায় যাইবেন তাহা অন্তত সাত দিন আগে নির্ধারণ করা হইয়া থাকে। ফলে বিদ্যুৎ না থাকার মতো সমস্যার সহিত তাহার অনেকদিন ধরিয়া কোনো পরিচয় ছিলো না। আগে হইতে সতর্ক করিয়া দেওয়া হয়। ফলে বিদ্যুৎ ছাড়াও কোনো ধরণের দুর্ভোগের সঙ্গেই পরিচয় হয় না। এমনকি চলাচলের সময় রাস্তাও ফাঁকা করিয়া দেওয়া হয়। মাত্র ১ ঘন্টার জন্য বাহির হইয়া তিনি সমস্যাটা বুঝিলেন।
তিনি বৈঠকে বসিয়াছেন। বিষয় বিদ্যুৎ সংকটের সমাধান। তিনি যেখানে অফিস করেন এবং যে বাসায় বসবাস করেন, সেখানে বিদ্যুৎ এক সেকেন্ডের জন্যও যায় না। তারপরেও তিনি ভরসা পাইতেছেন না। বিদ্যুতের চাহিদা ও সবরাহের করুণ এক চিত্র তুলিয়া ধরিলেন একজন কর্মকর্তা। মনেযোগ দিয়া দেখিয়া তিনি হতাশ হইলেন। বিদ্যুৎ উৎপাদনের সময়, অনুমোদন জটিলতা আর কে কাজ পাইবে আর কে পাইবে না তাহা নির্ধারণ করার নানা সংকটের জটিল বিষয়গুলো জানিতে পারিয়া তিনি আমলাতন্ত্রটাকেও ভালভাবে বুঝিতে পারিলেন এবং আরেক দফা হতাশ হইলেন। কাজ কাকে কাকে দিতে হইবে তাহার একটা লম্বা তালিকা তিনি নিজের কাছে রাখিয়াছেন। সবমিলাইয়া সরকারের উপর তিনি আর ভরসা রাখিতে পারিতেছেন না। সরকার দ্রুত বিদ্যুৎ দিতে পারিবে তাহা তিনিও আর বিশ্বাস করিতে পারিলেন না।
যদিও বাসায় এবং অফিসে বিকল্প হিসাবে জেনারেটর রহিয়াছে, কিন্তু যন্ত্র যে বিগড়াইয়া যায় সেটি তিনি বিলক্ষণ জানেন। তাহা হইলে উপায়?
বুদ্ধি বাতলাইলেন সদ্য যোগ দেওয়া এক কর্মকর্তা। বিশ্বব্যাপী এখন সোলার প্যানেলের জয়জয়কার। খরচ বেশি করিলে বিদ্যুৎ নিয়া কোনো সমস্যা হইবে না। যন্ত্র বিগড়াইবে, কিন্তু সূর্য উঠিবেই।
তারপর একদিন নিজ কার্যালয়ে তিনি সোলার বিদ্যুৎ ব্যবস্থার উদ্বোধন করিলেন। তড়িঘড়ি করিয়া উদ্বোধন করিতে হইলো। সরকারের উপর ভরসা করিতে না পারিয়া যে সোলার বিদ্যুতের প্রতি তিনি আগ্রহী হয়েছেন সেটি আর কাউকে বলিলেন না।
তাহাছাড়া আজ তিনি অনেক ব্যস্ত। ঠিক এক বছর আগে তিনি চেয়ারে বসিয়াছিলেন। এই দিনে একটা বক্তৃতা দেওয়ার রেওয়াজ রহিয়াছে। তিনি প্রস্তুতি লইলেন।
দেশবাসীর উদ্দেশ্যে তিনি বললেন, ‘আমি জানি আপনারা বিদ্যুৎ সংকটে কষ্ট পাচ্ছেন। আগের সরকারের অদক্ষতা ও অবহেলার কারণে এই সংকট প্রকট হয়েছে। তবে বর্তমান সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। শিগগিরই বিদ্যুৎ সংকটের সমাধান হবে। আপনারা সরকারের উপর আস্থা রাখুন।’
(অনেক আগে এটা লিখবো বলে ঠিক করে রেখেছিলাম। সময় হচ্ছিল না। আজ দিলাম।)





এইবার গল্পের বাবা-মা কে দেখান, বাচ্চা দেখলাম কেবল।
হা হা হা, বটম লাইনটা জটিল হৈছে------অনেক আগে লিখার কথা ছিলো, কিন্তু এখনও লিখা গেলো...মজাদার...
পুরো গল্পটাই কাল্পনিক... বাস্তব কারো সাথে মিলে গেলে সেইটা তার ব্যর্থতা বলিয়া বুঝতে হপে
তিনির বর্তমান ভুমিকায় এখন শেখ হাসিনা
নকল সাপ্লাই এর দায়ে আপনার আইপি সহ ব্যান ছাই!
গল্পটি সাময়িক বিভ্রান্তির জন্ম দিয়াছিলো। কিন্তু বাংলাদেশের মন্ত্রী-মিনিস্টারদের কথা মনে পড়িতেই তা কাটিয়া যায়। উন্নত মানের ব্যঙ্গ-সাহিত্য যাই হোক। তবে আপাততঃ মনে হয় এইসব লেখা থেকে বিরত থাকাই শ্রেয় হইবে।
কেননা, তিনি এখন হাতে কুঠার লইয়া রাজপথে নামিয়াছেন। পারিষদবৃন্দ তাহাকে জানাইয়াছে যে, কিছু সংখ্যক দুর্বৃত্ত তাহার মতো একজন মহামতিকে লইয়া রসাত্মক চিত্রকল্প ও সাহিত্য রচনায় ব্রতী হইয়াছে, যাহার ফলাফল হিসেবে বিশ্বব্যপী তার উজ্জ্বল ভাবমূর্তির গোঁড়ায় পড়িয়াছে কাছাখোলা টান। আপাতত এক হাতে কাছা চাপিয়া আরেক হাতে খড়গ লইয়া তিনি ঊর্ধ্বশ্বাসে ছুটিতেছেন সেই সব দুর্বৃত্তের খোঁজে। তাই সাধু সাবধান।
মন্তব্যে লাইক
লেখাতেও মি লাইকি
এইবার ব্লগ ও বন কইরা দেয় কি না কে জানে।যদি বুইঝা ফালায় যে বুবুকে নিয়ে গল্পের বেবি তৈরী হইছে তাইলে কি হয় কে জানে!এইবার এর বাবা-মা কে আনেন।
হা হা হা হা!!!


গল্পের বাচ্চাই যদি এইরকম ঠ্যাংগানি দেয়, তাইলে বাপ-মা'য় না জানি কি নিয়া আসবে!!!
মজারু হইছে গল্প।
শিগগিরই বিদ্যুৎ সংকটের সমাধান হবে। আপনারা সরকারের উপর আস্থা রাখুন।’
তেত্রিশ বছর আস্থা রেখেছি নাদের আলী আর কতো আস্থা রাখবো। বিদ্যুতের অভাবে যেদিন এসি বন্ধ হয়ে, ফ্যান বন্ধ হয়ে, আইপিএস বন্ধ হয়ে, আমার মেকাপ নষ্ট হয়ে আমার আসল চেহারা বেরিয়ে পরবেম সেদিন কি তুমি আমার বিদ্যুত দিবে?

হাহাহাহা। এটাতো দারুণ কথা বললেন তানবীরা। সেইটাইতো মেকআপ নষ্ট হলে আমরা খুব রাগ করবো, সব বরদাসত করা যায় কিন্তু মেকআপ! অসম্ভব।
তাতাপু, এই ভয়ে তো মেক আপ করি না।শেষে গরমে প্লাস্টার গইলা পইড়া যদি এখনকার চেহারা বের হয় তাইলে তো পুরাই সর্বনাশ হবে। বিকল্প কুনু ব্যবস্থা মাথায় থাকলে কইয়েন। এক্টু নির্ভয়ে সাজুগুজু করতাম মন্চায় তো।
মাস্ক রাখতে পারো সাথে ক্যাটারিনা কাইফ কিংবা দীপিকা পাড়ুকোনের নইলে প্লাষ্টিক সার্জারী
থাক। ডরাইছি ।
যন্ত্র বিগড়াইবে, কিন্তু সূর্য উঠিবেই
গরমে বিদ্যুৎ না থাকলে কষ্ট পাই সইত্য,
মাগার বেডা মাইনষেগো মেকাপ গলে
আসল চেহারা বাইরনের সুযোগ নাই... আল্লা রাখ্খা !!!
Solar panel system opened at Bangladesh PM’s Office
Thursday, 04.01.2010, 04:00pm (GMT)
Prime Minister of Bangladesh Sheikh Hasina inaugurated a solar panel system at the Prime Minister’s Office (PMO) Thursday morning.
Pressing the switch of the solar panel, the prime minister opened the system installed with a capacity of 20.16 kilowatt.
A special munajat was offered on the occasion seeking success of the government in implementing all development programmes as well as peace and prosperity of the mass people.
State Minister for Power Mohammad Enamul Haque, PM’s Advisers Toufiq-E-Elahi Chowdhury and Dr Alauddin Ahmed, Principal Secretary MA Karim, PMO Secretary Mollah Waheeduzzaman and PM’s Press Secretary Abul Kalam Azad were present at the function.
The solar panel has been installed on the roof of the PM's Office on a 1,700-square feet steel structure at a total cost of Tk 99.50 lakh (Tk 493,550 per kilowatt).
Power Development Board has implemented the project with technical assistance from Rahimafrooz Renewable Energy while the project will be maintained jointly by the PDB, Dhaka unit and the Works Construction Division.
A total of 126 solar panels have been used for the entire system in which five charge controllers with 80 amperes and 28 batteries with 1,320 amperes have been installed.
Arrangement has been made in the solar system for transfer of power from DC to AC by four hybrid inverters with 3000 volt/amperes.
Technical persons involved in the solar panel project said that gradually the entire Prime Minister’s Office will be taken under the system.
বলতে ভুলে গেছিলাম, এই গল্পের সাথে কিন্তু কারোরই কিছু মিল নাই। পুরাটাই উর্বর মস্তিস্কের কল্পনা।
ভাই এইবার তো আপনারে ধরবেই ধরবে। আল্লা আল্লা করেন ভাই, আল্লা আল্লা করেন
এখন সরকারের আসলে উচিৎ মাস খানিক বিদ্যুত উৎপাদন বন্ধ রাখা। প্রতিদিনকার লোড শেডিং এর কারণে আমরা জেনেছি আইপিএস কি বস্তু। এক মাস বিদ্যুৎ না থাকলে বাঙালীর মগজে একটা না একটা মতলব ঠিকই উদয় হইবে।
এক্কেরে বুলস আই......
ধরা খাইলে কি স্বীকারোক্তি দিবেন সেইটা তৈরী রাখেন।
ডিসক্লেইমার দেই তাইলে...................রাফি এবং ......................এর উৎসাহে গল্পটা লেখা
এটা আগেই পড়ছিলাম। এখন অভিবাদন জানায়ে যাই। আপনি নিয়মিত গল্প লেখা শুরু করতেছেন না কেন?
তিনি কিন্তু আমাদের সব কার্যকলাপ পর্যবেক্ষন করিতেছেন
শিগগিরই বিদ্যুৎ সংকটের সমাধান হবে। আপনারা সরকারের উপর আস্থা রাখুন।............আচ্ছা , বুঝছি।
যাক, অনেকদিন ধরে লেখার নিয়তটা শেষমেষ পূরণ করতে পারলেন।
নিউজের এই লাইনটা (A special munajat was offered ) পড়তে গিয়ে প্রথমে ভড়কাইয়া গেছিলাম। ভাবছিলাম, সোলার প্যানেল যাতে ঠিকমতো কাজ করে এইজন্য স্পেশাল মুনাজাত করা হইছে কিনা!
আজকে তার বাসায় বিদ্যুৎ আছে?
মাসুম ভাই, কই আপনি!
মন্তব্য করুন