টুকরো ইতিহাস-২: পরের বউ
প্রতি সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠক হয়। এখানেই গুরুত্বপূর্ণ নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা হয, সিদ্ধান্তও হয়। অনেক গোপনীয় বিষয় নিয়ে আলোচনার একটি জায়গাও এই বৈঠক। এরশাদের সময় ছিল মিনি কেবিনেট। অল্প কয়েকজনকে নিয়ে বসতো এরশাদ।
গতকালও ছিল মন্ত্রিসভার বৈঠক। বৈঠক যখন শেষ তখন প্রধানমন্ত্রী দুজন মন্ত্রীর নাম ধরে বললেন, এই দুজন ছাড়া সবাই চলে যান। তারপর আরও তিনজন মন্ত্রীকেও বলা হল থাকতে। আলোচিত দুজন মন্ত্রীকে নিয়ে এরপর বৈঠক করলেন প্রধানমন্ত্রী। বাকি তিন মন্ত্রী ছিলেন দর্শক। কী আলোচনা?
-আমি কী করে বলবো? আমি কী ছিলাম নাকি?
যারা ছিলেন তারা যদি ভবিষ্যতে কিছু লেখেন, তাহলেই জানা যাবে।
কেউ কেউ যে লেখেন না তা নয়। একজন সাবেক সচিব লিখে গেছেন এ ধরণের নানা বৈঠকের কাহিনী। সেটা বরং বলি-
৩ এপ্রিল, রোববার, ১৯৭৭
কাল সকালে প্রেসিডেন্ট সায়েম এক ঘন্টা ধরে নছিয়ত করলেন সকল সচিব, অতিরিক্ত সচিব, যুগ্ম সচিব ও চেয়ারম্যানদের। উপদেষ্টা পরিষদের সবাই উপস্থিত ছিল।
তার বক্তব্য হচ্ছে, আপনারা দেশের সর্বোচ্চ পদে আছেন, তার জন্য যোগ্যতা প্রমান করতে হবে। আপনাদের আদর্শ চরিত্র হতে হবে। অন্যায়, দুর্নীতি, পক্ষপাতিত্ব পরিহার করতে হবে। দেশ আপনাদের দিকে চেয়ে আছে, ইত্যাদি।
বারবারই বললেন, ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবন যেন অকলঙ্ক হয়। সম্প্রতি আমাদের কতিপয় সহকর্মীর পরের বউকে আপন করে নেয়ার মতো কীর্তিকলাপের দিকেই ইঙ্গিত করে এই কথা।
২২ এপ্রিল, বৃহস্পতিবার, ১৯৭৭
..... কিছুদিন ধরেই সর্বত্র মুখরোচক আলোচনা। বিষয়বস্তু বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তাদের প্রেম ও নতুন বিবাহ। এনএসআইর প্রধান সাহেব বিয়ে করেছেন চট্টগ্রামের এক আধাবাঙালি মহিলাকে। সচিব পর্যায়ের সিএসপিদের বেশ কয়েকজন একে অন্যের বউকে ভাগিয়ে নিয়ে বিয়ে করেছে বা করছে বলে শোনা যাচ্ছে। এর মধ্যে একজন নাকি সহকর্মীর বউকে ভাগিয়ে নিয়ে ইউরোপে মধুচন্দ্রিমাতেও গেছে। এরা কেউ উচ্ছ্বাসপ্রবন তরুণ নয়, যথেষ্ট প্রবীণ দায়িত্বশীল পদে নিয়োজিত কর্মকর্তা।
৩ জুন, শুক্রবার, ১৯৭৭
গতকাল বঙ্গভবনে সকল সচিবদের প্রেসিডেন্ট (জিয়া) সাহেব ডেকেছিলেন। প্রায় এক ঘন্টা বক্তৃতা দিলেন।.......শেষের দিকে আসলো তার শক্ত কথা। প্রতিদিন খবরের কাগজে সরকারি কর্মকর্তাদের নৈতিক চরিত্রের বিচ্যুতির বিষয়ে নানা খবর বেরুচ্ছে বলে তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করলেন। এর মধ্যে তিনি অন্যের স্ত্রী নিয়ে টানাটানির কথা উল্লেখ করলেন। বললেন, আপনাদের যারা পানীয় ও অন্যান্য জিনিষ সরবরাহ করে তারাই এসে আবার আমাদেরকে খবর দেয়। আমরা সব জানি আপনানা কে কি করছেন এবং এটা বন্ধ না করলে বিহিত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আরও বললেন, দরকার হলে আমি আপনাদের যারা চান তাদের ড্রিংকসের ব্যবস্থা করবো। তবু্ও আপনারা বাজে লোকের আর দেশের শত্রুদের খপ্পরে পড়বেন না। যদি ভাল কাজ করেন, এবং কাজ করতে করতে ক্লান্ত হয়ে পড়েন বিদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে।
২১ জুন, মঙ্গলবার, ১৯৭৭
আজ সকালে কাউন্সিল মিটিং ছিল। কিন্তু এজেন্ডা মত মিটিং শুরু হল না। শুধুমাত্র কেবিনেট ও সংস্থাপন সচিবকে ভিতরে থাকতে বলে বাকি অন্য সচিবকে বাইরে অপেক্ষা করতে বলা হল। আন্দাজ করলাম যে 'শুদ্ধি অভিযানের ' কথা এতদিন শনেছিলাম সেই সম্পর্কে কথাবার্তা হচ্ছে। .........শুনলাম তালিকা তৈরির দায়িত্বে যে এই কমিটি তার মধ্যে আছে কেবিনেট সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব এবং বিভিন্ন সামরিক ও বেসামরিক গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানরা। সবচেয়ে মজার হলো এর মধ্যে এনএসআইর প্রধানও ছিলেন। তিনি নতুন বিয়ে নিয়ে যে কেলেঙ্কারি করেছেন তা বোধ হয় নৈতিক বিচ্যুতি বলে গণ্য হয়নি।
সূত্র: আমলার দিনলিপি-কাজী ফজলুর রহমান





পরের বউ ভাগানীর ইতিহাস দেখি ম্যালা পুরানা! সাধু সাবধান!
ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিলো না মুকুল। আফসুস।
হঠাৎ পরের বউ নিয়ে পরলেন যে?
সাংবাদিকদের মধ্যেও এমন হচ্ছে নাকি?
আহা! পরের বউ
খুওবি ভালু কথা।
পরের বউ !!! নাউযুবিল্লাহ
আগে নিজের বউ আনেন।
এই পর্বটাতো দেখি পুরাই “মাসুমী’য়
আমি তো অরিজিনাল মাসুম
এরশাদ চাচার কোন পরের বৌ সংক্রান্ত মিটিং নাই
আগে কাঁকনকে মাইনাস দেই। ডুব দেন কেন?
এরশাদ চাচার জীবনটাই তো পরেরবউময়
বদলানো সহজ নয় দেখছি।
কী? বউ বদলানো?
এনএসআইর প্রধান কি সফদর ?
বইটাতে কোনো নাম লেখা নাই। কিন্তু ঐ সময় তো এনএসআই তে শফদরই তো ছিল
পরের বউ নিয়া কাহিনী লিখছেন, কাহিনী কি?
বিয়ে করতেছো কবে?
যেদিন আপনারা একটা পাত্র (হাড়ি পাতিল না কিন্তু) খুঁজে দিবেন।
দোয়া করি শিগগিরই পরের বউ হও
দোয়া করেন ঠিকঠাক। পরের বউয়ের দিকে তাকিয়ে দোয়া কইরেন না, তাইলে আল্লাহ শুনবে না।গুণাহ হবে, বুঝছেন!
আগে একটা বিবাহ করো। তারপর না হয় পরের বউয়ের দিকে তাকাবো
পরের বউয়ের দিকে তাকানো জায়েজ করতে চাইতেছেন, কাহিনী কি?
যার জামাই নাই তার দিকে তাকান না মনে হয়?
ঘটনা সন্দজনক।
তাদের দিকেও তাকাই। তাদের দেখেশুনে রাখাও তো দায়িত্ব-কর্তব্যের মধ্যে পড়ে
পর কে?
সবাইরে নিজের ভাবতে হয়, তাই না টুটুল?
আমাদের কত দায়িত্ব
একটা ট্রান্সলেশন দিচ্ছি, কে কে পারেন, হাত তোলেন, যারা পারেননা তারা দুই হাত তোলেন।
জিয়া হয় একজন বুদ্ধিমান মানুষ।
পারতাছি না। বইলা দেন।
বাসায় ফেরার সময় কর্তার সঙ্গে পাড়ার মুদি দোকানে থামলাম, পরে তাকে বললাম, দোকানের ছেলেটা দেখি তোমাকে বেশ মান্যিগন্যি করে। কর্তা গম্ভীর গলায় উত্তর দিলেন, হুম তা করে, তবে সঙ্গে বউ থাকলে ঐ বেটা বউয়ের দিকে তাকিয়ে থাকে।
আহা...পরের বউ
বইটা পড়তে ইচ্ছা করতেছে, দেশে আসলে মাসুম্ভাইয়ের লাইব্রেরীতে হানা দিতে হবে!
আইসেন।মোস্ট অয়েলকাম
সে আমলে পরের বউ নিয়ে এমন টানাটানির কারন কী?
আর এরশাদ কী ড্রিংসের ব্যাবসাতেও নেমেছিলেন নাকি!
এটা এরশাদের সময় না, জিয়ার কাহিনী।
উপ্স্! সরি! টাইমিঙ গন্ডগোল হয়ে গ্যাছে...
মন্তব্য করুন