এখানে জয়ী হবার বদলে ক্ষমা চাইতে ভালো লাগে

১.
আমাদের বারান্দায় ঘরের চৌকাঠে
কড়ি কাঠে চেয়ারে টেবিলে আর খাটে
দু:খ তার লেখে নাম।
(শামসুর রাহমান)
২.
হাত দেখার একটা নিয়ম আছে। হাত ধরে বলতে হয়, আপনি সবার জন্য এতো করেন, এতো ভাবেন কিন্তু সবাই আপনাকে নিয়ে ঠিক সেভাবে ভাবে না। সবাই আপনাকে বুঝতে পারে না।
সবাই নিজেকে নিয়ে এটাই ভাবে। কিন্তু নিজেও যে কত মানুষকে কষ্ট দেয়. দুঃখ দেয় সেটা বুঝতে পারে না, মনে রাখে না।
এই অংশটুকু আমি নিজেকেই উৎস্বর্গ করলাম।
৩.
ভালো হোক মন্দ হোক যায় মেঘ আকাশে ছড়িয়ে
আমাকে জড়িয়ে ধরে হাওয়া তার বন্ধনে বাহুর।
বুকে রাখে, মুখে রাখে – ‘না রাখিও সুখে প্রিয়সখি!
যদি পারো দু:খ দাও আমি দু:খ পেতে ভালোবাসি
দাও দু:খ, দু:খ দাও – আমি দু:খ পেতে ভালোবাসি।
ভালোবাসি ফুলে কাঁটা, ভালোবাসি, ভুলে মনস্তাপ -
ভালোবাসি শুধু কূলে বসে থাকা পাথরের মতো
নদীতে অনেক জল, ভালোবাসা, নম্রনীল জল -
ভয় করে।
(শক্তি চট্টোপাধ্যায়)
৪.
এই কবিতার নির্বাচনটা মনে হয় ঠিক হলো না। আমরা সবাই দুঃখ বিলাসী হয়, মনে করি দুঃখ পেতেই ভালবাসি। কিন্তু দুঃখও যে দেই সেটা নিয়ে কজন লিখতে পারে?
৩.
আর কে দেবে আমি ছাড়া
আসল শোভন কষ্ট,
কার পুড়েছে জন্ম থেকে কপাল এমন
আমার মত ক’জনের আর
সব হয়েছে নষ্ট,
আর কে দেবে আমার মতো হৃষ্টপুষ্ট কষ্ট
(হেলাল হাফিজ)
৪.
জীবনের অনেকটা সময় পার হয়ে এসেছি। এখন আর নতুন করে জীবন শুরু করার উপায় নেই। নিয়তির হাতে নিজেকে ছেড়ে দেওয়াই তো আমাদের নিয়তি।
৫.
একেবারে চূড়ায়, মাথার খুব কাছে আকাশের নিচে বিপুলা পৃথিবী,
চরাচরে তীব্র নির্জনতা। আমার কষ্ঠস্বর সেখানে কেউ শুনতে পাবে না। আমি
ঈশ্বর মানি না, তিনি আমার মাথার কাছে ঝুঁকে দাঁড়াবেন না। আমি শুধু দশ দিককে উদ্দেশ্য করে বলবো, প্রত্যেক মানুষই অহঙ্কারী, এখানে আমি
একা---এখানে আমার কোনো অহঙ্কার নেই। এখানে জয়ী হবার বদলে ক্ষমা
চাইতে ভালো লাগে। হে দশ দিক, আমি কোনো দোষ করিনি। আমাকে ক্ষমা
করো।
(সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)





ওহ্ চারজন গ্রেটমেন! এরমধ্যে শক্তি চট্টোপাধ্যায় আর হেলাল হাফিজকে সবচে' ভালো পাই।
এদিকে আমি-- শত সহস্র আর্তনাদ
ওদিকে তুমি-- এক পরমাশ্চর্য না-শোনা
(মির্জা গালিব)
ব্লগ থেকেই শুরু করি।
প্রিয় জয়িতা,
আমি দুঃখিত, সত্যিই
এবং ক্ষমাপ্রার্থী
মন্তব্য করুন