এলোমেলো কিংবা উল্টাপাল্টা
নদী ভরা কূলে কূলে , খেতে ভরা ধান ।
আমি ভাবিতেছি বসে কী গাহিব গান ।
১.
বরং বাবার কথা বলি। আমার বাবা গ্রামে মানুষ, ম্যাট্রিক পাশ করে বরিশালে এসেছিলেন বিএম কলেজে পড়তে। এর পর চাকরি হয় পাকিস্তানের বিমান সংস্থা পিআইএতে। জীবনটা সে সময় সহজ ছিল। চাকরি পেয়ে বিয়ে করেন, আমার মা তখন ১৩ বছরের। আমার বাবার পোস্টিং ছিল করাচীতে, ৭১ এ মুক্তিযুদ্ধের সময় চাকরি ছেড়ে দেন। পাকিস্তানিদের অধীনে চাকরি আর করার সেই সিদ্ধান্ত যথেষ্ট সাহসী ছিল বলা যায়। কারণ আমার বাবা অস্ত্র হাতে যুদ্ধে যাওয়ার মতো মানুষ ছিলেন না। আমরা তখন তিন ভাই বোন। সুতরাং অনিশ্চিত একটি জীবন ছিল আমার বাবার সামনে। যুদ্ধের সময় আমাদের নানা বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছিলেন আমার বাবা। বাবা ঢাকায় কিভাবে ছিলেন আমি জানি না। আশ্চর্য, একদিনও বাবার কাছে সেটা জানতে চাইনি।
বাবাকে প্রচন্ড ভয় পেতাম, বাবার সাথে কখনো বসে গল্প করা হয়নি। গল্প করতে না জানা বাবা কতটা নি:সঙ্গ ছিলেন সেটা এখন বুঝতে পারি। এখনো চোখ বুঝলে বাবাকে দেখি, কাছে যেতে পারি না। বাবাকে আজকাল খুব মনে পড়ে।
২.
আমার নাম মাসুম। আমি একটি কবিতা পড়বো। কবিতার নাম দান, লিখেছেন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
কাঁকন-জোড়া এনে দিলেম যবে,
ভেবেছিলেম, হয়তো খুশি হবে।
তুলে তুমি নিলে হাতের ‘পরে,
ঘুরিয়ে তুমি দেখলে ক্ষণেক-তরে,
পরেছিলে হয়তো গিয়ে ঘরে -
হয়তো বা তা রেখেছিলে খুলে।
এলে যেদিন বিদায় নেবার রাতে
কাঁকনদুটি দেখি নাই তো হাতে,
হয়তো এলে ভুলে।।
দেয় যে জনা কী দশা পায় তাকে,
দেওয়ার কথা কেনই মনে রাখে!
পাকা যে ফল পড়ল মাটির টানে
শাখা আবার চায় কি তাহার পানে।
বাতাসেতে-উড়িয়ে-দেওয়া গানে
তারে কি আর স্মরণ করে পাখি?
দিতে যারা জানে এ সংসারে
এমন ক’রেই তারা দিতে পারে
কিছু না রয় বাকি।।
নিতে যারা জানে তারাই জানে,
বোঝে তারা মূল্যটি কোনখানে।
তারাই জানে, বুকের রত্নহারে
সেই মণিটি কজন দিতে পারে
হৃদয় দিতে দেখিতে হয় যারে -
যে পায় তারে সে পায় অবহেলে।
পাওয়ার মতন পাওয়া যারে কহে
সহজ ব’লেই সহজ তাহা নহে,
দৈবে তারে মেলে।।
ভাবি যখন ভেবে না পাই তবে
দেবার মতো কী আছে এই ভবে।
কোন্ খনিতে কোন্ ধনভান্ডারে,
সাগর-তলে কিম্বা সাগর-পারে,
যক্ষরাজের লক্ষমণির হারে
যা আছে তা কিছুই তো নয় প্রিয়ে!
তাই তো বলি যা-কিছু মোর দান
গ্রহণ করেই করবে মূল্যবান
আপন হৃদয় দিয়ে।।
এতো বড় হয়েছি, তারপরেও কেউ কিছু দিলে খানিকটা অস্বস্তিতে পড়ি।
আমার হৃদয় প্রাণ
সকলই করেছি দান ,
কেবল শরমখানি রেখেছি ।
চাহিয়া নিজের পানে
নিশিদিন সাবধানে
সযতনে আপনারে ঢেকেছি ।
হাহাহাহাহহাহাহহাহাহহাহাহাহাহা
হাসলাম কারণ রবীন্দ্রনাথের এই কবিতার পরের লাইনগুলো পড়লে হাসি আসবেই। কারণ এই কবিতাটা আসলে এখানে যাওয়ার কথা না। তাই পুরো কবিতাটা আর দিলাম না, তাহলে কিন্তু যাচ্ছে।
৪.
তোমার শরীর —
তাই নিয়ে এসেছিলে একবার — তারপর, মানুষের ভিড়
রাত্রি আর দিন।
তোমারে নিয়েছে ডেকে কোন্দিকে জানি নি তা — হয়েছে মলিন
চক্ষু এই — ছিঁড়ে গেছি — ফেঁড়ে গেছি — পৃথিবীর পথে হেঁটে হেঁটে
কত দিন — রাত্রি গেছে কেটে
কত দেহ এল, গেল — হাত ছুঁয়ে ছুঁয়ে
দিয়েছি ফিরায়ে সব — সমুদ্রের জলে দেহ ধুয়ে
নক্ষত্রের তলে
বসে আছি — সমুদ্রের জলে
দেহ ধুয়ে নিয়া
তুমি কি আসিবে কাছে প্রিয়া!
জীবনানন্দ দাশের লোকেন বোসের জার্নালের প্রথম কটি লাইন এরকম,
সুজাতাকে ভালোবাসতাম আমি —
এখনো কি ভালোবাসি?
সেটা অবসরে ভাববার কথা,
অবসর তবু নেই;
সচীন কর্তার আত্মজীবনী পড়ছিলাম। মাত্র তিনি বোম্বে গেছেন কোলকাতা ছেড়ে। কিন্তু ভাল লাগছিল না সেখানে। কেন? কারণ বোম্বেতে না কি খালি ব্যস্ততা কোনো জীবন নেই। এর উদাহরণ দিয়ে তিনি বললেন, 'এই শহরে আলসেমি করা যায় না'।
আহা, কি চমৎকার একটা লাইন। এই আলসেমি করার লোভেই তো নয়টা-পাঁচটার চাকরি করা হলো না। ১০ টা পর্যন্ত ঘুমানোর যে মজা সে এই বয়সে কয়জয়নই বা জানে।
কিন্তু সেই অবসর বা আলসেমি করার দিনও শেষ। মেয়ের স্কুল সকাল সাড়ে সাতটায়। আমাকেই দিয়ে আসতে হয়। বাসায় ফিরি রাত ১২টার পর। যে ঘুমের লোভে এই চাকরি, সেই ঘুম ঘুমানোর সময় আর নেই। তার উপরের ডাক্তারের যন্ত্রণা। বলে নিয়মিত না ঘুমালে ব্লাড প্রেসার কমবে না।
আমার বউটা বেশ ভাল আছে। শাড়ি বা গহনার কোনো লোভ নেই। খুব বেশি ঘুড়তেও চায় না। সন্দেহ রোগ নেই। মাথা ধরলে হাত বুলিয়ে দেয়। আর এখন রক্তে প্রেসার বাধিয়ে মোটামুটি আরাম আয়েশের একটা বন্দোবস্ত করে ফেলেছি।
অনেক খুঁজেও বউ নিয়ে ভাল কোনো কবিতা পেলাম না।
এত কথা আছে, এত গান আছে, এত প্রাণ আছে মোর,
এত সুখ আছে, এত সাধ আছে – প্রাণ হয়ে আছে ভোর।।
কাল রাতে আমার বউ বলে এমন এক জামাই পেলাম যার সঙ্গে একটু রাত জেগে গল্পও করতে পারলাম না। আসে এতো রাতে, এসেই বলে চলো ঘুমাই।
৫.
যখন মৃত্যুর ঘুমে শুয়ে রবো — অন্ধকারে নক্ষত্রের নিচে
কাঁঠাল গাছের তলে হয়তো বা ধলেশ্বরী চিলাইয়ের পাশে –
দিনমানে কোনো মুখ হয়তো সে শ্মশানের কাছে নাহি আসে –
তবুও কাঁঠাল জাম বাংলার- তাহাদের ছায়া যে পড়িছে
আমার বুকের পরে — আমার মুখের পরে নীরবে ঝরিছে
খয়েরী অশথপাতাত — বইচি, শেয়ালকাঁটা আমার এ দেহ ভালোবাসে,
নিবিড় হয়েছে তাই আমার চিতার ছাইয়ে — বাংলার ঘাসে
গভীর ঘাসের গুচ্ছে রয়েছি ঘুমায়ে আমি, — নক্ষত্র নড়িছে
আকাশের থেকে দূর-আরো দূর-আরো দূর-নির্জন আকাশে
বাংলার-তারপর অকারণ ঘুমে আমি পড়ে যাই ঢুলে।
আবার যখন জাগি, আমা শ্মশানচিতা বাংলার ঘাসে
ভরে আছে, চেয়ে দেখি,-বাসকের গন্ধ পাই-আনারস ফুলে
ভোমরা উড়িছে,শুনি-গুবরে পোকার ক্ষীণ গুমরানি ভাসিছে বাতাসে
রোদের দুপুর ভরে-শুনি আমি; ইহারা আমার ভালোবাসে-
৬.
বয়স আরও বাড়লো





শুভ জন্মদিন (একঘন্টা আগে)।
লেখা উমদা হয়েছে
তোমারেও উমদা ধন্যবাদ
একটা লেখার ভেতর ঢুকছি তো ঢুকছিই, এরকম অনুভূতি তৈরী হলো। বাবা বিষয়টা মারাত্মক। আমি ফীল করি ভীষণ।
বাবা থাকতে এতোটা মনে হয় বাবাকে নিয়ে ভাবতাম না। সত্যি।
শুভ জন্মদিন মাসুম ভাই। অনেক অনেক শুভেচ্ছা এবং শুভকামনা। ভালো থাকেন, সুস্থ থাকেন।
চমৎকার পোষ্ট।
অনেক শুভেচ্ছা ও শুভকামনা তোমার জন্যও
হেপ্পি বাড্ডে মাসুম ভাই...
লেখাটা পড়তে পড়তে কেমন একটা ঘোরের ভিতর ঢুকে যাচ্ছিলাম...
একদিনের বড় হওয়ায় আপনারেও সালাম
শুভ জন্মদিন প্রিয় মাসুম ভাই

ধন্যবাদ মীর।
অনেক অনেক শুভেচ্ছা শুভ জন্মদিন
বয়স যেন হইল কত ছয়ের পিঠে তিন ????
উল্টোটা
শুভ জন্মদিন প্রিয় প্রিয় মাসুম ভাই।
ধন্যবাদ সাবেক আশরাফ
আপনার প্রেমজীবন সমগ্র নিয়ে একটা তথ্যবহুল প্রতিবেদন চাই
প্রেম করে মাইনষে?
মাসুম ভাই শুভ জন্মদিন । সিসিবিতে অনেক দিন আপনার লেখা পাই না।হয়ত কখনও বলা হয় নাই সিসিবিতে আপনার লেখার অনেক পাঠকদের মাঝে আমি একজন।আপনার জন্মদিনে সিসিবিতে একটি পোস্ট আশা করছি ।
জনৈক এক্সক্যাডেট
আরে মাহমুদ যে। ভাল লাগলো দেখে। অবশ্যই লিখবো। জন্মদিনের দিন লিখতে পারি নি, পরে অবশ্যই লিখবো। কেমন আছো?
আবারো শুভ জন্মদিন
আবারো নিলাম
শুভ জন্মদিন মাসুম ভাই। এরকম ভালো থাইকেন বাকি জীবন।
আপনার বাবাকে ভয় পেতেন কেন? আমি বাবারে জমের মত ভয় পাইতাম। কারন? কারণ পিটায়া চামড়া তুইলা ফেলত।
আবার বাবা কখনো মারতো না। কিন্তু ব্যক্তিত্বটাই এমন ছিল যে, আওয়াজ পেলেই ভয় পেতাম। আমাদের সময়ে বাবাকে ভয় পাওয়া নিয়মের মধ্যে ছিল।
আজ ব্লগে না-এলে দারুন টাটকা এই পোস্ট মিস করতাম । ব্লগে আসিই তো এমন কিছু পাবো সেই আশা নিয়ে - কখনও সে আশা পূরণ হয়, কখনো বা হয় না । মাসুমের লেখার এই মাসুমীয় স্টাইলের প্রতি কেমন কেমন করে আকৃষ্ট হয়ে পড়লাম নিজেই বুঝতে পারিনা ।
জন্মদিনের শুভেচ্ছায় বলীয়ান হয়ে আরও আরও বেশী লেখা আসুক কী-বোর্ড থেকে, ঝরনার জলধারার মত অবিরাম, অবিশ্রান্ত এই কামনা করি । ভালো থাকুন ।
[অঃটঃ উচ্চ রক্তচাপ কোন রোগ নয় । এটা নিয়ে দুশ্চিন্তা করা এবং কিছু অভ্যাসকে প্রশ্রয় দেওয়া থেকে বিরত থাকলে আমার মত আপনিও ভালো থাকতে পারবেন । ওষুধ খেতে ভুলবেন না এবং কখনোই ওষুধ খাওয়া বন্ধ করবেন না।]
ভাল থাকেন হুদা ভাই। আর ব্লগে নিয়মিত আসবেন না কেন? আসেন, তাতে আমরা উৎসাহ পাই।
নিয়ম মানার চেষ্টা করছি।
শুভ জন্মদিন মাসুম ভাই
থেংকু আপু
জন্মদিনে কথাগুলো বলেই ফেলি মাসুম ভাই। তবে জন্মদিন একটা উপলক্ষ্ মাত্র, শুভেচ্ছা জানানোর; কথাগুলো আসলে যে কোনোদিনই বলা যায়!
ব্লগে (সামহোয়ারইন এবং আমরা বন্ধু) আপনার প্রায় সব লেখাই আমার পড়া হয়ে গেছে। বিভিন্ন সময়ে নানারকম লেখা পড়ে অদ্ভুত সব অনুভূতি হয়েছে। যখন রম্য পড়ি তখন আপনার অসামান্য রসবোধ থেকে উৎসারিত আনন্দের ধারা বইতে থাকে মনে; আর আপনার ব্যক্তিগত গদ্যগুলো পড়ে (যেমন এই লেখাটি বা তোমার সাথে দেখা হবে না... লেখাটি) গভীর আবেগের আবেশে মন ছেয়ে যায়, কখনো কখনো চোখও ভিজে ওঠে হয়তো বা।
আজকের এই লেখাটির কথাই ধরা যাক আপনার। কয়েকটি প্রিয় কবিতার কম্পাইলেশন করেছেন এমন এক ভঙ্গিতে, এমন চমৎকার করে এগুলো নিজের অভিজ্ঞতার সঙ্গে মিলিয়ে দিয়েছেন যে, কবিতাগুলোও আপনার লেখারই অংশ হয়ে উঠেছে।
আপনার এসব লেখা পড়লে আমার মনে হয় - আপনি আপনার সৃজনশীল ক্ষমতাকে খানিকটা অবহেলাই করেছেন; এ ধরনের লেখালেখি আপনার কাছ থেকে আরো কিছুটা সময় ও মনোযোগ আশা করে।
আপনাকে রম্য-রচনা নিয়ে একটা বই করার কথা বলেছিলাম। এখন আবার বলছি। রম্যরচনা বা ব্যক্তিগত রচনা যে কোনো ধরনের বা দু-ধরনেরই হতে পারে। জন্মদিনে দাবি করলাম, রাখবেন আশা করি। আগামী বইমেলায় আপনার একটা বই দেখতে চাই।
অনেক অনেক শুভেচ্ছা মাসুম ভাই।
মডু কই? কথাগুলো বান্দাইয়া রাখতে হবে
অনেক অনেক ধন্যবাদ কামাল ভাই। মনে রাখছি কথাগুলো।
বিয়াপকভাবে লাইক দিলাম
একই সাথে ভাল লেখক এবং ভাল মানুষের সমন্বয় কমই হয়... আপনাকে বলিনি জনাব !!
বুঝছি তো জে আমারে বলেন নাই।
মনে রাখার মত লেখা
আমি যদিও আমার বাবা-মা দুইজনকে যাকে যাটা বলা যায়, বলি। তবুও আজ-কাল খুব মনেহয়, বাবা-মা কত নিঃসঙ্গ।
তাদেরও একটা সময় কেটেছে "এই আমাদের, চার ভাই-বোন'কে কিভাবে সৎ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলবেন" এই নিয়ে। অথচ, আজ বুড়ো-বুড়ি সারাদিন শুয়ে, বসে কাটিয়ে দেন। তাদের যেন আর কিছুই চাওয়ার নেই, কিছুই করারও নেই। আর আমরা? আজ আমরা নিজ নিজ সন্তান আর সংসার নিয়ে ব্যস্ত। কাল আমরাও তাদেরই মত বুড়ো হয়ে এভাবেই শুয়ে বসে দিন পার করবো। তখন জীবনটা কেমন হবে? এটা ভাবতেই চোখ ছলছল করে উঠে আমার
আমার বাবা খুব নিঃসঙ্গ ছিলেন। আমরা তখন কাছে যাইনি। এখন যেতে চাই, কিন্তু বাবাই তো আর নেই।
মাসুম ভাই, বুঝলেও অনেক সমস্যার সমাধান করা যায় না। বাসায় ফোন করলে আব্বু কেমন আছো, কি করো এরপর আর দুজনেই কথা খুঁজে পাই না, ঐদিকে মায়ের সাথে কথা শেষ হয় না। অদ্ভূদ ব্যাপার। অথচ এখন দেশে গেলে বাবা মুখে তুলে খাইয়ে দেয়। যাক একটাই আশার কথা ভাই আছে বাবার পাশে।
প্রিয়তে রাখলাম পোষ্টটা
আসলেও অদ্ভুত ! আমার ছেলে, আমার মেয়ে আমার সাথে কেন জানি না তেমন করে কথাই বলেনা । যত কথা সব ওদের মায়ের সাথে । অথচ আমি কোনদিনই গোমড়া মুখো নই । আমি কিছু জানতে চাইলে ঘাড় নেড়ে, হ্যাঁ বা না করে তাদের কথা শেষ করে । আমি উৎসাহ হারিয়ে ফেলি !
আপনার লেখাটা পড়ে অদ্ভুত অনুভূতি হচ্ছে মাসুম ভাই। অসম্ভব সুন্দর লেখা। আমার বাবার সাথেও আমার খুব ভালো সম্পর্ক ছিলো। একটা উদাহরণ দিলে বুঝতে পারবেন। স্কুল থেকে ফেরার পথে সাইকেল চড়ে বাড়ি ফিরতে ফিরতে প্রতিযোগিতা চলতো, কে আগে যেতে পারে। বন্ধুরা ঠাট্টা করতো, ঈর্ষা করতো বাবার সাথে সম্পর্ক দেখে। কেন জানিনা এখন আর সম্পর্কটা আগের মত নেই। বাড়ি গেলে এক সাথে টিভি দেখি, খাই, গল্প-সল্পও কম হয় না। কিন্তু কোথায় যেন একটা দুরত্ব তৈরি হয়েছে। খুব খারাপ লাগে, কিন্তু আর ওই দুরত্ব অতিক্রম করতে পারি না।
মন্তব্য করুন