১০ বছর আগে ও আজ
১০ বছর আগের কথা
ঠিক ১০ বছর আগের কথা। হিসেব করে দেখলাম ১০ বছর আগের কথাই। তখন ইত্তেফাকে কাজ করি। আমার এক সোর্সের বাসা ছিল উয়ারিতে। ইত্তেফাক থেকে কাছে, হেঁটেই যাওয়া যায়। আমার সেই সোর্স কিছু কাগজ পত্র বাসায় নিয়ে যেতেন, আমি বাসা থেকে সংগ্রহ করতাম। অনেকদিন এজন্য বাসায় গিয়েছি।
সেইদিনও অফিস থেকে বের হয়েছিলাম। আমার মনে আছে উয়ারিতে ঢুকেই ডান দিকের রাস্তায় যেতে হয়। কিন্তু সেদিন যে কী হল! আমি ডান দিকে ঢুকতেই পথ হারিয়ে ফেললাম। আমার মাথা পুরোপুরি শূন্য হয়ে গেল। কিছুতেই রাস্তা চিনতে পারলাম না। আমি কেবল উদভ্রান্তের মতো হাঁটছি তো হাঁটছিই। কিন্তু রাস্তা খুঁজে পাচ্ছি না। এভাবে মনে হয় আমি একঘন্টার মতো হেঁটেছি। ঘামছিলাম, কোনো রাস্তাই চিনতে পারছিলাম না। আমার মাথা পুরো ফাঁকা, খালি হাঁটছিই।
তারপর হঠাৎ দেখি সেই ডানের রাস্তা, একটু এগোলেই সেই বাসা। সহজ রাস্তা।
কেন সেদিন হঠাৎ মাথা এভাবে শূণ্য হয়ে গেছিল আমি আজও বুঝতে পারিনি।
১০ বছর পরে, আজ
আমার মেয়ে প্রিয়ন্তীর ফার্স্ট টার্ম পরীক্ষা শেষ হয়েছে গত বুধবার। টানা চারদিন বন্ধের পর আজ খুললো। সকাল সাড়ে সাতটায় ক্লাশ শুরু হয়, শেষ হয় ১১টা পাঁচে। ওর মা দিয়ে আসে, আর আমি নিয়ে আসি।
আজ ঘুম থেকে উঠে দেখি ৯ টা বেজেছে। বউ কাজে চলে গেছে। আর আমার ছেলে তার সবচেয়ে প্রিয় কাজ করছে, ঘুমাচ্ছে। আমি মুখ ধুয়ে নাস্তা নিয়ে টিভির সামনে বসলাম। টিভি খুলে দেখি লাদেন নিহত, ব্রেকিং নিউজ দিচ্ছে সবাই। বিবিসি দিয়ে রাখলাম। খানিকক্ষণ দেখে ভাবলাম একটা মুভি দেখি। সার্টিফায়েড কপি খানিকটা দেখে রেখেছিলাম। সেটা শেষ না করে চুংকিং এক্সপ্রেস চালালাম। ভালই লাগছিলো। টানা দেখা যায় না। অফিস থেকে ফোন আসলো দু'বার। আরও কয়েকটা ফোন এলো এরপর। মুভি বন্ধ রেখে আবার কিছুক্ষণ লাদেন সংক্রান্ত নিউজ দেখলাম। তারপর পর আবার মুভি। সুযোগ পেয়ে ছেলেও ঘুমাচ্ছে।
এবার ল্যাপটপটা অন করে ফেসবুকে ঢুকলাম। পড়ুয়া নামে নতুন একটা গ্রুপে কে যেন আমাকে অ্যাড করেছে। সেখানে ঢুকে দেখি রাজ্যের বইয়ের খবর। সেখানে কিছু সময় দিলাম। তারপর আবার একটু মুভি। আর মাথায় তো আরও রাজ্যের চিন্তা ভাবনা আছেই। ফেসবুকেও বেশিক্ষণ থাকলাম না।
বউ আসলো সোয়া ১২টার দিকে। এর মধ্যে ছেলেও উঠেছে। ছেলের দিকে তাকিয়েই আমার ভয়ে রক্ত ঠান্ডা হয়ে গেল। আমি চিৎকার দিয়ে বললাম, আমার মেয়ে কই?
মেয়ে তো স্কুলে। ছুটি হয়েছে ১১টা পাঁচে। আমি এক চিৎকার দিয়ে যে অবস্থায় ছিলাম, কেবল মানিব্যাগটা নিয়ে এক দৌঁড়। দ্রুত দৌঁড়াতে গিয়ে রগে টান পড়লো, তারপরও রিক্সা না পেয়ে হাঁটতেই লাগলাম। পথে একটা রিক্সা পেয়েই বললাম, জোরে চালাও।
স্কুলে যেয়ে দেখি, আমার মেয়ে একা দাঁড়িয়ে, কাঁদছে। আমি কোলে তুলে নিতেই সে থাকতে চাইলো না। দেখি চোখ মুখ ফোলা, চোখে পানি। আমার কিছুতেই ওকে ছাঁড়তে ইচ্ছা হলো না।
এভাবে ১০ বছর পর আমার মাথা এভাবে ফাঁকা কেন হলো আমি সারাদিন ধরে এটাই ভাবছি। কিভাবে বেমালুম মেয়ের কথা ভুলে গেলাম?
আর কারো কী এরকম হয়?





আমার হয় ।
অনেক চিন্তা নিয়ে চল্লে
অনেক টেনশনে থাকলে এরকম হয় মাঝে সাজেই।
আর যেন না হয়
সুমন ভাই এর সাথে একমত। হয়ত কোন কারণে আনমনা, অস্থির ছিলেন তাই এমন ভুল হলো। ভালো থাকেন।
কল্পনা করতে পারছি ঘটনাটি কত ভয়াবহ!
এবার তো হল ১০ বছর পর...এরপর হয়তো ৫ বছর পরে...তারপরে হয়তো ৫ মাস পরে পরে...কোন এক সময় হয়তো প্রতিদিন...এইতো জীবন...
~
আমার এরাম শর্ট-টার্ম মেমোরি লস মাঝে মইধ্যেই হয়। তয় রাস্তা হারাইয়া ফেলা এরাম হয়নাই।
কি সাংঘাতিক! তাড়াতাড়ি ভাল হয়ে যাবেন আশা করি।
দিলেন তো ভয় ধরিয়ে... কোনদিন না আমারো এমন হয় আবার
সাবধানে থাইকেন
নিধির স্কুলে অবশ্য একটা সুবিধা আছে, যতক্ষণ অভিভাবক নিতে না আসবে ক্লাশ টিচার সঙ্গে থাকবে
আর যেন না হয়! আপনার ছেলে-মেয়ের প্রায় সব ছবিই আমার মুখস্ত-ফেসবুক দেখেদেখে! মায়া জন্মে গেছে!
মাঝে মধ্যেই হয়ে থাকে, কিন্তু এত সিরিয়াস না...
সব ঠিক হয়ে যাবে মাসুম ভাই।
ছোটোখাট ভুলে যাওয়া তো রেগুলার হয়। আর এপর্যন্ত যতদিন আমি দুধ চুলায় জাল দিছি ততবারই ভুলে গেছি এবং দুধ পুড়ছে।
সব্বোনাষ, কন কী ! ভয়েতো আমার হাত-পা কাঁপছে... অন্য কিছু ভুলে যান সমস্যা নাই, তাই বলে নিজের মেয়েকে আনতে ভুলে যাবেন ?
প্রিয়ন্তীর জন্য অনেক আদর।
যাক! তবু খারাপ কিছু তো হয় নি! প্রিয়ন্তীর জন্য শুভকামনা
একবার হইছে এমন, ডিসটার্বড ছিলাম একটা বিষয়ে, একখানে যাইতে বার হয়ে অনেকপর হুস হলো উল্টা পথে হাটতেছি, ঘড়ি দেখলাম প্রায় একঘন্টা হাটছি!
কিন্তু মেয়েরে কেম্মে ভুললেন!
রায়হানভাই, দুধ জ্বাল দিতে গেলে আমিও পুড়াই
গত বৃহস্পতিবার সাড়ে তিনটার দিকে ঋহানের ফিডার আর ডমি ফুটানোর জন্য পানি ভর্তি পাতিলে সেগুলো রেখে পাতিল চুলায় চড়িয়ে এসে নেট এ বসলাম। এদিকে টুটুল জোরে টিভি ছেড়ে রুমের দরজা বন্ধ করে দিলো, অন্য রুমে আমার শ্বাশুড়ি ঘুমাচ্ছে বলে। ইতিমধ্যে প্রায় ৪০-৫০মিনিট পার হয়ে গেলো। আমি নেট এর কাজ শেষ করে এসে বিছানায় শুয়ে শুয়ে টিভি দেখায় যোগ দিলাম। এদিকে পাতিলের পানি শুকিয়ে ঋহানের সব ফিডার আর ডমি পুড়ে, গলে পাতিলের সাথে লেগে সেই গলিত প্লাষ্টিকও পুড়ে ছাড়খার। আমি প্লাষ্টিক গলা গন্ধ পেয়ে বার বার টুটুলকে বলছিলাম, ইলেক্ট্রিকের তার পোড়া গন্ধ পাচ্ছি। সে আমারে বলে, আমার নাকেই নাকি গন্ধ। আমি শেষমেশ উঠে রুমের দরজা খুলতেই দেখি পুরো ঘর সাদা ধোয়ায় আচ্ছন্ন। দিলাম এক চিৎকার! দৌড়ে গিয়ে যে চুলা নিভাবো সেটাও তখন মাথায় আসছিলো না। টুটুল গিয়ে নিভালো। আর ঠিক তখনই আমার স্বাশুড়ির ও সেই গন্ধে ঘুম ভাঙ্গল আর ঠিক তখনই আমাদের পাশের ফ্ল্যাট থেকে ফোন এলো "ভাই, আপনাদের রান্না ঘর থেকে কিছু পুড়ার গন্ধ পাচ্ছি, একটু দেখবেন?"
মাথা যে কিভাবে এত্ত ফাঁকা হয়ে যায় মাঝে মাঝে, বুঝি না
ঘটনা সন্দেহজনক!!!

সন্দেহ খুব খ্রাপ জিনিস
সময়ের অভাবে আলাদা করে উত্তর দিতে পারলাম না। সবাইকে ধন্যবাদ, কেউ আমার লেখা পড়তে ভুলেন নাই দেখে
কাকতালীয় একটা জিনিস। বাবাদের এটা বেশি হয় মায়েদের হয় না। কিন্তু আমার মায়ের হতো। আমার মা অনেক সময়ই আমাদেরকে স্কুলে থেকে আনতে লোক পাঠাতে ভুলে যেতেন, খুব খারাপ লাগতো, খুব। সাড়ে দশটায় স্কুল ছুটি হতো অনেক সময় সাড়ে বারোটায় আনতে পাঠাতেন। তবে কোন কিছু ভুলে যাওয়ার জন্যে টিভি আর নেট দুটোই খুব উপকারী
মন্তব্য করুন