একটা সিরিয়াস সাহিত্য আলোচনা
এটা একটা সাহিত্য আলোচনা পোস্ট। আমার হাতে একটি প্রকাশনা রয়েছে। একটি লিটল ম্যাগ। লিটল ম্যাগটি ঢাকার বাইরে থেকে প্রকাশিত। এটি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার সুযোগ রয়েছে। বাংলাদেশের আনাচে কানাচে নানা ধরণের প্রতিভা রয়েছে। সৃজনশীল কর্মকান্ডে নিয়োজিত মানুষের সংখ্যাও কম নয়। তাদের তুলে আনতে না পারলে দেশ আগাবে না। আমার মতো ক্ষুদ্র মানুষের এই প্রয়াস যদি দেশের সাহিত্যের মনোন্নয়নে কিছুটা অবদান রাখতে পারে তাহলেই এই প্রচেষ্টা স্বার্থক হবে।
১.

লিটল ম্যাগটির নাম পানসি। সম্পাদক বলছেন এটি মূলত শিল্পের খোঁজে নান্দনিক যাত্রা। প্রকাশনাটিতে অনেকগুলো গুচ্ছ কবিতা আছে। অনুগদ্য আছে, একক কবিতা আছে, বাদ যায়নি অনুবাদ গ্রস্থালোচনাও। এসব নিয়ে আলোচনার আগে সম্পাদকীয় পাঠটি জরুরী। সম্পাদক অবশ্য এর নাম দিয়েছেন প্রাত:পাঠ। আসুন এটি পড়ি।
''বড্ড দুঃসময় এখন; বড্ড দুঃসময়। শর্টকার্ট পোশাকের মধ্যে যখন প্রতিনিয়ত শ্বাসরুদ্ধ হচ্ছে আমাদের সভ্যতা-তখন উরুতচিপা স্যুট আর স্বচ্ছ ব্লাউজের নিচের ব্রা গতানুগতিক প্রগতির মুখ ভেঙচি কাটবে! এটাই স্বাভাবিক।''
তৈরি শিল্পে যে বাংলাদেশ বিশ্বে স্থান করে নিয়েছে সম্পাদকের একটি লাইন থেকে এটাই প্রতিয়মান। এখানে অর্থনীতি ও সমাজনীতি একাকার হয়ে গেছে। কারণ এখণ বড্ড দুঃসময়।
সম্পাদক আরো লিখেছেন, ''সাধারণ কথাগুলো অসাধারণ আঙ্গিকে উপস্থাপন করে যারা সাহিত্য ও শিল্পকর্মের বরপুত্র সাজতে চান, বড় ধৃষ্টতার সাথেই বলি-পানসি তাদের শুভযাত্রার মাধ্যম নয়।''
সম্পদক এখানে কাদের কথা বলছেন? যারা বুঝতে পারছেন না তাদের জন্য আরেকটু খোলাসা করেছেন সম্পাদক।
আসুন পড়ি-''যারা ইতিপূর্বে সাহিত্যের স্বরলিপি না জেনে বিশালতার বুকে ডুবসাঁতারে গতর ভিজিয়েছেন অথবা প্রাগৈতিহাসিক মতাদর্শে পানসিকে যন্ত্রযান বানানোর নষ্ট শিল্পকর্মে মত্ত ছিলেন, কেন জানি (!) বারঙবার মনে হয়েছে তাদের প্রগতিশীলতা তধা প্রগতির চর্চ্চা-পেন্টি পরে পর্দা প্রথার পক্ষে কড়া গলায় শ্লোগান করার মতোন; স্বচ্ছতার দৃষ্টিতে আজ তাদেরই ঠুঁটো জগন্নাথ, নারীলোভী ও বেশ্যার দালাল বৈ কিছুই বলতে পারছিনা।''

এই সম্পাদকীয় বা প্রাতঃপাঠ পড়ার পর ভেতরেরে গদ্য ও পদ্য নিয়ে আলোচনা করার ঠিক সাহস পাচ্ছি না।
পানসি বের হয়েছে ছাগলনাইয়া, ফেনী থেকে। এর সম্পাদক জনৈকা বকুল আক্তার দরিয়া।





কিছু বহুল চর্চিত শব্দের (অপ!?)ব্যবহার করার প্রাসঙ্গিকতা, বিশেষত সাহিত্য সাময়িকীর ভুমিকায়, খুঁজে পাইতেছি না। তবে, লিটল ম্যাগটা পড়নের আগ্রহ জাগতেছে। যদি এইটাই মূল কারণ হয় এরকম শব্দ চয়নের, তাইলে বলতে হয় সম্পাদক সফল...
খালি বহুল চর্চিত? বহু পরিতও বটে। যেমন ধরেন ব্রা, পেন্টি
গোল্লা-বান্দা ভাইরে...
উত্তম ঝাজা...
সাথে মাসুম ভাইরেও...
সম্পাদকের তো দেখি বিশেষ কাপড়চোপড়ের প্রতি খুব ভালোবাসা।আহা কত প্রতিভা মানুষের!এরম তো মইরা গেলেও লিখতে পারুম না।
এই জইন্যইতো আপনে লিখেন নাই...
লিখেছেন দরিয়া...

দুই হাত ভরিয়া...
সম্পাদকীয় ইন্টােরস্টিং মনে হলো।। সম্পুর্ণ প্রকাশনািট পড়ার আগ্রহ অনুভব করছি।।
সম্পাদককে ঠিক মেয়ে মনে হচ্ছেনা। ব্লগের মত মনে হয় কোন ছেলেই মেয়ে নিক নিয়ে বসে আছে!
তবে সৈয়দ আমিরুজ্জামান বলেছেন: প্লাস!
সম্পাদক মেয়ে। বকুল আক্তার দরিয়ার হাতে বছর তিনেক আগে পানসি'র গাট্টি দেখেছিলাম। উনাকে প্রথম দেখেছিলাম, নোয়াখালিতে, তৃণমূল নারী সাংবাদিক সম্মেলনে। দুইহাতে প্রায় ৩/৪ ডজন চুড়ি ছিল, পরনে জবরজং শাড়ি। তারপর প্রথম আলোর ফেনী অফিসে দেখেছি বোরকা পরিহিত। তাই উনি যে মেয়ে এতে কোনো সন্দেহ নাই। নরা ভাইকে বললাম।
বোরকা পড়া দরিয়া'র হাতে পানসি...
বৃত্ত (হয়) একজন দুষ্টু পাত্র।
একসময় মোটামুটি প্রতিমাসেই একটি-দুটি করে ছোটকাগজ কেনা হতো, কিন্তু আজ পর্যন্ত এমন কোনো ছোটকাগজ দেখি নি যারা বানানের ব্যাপারে যত্ন নেয়। আমি এপর্যন্ত যতোগুলো ছোটকাগজ কিনেছি, তার সবগুলোতে বানানভুল এমন প্রকট যে, একসময় বিরক্ত হয়ে পড়া ছেড়ে দিই। যদি বানান নিয়ে ছোটকাগজগুলো পরীক্ষানীরিক্ষা করতো, সেক্ষেত্রে মানা যেত, কিন্তু যেটা দেখা যায়- ছোটকাগজের সম্পাদকরা হয় বানান সম্পর্কে উদাস, অথবা অজ্ঞ। ব্যতিক্রম থাকতে পারে, কিন্তু সেই কাগজের সাথে আমার দেখা হয় নাই।
শুধু বানান না, সজ্জার ব্যাপারেও তাই। আগের প্যারার লাইন স্পেস ১.৫ হলে পরের প্যারার লাইন স্পেস ১ হয় কীভাবে? কোনো প্যারার আগে স্পেস, কোনো প্যারার আগে স্পেস নাই। এটা জাস্ট একটা উদাহরণ। ছোটকাগজের সম্পাদকরা বোধহয় কনটেন্টের দিকে নজর দিতে গিয়ে এগুলোকে উপেক্ষা করেন, কিন্তু পাঠকের দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে দেখা দরকার, পাঠক পড়তে গিয়ে বিরক্ত হয় কিনা!
সম্পাদকের লেখা পড়ে সে মেয়ে না ছেলে তার সন্দেহটা থেকে গেল
পানসি কিভাবে হাতে পাবো এটি তো জানাননি?
মামা, সম্পাদকের সাথে পেন ফ্রেন্ডশিপ করি ফালান। জমবি ভালো। শব্দ চালাচালি করতে পারবেন। উনি লিখেছেন ব্রা(জিল), আপনি লিখবেন আন্ডার(গ্রাউন্ড)।
কী কইলেন? পেন(টি) ফ্রেন্ডশিপ?
যে যেমন ভাবে, তেমনই...
আর মামা, জমবে ভালোই মনে হয়। আপনাদের ছাগলনাইয়া প্রতিনিধি বলে কথা!
এখন আর নাই আফা
আসতাগফেরুলালাহ! আপনে আমাকে আফা বলতেছেন কেন?
মাসুম ভাই আপনে নিজেই একখান পরতিভা। নইলে এই জিনিস আবিষ্কার করলেন কেম্নে?
একে নাম তার দরিয়া তাই দিল ও তার দরিয়া। পত্রিকার নাম পানসি-- দরিয়াতে তো পানসিই ভাসবে, যাতে চড়িলে লেখক কবি হওয়া যাবে, ট্রলারে তা সম্ভব নয় মোটেই।
হা হা।
সিরিয়াস সাহিত্যালোচনা উত্তম হয়েছে। নিজে একটা লিটল ম্যাগ বানায়ে ফেলবো নাকি ভাবতে বসেছি।
মন্তব্য করুন