রঞ্জনা আমি আর আসবো না
অঞ্জন দত্তের ভক্ত কে কে? আমি হাত তুললাম। গান শুনতে তো ভালই লাগে, গান দেখতেও ভাল লাগে। বৃষ্টির এই গানটার তুলনা কোন গানটির সংগে দেবো?
আমি বৃষ্টি দেখেছি
বৃষ্টির ছবি একেছি
আমি রোদে পুড়ে
ঘুরে ঘুরে অনেক কেঁদেছি
এই অঞ্জন দত্তের আরো পরিচয় আছে। অঞ্জন দত্ত অভিনয় করেন। সেই যে মৃনাল সেনের খারিজের অঞ্জন দত্ত। আবার অপর্না সেনের যুগান্ততেও ছিলেন তিনি। অভিনয় ভাল করেন না এটা বলা যাবে না।
অঞ্জন দত্ত সিনেমা পরিচালনাও করেন। অবশ্য পরিচালক অঞ্জন দত্ত আমাকে খুব মুগ্ধ করেছে তা বলা যাবে না। খুব বেশি মনোযোগ দিয়ে দেখেছি তাও না। কাল দেখলাম। ছবির নাম-রঞ্জনা আমি আর আসবো না

নামটা শুনেই আগ্রহ ছিল। কাল সময় ছিল, দেখে ফেললাম। কিছু সমালোচনার জায়গা তো অবশ্যই আছে। তারপরেও বলা যায় আমি মুগ্ধ। আর কিছু না হোক, কেবল গানগুলো শুনে ও দেখেই তো মুগ্ধ হওয়া যায়। বাড়তি পাওনা অঞ্জন দত্তের অভিনয়। একজন স্টার সহজে এই চরিত্রে অভিনয় করতে চাইবেন না। কিন্তু অঞ্জন দত্ত করেছেন।
আনন্দ বাজার পত্রিকা লিখেছে,
এই অঞ্জনকে আগে আপনি দেখেননি। ‘রঞ্জনা’ নিঃসন্দেহে অঞ্জনের সেরা ছবি। ‘রঞ্জনা’ নিঃসন্দেহে অঞ্জনের সেরা অভিনয়। এতটা সমকালীন, এতটা দুঃসাহসী, এতটা প্রাপ্তবয়স্ক রক-মিউজিকাল এর আগে বাংলায় হয়নি। ‘রঞ্জনা’ সেদিক থেকে অবশ্য-দ্রষ্টব্য হতে বাধ্য।
এটা একটা সময়ের ছবি। যে সময়ে সুমন আর অঞ্জন দত্তরা গান গাইতে শুরু করেছেন। তাদের সেই পথ পরিক্রমার ছবি অঞ্জনা আমি আর আসবো না। এই ছবিতে প্রবল ভাবে আছেন কবির সুমনও। প্রথাগত বাংলা গানের গন্ডি ভেঙেছিলেন তিনি। আবার আনন্দ বাজার থেকে ধার নেই।
অঞ্জন, সুমন, কলকাতার রক-চর্চার তিন স্তম্ভ নন্দন বাগচী, অমিত দত্ত ও লিউ হিল্টকে সঙ্গে নিয়ে একটা গোটা পরিক্রমাকে যেন পর্দায় হাজির করা হল। দেখতে দেখতে মনে হয়, এ ছবি যেন অঞ্জনকে করতেই হত, অঞ্জনকেই করতে হত।
আর হ্যাঁ, স্ট্যানলির ভূমিকায় কবীর সুমনকেই থাকতে হত। অবনী-স্ট্যানলির কথোপকথন তো আসলে সুমন-অঞ্জনেরই। অবনী তাই স্ট্যানলির কাছে অকপটে বলেন, “তোমার মতো লিখতে পারলাম না কোনও দিন!” অতিথি শিল্পী হলেও সুমন বা স্ট্যানলি এ ছবির অন্যতম প্রধান চরিত্র। যিনি বলবেন, চারপাশের মানুষ যে পরিমাণ বঞ্চনার মধ্যে বাঁচছে, সেখানে কনসার্ট করে বেড়ানোটা ক্রমশ তুচ্ছ বলে মনে হচ্ছে! অঞ্জনের সঙ্গীত পরিক্রমায় অবনীর সঙ্গে রঞ্জনার সেতুবন্ধন যতটা জরুরি ছিল, স্ট্যানলির সঙ্গে একান্ত কথনও ততটাই। ‘জাগরণে যায় বিভাবরী’ সম্পূর্ণ হত না সুমনকে ছাড়া, ‘রঞ্জনা’ সম্পূর্ণ হত না ‘গানওলা’কে ছাড়া।
অঞ্জন এখানে পপস্টার অবনী আর সুমন স্টানলি।
ছবিটা মূলত একটা মেয়ের, সেই মেয়েটিই রঞ্জনা। তাকে মফস্বলে দেখে অবনী কোলকাতায় আসতে বলেছিলেন। উদ্দেশ্য একটাই-বিছানায় নেওয়া। একদিন ঠিকই চলে আসে মেয়েটি। শুরু সেখান থেকেই।
‘রঞ্জনা’ আপনাকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেবে, মানুষের মধ্যে এবং একমাত্র মানুষের মধ্যেই এক দেহে বাস করতে পারে ভগবান আর শয়তান। ঠিক এই জন্যই অবনী সম্পর্কে রঞ্জনা (“আপনি বড় ‘সং-রাইটার’ হতে পারেন। কিন্তু আপনি খুব খারাপ মানুষ”) এবং অবনী সম্পর্কে দীপান্বিতা (“আপনি অনেকের অপকার করে থাকতে পারেন। কিন্তু আপনার গান অনেককে বাঁচতে সাহায্য করেছে”) দু’জনের কথাই সমান সত্যি থেকে যায়। আর এই জন্যই ‘রঞ্জনা’কে এতটা আধুনিক মননের ছবি বলে মনে হয়।

ছবিতে অঞ্জনের অনেকগুলো গান আছে। বাড়তি পাওনা সুমনের দুটো গান। এর মধ্যে আমি বৃষ্টি দেখেছিও আছে।
আমার আকাশ কুসুম স্বপ্ন দেখার
খেলা থামেনি
শুধু তুমি চলে যাবে
আমি স্বপ্নেও ভাবিনি
আমি বৃষ্টি দেখেছি
চারটে দেয়াল মানেই নয়তো ঘর
নিজের ঘরেও অনেক মানুষ পর
কখন কিসের টানে মানুষ
পায় যে খুঁজে বাঁচার মানে
ঝাপসা চোখে দেখা এই শহর
আমি অনেক ভেঙ্গেচুরেও
আবার শুরু করেছি
আবার পাওয়ার আশায়
ঘুরে মরেছি
আমি অনেক হেরে গিয়েও
হারটা স্বীকার করিনি
শুধু তোমায় হারাবো
আমি স্বপ্নেও ভাবিনি
আমি বৃষ্টি দেখেছি
হারিয়ে গেছে তরতাজা সময়
হারিয়ে যেতে করেনি আমার ভয়
কখন কিসের টানে মানুষ
পায় যে খুঁজে বাঁচার মানে
ঝাপসা চোখে দেখা এই শহর
আমি অনেক স্রোতে
বয়ে গিয়ে
অনেক ঠকেছি
আমি আগুন থেকে
ঠেকে শিখে
অনেক পুড়েছি
আমি অনেক কষ্টে
অনেক কিছুই
দিতে শিখেছি
শুধু তোমায় বিদায় দিতে হবে
স্বপ্নেও ভাবিনি
আমি বৃষ্টি দেখেছি
আমি বৃষ্টি দেখেছি
আমি বৃষ্টি দেখেছি





সিনেমাটা নামিয়েছি অনেক আগে দেখবো দেখবো করে আর দেখা হয়নি।
দেখে ফেলতে হবে খুব তাড়াতাড়ি।অঞ্জন দত্তের ''জানি দেখা হবে'' এর জন্য অপেক্ষা করছি।
এখানে কেউ ইচ্ছা করলে নামাতে পারেন।
দেখছেন?
লিঙ্ক তো আসে নাই
মুভিটা দেখার আগ্রহ পেলাম। অঞ্জন দত্ত, সুমন আর নচিকেতার মধ্যে একটা কেমন ঠান্ডা লড়াই ছিল। সুমনের গান মুভিতে দিলো! ভাল লাগলো।
সুমন এখানে অনেক গুরুত্ব পাইছে
অঞ্জনের চেয়ে কেন জানি সুমনই আমায় বেশি করে টানে।।
আমাকেও!!
আমাকেও
আমি অঞ্জন দত্তের গানের ভক্ত। ছবিটা দেখে ফেলব।
অপ্রাসঙ্গিকভাবে একটা গল্প বলি, আমার শেয়ারড এপার্টমেন্টের একজন বাসিন্দা হলো কলকাতার এক এংলো ইন্ডিয়ান মেয়ে, সে ভূগোলের ডক্টরেট ছাত্রী। সে একদিন গল্প করছিল যে অঞ্জন দত্ত নাকি বো-ব্যারাক (এংলো ব্যারাক) নিয়ে কি এক ছবি বানাইসে। তাতে এংলোদের চারিত্রায়ন খুবই প্রেজুডিসড, তাই অঞ্জন দত্ত কে তারা হাতের নাগালে পাইলে ব্যাপক ধোলাই দেয়ার প্ল্যান করতেসে।
এই যে বৌ-ব্যারাক ফরেভার
এই ছবিটা শুরু করছিলাম, শেষ করি নাই। ভাল লাগছিল না।
সেই কিশোর বেলা থেকেই অঞ্জন দত্তের একেবারে ডাইহার্ড ফ্যান আমি।কিন্তু তা গানের।তার সিনেমা আমারে অতো বেশি ভালো লাগে না আমার।বং কানেকশন আর ম্যাডলী বাংগালী এই দুটোই খালি ভালো লাগছিলো একটু।উনার ইংরেজী সিনেমা গুলান কেমন জানি খাপ ছাড়া।রঞ্জনা আমি আর আসবোনার ডিভিডি কিনছিলাম কিন্তু প্রিন্ট ভালো না বইলা ফালায় রাখছি।আপনার এই পোষ্ট দেইখা মনে হলো দেখা উচিত।আমি গায়ক অন্জনকেই চাই পরিচালক,অভিনেতা অঞ্জনের চেয়ে।গত শুক্রবার অঞ্জন দত্তের অভিনীত আরেকটা সিনেমা মুক্তি পাইছে "জানি দেখা হবে"।অঞ্জন দত্ত,পায়েল সরকার,মমতা শংকর আর পরমব্রত আছে ছবিটায়।
জানি দেখা হবে দেখতে চাই
অঞ্জন দত্তের এই গানটা যে কতটা প্রিয়, সেইটা বলে বুঝানো যাইবো না
বুঝাইতে চেষ্টা করেন
সুমনের থেকে অঞ্জন বেশি প্রিয় । মুভি ব্লগ দেখে দেখে তো ছবিগুলা দেখতে মন চায় । কিন্তু ভালো ডিভিডি জোগার করাই আমার জন্য ঝামেলা
কী ঝামেলা? জামাই আছে কেন তাইলে?
এই মুভিটা আমার প্রিয় বন্ধুর কাছ থেকে পেয়েছিলাম। নামিয়েও নিয়েছি কালেকশানে। কিন্তু দেখার সুযোগ করতে পারিনি। আপনার আলোচনা মুভিটা দেখার জন্য বাড়তি তাগাদা দিল।
নীড়দা সালাম।
অনেকদিন কোন মুভি দেখি না। মুভিটা দেখার আগ্রহ তৈরী হলো।লিস্টে রাখলাম।
দেখো
মুভিটা আনতে বলে দিলাম আশা করি সোমবারে হাতে পাব। ধন্যবাদ মাসুম ভাই।
দেখছেন?
অবনী সম্পর্কে রঞ্জনার “আপনি বড় ‘সং-রাইটার’ হতে পারেন। কিন্তু আপনি খুব খারাপ মানুষ” এবং অবনী সম্পর্কে দীপান্বিতা “আপনি অনেকের অপকার করে থাকতে পারেন। কিন্তু আপনার গান অনেককে বাঁচতে সাহায্য করেছে” আসলে অধিকাংশ লেখক-গায়ক-নায়ক দের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য, আমরা যাদের অনেক সময়ই রীতিমত “দেবতা” বানিয়ে ফেলি ।
~
একমত।
অঞ্জন দত্তের গান বেশী ভালো লাগে। ছবিও দেখে ফেলবো।
জানি দেখা হবে ও দেখতে হবে।
"আমি বৃষ্টি দেখেছি
বৃষ্টির ছবি একেছি"...আমার অসম্ভব পছন্দের একটি গান।
পোষ্টের জন্য ধন্যবাদ! ছবিটা দেখবো অবশ্যই!
হরতাল উজ্জাপন করা গেল সিনেমা টা দেখে । না দেখলে আসলেই মিস করতাম।
অঞ্জন-সুমন-নচিকেতা কাউকে একে অপরের উপরে তুলতে চাইনা, এরা সবাই জীবনকে সমৃদ্ধ করেছে...
~
কালকে ইরানীয়ান মুভি দেখলাম, মাজিদ মাজিদীর কালার অভ প্যারাডাইস, আপনার কথা আলোচনা করলাম বাসায়, হেঁচকি খান নাইতো?
মুভি টা দেখা হয়নাই । দেখা দরকার ।
মাসুম ভাই পোস্ট দেওয়ার পরদিন আমি রঞ্জনা আমি আর আসবো না আর রকস্টার এই দুইটা সিনেমা দেখলাম পরপর। প্রায় একই ঘরানার দুইটা ছবির তুলনামূলক আলোচনা নিয়া একটা পোস্ট আছে বইলা খালি আমার উপলব্ধির কথা কইতে চাই এই মন্তব্যে। আমার মনে হইছে সত্যজিৎ আর ঋত্বিক পশ্চিমবঙ্গের সিনেমা ভাষার বিশাল ক্ষতি কইরা গেছে। এই জমানায় আইসা পশ্চিমবঙ্গের ফিল্ম মেইকাররা না পারতেছে তাগো মতোন রিয়ালিস্ট বা মেলোড্রামার ছবি বানাইতে, না পারতেছে মুম্বাইয়া ধামাকার সিনেমা বানাইতে...কেমন আধিখ্যাচড়া কিছু একটা হইয়া যাইতেছে বাংলার ছবি।
মন্তব্য করুন