যা মনে আসে তাই
১.
তসলিমা নাসরিনের লেখার হাত কী নষ্ট হয়ে গেছে? পড়ছিলাম নির্বাসন, তাঁর আত্মজীবনী। ভাগ্যিস নিজে কিনি নি। তাই সময় নষ্ট হলেও অর্থনাশ হয়নি। বলে রাখি বইটা জ্যোতির। তসলিমার লেখার বিষয়বস্তু নিয়ে বিতর্ক করা যেতে পারে, তবে এটা ঠিক যে তাঁর লেখার হাত অনেক ঝরঝরে। কিন্তু হতাস হচ্ছি নির্বাসন পড়ে। লেখার ধরণটা ভাল না, ভাষার ব্যবহার ভাল লাগে নাই, ভাষার উপর দখল আছে সেটা বোঝানোর চেষ্টা আছে। কিন্তু একদমই টানলো না। সে তুলনায় পড়ে ভাল লাগলো লীনার ভাইয়ের বইটি। সেদিন অনন্ত মধ্যরাতে, মোস্তাক শরীফ লেখক।
সন্দেহ নাই উপন্যাসটির শুরুটা দুর্দান্ত। আগ্রহ জাগায়। সেই আগ্রহ পুরো বই জুড়েই ছিল। যদিও যে পরিবারের গল্প সেটি পড়লে একটু শঙ্খ নীল কারাগারের আদল আছে। সে যাই হোক বইটা টানা পড়েছি। আমি মনে হয় গত এক বছরে আর কোনো উপন্যাস পড়িনি।
এরপর কী পড়বো? কামাল ভাইয়ের কান্নাপর্ব কিনেছি। কামরুল হাসান নিয়ে হাসনাত আবদুল হাইয়ের বইটাও কিনেছি।
২.
সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের এক সেমিনারে গেছিলাম। বিষয় সামাজিক মাধ্যম। ফাহমিদুল হক মূল পেপার উপস্থান করলেন। আলোচক ছিলাম ব্যারিষ্টার তানজিব, পিয়াল আর আমি। সভাপতি ছিলেন বিভাগের প্রবীণ শিক্ষক অধ্যাপক গোলাম রহমান।
ব্যারিষ্টার তানজিব দুটি কাহিনী বললেন। এক লোকের গাড়ির নীচে চাপা পড়ে মারা গেছেন দুজন। অ্যাক্সিডেন্ট যেহেতু, তাই হত্যা মামলা হল না। জামিনও পেলেন। জামিন পাওয়ার কয়েকদিনের মধ্যেই তিনি ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিলেন যে, বন্ধুদের সঙ্গে মদ খেয়ে মাতাল হয়েছেন। আদালতে এই স্ট্যাটাস দেখিয়ে বিপক্ষের উকিল বললো, দুইটা মানুষ মেরেও এর মধ্যে কোনো অনুশোচনা নেই। বন্ধুদের নিয়ে ফুর্তি করছে। বিচারে তাকে অতিরিক্ত দুই বছর বেশি জেল দিয়েছিল আদালত। সুতরাং ফেসবুক স্ট্যাটাস দেওয়ার ক্ষেত্রে সাবধান।
ব্যারিষ্টার তানজিবের এক মক্কেল, ব্যবসায়ী। ছেলেদের পড়াবেন সিঙ্গাপুরে। কিন্তু স্কুল নেবে না। কারণ কী? চিঠি রেখা হল। সিঙ্গাপুর জানালো যে, তারা গুগল করে দেখেছে ওই লোকের নামে তিনটা মামলা আছে। এর মধ্যে একটা কর ফাঁকির, আর বাকি সম্ভবত অর্থ পাচারের। সুতরাং এরকম লোকের ছেলেদের নেবে না স্কুল।
ব্যারিষ্টার তানজিব আরও জানালো, এখন আমেরিকায় একটা সার্ভিস পাওয়া যায়। এরকম প্রতিষ্ঠান আছে যারা অনলাইনে কোনো ব্যক্তির সিভি ক্লিন রাখার কাজ করে। তবে এই সেবা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। ওই লোক এই সেবা নিয়ে এখন অনলাইনে ক্লিন হয়েছেন।
৩.
পর পর দুটো মৃত্যু আমাকে থমকে দিয়েছে। প্রথমে মারা গেল সাগর আর রুনি। এই দুজনকে চিনি সেই ১৯৯৭ সাল থেকে। আমরা একসঙ্গে ইত্তেফাকেও কাজ করেছি। অনেক স্মৃতি সাগরের সঙ্গে, রুনির সঙ্গেও। ডয়েচে ভেলে থাকতে হঠাৎ হঠাৎ ফোন করতো। অনেকবার ফোন করে সাক্ষাৎকারও নিয়েছে। রুনিকে সেদিনও মেঘকে দেখিয়ে বলেছিলাম, বাচ্চাটা একা একা থাকে। ওর একটা সঙ্গী দরকার। হেসে রুনি বলেছিল, মাসুম ভাই একটাই সামাল দিতে পারছি না, আর আপনি বুদ্ধি দিচ্ছেন আরেকটার।
৪.
মারা গেলেন হুমায়ুন ফরিদী। হঠাৎ করে। আমাদের প্রজন্ম একদিক থেকে ভাগ্যবান। আমরা বড় হয়েছি হুমায়ুন ফরিদী, আফজাল, সুবর্না, আসাদ, মিতা চৌধুরী-এদের মতো মানুষদের সঙ্গে। এরাই ছিলেন আমাদের সঙ্গী। এরা কখনোই দূরের কেউ ছিলেন না। ঘরে ঘরে এরাই ছিলেন প্রিয় মুখ। এই প্রজন্মের মধ্যে প্রথম চলে গেলেন হুমায়ুন ফরিদী। কষ্টকর এই চলে যাওয়া।





ইটের লাইন দিলাম, এইবার পইড়া আসি...
নির্বাসনটা মনোযোগহীনতায় জর্জরিত। ভাইয়ার বই পড়ার এবং অনুভূতি জানানোর জন্য অনেক থ্যাঙ্কস
হুমায়ুন ফরিদীর মৃত্যুতো শোকের-বেদনার। সাংবাদিক দম্পতির করুণ মৃত্যু সহ্য করা কঠিন...
এবং যথারীতি আলোচনা শেষে খাম পেয়েছি... এটা না লিখলেও আমরা বুঝতে পেরেছি। আজ সন্ধ্যায় মেলায় আপনার দাওয়াত... (সবাই ছাঁই নিয়া আইসো, মুরগা পাওয়া গেছে)
২.দুর্দান্ত বলেছেন
৩ ও ৪. কী বলব মাসুম ভাই... শুধুই কষ্ট
আজকের মুর্গা নিজে এসে ধরা দিলেন
নো খাম
কালোকে সাদা করার সিস্টেম যাদের হাতে তারাই আবার ওয়ার্ল্ডব্যাংকের মাধ্যেমে আমাদের চোর কয়
ব্যারিস্টার তানজীবের মক্কেলের কাছে জিজ্ঞাসা... অনলাইনে না হয় ক্লিন হইলেন কিন্তু মানুষের কাছে কি ক্লিন হইতে পারছে?
১। তসলিমার বই যারাই কিনছে, কান্নাকাটি করতেছে।
লিনা'পু ভাইয়ার বইটার কথা আরো কে জানি জানালো ভালো হইছে বেশ!
২। এইবার খাম নাইবা পেলেন, আগের অযুত নিযুত গুলার কাফফারা বাকি আছে না!
৩। কি বিচ্ছিরি সব রিপোর্টিং হচ্ছে সব! কেন এরা কিছু কাটতির জন্যে এইভাবে সব বেচতে নামছে, একই পরিস্থিতি কি যে কারুরই হতে পারে না!
মেঘ এর একটা ছবি দেখে চমকে গেছিলাম, রাইয়ানের মতো লাগছে অনেকটাই।
৪। হুমায়ুন ফরিদী'র খবরটা শুনে কেমন জানি লাগ্লো, চেনা কেউ চলে যাবার মতোনই!
এইবার খাম নাইবা পেলেন, আগের অযুত নিযুত গুলার কাফফারা বাকি আছে না! সেটা জুলাই মাসে আদায় করবেন
হুমায়ুন ফরিদী'র খবরটা শুনে কেমন জানি লাগ্লো, চেনা কেউ চলে যাবার মতোনই!
রুনি - সাগরের খবরের জন্য অধীর হয়ে আছি, পুলিশ যেন নিরাশ না করে
বস লেখাটা পড়ে গেলাম।
১। তসলিমা নাসরিনের বই এর ১ম অংশটা ভাল্লাগছে। বিষ ঝাড়ছে লুকজনের উপড়ে। বাকীটা পড়তে আর পারলাম না।
লীনাপুর ভাই এর বইটা একটানে পড়েছি আমি, সেটা বলাতে লীনাপা পাত্তাই দেয় নাই। ফেসভেলু বলে কথা। আপসুস।
২। খাম না পাইলেই কি! খাম পাওয়ার আরেক্টা দরজা হয়ত খুললো! কোপাল!
৩।মর্মান্তিক। সুষ্ঠু তদন্ত হোক।
৪। দুঃখজনক এক বিদায়।
চারদিকে শুধুই দু:সংবাদ মাসুম ভাই..। দেশের অবস্থাও তো ভালো না!
আর হুমায়ূন ফরীদির চলে যাওয়াটা বিরাট ক্ষতি.. এটা তো আর বলার অপেক্ষা রাখে না।
একের পর এক দুঃসংবাদ পাইতে পাইতে কেমন জানি পাথরে রূপান্তরিত হয়ে যাইতেছি।
তসলিমা নাসরীনরে আমার চিরকালই ওভাররেটেড লাগে।
আপনের উপদেশমতো আনিসুর রহমানের আত্মজীবনি কিনলাম গতোকাল।
মেলা থেইকা কেনা কোনো বই এখনো পড়তে শুরু করি নাই।
হুমায়ূন ফরিদী লোকটারে রহস্যময় ক্ষমতার অধিকারী লাগতো। সেইসব রেয়ার মানুষের একজন তিনি, যাদের অপছন্দ করলেও ইগনোর করা যায় না...তার উপস্থিতি খালি তার মেধায় বা অভিনয় গুনে কাউন্ট করা যায় এমন না, আমার মনে হইছে এই লোক যদি অভিনয় না'ও করতেন তা'ও তারে পুইছা চলতে হইতো অন্যকোনো সামাজিক কারনে।
ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে টানাটানি যেটা হচ্ছে সেটা ভালো লাগছে না।
মন্তব্য করুন