কথোপকথোন

সময় রাত-১২টা, স্থান-আমার বাসা। আমি, আমার ৬ বছরের ছেলে ও আমার বউ। তারিখ-৯ জুন, ২০১২।
পুরো কথোপকথোনটি আমার মোবাইলে রেকর্ড করা আছে।
........................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................
তোমার কয়টা বেবি হবে-
-পাঁচটা
ছেলে কয়টা, মেয়ে কয়টা?
-ছেলে দুইটা, মেয়ে তিনটা
ওদের মা কে?
-নাম তো এখনও জানি না
কে পালবে বেবিদের?
-একটা আম্মু, একটা বাবা, একটা আমি, আর দুইটা পালবে তাদের মাটা।
তাদের মা দুইটা কেন পালবে?
-মারা একটু বেশি পালে না, তাই তাদের মাকে দেবো দুইটা। আম্মু যেমন দুইটা পালে না, সেরকম তারও দুইটা পালা উচিৎ।
আর কী?
-আরেকটু মনে করি নেই।
কী মনে করবা?
-আমি আর্মি অফিসার জীবনেও হবো না
কেন হবা না?
-আমি কিন্তু মামার মতো আর্মি অফিসার হবো না। আর্মি হইলে যুদ্ধ করতে হবে।
তাহলে তুমি কী হবা?
-উমম, এখনও মনে করি নাই।
ও, আর্মি হলে যুদ্ধ করতে হবে তাই আর্মি হবা না?
-আমার যুদ্ধ একদমই ভাল লাগে না। আর বেশি কথা বলা ও রাগওয়ালা মানুষ আমার একদম ভাল লাগে না।
রাগওয়ালা মানুষটা কে?
-তুমি, আম্মু আর আপু
আর বেশি কথা বলা মানুষ কে?
-আপু। আপু বেশি কথা বলে। আর মারেও বেশি আপু
তাহলে তুমি কী হতে চাও?
-মনে করে নেই।
আর তোমার বেবিরা কী হবে?
-জানি না।
বেবিরা দুষ্টামি করলে কী করবা?
-মারবো
কেন?
-আম্মু বলছে না যে, বাচ্চাদের ঠিক করার জন্য মারতে হয়
কে বলছে এটা?
-বাচ্চাদেরকে সোজা করা লাগবে না?
আয়, তোরে মাইর দিয়া সোজা করি
-আম্মুর মাইর খেতে খেতে আমি সোজা হয়ে গেছি
তুমি তোমার বেবিদের তাহলে মারবা?
-কেউ দুষ্টামি করলে কী আদর করে? ভাল কাজ করলে মারে না
ভাল কাজটা কী
-দুষ্টামি না করা, ভাল থাকা
আর দুষ্টামিটা কীরকম দুষ্টামি?
-এসব তো মনে করি নাই। এসব কী এখন থেকেই মনে করা লাগবে?
তাহলে কবে মনে করতে হবে
-বড় হয়ে নেই, তারপর দেখবো কী হয়
আর কি প্ল্যান তোমার। বড় হয়ে কী করবা?
-বড় হয়ে অফিসে চাকরি করলে ভাল হবে
কী চাকরি করবা?
-দেখি কোনটা করি, অফিসে না স্কুলে। স্কুলে চাকরি করলে স্যার হতে পারি, প্রিন্সিপালও হতে পারি।
প্রিন্সিপাল হবা?
-এখনও মনে করি নাই কী হবো, কোথায় চাকরি করবো। বড় হয়ে আম্মুর মতো টিচারও হতে পারি
আর তাদের মা কী করবে?
-এখনও মনে করি নাই। চাকরিও করতে পারে
তাহলে রান্না কে করবে?
-কাজের মানুষ রাখবো। সীমা অনেক কাজের আছে। কিন্তু আমি যখন বড় হবো, সীমা তো বুড়া হয়ে যাবে
তাহলে তুমি কী করবা?
-টিভি দেখবো
তখনও কার্টুন দেখবা
-আরে, বড় হলে কী কেউ কার্টুন দেখে?
তাহলে কী দেখবা?
-সিনেমা দেখবো, তোমরা যেমন দেখো, খবর দেখবো। তখন তো কার্টুন দেখার অভ্যাস থাকবেও না
তখন তো কার্টুন ভুলেও যাবো। তখন কী কার্টুন আর মনে থাকবে?
ও, তাই তো, তখন কী আপুর সাথে রিমোট নিয়ে মারামারি করবা?
-তখন তো আপুর বাসায় আপুর রিমোট হবে, আমার বাসায় আমার রিমোট থাকবে
আপু কৈ থাকবে তাহলে?
-আপু আপুর বাসায়, আমি আমার বাসায়
আপু কার সাথে থাকবে?
-আপুর স্বামীর সাথে
ও, আপুর বিয়ে দিয়ে দিবা?
-বড় হলে মানুষ বিয়ে করে না, যেমন তুমি আর আম্মু করছো
তোমার এতোগুলা বেবি হবে কেন? আমাদের তো মাত্র দুইটা
-কেন, কোনো সমস্যা?
৫টা বেবি দিয়া করবা?
-বসাইয়া রাখবো
বসাইয়া রাখবা?
-পড়া লেখা করাবো। তারপর বড় হলে দেখবো সেও কী হয়?
তখন তুমি কী করবা?
-আমি তখন দাদা হবো, তাদের বাচ্চার দাদা, নানাও হবো।
তাদের নানী আর দাদী কই?
-জানি না.
কবে জানবা?
-জানি না
আচ্ছা এখন ঘুমাও
-আজকের কাহিনী এখানেই শেষ, বা বাই
এখানে পুরোটা শোনা যাবে





ভাতিজা দেখি বিবাহ নিয়েই আছে। মাশাল্লাহ
খাইছে রে। পোলায় বাপরে ফেল করায় দিছে। তব্দা খাইলাম পড়তে পড়তে।মাশালা্লাহ বুদ্ধি করে কথা বলে।
দোয়া করি, বড় হোক, সুন্দর হোক জীবন ভাই-বোনের।
পাগল না, লাইন ঠিকাছে
খুব মজা পেলাম।
রেকর্ডটা আপলোড করেন, শুনি
ডরে কইছে। মায়ে মাইরা সোজা কইরা রাখছে ।
বাজি এই খানে শুনতে পাবা
শুনতে কি মিষ্টিইইইইইইই
এক যে ছিল পাকনা !
তার কথা ঠিক আছে ....
চরম !!
সন্ধ্যাবেলা শিল্পকলায় বসে বসে আমরা এইটা পড়ে বিয়াপুক গড়াগড়ি দিয়া হাসছি। শিশুদের জগৎটাই আসলে অন্যরকম। বড়রা কখনোই যার খুব বেশি ভেতরে ঢুকতে পারে না। প্রসঙ্গে নিজের একটা বাল্যকালের অভিজ্ঞতা শেয়ার ক্রি-
আমার ক্লাস ওয়ানের গল্প। কিন্তু ঘটনা মনে আছে স্পষ্ট। কেন জানি না। সাধারণত সেই সময় আমি একলা-একলাই স্কুলে যেতাম। আবার কোনো কোনো দিন আব্বু দিয়ে আসতো। রেশিওটা মনে নাই। এক শীতের সকালে আম্মু নেভী ব্লু রঙয়ের একটা সোয়েটার পড়ায়ে আমাকে রেডি করে আব্বুর সঙ্গে দিয়ে দিয়েছে। আব্বু ক্লাসের গেট পর্যন্ত আমাকে পৌঁছে দিয়ে যেই না উল্টো ঘুরলেন, আমি টান দিয়ে সোয়েটারটা খুলে ফেললাম। কারণ আমার ওটা পড়ে থাকতে তখন মোটেই ভালো লাগতো না।
সেদিন কি কারণে যেন আব্বু আবার ফিরে এসেছিলেন ক্লাসে। এসে আমার পলোয়ান চেহারা দেখে গিয়েছিলেন। রাতে বাসায় এ নিয়ে একটা বিচারিক সভাও হয়েছিলো। কিন্তু আমি অনেক চেষ্টা করেও তাদের বোঝাতে পারি নি, সোয়েটার পড়তে ছোট বাচ্চারা কতটা বিরক্তি বোধ করে।
হাহাহাহাহাহাহাহা। চরম মজা পাইলাম। কি সুন্দর করে কথা বলে!
এইটাতেই আমি খুশী...
~
রায়হান ভাই কি এই লেখাটা পড়ছে...

মাসুম ভাইয়ের কুট্টি পোলাটায় ৫ টা বেবির কথা চিন্তা করে আর আমগো বড়ভাই, রায়হানভাই একটা রৈয়াই আছে এখনও... আফসুস
রৈয়াই = লৈয়াই
পোলা তো পুরাই আগুনের গোলা !!! সাবাশ !!!
যাক পোলা লাইনেই আছে

সাবাশ ভাতিজা
বাবুটা'কে দেখতে ইচ্ছা করছে।
পুলা তো নয় যেন আগুনেরই গোলা
জটিল
অনেক অনেক শুভকামনা!
দুরদান্তিস!
মন্তব্য করুন