পাঁচ ভাষার পাঁচ ক্লাসিক সিনেমা
পাঁচ ভাষার পাঁচ ক্লাসিক সিনেমা। ইদানীং বেছে বেছে ছবি দেখি। ফলে ভাল ভাল ছবিই দেখা হয় বেশি। দেখার তালিকা থেকে বেছে নেওয়া পাঁচ ক্লাসিক।
............................................................................................................................................................................................................................
১. এ ম্যান এসকেপড: ফ্রেঞ্চ মুভি, পরিচালক বিখ্যাত রবার্ট ব্রাসো, যিনি ভিন্নধারার ছবি করিয়েদের অন্যতম পুরোধা।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার ঘটনা। ফ্রান্স নাজীদের দখলে। নাজী আগ্রাসন প্রতিরোধ করতে গিয়ে ধরা পরেন ফনটেইন। যেতে হয় জেলে। সেখান থেকে পালানোর কাহিনী এ ম্যান এসকেপড।
পালানো নিয়ে একবার ১০ ছবির একটা পোস্ট দিয়েছিলাম। সেটা পড়ে অনেকেই বলেছিলেন, জেল পালানোর সেরা ছবিটিই তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। তারপর সংগ্রহ করলাম মুভিটা।
অত্যন্ত কম সংলাপ। সংলাপে কী করে হবে? ফনটেইন তো একা বন্দী এক রুমে। সেখান থেকে পালানোর গল্প। এক কথায় অসাধারণ এবং সেরা। ১৯৫৬ সালের ছবি।
২. ব্লো-আপ-১৯৬৬ সালের মুভি। ভাষা ইংরেজি, কিন্তু পরিচালক ইতালীর মাইকেলোঞ্জেলো এন্টোনিও। ব্লো-আপকে বলা হয় আধুনিক ক্লাসিক।

এক ফটোগ্রাফারের গল্প, যে বিশ্বাস করে সে একটি খুনের সাক্ষী এবং নিজের অজান্তে সেই খুনের ছবি তার ক্যামেরায় তোলা আছে।
ব্যাপক আলোচিত এই ছবিকে অনুসরণ করে এরপর অনেক ছবি হলেও ব্লোআপের জনপ্রিয়তা একটুও ক্ষুন্ন হয়নি।
৩. রশোমান: রশোমান এফেক্ট নামে একটা বিষয় এখন অভিধানে পাওয়া যায়। এটি এসেছে রশোমন সিনেমা থেকে। এ দিক থেকে জাপানের সেরা পরিচালক আকিরা কুরোশাওয়া ইতিহাস গড়েছেন।

রশোমন এফেক্ট হলো-একটাই ঘটনার যদি একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী থাকে তাহলে প্রত্যেকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে ঘটনার বিবরণ দেবে। প্রত্যেকেই নিজের অবস্থান ঠিক রেখে ঘটনার বর্ণনা দেবে। ঠিক এই বিষয়টিই বলেছেন পরিচালক রশোমন ছবির মাধ্যমে।
১৯৫০ সালে মুক্তি পাওয়া এই ছবি থেকে জাপানের ছবি বিশ্ববাসীর নজরে প্রথমে এসেছিল।
একজন সামুরাই তার স্ত্রীকে নিয়ে গভীর বন অতিক্রম করার সময় ডাকাতের হাতে আক্রান্ত হয়। নিহত হয় সামুরাই। বেঁচে থাকে সামুরাইরের স্ত্রী। এই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী দুজন। যারা এই ছবি দেখেননি তারা আসলে কিছুই দেখেননি।
৪. ইনভেস্টিগেশন অফ এ সিটিজেন এবাভ সাসপিশন-লম্বা নাম। ইতালীর ছবি। ১৯৭০ সালের এই ছবিটি বিদেশি ভাষার সেরা চলচ্চিত্রের অস্কার পেয়েছিল।

এক পুলিশ অফিসারের কাহিনী, সে তার বান্ধবীকে খুন করে। তারপর শুরু করে নতুন এক কাহিনীর। ইচ্ছা করে নানা ক্লু রেখে যায় লাশের সঙ্গে। পরীক্ষা করে দেখতে শুরু করে, পুলিশ তাকে আসলেই ধরতে পারে কীনা।
ভিন্নধর্মী এক ছবি।
৫. মধুমতি: কিংবদন্তী পরিচালক ঋতিক ঘটক এক সময় কিছু হিন্দি সিনেমার কাহিনী লিখেছিলেন। ঋষিকেশ মুফার্জির প্রথম ছবি মুসাফিরের গল্প ঋতিক ঘটকের লেখা। তবে আমি বলবো মধুমতির কথা।

বিমল রায়ের এই ক্লাসিক ছবিটি মুক্তি পায় ১৯৫৮ সালে। তুমুল সফল ছবি। এন্টারটেইনিং মুভি হিসেবেও এটি সেরা। দিলিপ কুমার আর বৈজয়িন্তিমালা আছে। আর আছে অসাধারণ কিছু গান, সলিল চৌধুরীর।
এটি গথিক ঘরানার ছবি। অর্থাৎ হরর আর রোমান্সের সংমিশ্রন।





আপনার দেয়া লিস্টের সিনেমাগুলি নি:সন্দেহে ভালো লাগে দেখতে। তার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ অনেক অনেক। যদিও কখনোই হয়ত এই সব সিনেমা দেখা নাও হতে পারে। তবু দেখা যাক যে কয়টা দেখতে পারি।পোস্ট দিয়েন মুভি নিয়া।
সবসময় সময় হয় না। আজ একটু কাজ আগে শেষ হল বলে ছোট করে দিয়ে দিলাম।
আমাদের জন্য মাঝে মাঝে একটু সময় কইরেন।
৪ আর ৫ নাম্বারটা দেখি নাই।
প্রথম তিনটাই দারুন সিনেমা। তবে রাশমনোটা একেবারেই দুর্দান্ত।
"যারা এই ছবি দেখেননি তারা আসলে কিছুই দেখেননি" কথাটার সাথে সম্পূর্ন সহমত।
আপনি কি হারাকিরি দেখেন নাই এখনো ? সামান্য ভায়োলেন্স আছে .. .. তবে সিনেমার কাহিনি একেবারে মন ছুঁয়ে যাবে।
হারাকারি নামাইয়া ডিভিডি বানাইয়া তারপর দাও। বাজারে পাই না। আর আমি নামাইতে পারি না
বুকমার্ক করে রাখলাম!
কালকেই ভাবছিলাম আপনার ওয়ালে চিকা মারবো।
লিস্টে যোগ করলাম।
আপনার লিস্টের অপেক্ষায় থাকি...
নামানো শুরু করলাম
~
মাঝখানে বেশ অনেকদিন ছবি দেখি নাই । আমি আসলে ছবি দেখি হাতে সময় নিয়ে, দৌড়ের উপর ছবি দেখা আমার পোষায় না । গত কিছু দিন ধরে বেছে বেছে বাংলা ছবি দেখা শুরু করেছি । আরম্ভ করেছি পরিচালক ধরে । যদিও আগেই অনেকগুলো ছবি দেখা তারপর ও সত্যজিত রায় দিয়ে শুরু করেছি, মোটামুটি অনেকগুলো দেখে ফেলেছি এর মধ্যে ।
আপনার দেওয়া ছবিগুলোর মধ্যে দু'টা দেখি নাই । বিশেষ করে 'রশোমন', এটা কুরোশাওয়ার ছবিগুলোর মধ্যে সম্ভবত সবচেয়ে বিখ্যাত । অথচ আমি তার অন্য কয়েকটা ছবি দেখলেও এইটাই দেখা হয় নাই । কিছুদিন ধরেই ভাবছিলাম এবার এই ছবিটা দেখে ফেলতে হবে । আপনার লিষ্টে এই নাম দেখে সেই ইচ্ছা আরো জোরদার হল ।
কতো সুখে মাইনষে থাকে
ইংরেজি না হইলে মুভি দেইখা শান্তি পাই না! ঃ/
অসাধারণ লিস্ট! ভার্টিগো ছাড়া একটাও দেখি নাই। ব্লো-আপটা অনেকদিন ধরে দেখবো দেখবো করছি। খুব তাড়াতাড়ি দেখে ফেলতে হবে। পোস্টটার জন্য ভাইকে গভীর ভাবে ভালোবাসা হলো
মন্তব্য করুন