ইন দ্য টাইম অব দ্য বাটারফ্লাইস
চার বোনের কথা বলি।
প্যাটরিয়া, দিদি, মিনার্ভা ও মারিয়া তেরেসা। ওদের বলা হয় মিরাবল সিসটার্স। জন্ম যথাক্রমে ১৯২৪, ১৯২৫, ১৯২৬ ও ১৯৩৫ সালে, ডমিনিক রিপাবলিকের সিরাস অঞ্চলে। বাবা এনরিক মিরাবল ও মা মারিয়া মেরসিডস রিয়েস।
মিনার্ভা ও মারিয়া বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত গিয়েছিলেন উচ্চশিক্ষার্থে।
ডোমিনিকান প্রজাতন্ত্রে তখন রাফায়েল ট্রুজিলার স্বৈরশাসন। মিরাবল বোনরা স্বৈরশাসক ট্রজিলোর বিরুদ্ধে নানা ধরনের আন্দোলনে সক্রিয় ছিল। বিশেষ করে মিনার্ভা ছিল বেশি সক্রিয়। ফলে কারাগারেও যেতে হয়েছিল মিরাবল বোনদের। ১৯৬০ সালের ২৫ নভেম্বর এই মিরাবল বোনদের বহনকারী মোটরগাড়ির দুর্ঘটনা ঘটে। বলা যায় ষড়যন্ত্রমূলকভাবে তাদের হত্যা করা হয়। বলাই বাহুল্য ট্রজিলা ছিলেন এই ঘটনার হোতা। তার নির্দেশেই হত্যাকান্ড ঘটনো হয়।
নৃশংস এই হত্যাকাণ্ড ট্রজিলোবিরোধী আন্দোলনকে উস্কে দেয়। এর এক বছরের মধ্যে ট্রজিলাও আততায়ীর গুলিতে নিহত হয়েছিল।
এর পর ল্যাটিন আমেরিকাসহ বিশ্বের বেশকিছু দেশ ২৫ নভেম্বর দিনটিকে ‘আন্তর্জাতিক নারী সহিংসতাবিরোধী দিবস’ হিসেবে পালন করে আসছিল। ১৯৯৯ সালে জাতিসংঘের ৫৪তম অধিবেশনে ২৫ নভেম্বরকে ‘আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করে।

সেই মিরাবল বোনদের ঘটনা নিয়ে এবার একটা সিনেমার কথা বলি। ছবিটার নাম ইন দ্য টাইম অব দ্য বাটারফ্লাইস।
ট্রজিলার নজরে পড়েছিল মিনার্ভা। সেটাই হল মিনার্ভার কাল। আবার মিনার্ভা এই স্বৈরশাসকের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামে। গোপনে দল গঠন করা হয়। প্রথম প্রেম লিও তার নাম দিয়েছিল বাটারফ্লাই-প্রজাপতি। সেই থেকে সবাই তাকে জানে বাটারফ্লাই বলে।
পুরো সিনেমাটা মিনার্ভাকে কেন্দ্র করে হলেও এটা মিরাবল বোনদেরই গল্প। শেষটাকো সবাই জানেন।

মিনার্ভার চরিত্রে সালমা হায়েক।
ছবিটি দেখার পর এর প্রভাব সহজে কাটে না। এর অনেকগুলো কারণ আছে। ছবিটা দেখলেই অনেকের এরশাদ আমলের কথা মনে পড়বে। মেয়েদের প্রতি এরশাদের লালসা, স্বৈর শাসন, অত্যাচার, আন্দোলন-সবই আছে সিনেমাটিতে।

বলা হয় ট্রজিলার হাতে ৫০ হাজার মানুষ মারা গিয়েছিল ডোমিনিকান
রিপাবলিকে।

একটা বাড়তি তথ্য দেই। ২০০০ সালে স্প্যানিশ ভাষায় প্রকাশিত হয় মারিও ভার্গাস য়োসা’র ঐতিহাসিক উপন্যাস La fiesta del chivo। ২০০১ সালে The Feast of the Goat নামে ইংরেজি অনুবাদ প্রকাশিত হয়। ডমিনিকান প্রজাতন্ত্রের একনায়ক রাফায়েল ট্রুজিলো-এর শাসনকাল, তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র এবং আততায়ীর হাতে নিহত হওয়ার প্রেক্ষাপট নিয়ে য়োসা এই উপন্যাস রচনা করেছিলেন।





দেখা হবে...
মুভি নিয়ে আপনার পোস্ট পড়লে মুভিগুলো দেখার আগ্রহ হয় ।
প্রথম মুভিটা দেখব আশা করি ।
প্রথম শব্দটা বাদ দেন । ফোনে কথা বলে অার টাইপ করলে এমনই হয় ।
দেখার ইচ্ছে জাগাইয়া দিলেন।
ওয়াচলিস্টে রাখলাম।
সিনেমা আর দেখা হয় না। নাম মুখস্থ রেখে লোকজনের সাথে ফাপর নেই!
আমি ও এই কাজ টা করি.।
সাত খুন মাফ দেখলাম, খারাপ না। দেখছেন?
দেখতে হবে
এমনিতে ছবি তেমন দেখা হয়না, আপনার লেখা পড়ে ছবিটা দেখার ইচ্ছে হচ্ছে!
মন্তব্য করুন