বাজেট, সিনেমা-এই সব আর কি
১.
বাজেট আসলে একটাই চিন্তু কিভাবে এবার রিপোর্ট করবো। কিভাবে সাজাবো পাতাগুলো। রিপোর্টের ধরণ কি হবে। প্রথম পৃষ্ঠায় কি কি থাকবে।
একসময় বাজেট রিপোর্ট মানেই ছিল কতগুলো সংখ্যা তুলে দেওয়া। ছবি দিতাম ব্রিফকেস হাতে অর্থমন্ত্রী। বাজেটে সংক্ষিপ্তসার বইটায় কিছু আয়-ব্যয়ের চার্ট থাকতো, সেগুলো হুবহু ব্যবহার করতাম।
অথচ অন্য দেশগুলো বাজেটের পরিসংখ্যান উল্লেখই করে না বলা যায়। কারণ সংখ্যা তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ না। বরং বাজেটে দর্শন আর মানুষ কি পেলো সেটাই মূল।
এবার বাজেটের জন্য অন্য দেশের পত্রিকাগুলো দেখছিলাম। মজা লাগলো টাইমস অফ ইন্ডিয়া দেখে। ভারতীয়দের জীবনে সিনেমা তাদের জীবন যাপনের অংশ। ওদের বাজেট ইলাস্ট্রেশনটা এরকম:

অ্যাং লির লাইফ অফ পাই-এর ঘটনাস্থল ভারত। আর এটিই ছিল এবারের অন্যতম আলোচিত সিনেমা। এই সিনেমার একটা দৃশ্যকে ফিউশন করে বাজেটের মূল ছবি করেছে পত্রিকাটি। দেখে মজাই লাগলো।
২.
তবে আজ চমকে উঠেছি দি ইকনমিস্টের চলতি সংখ্যাটি দেখে। অসাধারণ এক প্রচ্ছদ করেছে। তবে যারা সিনেমার দর্শক না তারা হয়তো প্রচ্ছদের আসল অর্থটা ধরতে পারবেন না। প্রচ্ছদটা এরকম:

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও চীনের প্রেসিডেন্ট জি জিনপিং মাত্রই বৈঠক করেছেন। বলা হচ্ছে এটাই এই সময়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক। সেই বৈঠক ধরেই ইকনমিস্টের প্রচ্ছদ। এর মজাটা কোথায়?
আবারও অ্যাং লি। ২০০৫ সালে অ্যাং লিকে পাশ্চাত্যের দর্শক চিনেছিল ব্রকব্যাক মাউন্টেন ছবিটি দিয়ে। সেবার আটটা মনোনয়ন পায় ছবিটি অস্কারে। সেরা পরিচালক হয়েছিলেন অ্যাং লি। দুই বন্ধুর গল্প। সেই ছবির একটা দৃশ্য এরকম:

এই দৃশ্যটাই নিয়েছে ইকনমিস্ট। তাহলে মজাটা কোথায়? মজাটা আসলে সিনেমার গল্পেই আছে। দুই বন্ধুর গল্পটি আসলে অন্যকেম এক ভালবাসার গল্প। তারা ছিল গে। কিছুদিন একসাথে ছিল তারা। কিন্তু সেই সম্পর্কের জের টানতে হয় আজীবন। একদিন একজনের স্ত্রী দুজনকে একসাথে দেখে ফেলায় ঘটনা আরও জটিল হয়।
ইকনমিস্ট সেটাও রেখেছে। মিশেল ওবামা দেখছে দুইজনকে। অসাধারণ একটা প্রচ্ছদ।
আমরা কি কখনো এরকম কিছু করতে পারবো?
৩.
আরেক হংকং-এর পরিচালকের কথা এবার। ওং কার ওয়াইকে বলা হয় জীবিত সেরা ১০ পরিচালকের একজন। তাঁর মুড ফর লাভ আমার চিরকালের পছন্দ। সেই ওং কার ওয়াই অনেকদিন পর নতুন এক সিনেমা করেছে। দি গ্রান্ডমাস্টার।

চীনের ফুসান শহরের আইপ ম্যানকে নিয়ে সিনেমা। এই আইপ ম্যান ছিলেন ব্রুস লির গুরু। আইপ ম্যানকে নিয়ে হংকং-য়েই চার পর্বের চারটি সিনেমা আছে। সেই একই দেশে একই ব্যক্তিকে নিয়ে সিনেমা করলেন ওং কার ওয়াই।
একজন মাস্টার পরিচালকের কাজ যে অনেক আলাদা সেটি বুঝতে পারা যায় এটি দেখলে। কি অসাধারণ স্টাইল।
৪.
জীবনে অনেক সিনেমা দেখেছি। কিন্তু কোনো সিনেমা দেখে এতো বড় ধাক্কা খাইনি, যতটা খেয়েছি ইনসেনডিস দেখে। কানাডার ছবি। তবে ঘটনা লেবাননের যুদ্ধের।

এক মা মারা গেছেন। জমজ ছেলে আর মেয়ে পেলো দুটো চিঠি। মা রেখে গেছে। চিঠিতে বলা আছে, এই দুজনকে তাদের বাবা ও ভাইকে খুঁজে বের করতে হবে। মেয়েটি বের হয়। আস্তে আস্তে উন্মোচিত হতে থাকে মা-এর জীবনের অজানা অনেক কিছু। তারপরই আসে সেই ধাক্কা। কখনো ভুলবার নয় সেটি।
৫.
আমার কেজিতে পড়া ছেলে, রাইয়ান আজকাল ইংরেজি বলার আপ্রাণ চেষ্টা করছে। ভুল হোক শুদ্ধ হোক-কিছুই যায় আসে না। কে হাসলো কে হাসলো না তাও সে পাত্তা দেয় না।
কাল রাতে ঘুমানোর সময় হঠাৎ লাফ দিয়ে উঠে বললো-'বাবা, আই অ্যাম ফিলিং ছুছু' 





ছবি দেখি নাই একটাও
শেষেরটা বেশী জোস
বাজেটের ইলাস্ট্রেশন টা দারুন!
আমাদের এক সময় এভাবে বাজেট রিপোর্টিং করতে হবে
''ইনসেনডিস'' এর ধাক্কার সমান ধাক্কা আসলেই কোন সিনেমা দেখে খাওয়া সম্ভব না।
আসলেই। জটিল এক ধাক্কা
কোলাজ ইলাস্ট্রেশনগুলো বেশ ইনোভেটিভ।
দ্য গ্রাস্ডমাস্টার ডাউনলোড দিয়ে দিলাম, ইপমান ১-২ দেখছি খারাপ লাগে নাই। তবে ওং কার ওয়াই এর সিনেমা নিয়ে কোন কথা হবে না।
ইনসেনডিস একটা ভয়াবহ সিনেমা। এই সিনেমাটা আমি পুরস্কার পাবার আগেই দেখেছিলাম, রিলিজ হবার পরপর। প্রথমবার দেখে হতবুদ্ধি হয়ে গিয়েছিলাম, বার বার মনে হচ্ছিল আমি কি ঠিকঠাক বুঝেছি ! নাকি ভুল দেখলাম ভুল বুঝলাম!! সাথে সাথে আরো একবার দেখলাম.... এবং আরো কয়েকবার .... সিনেমাটা বেশ মোটা দাগ কেটেছিলো মনে।
রাইয়ান তাইলে আমাদের নায়ক জলিলকে ইংরেজি টিউশন দিতে পারবে এখন

গ্রান্ডমাস্টার একদমই অন্যরকম। ইপম্যানের সাথে মিল সামান্যই। কিন্তু ভাল লাগে। ইপম্যান একটা মেলোড্রামাটিক। যেটা ওং কার ওয়াই করেননি
আমার কেজিতে পড়া ছেলে, রাইয়ান আজকাল ইংরেজি বলার আপ্রাণ চেষ্টা করছে। ভুল হোক শুদ্ধ হোক-কিছুই যায় আসে না। কে হাসলো কে হাসলো না তাও সে পাত্তা দেয় না।
কাল রাতে ঘুমানোর সময় হঠাৎ লাফ দিয়ে উঠে বললো-'বাবা, আই অ্যাম ফিলিং ছুছু' @ অতি সিগ্রি আমার ভাতিজা বললে পাপা তোমাদের ইংরেজী হয় না। আর আমরা সবাই মনে হয় তাই চাই।
সেরকমই
অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তৃতা পড়ার সময় আপনার সাদাকালোর অর্থনীতি খুজতে গিয়ে দেখি বইটা গায়েব। আরেক কপি গিফট করবেন নি?
দেখা হোক নীড়দা
রাইয়ান তো দেখি জলিলের ব্যপক ফ্যান ।
সিনেমা একটাও দেখি নাই । আবার যখন দেখব তখন ইনসেনডিস অবশ্যই দেখব । পোস্ট, আলোচনা ব্যপক ।
সিনেমাটা দেখো, আজীবন মনে রাখবা
রাইয়ান তাইলে আমাদের নায়ক জলিলকে ইংরেজি টিউশন দিতে পারবে এখন
সিনেমা একটাও দেখি নাই । আবার যখন দেখব তখন ইনসেনডিস অবশ্যই দেখব । পোস্ট, আলোচনা ব্যপক ।
সিনেমাটা দেখো, আজীবন মনে রাখবা
দেখা হয় নাই একটাও, কিছু ছবি ডাউনলোড করে দেখবো। পোষ্ট ভাল লাগলো, প্রিয়তে রাখলাম।
দেখেন ছবিটা। অন্যরকম
সিনেমা আর আমি যেন বিপরীত মেরু হয়ে গেলাম। এবার এনশাল্লাহ দেখবোই।
রাইয়ান রকস
সময় হোক। সিনেমাগুলা দেইখো। মনে রাখবা
রাইয়ান রক্স!
লাভেরিয়া দেখেন। তারপর একটা রিভিউ লিখেন। বাজি ধরে বলতে পারি পারবেন না।
এই জিনিষতো দেখি নাই। আপনে দেখছেন, আপনে দ্রুত একখান লেখেন
মন্তব্য করুন