মর্ম'এর ব্লগ
এখনো বিকেল
এই পৃথিবীর বিকেল দেখি দিব্যি বেঁচে আছে
নীল আকাশের সাদাগুলো ছুটছে লালের কাছে
দিব্যি দেখি বইছে বাতাস
দিব্যি আছে আলো
গাছের ডালে পাতার আড়াল
দিব্যি লাগে ভাল
দিব্যি চিলের আনাগোনা
কিংবা কালো কাকে
বাসায় ফেরার সময় বলেই
হয়ত বৃথাই ডাকে
রাস্তাজুড়ে মানুষ কত ঘোরে
কারোর তাড়া কারোর নোঙ্গরছেঁড়া
কারোর সময় থমকে থাকা সুখে
কারোর আবার স্মৃতির পারে ফেরা
লালচে হয়ে আকাশ দেখি আজো
সন্ধ্যাটাকে সময় করে ডাকে,
আমরা যতই রোবট হয়ে মরি,
বিকেলগুলো দিব্যি বেঁচে থাকে!
জ্বরাবাহন
জ্বর আনানোর কঠিন ব্রত, রৌদ্রে বেগুন পোড়া,
কিংবা রসুন বগল চেপে চৌপর দিন ঘোরা,
কিংবা জ্বরে সটান যিনি তাঁর শিয়রের কাছে,
জ্বর বাগানো সরল এখন, অন্য উপায় আছে-
দুই বছরের জঞ্জালে বেশ ধুলোয় মাখা দিন,
"এচ্ছো!" কেবল, "এচ্ছো!" আবার, পারলে বিরামহীন,
ক্লান্ত চোয়াল ঝনঝনানী মাথায় করে পার,
একটু যদি তর্ক চলে চাইনে কিছু আর,
ঠান্ডা পানির গোসল তাতে সঙ্গ দেবে সুখে,
সাফল্যেরই লালচে আভা পড়বে চোখে মুখে,
"জ্বর ছাড়ানোর উপায় কোথা?", শুধাও যদি এসে,
"বদ্যি ডাকো, বা কবিরাজ!", কইব মলিন হেসে!!
মুক্তি দাও
শেষ যদি হয় সকল আশার রেখা,
বিদায় থাকে ধুলোর বুকে লেখা,
অপেক্ষা আর কূল খোঁজে না কোন-
হে সর্বময়, আকুল চাওয়া শোন-
পাষাণভারে হার মেনেছে যারা,
শক্তি-শোক আর শেষ-সম্বল-হারা,
ধুঁকছে যারা সেকেন্ড সেকেন্ড গুণে,
ক্লান্ত বড়, আশার বাণী শুনে,
বাতাস যাঁদের সহায় হয়ে আছে
নিজের ছাড়া আর কেউ নেই কাছে,
এই যদি হয়, অভেদ্য এই খাঁচা,
বন্দী কারো আর হবে না বাঁচা,
ওদের তবে মুক্ত কর, মুক্ত কর বায়ু,
কষ্ট থামুক, পর্দা পড়ুক, এইটুকু হোক আয়ু!
আর যদি হয় ভাগ্যে লেখা ওদের ফিরে আসা,
দাও ফিরিয়ে, আপনজনের আর ভেঙ্গো না আশা!
অপেক্ষাতে মা-ভাই-বোন, আর অসহায় জায়া,
জলহারা ঐ শুকনো চোখে পড়ুক চেনা ছায়া!
আবার ফিরুক জলের ধারা হাতদুটো যাক কেঁপে,
জীবন ফিরুক আপনজনের জলপ্রপাতে চেপে।
আমরা সবুজ
আজকে বরং আমরা চল টিভির খবর বন্ধ রাখি,
আজকে চল ন্যাট জিওতে দেখব যত গাছ আর পাখি,
রক্ত দেখে হৃদয় টানে, কোমল প্রাণে আঘাত লাগে,
মন ভিজে যায় ভাপ আর জলে,
ব্যথায় ব্যাকুল দুঃখ কাতর রাগে,
কয়টা হল, লাশ গুণে যাই চল,
স্ক্রল করে যাই এপি'র কোমল পাতায়,
বাংলাদেশের নাম ফেটেছে আবার
কয়টা ঢ্যাঁড়া কেবল নামের খাতায়!
মন খারাপের সময় কোথায় অত
চুকবে তো দাম টিপসইয়ে আর চেকে,
আমরা সবুজ অবুজ কচিই থাকি
ঘাসের চাদর গন্ধ ফেলুক ঢেকে!!
সাফারি
না না না না বলব না আর কিছু,
লিখব না আর কেমন লাগার গাঁথা,
এরচে ভাল বিস্ফারিত চোখ আর
পাথর হৃদয় ভাব গিজগিজ মাথা!
লাগছে কেমন বলার কী আর মানে,
বইয়ের পাতা কিংবা কোন গানে,
কোন অচেনার একটু মৃদু হাসি,
চোখ চিকচিক, কিংবা কোনখানে,
এক ঝটকায় এত্তটুকু হয়ে
আরেক চোখে আমার আমি দেখা,
উতল হয়ে মনের জলে ভেসে
হঠাৎ এসে কয়টা কথা লেখা,
কোন্ অচেনা মায়ের আকুল চোখে
হালকা সময় এক লহমায় ভারী,
কোন্ এক ছেলের বিষণ্ণ কী কথায়
খুশির সাথে হঠাৎ ছাড়াছাড়ি,
বিক্ষোভে মন আগল ছাড়া হতেই
কয়টা কথায় মনের ধুলো ওড়ে,
উথাল পাতাল উদ্ভুটি দিন পুরো
ডিগ্রী ধরে তিনশো ষাটে ঘুরে
দিব্যি আবার চাঙ্গা, সে ঐ
শব্দে ভেসেই হোক-
কী এসে যায়, আনন্দে বা
অচিন কোন শোক,
না না না না আর হবে না অত,
বলায় এখন লাল কালিতে মানা,
অত্ত লেখার হিড়িক, এখন বাতিল,
এখন কেবল তীক্ষ্ণ এবং তীব্র কঠিন না না,
খাঁচায় ফেরার সময় হলো বুঝি,
আমার সাথে সাধ্যমত যুঝি,
ছোট্ট খাঁচা হাতছানি দেয়, ডাকে,
ইচ্ছে না হোক, খাঁচায় ফেরাই ভালো,
লালচে আভার ওই পারেতেই কালো,
এই সাফারি, এই এখানে রাতে,
অন্ধকারের প্রবল কৃপান হাতে,
অপেক্ষায় বাংলাদেশ
সামান্য এক 'আমার' কথা 'আমার' মত
বলব বলে-
যেমন 'আমার' ঠিক মনে হয় তেমন
করে বাঁচব বলে-
ইচ্ছে হলে 'আমার' সুখে সবাই
মিলে হাসব বলে-
'আমার' যারা সাধ্যমত ওদের
ভালবাসব বলে-
'আমরা' হয়ে ভবিষ্যতের দারুন
ছবি আঁকব বলে-
'আমরা' হয়ে আজকে-
টাকে কালকে থেকে ডাকব বলে-
শান্তি খুঁজে অশান্তি-দের
দূরান্তরে ঠেলব বলে-
অন্যায়ে পথ ছাড়ার আগে ন্যায়-
পতাকা মেলব বলে-
আলোর পথের যাত্রী যারা প্রাণ
করেছেন দান-
যতই চলুক কর্মসূচী, হৃদয় ছোঁয়া গান-
যে অবধি শুদ্ধস্রোতে না ধুয়ে নিই
মন-
মানুষ হবই- নিজের কাছেই-
না করি সেই পণ-
নিজের নিজের
জায়গা থেকে দায়িত্ব না বুঝে-
রক্তঋণের দায়শোধে আর
উপায়টা না খুঁজে,
যতই শোকের মাতম তুলি চোখ
ভেসে যায় জলে,
রক্তলালের শহীদ-
স্মৃতি কাঁদবে স্রোতের তলে!
আর কতকাল অপেক্ষাতে? আর
কতকাল? খাঁচায়?
এখন সময়- মানুষ হবার, মানুষ
হয়ে বাঁচায়!
আমরা যদি 'মানুষ' হই আর
দেশটা জাগে শেষে,
হয়ত ওঁরা শান্তি পাবেন, সেই
সে বাংলাদেশে!!
শুভ জন্মদিন, বাংলাদেশ!!!
'আম্মু'
এই জগতে 'আম্মু' যত আছে,
খুব চেনা আর এক্কেবারে কাছে-
এই পৃথিবীর সবটা ওরা জানে,
কত্ত নিয়ম রুটিন ধরে মানে,
যায় না ভুলে সবচে ছোট কাজে,
চোখ জ্বলে না লাল মরিচের ঝাঁঝে,
ফোস্কা হলেও হয় না ব্যথা হাতে,
ঘুম আসে না ঠিক সন্ধ্যা-রাতে,
পড়ায় ফাঁকি, মাস্টারিও চলে,
উকুন মরে আঙ্গুল বাছা কলে,
টিভির নাটক গান সিরিয়াল খাশা,
খিলখিলিয়ে ইত্যাদিতে হাসা,
নতুন কুঁড়ির হিসেব চলে খাতায়,
কার্টুনে আর বইয়ের পাতায় পাতায়,
দুপুর বেলায় গড়পড়তা ঘুমে,
ক্রিকেট বাসার বারান্দা আর রুমে,
শিবরামে ঐ শরীর কাঁপা হাসি,
সোলেমানি খাবনামা আর রাশি,
সাতসকালে ঘুম তাড়ানোর ডাক,
খুদ কুড়ানো পায়রাগুলোর ঝাঁক,
লেজ ছোঁয়ানো ছোট্ট বেড়াল ছানা,
ঘুমভাঙ্গা পায় রান্নাঘরে হানা,
খাওয়ার রুটিন দিন প্রতিদিন ছেঁকে,
ভাপার চাপে শীতের সকাল জেঁকে,
বর্ষাদিনে খিচুড়ি ডিম ঝোল,
হাতের কাছে হাসনাহেনার দোল,
বাইরে যেতেই রিকশা তাড়াতাড়ি,
"আস্তে চালাও, বড্ড বাড়াবাড়ি!",
বিকট জ্বরের হিসেব আদুর হাতে,
পায়ের ব্যথায় আকুল হয়ে সাথে,
আঙ্গুল বিলি চুলের কূলে কূলে,
শান্ত দু চোখ একটু লাল আর ফুলে,
অষুধ কীসের, জাদুর পরশ হাতে,
উধাও ব্যথা, পরম আরাম তাতে,
বৃষ্টিবিলাস
দিন প্রতিদিন বাস ধরবার তাড়া-
থাকেই
নিত্যদিনের ছোট্ট রুটিন কাড়া-
থাকেই
সময় চেপে বাসায় ফিরে আসা-
থাকেই
সুতোয় চাপা গানের সুরে ভাসা-
থাকেই
সন্ধ্যারাতের আলোয় ঘেরা ঢাকা-
খাকেই
খুব ট্রাফিকে নীরব বসে থাকা-
থাকেই;
বৃষ্টিভেজা পথে নিয়ন আলো,
"ও রজনীগন্ধা তোমার গন্ধসুধা ঢালো",
দমকা হাওয়ায় জলে ভেজার গান
কান্না-মেঘের ব্যাখ্যাহীন এক টান,
হুড নামিয়ে বর্ষাবেঁধা জল
শহরটাতে বৃষ্টি ভেজার ছল,
গুড়গুড়িয়ে হঠাত্ মেঘে
না ডাকে না,
মন মাতানো মনের মিতা,
আপন মতন, আপন কী তা,
একটু পরশ একটু ভাল লাগা
ঘুমের ঘোরে একটুখানি জাগা,
দিন প্রতিদিন এমনি করে
না থাকে না!!!
দায়শোধ [৪র্থ পর্ব]
রায়গুলো সে হয়েই আছে কবে,
কালকে বুঝি সেই ঘোষনাই হবে,
লক্ষ মানুষ যাচ্ছে দিয়ে রায়,
প্রাপ্য যা যার, পায়-ই যেন পায়!
চুপটি যারা, কোটির ভিড়ে থেকে,
নিজের মত, যাচ্ছে কেবল দেখে,
ওদের চাওয়াও মিশছে একই রেখায়,
আসবে বুঝি বিচারপতির লেখায়!
অন্যায় যে করল জেনে বুঝে
মাস ঘুরে যাক বছর পেরোক শত,
তার অপরাধ হয় না ক্ষমা কোন,
শুকোয় না আর দগদগে সেই ক্ষত!
ইতিহাসের মলাটবাঁধা পাতায়
অন্যায়েরা শব্দ হয়ে বাঁচে,
অপরাধীর ফাঁস পরাবে বলে
আঁচ হয়ে যায় আইনে গড়া ছাঁচে!!
আমাদের পতাকা আর তোমরা
তোমরা যারা আজ দুপুরে এই আমাদের আঘাত দিলে,
তোমরা যারা লাল সবুজের দেশটুকু আজ ছিঁড়েই নিলে,
তোমরা জানো এই পতাকা দেয়নি যেঁচে শ্ত্রুসেনা?
তোমরা জানো এই পতাকা তোমার ভায়ের রক্তে কেনা?
তোমরা জানো এই পতাকা তোমার মায়ের কান্না ধরে?
তোমরা জানো এই পতাকায় তোমার বোনের লজ্জা সরে?
তোমরা জানো এই পতাকা বাংলাদেশের গল্প বলে?
তোমরা জানো এই পতাকার গৌরবে এই দেশটা চলে?
তোমরা জানো এই পতাকায় কত্ত বুকের আবেগ মেশে?
তোমরা জানো এই পতাকায় কত্ত চোখের প্লাবন এসে-
তোমরা জানো এই পতাকায় তোমার আমার সৃষ্টি লেখা?
তোমরা জানো এই পতাকায় দেশের কথা আবার শেখা?
তোমরা জানো এই পতাকায় শ্রদ্ধা জানায় বিশ্ববাসী
তোমরা জানো এই পতাকায় আমরা সবাই জগৎ ভাসি?
তোমরা জানো এই পতাকায় তোমরা আছো, আমার মত?
তোমরা জানো এই পতাকা আশায় বোনা, স্বপ্ন কত?
তোমরা জানো এই পতাকা সবচেয়ে বড় পাওয়া?
তোমরা জানো এই পতাকায় আঘাত মানে নিজেই মরে যাওয়া?
তোমরা জানো কত্তটুকু আজ পুড়েছো অভিশাপে?
তোমরা জানো কত্তটুকু আমলনামা ভরলে পাপে?
তোমরা জানো ধ্বংস হতে কাজ কিছু নেই বোমার?
তোমরা জানো কত্তটুকু নিঁখাদ ঘৃণা কেবল তোমার? তোমার?
দায়শোধ- [৩য় পর্ব]
আমায় দিয়ে হয় না কিছুই;
নেই স্লোগানে নেইকো বসে থাকায়
নেই মিছিলে পোস্টারে নেই নেই কার্টুন আঁকায়!
বিক্ষোভে নেই, উৎসবে নেই, নেই জাগরণ গানে,
পথ হেঁটে যাই; কেবল দেখি- মানুষ সবই জানে!
তীব্র প্রতিবাদের সুরে এই ঐক্যের দেখা
এতেই থাকুক স্বপন আঁকা ভবিষ্যতের লেখা!
প্রকাশ যা হোক; এই জনতার আবেগটুকুন খঁটি-
আমায় দিয়ে কিছুই না হোক-
ভিড় বাড়াতেই হাঁটি!
[লেখাটা ফেসবুকে ছিল, ওখানেই থাকত শুধু। এই লেখাটা চোখে না পড়লে।]
ফেব্রুয়ারি ৯, ২০১২
দায়শোধ-প্রলাপ
নয় হ্যান্ডকাফ ডান্ডাবেড়ী
নয় কারাগার ফাঁসি,
তোদের জন্য কেবল আছে উদ্ভ্রান্তের
হাসি।
কেবল আছে ঘৃণার থুথু কেবল অসীম
ক্রোধ
কেবল
আছে গুমড়ে মরা রক্তে প্রতিশোধ।
কেবল আছে স্বজনহারার
কান্না হাহাকার
কেবল আছে ব্যাখ্যাহীন এক ব্যথার
পাথর ভার।
কেবল আছে অসহায়ের তীব্র অভিশাপ
কেবল আছে ছবির সাদায় রক্তে কালো ছাপ।
কেবল আছে ধিক্কারে ক্ষোভ স্তব্ধ
কিছু মুখ
কেবল আছে আঁচলঢাকা গভীরতম দুখ।
কেবল আছে রায়েরবাজার মিরপুরে ম্লান
মাটি
কেবল আছে তীব্র বিষাদ তীব্রতম,
খাঁটি।
তোদের জন্য আর কিছু নেই,
কী আর তোরা চাস?
হায়না তোরা, হামলে পড়ে
চাখিস নিজের লাশ!!
[গতকাল লেখা। মনে হচ্ছে এখানেও থাকুক।]
নতুন বাংলাদেশের স্বপ্নঃ বি-কিউব ফাউন্ডেশন
হৃদয়ে বুদবুদ-মত ওঠে শুভ্র চিন্তা কত ...
বাসায় একসময় মামা-ভাগ্নেরা মিলে আড্ডা হত খুব। ছোট্ট রুমে আবহসঙ্গীত হিসেবে হাবিবের ‘সহে না যাতনা’ আর ‘একটু দাঁড়াবে কি’ আর খাটে ছড়ানো কম্বলে পা ঢুকিয়ে শীতার্ত আলাপের পাশাপাশি গানালাপ, কখনো কখনো ‘খানালাপ’ আর কখনো বিষয়বিহীন ডালপাতা গজানো নির্ভেজাল আড্ডা।
এমনি এক সন্ধ্যার আড্ডায় ছোট মামার এক তীব্র প্রশ্নের মুখোমুখি পড়ে হয়রান হলাম-
“সরকারি স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে তো ৫-১০ টাকা বেতনে পড়েছো এতদিন ধরে- সুবিধা তো কম পাওনি কিছু, বেশিই পেয়েছ বরং- তোমার সবচাইতে সেরা সুবিধাটুকু দেয়ার চেষ্টা যে হচ্ছে সে কার টাকায়? সরকারের? সরকার সে টাকা কোথা থেকে পায়? সাধারণ মানুষগুলোর ট্যাক্সের টাকায়। সাধারণ মানুষগুলোর ঘাড়ে চাপা ঋণের টাকায়। কেবল পাওয়ার হিসেব তো কর, কখনো কি চিন্তা করেছ তুমি কি দিচ্ছ ওদের?
দেশ তো তোমাকে দেয়ার চেষ্টা করছে, তুমি কী দেয়ার চেষ্টা করেছ তোমার দেশকে?”
না পাওয়ার হিসেব তো হাতের নাগালে, পাওয়ার হিসেব আবার সে পাওয়া চুকিয়ে দেওয়ার হিসেব তো করিনি কখনো, মনেই হয়নি সেকথা।
দায়শোধ
রক্তে যাদের হাত রাঙ্গা আর
বিবেক অকালমৃত,
সব অধিকার কাড়ায় যাদের অকর্ম
স্বীকৃত,
হয়নি যাদের অন্যায়বোধ, অপরাধেও
সায়,
দোষ স্বীকারের প্রহসন আর ক্ষমাও
যদি চায়-
হয় না ক্ষমা জীবন নেয়ার,
হয় না ক্ষমা ক্রোধের,
হয় না ক্ষমা আঘাত হানা আর
আসুরিক বোধের,
হয় না ক্ষমা চোখের জলের,
লজ্জা অপমানের,
হয় না ক্ষমা দম্ভ মুখোশ
কিংবা কোন ভানের,
হয় না ক্ষমা অসহায়ের
সহায়খানি কাড়ার,
হয় না ক্ষমা মনের পশু
বাইরে এনে ছাড়ার,
হয় না ক্ষমা অধিকারে অন্যায্য
কোন্ দাবী,
হয় না ক্ষমা হয় না ক্ষমা হয়
না ক্ষমা; ভাবি-
দিন যত যাক বছর ফুরাক এক
বিচারক আছে
সব অপরাধ গর্হিত আর ঘৃণার
যে তাঁর কাছে
তাঁর কলমে আসবে যেদিন শেষ
বিচারের রায়
সব জানোয়ার নিপাত যাবে,
কাটবে মনের দায়!!
বাংলাদেশ
পথ ধরে যে নিজের মত চলছে পাশাপাশি,
হয়ত তারে দূরে ঠেলি হয়ত ভালবাসি,
হয়ত দেখাই হৃদ্যতা বা হাসির দেয়াল তুলি,
হয়ত কিছু অমিল পেতেই আর যা কিছু ভুলি;
হয়ত অমিল কথায় কিবা অমিল মতামতে,
হয়ত অমিল বেশভূষা আর পোশাক পরিচ্ছদে,
হয়ত অমিল বিশ্বাসে আর হয়ত অমিল কাজে,
হয়ত অনেক অনেক অমিল কেবল চোখে বাজে-
কেবল জানি অমিলগুলো কোথায় যেন এসে,
হাজার 'আমি' 'আমরা' হতেই সরলরেখায় মেশে;
আমরা হতেই সাকিব তামিম আমার হয়ে দাঁড়ায়,
আমরা হতেই প্রত্যাশারা একার সীমা ছাড়ায়,
আমরা হতেই তীব্র বিষাদ-ক্রোধ-হতাশার সুর,
আমরা হতেই প্রবল উছাস,আনন্দ-ভরপুর,
আমরা হতেই সবুজ শ্যামল অনন্য রূপ দেখা,
আমরা হতেই সংস্কৃতি আর ঐক্যে গড়া রেখা,
আমরা হতেই কালের ঘড়ি, রঙ্গীন দিনের আশা,
আমরা হতেই সুরের ছোঁয়া, শান্তি ভালবাসা,
আমরা হতেই বৈশাখী আর ফাল্গুনে বই মেলায়,
আমরা হতেই মিছিল-মিটিং উদ্দীপনার খেলায়,
আমরা হতেই রায়েরবাজার দীর্ঘনিঃশ্বাস আনে,
আমরা হতেই আমতলা আর 'আমার ভায়ের' গানে,
আমরা হতেই স্বজনহারার তীব্র শোক আর ক্রোধে,
আমরা হতেই ন্যায়হীনতায় প্রবল প্রতিরোধে,
আমরা হতেই একাত্তর আর উনসত্তর ডাকে,