গল্প কিংবা ......
ভিষন ভীড়ের মধ্যে ঠাসাঠাসি করে কোন মতে জামা দেখে বের হয়ে এসেছে রীনা। কয়েকটা দোকান দেখে শেষ পর্যন্ত একটা জামা পছন্দ হোল তার। সব দোকানে গিয়ে দেখে সেলসম্যানরাও বেশ আনন্দ সহকারে ব্যস্ততার উপভোগ করছে । আশে পাশে ভীড় উপচে পড়ছে যেন। কেমন একটা উৎসব উৎসব ভাব চারিদিকে। প্রকৃতিও সেরকম - ঠান্ডাও না এখন , আবার গরম ও না। যে কোন উপ্লক্ষ্যেই এখন সবাই নতুন জামা কিনে , রীনাও তাই কিনতে বের হয়েছে।
বইমেলা কাহানী...
আমার প্রায় প্রতিদিনই বই মেলায় যাওয়া হয়েছে। কোনো কোনো দিন আড্ডাবাজ কাউকে না পেয়ে শ্রেফ একটা চক্কর মেরেই চলে এসেছি। অফিস থেকে ৬ টা নাগাদ বেরিয়ে নিউমার্কেট, নীলক্ষেত পেরিয়ে টিএসসিতে হিমু মটর সাইকেলটা রেখে মেলায় ঢুকে যাই। নজরুল মঞ্চ পার হয়ে তথ্য কেন্দ্রকে বায়ে রেখে লিটল ম্যাগ চত্বরে ঢু মারি। তারপর আড্ডা উড্ডা মেরে মেলা ঘুরে আটটা নাগাদ ছবির হাঁটে ফিরে আসি। ওখানে আমার বন্ধুরা সরাতে আর কাগজে ছবি আঁকে। সে
আত্মমগ্ন কথামালা (নৈর্ব্যক্তিক সময়ের শব্দ)
কয়েকটা টেলিফোন বেজে উঠেছিল কোথাও
আর, রাতজাগা ঘুমেদের আস্ফালনে চাপা পড়ছিলো
বিবিধ আগুনের তাপ
ত্রিধাবিভক্ত জিহ্বা নিয়ে উল্লসিত সাধুগোত্র
অন্যের রক্তে পানপাত্র ভরে নিচ্ছে অবিরাম
পাথর চোখের কার্নিশে ঘর বাঁধা প্রজাপতি, তোমরা উড়ে চলে যাও
এখানে স্বপ্নের বলি দেয়া হবে কিছুক্ষণ পর
বেজে উঠবে বিকলাঙ্গ নর্তকীর কাঁচের চুড়ি
হাড়ের গভীরে হেঁটে যাওয়া ঘুন পোকা, তুমি কেঁদে উঠোনা
সোয়াচ অফ নো গ্রাউন্ড - ক্যাসপার ম্যাগনুসেন
[এক বন্ধুর মেইলে লেখাটা পেয়ে মন ভরে যায়। আমাদের দেশের জন্য ভালো কোনো সংবাদ এখন দুষ্প্রাপ্য। না সমাজ না পরিবেশ না রাষ্ট্র। কোনো খানেই আশাবাদী হওয়ার মত কিছু নাই। সেখানে বঙ্গোপসাগরে এখনও এমন যায়গার অস্তিত্ব আছে সত্যি অবিশ্বাস্য। ডলফিনদের এই আবাস স্থল নিয়ে বিবিসিতে বেশ কয়েক মাস আগে প্রতিবেদন দেখেছিলাম। সোয়াচ অফ নো গ্রাউন্ড বঙ্গোপসাগরের ১৪ কিমি দীর্ঘ গভীর সমূদ্র। এই জায়গ
অবিকল
ক্লাসে মনোযোগ দেয়ার ব্যাপারটা এরই মধ্যে ইতিহাস হয়ে গেছে। এটেন্ড্যান্সে ৩০-৪০টা মার্কস পাওয়া যায়। টেনেটুনে পাশ করনেওয়ালাদের জন্য বড়ই গুরুত্বপূর্ণ! তারপরেও অনেকে এই এটেনড্যান্সের কয়েকটা মার্কসের মায়া ছাড়াতে পারছে। আমাদের মতো কয়েকটা ভীতুর ডিম এখনো পারে নাই... তাদেরই কেউ কেউ তাই ক্লাসে বসে ঝিমায়। কেউ ছবি আঁকে।
সবাই কবি নয় ,কেউ কেউ কবি
সেদিন ক্যাফেতে বসে বেশ ভাবের সাথে রাজা উজির পেটাচ্ছি,বাইরে তখন বৃষ্টিটাও বেশ জেঁকে ধরেছে,তার সাথে অবধারিতভাবে উড়ে যাচ্ছে কাপের পর কাপ চা,আর সিগ্রেট তো দেখতে না দেখতে ভস্ম হয়ে যাচ্ছিলই।মন মেজাজ বড়ই শরিফ ছিল আমাদের।এমন সময় বলা নেই কওয়া নেই কোত্থেকে দুম করে মফিজ এসে পড়ল।মুহুর্তেই আসন্ন বিপদের আশঙ্কায় আমাদের মুখ শুকিয়ে আমসি হয়ে গেল।
জানতে চাইলাম,"কিরে,এমন ঝড়ো কাক হয়ে এলি যে?"
হংকং ইমিগ্রেশন ও সর্ষের তেল বৃত্তান্ত
(আমরা বন্ধুতে নিবন্ধন করেছি বেশ কিছুদিন আগেই কিন্তু নানা ঝামেলায় আর আলসেমিতে কোন পোস্ট দেয়া হয়ে ওঠেনি। আজ ঝমঝম বৃষ্টি পড়ছে বাইরে , এমন দিনেই আমাকে অতর্কিতে আক্রমণ করে মনের সিন্দুকে লুকিয়ে থাকা স্মৃতিকাতরতা, তাই লিখতে বসে পুরোনো সব কথা মনে পড়ে যাচ্ছিল। ভাবলাম লিখে ফেলি হাবিজাবি যাই মনে আসে, কেন জানি হংকংয়ের কঠিন দিনগুলিই স্মৃতির ভেলায় চেপে কড়া নাড়তে লাগলো। তাই এই লেখালেখির অভিনয়, আপনাদের ভালো লা
বয়ে চলা জীবন-কাব্যের পান্ডুলিপি ১
একটা লেখা শুরু করেছিলাম , খোঁড়াতে খোঁড়াতে ৪ পর্ব ও দিলাম। এরই মাঝে আমার অফিস থেকে দেয়া ল্যাপটপ টা তে শুরু হল নানান ঝামেলা। ল্যাপটপ টা আমি আমার মত করে সাজিয়ে নিয়েছিলাম অভ্র , বাংলা ফন্ট দিয়ে । জনাব ভাইরাস সিস্টেম ফাইল খেয়ে ফেলাতে সেইফ মোড ছাড়া ঢোকা যায়না উইন্ডোজে, তাও কোন মতে ঢোকার পর শুরু হয় একের পর এক ফাইল নাই , এই এরর , সেই এরর ম্যসেজের উৎপাত। অফিসে নিয়ে যে ফরম্যাট দিয়ে আবার সেট আপ দিব - তার উপা
ব্যর্থ জেমস ক্যামেরুন; ব্যর্থ অবতার !
কবি বলেছিলেন, "মনে বড় আশা ছিল যাব মদিনায়"। কবিদের আমলে মদিনায় যাওয়াটা একটা ইস্টাইল ছিল। হালে বঙ্গ সন্তানেরা যেরুপে ইউরোপ আমেরিকা'কে ফলো মারতে গিয়ে কাছা খোলা প্যান্ট পরে আর ইউরোপ-আমেরিকা ভ্রমনের স্বপ্ন দেখে ঠিক সেরুপে কবিদের আমলে মদিনায় হিজরত করাটা ছিল ইস্টাইল। বর্তমানের বঙ্গ সন্তানদিগের ইংলিশ বলাটা যেমন ইস্মার্টনেস, সেরকম কবিদের আমলে আরবি ফারসী বলাটা ছিল ইস্মার্টনেস। সুতরাং কবির মদিনায় যেতে চাওয়াট
প্রেমধর্ম
পুংশকধর্মে কোনো প্ল্যাটনিক লাভ নেই
যৌবন শেষ হয়ে গেলে যে প্রেমের উন্মেষ
তার চেয়ে খাঁটি ও স্বর্গীয় আর কিছু হয় না
ভেতর-বাহির (ষষ্ঠ পর্ব)
ভেতর-বাহির (ষষ্ঠ পর্ব)
ব্যতিক্রম । উপলব্ধিটা এক শব্দে তেমনই। ইতি আর নেতি দ্বয় কে ঠিক এই মুহূর্তে আগমন করার কোন তাড়া দেবোনা। আসলে যে লেখে সে অবশ্যই ভাবুক আর ভাবুক এর মনে পরিবর্তনের একটা পিয়াস থাকেই।
ডাইরী ৫২
শৈশবে একবার লায়ন সার্কাসের শো দেখতে গিয়া ভাবছিলাম এই জীবনে ক্লাউন হওয়াটাই আরাধ্য, তার চাইতে সুখী মানুষ কে আছে এই পৃথিবীতে!
এক.
বাড়ি ফেরার ভ্রমণক্লান্তি
১
ঠিক ঠিক ঘরে ফিরি- ফেরা হয়। কবুতরের চুম্বক থাকে- দিক চিনে ঠিকই খোঁপে আসে সন্ধ্যায়। আমি শহুরে জীবন্ত মনুমেন্ট, আমার ভিতরে তড়িৎচুম্বকীয় ব্যাপারস্যাপার। তাই ফিরি। নিজের চুলের ভাঁজে, আঙুলে, চোখের বয়ামে অসংখ্য গল্পের পাণ্ডুলিপি নিয়ে যেগুলো আমি যত্ন করে লিখতে চেয়েছিলাম, হয়ত আমার আগে কোন পূর্বপুরুষ- আমাদের লুকানো দুঃখ-সুখ-স্বপ্ন-বন্ধনের শব্দাবলি- নাগরিক জীবনের বৃত্তজীবিতাকে সম্বল করে।