ছবি তোলার ইচ্ছা ও তুলতে না পারা
অনেক দিন আগে থেকেই শুরু না। বেশ কিছুদিন আগে যদিও তুলতাম সেটা তোলার জন্যই তোলা। একটা ক্যামেরা ছিল, ফিল্মের। সেইটা দিয়া ফোকাস করে ছবি তুলতাম ব্যাস। তবে ফটোগ্রাফি কোর্স করার ইচ্ছে যে হয় নাই তা না। তবে আরও শ পনের ইচ্ছার মত এইটাও বাস্তবায়নের মুখ দেখে নাই। আগ্রহটা আসে যখন বছর দেড়েক আগে একটা ডিজিটাল ক্যমেরা হাতে পাই। ছবি তোলার নিয়মরীতি জানিনা কিছুই। খালি ছবি তুলি। ফুলের ছবি তুলি। নদীর ছবি তুলি। কাকের ছবি তুলি। মানুষ, বাড়ি যা সামনে পাই তারই ছবি তুলি। এইভাবে ছবি তোলার আগ্রহটা পাইয়া বসে।
ইন্টারনেটে ছবির সাইটে ঘুরাঘুরি করি। ডিজিটাল ফটোগ্রাফির টিউটরিয়াল নামাই। ফ্লিকারে গিয়ে দুর্দান্ত ছবি দেখি। পরিকল্পনা করি এরম ছবি আমার তুলতে হবে। ক্যমেরা তো আছেই। এপার্চার, সাটারস্পিড, এক্সপোজার , ফোকাল লেন্থ, কম্পোজিশন এরম অনেক কিছুই শিখি। কিন্তু দুইদিনেই হৃদয়াঙ্গম হয় আমার ফকিরা ক্যামেরায় চলবেনা। লাগবে ডিএসএলআর। দাম কেমুন? নেট ঘাটি। ঐ বাপ কি সব দাম একেকেটার! ক্যামেরার দাম এত! নিরাশ হই আবার আশা রাখি। একবার মনে হয় ধুর গরীবের এই সব শখ আহ্লাদের বেইল নাই। আবার ভাবি বাচমু আর কয়দিন , জীবনের কত শখইতো বাদ গেল, এই শখ যদি পুরনই না হইল মইরাও লাভ আছে! এরম দাইলেমায় পরতে পরতেও এক সময় দেখি আমার এক বন্ধুও আমার মত এই নেশায় মাথা খাওয়াছে। ফলে ইচ্ছা আরো চাগাইয়া উঠে, ডিসিশন ফাইনাল করি ক্যমেরা কিনবোই, কী আছে দুনিয়ায়!
একবেলা খাইয়া দুইবেলা না খাইয়া তারপর একদিন স্বপ্নের মত ডিএসএলআর জিনিসটা হাতে আসে। ও ইয়া। এইবার আমারে পায় কে। ফাটায় ফেলমু ছবি তুলে। তাক লাগায়া দিমু। সবথিকা বড় কথা আমিই তাক লাইগা থাকুম নিজের তোলা ছবি দেইখা। কিন্ত না।
কিন্তু না কারণ, ছবি তুলতে গিয়া দেখি ক্যামেরার সাথে যেই লেন্স আছে সেইটা দিয়া কাভার করা যায় না। আরো লেন্স লাগবে। জুম লেন্স, ম্যাক্রো লেন্স। ওয়াইড এঙ্গেল কোতো রকমের লেন্স। দাম? ক্যামেরার থিকাও বেশি!!! তারপর ট্রাইপড মাইপড আরো কত কী যে লাগে। চুইয়ে চুইয়ে পরা উৎসাহের ফোঁটা বন্ধ হইয়া আসে। যেইটা থাকে সেইটা নিয়া তুলতে গিয়া না দিগদারি।
ছবি ভালো তুলতে হলে কনসেন্ট্রেট করতে হয়, সময় নিয়ে ছবি তুলতে হয়। ফটোওয়াকে যেতে হয়। সপ্তাহের ছয়দিন চাকরি কইরা ছবি তোলার জন্য সময় আর হয় না। কোথাও বেড়াতে গিয়া তোলাতেও আবার আছে ঝামেলা। বউ বাচ্চা নিয়া ছবি তুলতে কী সমস্যা ভুক্তভোগীরা সম্যক জানেন।
আমি হিংসা করি খুব ব্লগার আসাদ কে। আমি যদি ওর মত হতে পারতাম! মাঝে মাঝে ভাবি সব ছেড়ে দিয়ে সারাদিন ছবি তুলি ওর মত। আসাদ চাকরী ছেড়ে দিয়ে ফ্রিল্যান্সার ছবি তুলে। স্বপ্নের মত জীবন। আমার এত শখের ক্যামেরা আলমারীতে ঝিমায় দিনের পর দিন মাসের পর মাস। আর ছবি না তোলার কষ্ট কুড়ে কুড়ে খায় আমারে।
তারপরো সৌখিন আলোকচিত্রগ্রাহক হওয়ার বাঞ্ছা রয়ে যায়। ছবি তোলার আগ্রহ মরে না। একদিন সময় আসবেই যে মনমত ইচ্ছেমত ছবি তোলা ও ছবিতে নিমগ্ন থাকা ছাড়া অন্য কিছুই করব না। স্বপ্নটা নির্জনে লালিত হতে থাকে।
পোস্টের ছবিগুলো ফরিদপুরে আড়িয়াল খাঁ নদীর চরে ও জাতীয় সৃতিসৌধে তোলা।

















টেকা পয়সা নাই বইলা স্বপ্ন দেখতেও হালার মন্চায় না
আপনের টেকা পয়সা নাই !!!!!!
শেষের দুইটা এবং প্রথম থেকে দ্বিতীয়টা সবচাইতে সুন্দর হইছে...
অ.ট. লজ্জাবতী ফুলের ফটুকটা নিশ্চয় মেসবাহ ভাইয়ের বাসার কম্পিউটার হ্যাক করে পাইরেসি করেছেন? ... দিক্কার
এইটা দেয়ার সময় ভয়ে ভয়ে ছিলাম। উনি দেখলে কহুব রাগ করবে।
ক্যামেরা নিয়া আপনার পর্যবেক্ষণ পারফেক্ট। আমার নিজের পয়েন্ট এন্ড শুট ছাড়া আর কিছু নাই, কিন্তু আশেপাশে ২-১ জনরে দেখছি ঠিক আপনার মত কেস। প্রথমে ক্যামেরা, এরপরে নানান পদের লেন্স, এরপরে ম্যাক্রো ফিল্টার, এরপরে ইউভি না কি যেন, এরপরে ওয়াইড অ্যাঙ্গেল, এরপরে জুম লেন্স, এরপরে ছবি কারিকুরির জন্য ফটোশপ শিখা ... শেষমেষ কয় আমার এত সময় কই?
বলতে ভুলে গেছি, সবশেষ ছবিটা খুব ভাল্লাগলো ... আমাদের স্মৃতিসৌধ গর্ব করে দাঁড়িয়ে আছে ...
ঠিক। এখন বুঝতাছি এইটা তিমি রোগ।
১নং বিতে কি রিমঝিম মুগ্ধ হয়ে নদী দেখছে?
১,২,৪,৮, আর শেষের ৩ টা ছবি সুন্দর। রায়হান ভাই ইদানীং ক্যামেরা নিয়া বের ই হয় না।এটা ঠিক না।
আর মেসবাহরে খবর দেই আপনি আবার উনার পিসি থেকে ছবি চুরি করে এখানে দিছেন।
হ্যা রিমিঝিম।
লেখাটা পড়ে মন ছুঁয়ে গেছে। আর ছবি দেখে মুগ্ধিত হয়েছি।
কলাপাতা কালারের জামা পরা নারীটি কে? কী মিষ্টি দেখতে।
ধন্যবাদ লীনা।
কলাপাতা জামার মেয়েটা রিমঝিমের চাচাত খালা।
বিতে = ছবিতে
খুব ভালো লাগলো, কিপিটাপ
ধন্যবাদ।
হা হা হা। কমেন্ট দেখে একজনের কথা মনে পড়ল ।
এতো ভাবনার কি ছিল। দুই/তিনটা কবিতা, ফেসবুক আর ২/৩ টা প্রবাসী নারী-ক্যামেরা পাইতে নাতি আর কিছু লাগে না।নিজের আয় না, বাপের টাকাও না।
যাইহোক..........সামনে নতুন নতুন মডেল আসবে। কিপিটাপ।
ও. ছবিগুলা অসাধারন।
আপনি এতো কম লেখেন কেন আজকাল?
ধন্যবাদ। প্ল্যান করছিলাম সামনের মাস থিকা ডেলি একটা করে পোস্ট দিবো। বাট ক্যাচাল শুরু হইল আবার
ছবিগুলা দেইখা বেড়ানির ইচ্ছা মাথাচাড়া দিয়া উঠলো। অনেকদিন বেড়াই না কোত্থাও।
শুরু করো।
আমার কেস আপনার কাছাকাছি। গত বছর ডিএসএলআর কেনার জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়া গেলাম দোকানে। পরিচিত বিক্রেতা এই মডেল সেই মডেল দেখায়। আমি গেছিলাম ক্যানন ডি৬০ কেনার জন্য। আমার বেসিক টেষ্ট নিয়া দোকানী বলে আপনি ক্যানন ডি৬০ চালানোর মতো উপযুক্ত হন নাই এখনো। বরং আপনি সনি এইচ৫০ নিয়া যান। সুপার জুম। ১৫এক্স অপটিক্যাল ৩০এক্স ডিজিটাল, ক্লিকাইবেন ধুমায়া। পানির মতো সহজ। হাত পাকলে তারপর ক্যানন ডিএসএলআর কিনবেন। আমি বেজার মুখে সনি এইচ৫০ নিয়ে ফিরে আসি। এখন দেখি এইটা দিয়েও ক্লিকানোর টাইম পাই না।
মনে হয় এটা নিকন ডি৬০ হবে
আমার প্রিয় ফুল : লজ্জাবতী
প্রিয় পাখী : টিয়া.............
কোলোন পি
আহারে কতদিন পর লজ্জাবতী ফুল দেখলাম।
বাকি ফটুক দেইখ্যা মুগ্ধৈছি।
ফটু তোলাটা এতো খরচার বিষয় জান্তাম্না। মুনে করতাম কেমেরা হইলেই হইলো।
ধন্যবাদ। হা এইটা গরীবের জন্য না।
আপনি তো ১০০% ফটুক গ্রাফার এখন। এ্যমেচার নাই আর।
ছাট্টিফিকেট দিয়া দিলা?
ফডু যে সুন্দর সবাই কৈতাছে, সে আমি আর কৈলাম না.....
ফডু ম্যান হওনের শখ মনে হয় বাংলাদেশে অনেকেরই মৈরা যায়.....
কোর্স করা পর্যন্ত গেছিলাম, তারপর একটা ভাঙ্গাচুরা সী-গাল (তখন দাম ৩৮০০ টাকা) ক্যামেরা, ডিফল্ট ইউভি ফিল্টার, বড় ভাইগোর কাছ থেইকা দানস্বরুক একটা স্টার ফিল্টার আর একটা ম্যাক্রো ফিল্টার নিয়া ধুমাইয়া নাইমা গেলাম....
ফিল্মের নাম ভুইলা গেষি, যখন ফুযি ছিলো ৮৫ টাকা, ঐটা ছিলো ২৫ টাকা রোল, সেকি বাজে কোয়ালিটি, সেডি ধুমাইয়া খরচ করতে লাগলাম....তারপর যখন ফডু সব খারাপ আসতে লাগলো, ক্যামেরা কারিগরি শুরু করলো নিজেই, একজনে ফ্ল্যাশ নিয়া কি জানি করলো....তারপর সেই কলেজ জীবনেই শখ ধামাচাপা পড়লো.....
তয় ডিএসএলআর একটা দেখলেই শরীর কেরম কেরম লাগে...
হ্যা। ডিএসএলআর জিনিসটাই মাথা কহারাপ করে।
একসময় খুব ইচ্ছা ছিলো, কিন্তু এখন আর ইচ্ছা নাই। সময় দিতে না পারলে হুদাই কিছু হয় না।
আপনার ছবিগুলা সুন্দরইছে
- ১৮-৫৫ লেন্স মনে হচ্ছে। মডেল কি ক্যামেরার?
-কিছু ছবি ওভার এক্সপোসড লেগেছে
-ফুলের ছবিটার Bokeh ভালো হয়েছে
ক্যামেরা হয়ত বড় একটা ফ্যাক্টর( সঠিক বাংলা কি উপাদান/উৎস?) কিন্তু আসল গল্পটি বলবার ক্ষমতা রাখেন তার পেছনের মানুষটির দেখবার মতো চোখ ! আমার তাই ধারণা ।
যদিও আমি ফটোগ্রাফির তেমন কিছু বুঝিনা । চোখ যদি ঠিক গল্পটা পড়ে ফেলে, বুঝি ছবি আসলেই সুন্দর ! নদীরপাড় ঘেষে দাঁড়ানো ছোট্ট মেয়েটির অবাক চেয়ে থাকা, লজ্জাবতীর লজ্জাহীন চাহনি , আর মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা আমাদের অস্তিত্ত্বের অহংকার স্মৃতিসৌধের ছবিগুলো সুন্দরের কথা বলে দিলো অকপটেই ! আরো আসুক এমন ছবিব্লগ । ছবিগুলোর নীচে নীচে টুকরো লাইন জুড়ে দিলে তা পোষ্টকে আরো সমৃদ্ধ করবে বলে আমার বিশ্বাস ।
ধন্যবাদ এই সুন্দর পোষ্টের জন্য । শুভেচ্ছা নিরন্তর !
২ আর ৩ নং ভাল্লাগছে!
ভালো লাগল । বেশি ভালো লাগল শুরুর দিকের প্যাচাল! প্রথমাংশ মিলে গেলো! খাইয়া না খাইয়া আম্মো কিনতে চাই! দেখা যাক সামনে কী হয়!
ছবিগুলো ফেসবুকে আগে দেখেছিলাম। খুবই সৌন্দর্য। ইচ্ছা থাকলে উপায় যে হয়ে যায় সেটা আবার আপনি প্রমান করলেন।
নজরুল ইসলাম, ভাঙ্গা পেন্সিল, বোহেমিয়ান, তানবীরা,
অনেক ধন্যবাদ আপনাদের।
উদ্ভ্রান্ত পথিক,
ক্যানন ডি ৫০০। ধন্যবাদ আপনাকে ভুল ধরিয়ে দেয়ার জন্য। এখন ছবি তুলতে গেলে ওভার এক্সপোজের ব্যপারে আপনার কথা মাথায় থাকে।
বাতিঘর,
অনেক আগে থেকেই আমি আপনার কমেন্টের ভক্ত। আমি ভাবতাম এত সুন্দর করে কমেন্ট করেন কীভাবে! আমি কয়েকবার আপনার নকল করতে গিয়ে ব্যার্থ হয়েছি। কৃতজ্ঞতা।
ওস্তাদ,
সুন্দর ছবি। কয়েকটা কপি করে রেখেদিলাম।
মনে কিছু নিবেন না।
আমার নিজেরও একটা ডিএসএলআর-এর সপ্ন। কিন্তু কি আর করা, নান্টু সংকট। আর নান্টু যেহেতু নাই তাই এক বড় ভাইয়ের কাছ থেকে ৩৫০০ টাকা দিয়ে কেনা মান্ধাতা আমলের ক্যানন এই-১ ফিল্ম ক্যামেরা দিয়েই মাঝে মাঝে ছবি-টবি তুলি। তবে আমার মাথায় একটা বুদ্ধি আসছে।
আপনার ক্যামেরাটা যেহেতু আলমারি পড়ে পড়ে ঘুমাচ্ছে তাই সেটাকে আর বেশি দিন ঘুম পারিয়ে না রেখে আমার কাছে দিয়ে দিতে পারেন। চিন্তা করবেন না, আপনার চাকরি বাকরির পর তেমন সময় না পেলেও আমি যেহেতু চাকরি করছিনা তাই আমার হাতে এখনো প্রচুর সময়। আর চিন্তা করছি ভবিষ্যতে ক্যামেরার উপরই কিছু করব। তাই আপনার ক্যামেরা খেয়ে-দেয়ে আর কাজ কম্য করে বেশ ভালই থাকবে।
১, ৪ ও ৭ নং ছবিগুলো চমৎকার হয়েছে।
মন্তব্য করুন