যাপিত দিনমান: সোভহানাল্লার মর্তবা ও অন্যান্য
প্রায়ই ভাবি দিনযাপনের কথা লিখি। কিন্তু লিখতে গেলেই সেই দুনিয়ার আলসেমিও বিরক্তি ধরে। তাই ভাবাই সার লেখা হয়ে উঠেনা। আজ মীরের চমৎকার লেখাটা পড়ে এবং ওর আগ্রহ জেনে সাথে সাথেই লেখা শুরু করি এই ভয়ে যে পরে আবার যদি লেখা না হয়। এই লেখাটা দিয়ে মীরকে আবারো ধন্যবাদ ও ক্বতজ্ঞতা জানাই।
এক
আমাদের মহল্লার পাশে একটা মসজিদ আছে বেশ পুরানো। তবে এই মসজিদটা বিখ্যাত এর মুয়াজ্জিনের জন্য। বয়স্ক মুয়াজ্জিন বিকট ও অদ্ভুত সুর ও স্বরে আযান দেন। আমি বাজী ধরতে পারি সারা দুনিয়ায় এমন অদ্ভুত আযান কেউ দেয় না। আমরা শুনতে শুনতে অভ্যস্ত হয়ে গেছি। কিন্তু বাইরের লোক এসে অবাক হয়ে যায় আযান শুনে। একজন সবচেয়ে এপ্রোপিয়েট মন্তব্য করেছে এইটা নিয়ে। তিনি বলেন, এই আযান শুনলে বোঝা যায় কেয়ামতের আর বেশি বাকি নাই।
অনিবার্য কারণে সেইদিন জুম্মার নামায পড়তে যেতে হয়েছে। সোয়া একটায় জামাত আন্দাজ করে গিয়েছি কিন্তু জামাত শুরু হল দেড়টায়। মধ্যের সময়টায় ইমাম সাহেবের বয়ান শোনা হল। হুজুর বিভিন্ন কেরামতি, গল্প ইত্যাদি বলার পর বলেন, সবাই বলেন সোভহানাল্লাহ। তারপর সোভহানাল্লার মর্তবা বোঝানোর জন্য কয়েকটা গল্প বলেন।
উনি বলছেন, একদিন পয়গম্বর সোলায়মান সিংহাসন নিয়া আকাশ দিয়া উইড়া যাইতেছেন। নিচে এক কৃষক জমিতে কাজ করছিল। পয়গম্বরের সিংহাসনের ছায়া তার উপর পড়তেই সে সোভহানাল্লা বলতে লাগল। সে যতবার সোভহানাল্লা বলে প্রত্যেকবার তা একটা মৌমাছি হয়ে উড়ে যায়। সোলায়মান দেখে তার চারপাশ মৌমাছিতে ভরে গেছে। তিনিতো অবাক। মৌমাছিদের জিজ্ঞাস করলেন তোমরা কোথা থেকে আসছ। ওরা বলে নিচে আমাদের জন্মদাতা। পয়গম্বর তখন নিচে নেমে আসলেন। তিনি কৃষককে বললেন, আমার ধন দৌলত সব তুমি নিয়ে নাও বিনিময়ে তোমার একটা সোভহানাল্লা আমাকে দেও। এইবার হুজুর বলেন দেখছেন সোভানাল্লার মর্তবা? সবাই বলেন সোভানাল্লা। উপস্থিত মুসল্লিরা গদগদ হয়ে বলে সোভহানাল্লা। আমার অবশ্য আগ্রহ ছিল চাষি কী উত্তর দিয়েছিল। কিন্তু হুজুর এই গপ আর আগে বাড়ান নাই।
তিনি এইবার ভবিষ্যতের আরেকটা গপ্প ফাদেন সোভহানাল্লার কারিশমা নিয়া। মুমিন দুনিয়াতে যতবার সোভানাল্লা বলে বেহেশ্তে একটা করে গাছ রোপিত হয়। বেহেশ্তি এইসব গাছ দেখে অবাক হলে দায়িত্বপ্রাপ্ত ফেরেশ্তা বলবে এগুলি সোভহানাল্লা গাছ। কয়টা গাছ হইছে দেখতে চাইলে তাকে একটা ঘোড়া এনে দেয়া হবে। সেই ঘোড়া সেকেন্ডে হাজার মাইল স্পিডে চলে। তো সেই ঘোড়ায় চড়ে ফুল স্পিডে চললে একটা গাছের ছায়া পার হতে পাঁচশ বছর লাগবে।
উনি বর্তমান নিয়াও তার গিয়ান জারি রাখলেন। জানান, সবাই বলে হাসিনা জিনিস পত্তের দাম কমায় না ক্যান। হাসিনা খালেদার কোনো ক্ষমতা আছে জিনিস পত্রের দাম কমানোর? এই ক্ষমতা কেবল আল্লার। মানুষ পাপ করে বইলাই আল্লা এরম করেন। তাই আল্লার কাছে মাপ চান তবেই তিন দাম কমায়া দিবেন।
আমার মনে হইল আমি চোদ্দশ বছর আগে পৌছায়া গেলাম। সেই একই ধরণের আজগুবি, উদ্ভট, যুক্তিজ্ঞ্যানশূন্য কাওয়ালি বছরের পর বছর বলা হচ্ছে। আর কেয়ামত পর্যন্তও তাই বলা হবে। আর মানুষ জন এগুলি শুনে ধর্মাবেগে আপ্লুত হবে।
দুই
ঐদিন তানবীরার লেখায় পড়লাম তার মেয়ের মাকে ভালবাসার কারণ। বাসায় গিয়ে ভাবলাম দেখি এনিয়ে রিমঝিম কী বলে। বললাম মামনি, তুমি মাকে ভালবাস কেন।
বলে তোমাকেও ভালবাসি।
আমি বলি, তা জানি কিন্তু তুমি কেন মাকে ভালবাস?
আরে বোকা মাকে তো ভালবাসতেই হয়। ও আমার নির্বুদ্ধিতায় একটু বিরক্ত।
রিমঝিমকে মাঝে মাঝে আড্ডায় নিয়ে যাই। একদিন জিজ্ঞাস করছে, ঐ মেয়েগুলি কি তোমার বন্ধু?
আমি আমতা আমতা করে বলি, না।
ও বুঝতে পেরেছি এমনেই পরিচিত তাই না? বিজ্ঞ ভাব নিয়ে বলে সে।
পনেরই আগস্ট টিভি দেখছি একসাথে। শেখ মুজিব কে নিয়ে বলা হচ্ছে ইতিহাস এই সেই। রিমঝিমের উপলব্ধি, ইতিহাস শেখ মুজিবকে ভালবাসে শেখ মুজিবও ইতিহাসকে ভালবাসে তাই না বাবা?
গতকাল রাতে রিমঝিম ও তার বাবা মা আল্লার ক্ষমতা নিয়ে আলোচনা করছে। ওর মা বলে তুমি চেষ্টা করলে তবে আল্লা তোমাকে দিবে না করলে দিবেনা। ওর বাবা বলে তুমি চেষ্টা করলে তুমি পারবে না করলে পারবেনা ব্যাস। এইখানে আল্লার কোন ক্ষমতা নাই। আল্লার ক্ষমতা নাই! রিমঝিম একটু শক্ড। জিজ্ঞেস করে আল্লা তা হলে কী করে?
আল্লা ঘুমায় আছে।
ও বুঝেছি, অনেক মানুষকে সাহায্য করতে করতে ক্লান্ত হয়ে আল্লা এখন ঘুমায় রেস্ট নিচ্ছে।





লেখা বরাবরের মতোই ভালু পাইলাম। হাসান ভাইকে ধইন্যাপাতা।
ঢাকা ইউনিভার্সিটি মসজিদের আযান শুনলে মনে হয়, মুয়াজ্জিন কোনমতে আযানটা শেষ করেই ঠাস করে পড়ে যাবে, পড়ে মরে যাবে।
অনেক ধন্যবাদ মীর।
রায়হান ভাই পোস্ট উমদা হইছে।
রিমঝিমের প্রশ্ন দেইখা নিজের ছোটবেলার কথা মনে পইড়া গেলো...
হুজুরের বয়ান শুইনা তো মাথা চক্কর দিতাছে
পড়লাম, কিছু বলার সাহস নাই।
নামাজে যাওয়ার অনিবার্য কারণটা কী?
হুজুরের বয়ান শুইনা তো মাথা চক্কর দিতাছে
আর এই কারনেই জিনিস পত্রের দাম বারতেছে.।
মজারু হইছে পুষ্ট
আলহামদুলিল্লাহ্ ..... ভাল সোভহানাল্লার কাহিনী শুনলাম
নাউজুবিল্লাহ, এসব কি কয়, গজব নাজিল হইবো

আল্লাহ আল্লাহ করেন।
সোভানল্লাহ ।
আমার মেয়েকে আমার মাতাদি আল্লাহ সম্বন্ধে অনেক জ্ঞান দান করেন আমার আড়ালে আবডালে। আমার মেয়ের টনসিল অপারেশনের পরে সেই সইত্য আবিস্কৃত হইলো। আমার মেয়ে পূজার ষ্টাইলে দুই হার ওপরে তুলে কাঁদতিছে আর বলতিছে, ওহ আল্লাহ আমি মরে যাচ্ছি ব্যাথায় আমাকে হেল্প করো। আধা ঘন্টা পরে নিজেই বললো, আল্লাহতো কাউকে হেল্প করে না। আমি কন্যার পিতাকে বল্লাম, এতো দ্রুত মেয়ে কিভাবে বুঝে গেলো, বলতো।
আমি আল্লা হাফেজের মর্তব্যতার ওপরে পরের পোষ্টটা চাই
আমার মেয়েও একদিন কান ব্যাথায় আল্লার কাছে কান্নাকাটি করছিল।। ব্যাথা না কমলে বলে, এত ডাকি আল্লা শুনে না ক্যান।
আল্লা হাফেজের মর্তবা জানতে হৈলে খালেদা জিয়ার কাছে যাওয়া লাগবে।
আমার মেয়ে নানাবাড়িতে এসে কিছু শব্দ তৈরি করেছে।
আল্লাক্লোথ (পাঞ্জাবি)
আল্লাহ্যাট (টুপি)
আল্লাম্যাট (জায়নামাজ)
আল্লাবিডস (তসবি)
আল্লাহাউজ (মসজিদ)
আল্লাবুক (আরবী হরফ আছে এমন যে কোন বই)
আল্লাটিচার (আরবী পড়ানোর হুজুর)
মন্তব্য করুন