পিকনিক রিপোর্ট

দাদাভাই মেসবাহ যাযাদের ছবি দিয়া পিকনিকের প্রতিবেদন শুরু করলাম। কেন করলাম এইটা ব্যাখ্যা করার জরুর না সবাই জানে। এবি পিকনিক মানেই দাদাভাই।
সাড়ে ৮ টার মধ্যে শাহবাগ থেকে বাসে উঠতে হবে। রিক্সায় উঠে হিসাব করলাম টায়টায় গিয়ে পৌছাব। কিন্তু চালাক বাবাজী ভুল করে প্রেসক্লাব ঘুরে যাওয়াতে পাঁচ মিনিট দেরী। দাদাভাই চিল্লাচিল্লি করবে এইটা জানা। উনি বেহুদাই আমার সাথে ফাপর লন। আর এখন তো দেরী! গিয়া দেখি সবাই চলে এসছে। চরম ত্যাক্ত চেহারা নিয়া ভাই ঝাড়ি মাইরা বাসে উঠাইলেন, এক পেয়ালা চা খাইতে চাইছিলাম ধমক দিয়া বসায় রাখলেন।

বাস যাইতেছে সংসদ ভবন। দু্ঃসংবাদ উদ্রাজি যাবেনা। গতবার বেচারা বউ নিয়ে গিয়ে শক্ত চেলা কাঠের মত সোজা হয়ে বউয়ের পিছে পিছে ছিলেন। সিগারেটও খাইতে পারেন নাই। এইবার নিশ্চয়ই অনেক আশা ছিল মনে।
সংসদ ভবন রাজধানী স্কুলের সামনে থ্রি স্টুজেস(আনিকা, তাজিন, মৌসুম) সহ বাকীরা উঠল। ফারযানা বাকি আছে। সো অপেক্ষা। মেসবাহ চরম গরম। কাঁচা খাইয়া ফেলব এমন ভাব। পনের মিনিট পর ফারযানার আগমন। আইসা উল্টা ঝারি। অফেন্স ইজ দয়া বেস্ট ডিফেন্স। 'একটা রিক্সাওলাও মানিক মিয়া চিনে না।' আদুরে গলায় ফারযানার অভিযোগ। দাদাভাই পুরা গলে গেলেন। মনে হলো রিক্সাওলা মানিক মিয়া চিনেনা এইটা দাদাভাইয়ের দোষ। এরপর যখন বলল, মেসবাহ ভাই আপনার জন্য এইটা আনছি, বলে এক প্যাকেট টয়লেট পেপার ধরায় দিল মেসাবাহ ভাই প্রথম বারের মত দাঁত বাইর করলেন।
কিন্তু বাস ছাড়ে না। কারণ মিতু ভাবির জন্য অপেক্ষা। আবার ত্যাক্ত মুডে দাদাভাই।

গৌতম দম্পত্তি। চুপচাপ। বাসে এত হাউকাউ কিন্তু কোনো রা নাই।

ছালু। এইবারের উদরাজি। বৌ বাচ্চাকে সারভিস দিতে দিতে সময় পার। বান্ধবীদের সাথে বেচার ছবি তুলতেও সাহস পায় নাই।
বাস ছাড়ল আধা ঘন্টা পর। নাস্তা। গরম নরম বনরুটি ও কলা। তারপর চট্টগ্রাম থেকে নুশেরার পাঠানো চকলেট। অনেক ধন্যবাদ নুশেরাকে। ঐপারে গিয়া যেন ৭০টা পুরুষ হুর পায়।

গত পিকনিকে বিমা কিঞ্চিত চান্স লইতে চাইছিল। তাই দাদাভাই আগেভাগে ফারযানার কাছে আবদার করেন, বিমা বিবাহিত সেজন্য বিমাকে চান্স না দিয়া তারে দিতে কারণ সে অভিজ্ঞ। এদিকে ফারযানার চান্দা ছিল জেবীনের কাছে জমা। জেবীন সেইটা মেসবাহকে দিতে চাইলে মেসবাহ কড়া আপিত্তি। সে ফারযানার কাছ থিকা নিবে। তাইলে একটু হইলেও হাতের স্পর্শ পাবে লুলটা। কী আর করা ফারযানা অভিজ্ঞ লোকের আব্দার মিটাইল

ক্যমেরা এখন সবার কাছে। গলায় ক্যমেরা ঝুলায়া ভাব নেয়ার দিন খতম। কারো কাছে আবার একাধিক।

এরপর গান। থ্রি স্টুজেস মিনমিন করে গায়। ইশান মাহমুদ শুনছে। আর কেউ মনে হয় শুনতে পায় নাই। এট লিস্ট আমরা পাই নাই। বললাম আমাদের সাথে একসাথে গাইতে। দলের পান্ডা মৌসুম আসলনা।
গানটান গাইতে গাইতে গাজীপুর পৌছায় গেলাম। চা খাওয়ার জন্য সবাই আকুলি বিকুলি করছে। মাগার দাদা ভাইএর এক কথা, নটি নটি। তারপর জিগাইতে জিগাইটে পিকনিক স্পট। স্পটের পাশে দোকান থেকে চা খাওয়া গেল রাসেল ও নাজমুল ভাইয়ের সাথে। দুই পেটি কার্ড কিনে রাসেল।
ছবির মত সুন্দর যায়গা।

ইশান মাহমুদের পরিবারের ছবি তুলি। ইশান ভাই পরিচয় করায় দেয় ভাবির সাথে। ভালো ক্যামেরা ম্যান। মনে মনে বলি ভাগ্যিস আর কেউ নাই আসে পাশে।
পুকর পাড়ে চরম ফটো সেশন হয়। বিলম্বু ফল খায় অনেকে কেউ চাকায়। ছবি তুলব কি ফারযানা বলে ভাই আমি আপনার ছবি তুলে দিই। জয়ি পাশে বসে ছবি তুলার জন্য। আই ছবি দেখে তাতা সহ অনেকে বরবর ভাষায় মন্তব্য করল। দিলে দাগা দিলা তাতামনি!
জয়িতা ছিল সবচেয়ে আনন্দে। তার র হাসি খুশি প্রাণোচ্ছল মুখ দেখে ভালো লাগে। সবাই যদি সবসময় এমন হাসি খুশি থাকত।
বাফড়া। বুদ্ধিদীপ্ত। সিলেটি। রংউঠা সোয়েটার। চুলে স্পাইক। আড্ডায় অলয়েজ ও শুয়ে থাকে। কিন্তু পিকনিকে ছিল সুপার ডুপার। বিশেষ করে জয়ির সাথে বাফড়ার ফটোসেশন ছিল অসাম। ওদের দুইজনের তারুন্যের উচ্ছ্বাসের ছবি দেখলে যে কারো মন ভলো হয়ে যাবে।
কার্ড খেলতে বসলাম। বেচার রাসেল শান্তিতে খেলতে পারে নাই। ছেলে ঋককে সামলাইতেই সময় গেছে মাতৃস্নেহে বাচ্চা বড় কয়ে তোলা বাবা রাসেলকে।
আরেক সেট নিয়া মেসবাহ বাফড়া। একবার তুই তোকারি, একবার বৃটিশ একসেন্টে ইংলিশে দুয়া, মাঝে মাঝে লাফ দিয়া চিৎকার, গড়াগড়ি দিয়া জয়ের উল্লাস। মেসবাহ তার পার্টনার মিতুকে ঝাড়ি দিয়া দৌড়ের উপরে রাখে।
এইবার গান, নাহিদের। নাহিদরে যদি অন্য কোনো সময় গান গাইতে লক্ষবার সাধেন, গাইবেনা। ছবির হাটে জয়িতা গলায় পারা দিয়াও গান বাইর করতে পারে নাই। কিন্তু পিকনিকে নিজে থেকেই গান গাইয়া শোনায় উইথ একতারা।
টুটুল বৌ বাচ্চা সাথে মেয়ে সহ নাজনীন খলিল আসেন। শুরু হয় ঋহান কে নিয়া টানাটানি, ছবি তোলার প্রতিযোগিতা।
কার্ড খেলা শেষে বাফড়া শুইয়া পড়ল ঘাসে। তার উপর শুইল বিলাই ও কাউয়া। খাবার হইতে দেরী । খিদায় পেট চোঁ চোঁ।

খাবার তৈয়ার হইতেই সবাই লাইনে খাবার সংগ্রহ করি। মজার কানা খাইয়া আমরা সবাই শুয়ে পড়ি।

তারপর মেসবাহ কাকে নিয়া চিপায়গেল, উদ্রাজির পিকনিক নিয়া পোস্ট ইত্যাদি নিয়া পেচ্ছাপেচ্ছির পর সন্ধ্যায় ফেরার পালা। বাসে বাত্তি নিভানের গান। মাসুম ভাইতো পোস্টে পুরা লিরিক তুইলা দিছেন। রাত বারোটার পরে যাবি আম গাছের তলে জাতীয় গান গলা ফাটাইয়া সবাই গাই।ডুয়েট। মাঝখানে কী নিয়ে যেন হুরের কথা আসল। মামুন হুর দিয়া কী করবে এইটা বুঝতেছেনা জানানোর পর মাসুম ভাই অবাক বিষ্ময়ে বলেন, আমিতো শুনছিলাম আপনি নাকি বিয়ে করছেন!
ফেরার সময় নিরাপত্তার নিমিত্তে পাকনা বাপ্পি কে ফারযানা গার্ড হিসাবে পাশে বসায়। চরম উতফুল্ল বাপ্পর পারফরমেন্স ছিল সেইরকম। সেই সুপার ডুপার ডায়লগ " শরীরে হাত দেন ক্যান" বলে বাজীমাত করে সে।
তারপর একসময় ল্যাবএইডে চলে আসে বাস। সবাই যায় যার যার ডেরায়। মনে হয় কত দ্রুত দিটা শেষ হয়ে গেল।
এইতো পিকনিকের কিছু ঘটনা। আমার প্যাচাল শেষ।
এই পিকনিকিরে প্রধান সেনাপতি জেনারেল মেসবাহ। উনার কৃতিত্বে, ম্যানেজমেন্টে পিকনিক সুসম্পন্ন দারুন । লেখা শুরু করছি উনাকে দিয়া শেষও করি উনাকে দিয়ে। পুকুরে পড়ে একটা উচু যায়গা আছে। ঐখানে আর্মি নিয়া কথা হচ্ছিল। আমি বলতে যাইতেছিলাম আর্মির ডাকতারি পরীক্ষা নিয়া একটা জোক্স বলি..। মেসবাহ আমারে এক ধমক দিয়া থামায় দেয়। বলে, 'আপনে গেছেন নাকি আর্মির পরীক্ষায় যেকথা কন? আমি গেছিলাম, ঐটা শুনেন'। শুরু করেন উনি -
ডাক্তারি পরীক্ষার সময় কাপর চোপড় খুইলা উলঙ্গ কইরা সব চেক করে। আমার সময় পয়ূপথে টর্চ মাইরা আর্মির ডাক্তার চেক করার সময় জিজ্ঞাস করে, সিগারেট খান?
আমি বলি, 'ক্যান ধুয়া বাড়াইতেছে'?





মন্তব্য করুন