ইউজার লগইন
ব্লগ
মা দিবস ২০১৪
পশ্চিমা বিশ্বে “মা দিবস” খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা ব্যাপার। সারা বছর মা সংসারে অনেক খাটাখাটুনি দেন, সন্তানদের যত্ন করেন। মা দিবসে সন্তানেরা মাকে বিছানায় ব্রেকফাস্ট এনে দেবে, চমক দিয়ে শুরু করবে খুশি আনন্দভরা দিন, নিজ হাতে কিছু উপহার বানিয়ে দিয়ে তাকে চমকে দেবে, চোখের কোনায় হয়তো জল আর হাসি নিয়ে আসবে একসাথে, হয়তো কোথাও রাতে তাকে বিশেষ ট্রিট দেবে, সবাই মিলে কিঞ্চিৎ হইহুল্লোড়-এটুকুই প্রচলিত এখানে। স্কুলগুলো এ ব্যাপারটা নিয়ে খুব পরিকল্পনা করে। স্কুলের কারিকুলামের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত এই ব্যাপারটাও। মাস কিংবা দেড় মাস আগে থেকে শুরু হয় পরিকল্পনা। প্রথমে কী বানানো হবে সেই পরিকল্পনা তারপর সেটার বাস্তবায়ন করা। ফিসফাস বাড়িতে, স্কুলে, বন্ধুদের মাঝে, মাকে চমকে দিতে হবে তাই মা যেনো কিছুতেই জানতে না পারে। বাবা হবে কাণ্ডারি। আমার মেয়েও খুব উৎসাহিত, মাকে চমকে দিতে হবে তার।
এই শহরে এখনো কৃষ্ণচূড়া রাধাচূড়া ফুল ফোটে!
গাছ গাছগাছালি বৃক্ষ রাজি সবুজ অঞ্চল সবারই ভালো লাগে, আমিও তার ব্যাতিক্রম না। কিন্তু আমি গাছের নাম একদমই চিনি না। কিছু কমন জানা শোনা বাদে আমার গাছ চেনা আর খেতে বসে মাছ চেনা সেইম ক্যাটাগরির মূর্খতা। বলতেই পারবো না, আর চেনার চেষ্টাও করি নাই। নিজে নিজে আবিস্কার করেছি এইসব না চিনলেও জগত সংসারের দিন যাপনে খুব একটা ক্ষতি হয় না। তবে আমার মামা দুর্দান্ত, মামা এত ভালো গাছ চিনে শুধু অবাক হই। গাছের গন্ধ শুকেই না তাকিয়ে বলে দিতে পারে গাছের কি নাম। বাড়ীতে গেলে যেখানেই যাই, মামাকে গাছ নিয়ে প্রশ্ন হবে। মামা আগ্রহ ভরে সেই গাছের সব ফিচার বর্ণনা করতে থাকবে। একটাবারের জন্যেও বিরক্ত হবে না। আমার একমাত্র ভাইয়া ছিল বিরক্ত হবার সম্রাট। কোনো জিনিস দু তিন বার জিগেষ করলেই বলবে জানি না। আর ভাইয়ার ধারনা আমি জানি, তাই পরীক্ষা নিচ্ছি ভাইয়া জানে কিনা আদৌ। কি মুসিবতের কথা!
মন মন মন সে তো পাল ছেড়া তরী
পেইনফুল এক অফিসে বসে পেইনফুল কিছু কাজ করার সময় বাইরে তাকিয়ে দেখলাম ঝমঝম বৃষ্টি ঝরছে। পিপাসার্ত এক প্রাণীর মত অফিসের কাঁচেঘেরা দেয়ালের মধ্য দিয়ে বাইরে তাকিয়ে থাকা ছাড়া আমার আর কিছু করার ছিলনা। এরকম একটা দিনে কি আর অফিসের কাজ করতে ভাল লাগে? ইচ্ছে হচ্ছিল এক ছুটে ক্যাম্পাসে চলে যাই। আমার প্রিয় ক্যাম্পাস। ঝুম বর্ষায় মল চত্বরের ভেজা সবুজ ঘাসে বৃষ্টির গন্ধ গায়ে মেখে হেঁটে চলা আর আমার একটানা কথা বলে যাওয়া।
তুমি এসে দেখে যাও
তুমি এসে দেখে যাও
আজ আমি কি ভাবে বেচে আছি
তুমি যা চেয়েছিলে সে ভাবে
নাকি এর চেয়েও জৌলুস চেয়েছিলে।।
আজ সে হিসেব করে কষ্টই
শুধু বাড়ে।
তোমার না আমার?
তুমি তো সংসার নামক চাক্তিতে
মরিচ পিশা হয়ে ভুলেই গেছ
জীবনে সুখ দু:খ বলে কিছু আছে।
অথচ এই সুখের পিছনে ছুটতে
টর্ণেডো বেগে ছুটে বিয়ের পিড়িতে বসলে।
তোমার হবু স্বামী
শত বিঘা জমির মালিক
অনেক নাম ডাক
আচলে চাবির গোছা ঝুলিয়ে
এত বড় সাম্রাজ্যের মাল্কিন!
তার কি পিছন ফিরে দেখার সময় ছিল।
তব যাবার পথে চেয়ে চেয়ে দেখেছি
কেদেছি কি কাদিনি মনে নেই
তবে কচি বক্ষখানি বাশের বাতার মত
ফালি ফালি হয়েছিল তা ভূলিনি।
আজ এত বছর পর
রাজা রাজ্য রানী।
না বলতে পারছি না,
কষ্ট হয়।
কচি দুটি মন
কি চেয়েছিল
আর কি পেল।
এটাই হয়ত বা জীবন নামক
সমুদ্রের শতরঞ্জি খেলা।
এক চালের ভূলেই যার
রাজা হয় মাত।
মে,০৯,২০১৪ খ্রীঃ
খুলনা
আমি আমারই মতো, তাতে কি আসে যায়!
আজ সকাল থেকেই আমার বিরক্তিকর মেজাজ খারাপ কারন জানতাম না যে নয়টা পাঁচটা পর্যন্ত কারেন্ট থাকবে না। তাই ঘুম থেকে উঠে হাত মুখ ধোয়ার পানি টুকুই শুধু পেলাম পানির কলে। নাস্তা করতে গিয়ে দেখি বুয়া ডিম ভাজিতে এত তেল দিয়েছে খাওয়াই দায়, তাও খেলাম কারন অন্তত বেশী হলুদ আর তেল দেয়া আলু ভাজির চেয়ে ভালো খাবার এইটা। বুয়ারে কত বলি কিন্তু তিনি আমার কিংবা মামার কথা হয় শুনেনই না, হয়তো উনার সেই মেধা নেই যে শুনে তা বাস্তবায়ন করবে। তাই যখন যা ইচ্ছে তাই করেই চলে যাচ্ছে। মামার কথা যাও কিছু শুনে, আমার কথা একেবারেই না। ল্যাপটপেও চার্জ নাই। মনের দুঃখে বের হলাম জানি কেউ নাই কোথাও। তাও এক কাপ ভালো চা তো খাওয়া যাবে দোকানে। চায়ের দোকানে এসে দেখি এক চিরকুট রাখা। এই মোবাইলে জামানায় আজকাল এইসব কেউ রাখে, মুগ্ধ হলাম দেখে। গোটা গোটা অক্ষরে লেখা-- শান্ত ভাই, এইটা আমার নাম্বার, কল দিয়েন। আমি গাজীপুরে, বাবুর্চি রফিক। কল দিলাম ভাবছ
বর্তমান সরকার, শিক্ষাব্যবস্থা এবং একজন ছাত্রের বিশ্লেষণ
কয়েকদিন ধরেই সংবাদপত্রের সম্পাদকীয় আর গুণীজনদের জন্য বরাদ্দকৃত বিশেষায়িত পাতাগুলো পড়ছি। বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে তারা যা লিখেছেন তাতে আমি স্তম্ভিত, বিশেষক্ষেত্রে কষ্টও পেয়েছি :(। আর বিজ্ঞ সাংবাদিকদের লেখাগুলো পড়ে তো হাসতে হাসতে আমার পেটই ফেটে যাওয়ার জোগাড়। আমার একটাই প্রশ্ন, তারা কি কখনো ছাত্র-ছাত্রীদের জিজ্ঞেস করেছেন বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে তাদের সমস্যা কি? আমি জানি, তারা কেউই জিজ্ঞাসা করেননি আর করলেও সেটা আওয়াজ ছাড়াই চেপে গেছেন। এসব নিয়ে আমি এই পোস্টেরই কোন একদিকে কিছু কথা বলব। তবে তার আগে মজার কিছু বলি। 
চোখের তারায় আয়না ধরো
অশোক কুমারের একটা অনেক পুরোনো সিনেমা আছে, সংগ্রাম। ১৯৫০ সালের হিট সিনেমা। এক পুলিশ অফিসারের কাহিনী, যে কিনা অসৎ। সে মিথ্যা বলে, জুয়া খেলে, পছন্দ হওয়ায় একটা মেয়েকে উঠিয়ে নিয়ে জোড় করে বিয়েও করে। নায়ক কিন্তু খারাপ-ভারতীয় সিনেমা জগতে সেই প্রথম। কেবল তাই নয়, ভারতীয় সিনেমায় হিংস্রতা আর যৌনতার প্রবেশও এই সিনেমাটির হাত ধরে। তুমুল জনপ্রিয় হয়েছিল।
সিনেমাটি দেখে মানুষ তখন পুলিশ দেখলেই হাসাহাসি করতো, নানা ধরণের কথা বলতো। মোরারজি দেশাই তখন মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী। ১৬ সপ্তাহ ধরে তখন সিনেমাটি হাউসফুল। মুখ্যমন্ত্রী সিনেমাটি নিষিদ্ধ করলেন। ডাকলেন একদিন অশোক কুমারকে। ডেকে তিনি অশোক কুমারকে একজন ভাল পুলিশ অফিসারের ভূমিকায় অভিনয় করতে অনুরোধ করেছিলেন।
১৯৫০ সালে সিনেমায় সুদর্শন নায়কের খারাপ পুলিশের অভিনয় দেখে চিন্তিত হয়েছিল সরকার, ভাবমূর্তির টান পড়েছিল পুলিশের। আর এখন?
বুকের ভেতর কথার পাহাড়
পাহাড় শব্দটা শুনলেই আমার বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর এক ভাষনের কথা মনে পড়ে। তার নির্বাচনী এলাকায় পাহাড়ের নিবাসী লোকজনের উদ্দেশে তিনি বলছেন ' পাহাইড়া বান্দরেরা গাছে উঠছে, কলা দেখাইলেই তারা আবার নাইমা যাবো' ইলেকশনের হেরে তিনিও শিক্ষা পেয়ে গেছেন পাহাড়ি নিবাসী মানুষের গাছে উঠার মর্ম। নিজের এলাকার মানুষ সমন্ধে নির্বাচিত এক সিনিয়র রাজনীতিবিদের কি প্রতিক্রিয়া, ভাবলে অবাক হই। পাহাড় নিয়ে কথা আসলে অনেক প্রসঙ্গই আসে, সব চেয়ে থার্ড ক্লাস প্রসঙ্গটা হলো নাটকের ভেতর নায়কের ন্যাকা প্রশ্ন-- আচ্ছা তোমার কি ভালো লাগে? পাহাড় না সমুদ্র? এইটা আদতে কোনো প্রশ্ন করার বিষয় হলো? পাহাড় এক জিনিস আর সাগর আরেক জিনিস, দুটোর দুই রকমের সৌন্দর্যের মাত্রা, এখানে কম্পিটিশানে আনার দরকারটা কি? আমার দুটোই ভালো লাগে। একটার বদলে আরেকটা কেন ছাড়বো?
হতাশার এক প্রান্তে দাড়িয়ে
অনেক দিন থেকে আনমনা হয়ে আছি ,কে কি বলছে শুনতে পারছি না ঠিকমত শুনার চেষ্টা ও করছি না ।জীবন টা খুব এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে মনে হচ্ছে, অথচ এমন হওয়ার তো কথা না ।কিছু একটার খুব অভাব বোধ করতেছি মনে হচ্ছে কি করব বুঝে উঠতে বড় সমস্যা হচ্ছে । আসলে আমাদের মত মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে গুলোর অভাব যেন শেষ হতে যেও শেষ হয় না । কত স্বপ্ন নিয়ে আমাদের পথচলা শুরু হয় এই স্বপ্ন গুলো তাদের মাঝপথে এসে মাঝেমাঝে থমকে দাঁড়ায়। আবার সেই স্বপ্নের সাথে বসবাস এই ভাবেই চলতে থাকে স্বপ্ন দেখা স্বপ্নের মাঝেই বেড়ে উঠা ।স্বপ্নের মাঝেই আমাদের বেঁচে থাকা হাল ছাড়িনি স্বপ্ন এইবার সত্যি হবেই ।
আমাদের আমরা
আমাদের বাগানে এখন আর হাস্নাহেনা ফুটে না। আমাদের বাগান জুড়ে সবুজ গালিচা পাতা থাকে, সবুজের ফাঁকে ফাঁকে মেজেন্টা লাল সাদা নাম না জানা ঘাস ফুল উঁকি ঝুকি মারে না। দেয়ালের ভেজা ভাঁজে বট বৃক্ষ বাসা বাঁধার স্বপ্ন দেখে না। আম জাম কাঁঠালের গন্ধ একাকার করে গ্রীষ্ম আসে না। এখন আমরা টবের বাগানে ক্যাকটাসের চাষ করি। ছোট ছোট রঙিন ফুল ফুটে। স্পর্শের বাইরে থেকে দেখে যাই আর চোখ জুড়াই ।
তবু ও জীবন বয়ে চলে। পরিবর্তন কে সাথে নিয়ে বহমান নদীর মতো বয়ে চলি আমরা। যদিও রাস্তার পাশে ঢালু জমিনে জমিয়ে রাখা ওয়াসার পানি দেখে চিৎকার করে উঠে আমাদের উত্তরসূরি, ্দেখ, নদী নদী। আহা কি প্রশান্তি। নির্লিপ্ত চেয়ে থাকি আমরা তাদের দিকে। কি বলব তাদের? হ্যাঁ, এই তোদের নদী। এই বয়ে চলা সময়ের সাথে পাল্লা দেয়ার নাম ই জীবন। প্রলম্বিত করা যায় হয়তো কোন সময়, প্রচেষ্টায়, কিন্তু এই বদলে যাওয়া বদলে দেয়া নিয়ে ই আমরা।
আমি, তুমি আর দিনের শেষে ভুলবন্দি রাত.. [এলোমেলো কাব্যকথন!]
জানি,
দিনের শেষে তুমিও একা।
তোমার চোখেও রাত্রি নামে,
দিনের শেষে;
নিরবতার আয়না জুড়ে মুখরতা।
জানি ঠিক আমার মতই,
মনে মনে আপনমনে;
হাসির তোড়ে বিষাদ লুকাও।
খোলা চোখে আঁধার মেখে,
অন্ধকারের ডুবসাতারে -
ভুলে
পথ ভুল করে ফের,
আলতো ছোঁয়ায়;
মুখোসে মুখ একে যাও।
হিসেবে ভুল হলে তাও,
ভুল চোখেতেই হিসাব মিলাও।
পাছে পথে ভুল হয়ে যায়,
ভুলের ভেলায় পথের খোঁজে;
পরশপাথর আপনি বিলাও।
ভুলে যাও,
আমার মতই -
ভুলে চোখ; মেললে না মন,
হিয়া না ভরলে আলোয় -
দিনের শেষে,
অন্ধকারে;
খালি চোখে যায় না দেখা।।
ষোলো আনা জীবন!
লিখতে বসছি মুড অফ নিয়েই, লিখতেও কেমন জানি আলসেমী লাগে তাই নোটবুকের সামনে হা করে বসে থাকি। ফেসবুক ইউটিউব আর নিউজ সাইটে অস্থির পায়চারী করে রাত বেড়ে যায় কিন্তু লেখা আর হয় না। অথচ লেখা আমার জন্য খুব আনন্দের বিষয়, তা যাই লেখি না কেন !
ভালো একটা শিরোনাম খুঁজে পেতেই হবে
মন মাঝি খবরদার
আমার তরী যেন ভেড়ে না
আমার নৌকা যেন ডুবে না।
মজিদ ভাইয়ের দোকানের বেঞ্চে বসে শাফায়াত ভাই গানটা গাওয়া শুরু করলেন। শাফায়াত ভাই চমৎকার গান গাইতে পারে। কিন্তু কদাচিৎ শাফায়াত ভাইয়ের দেখা পাওয়া যায়।
যেসব রাতে দেখা হয়ে যায় সেসব রাত কেটে যায় ভেবে ভেবে। ভাগ্যক্রমে সেদিন রাতেও দেখা হয়ে গিয়েছিল।
গানটা শুনেই পাহাড়ের দেশের রাতে একটা নির্জন জলাভূমির কথা মনে পড়ল। যেখানে চাঁদের আলোয় রাত খেলা করে। একবার প্রকৃতির সেই গোপন স্বপ্নরাজ্য দেখে আমরা পৃথিবীর সব বিষাক্ত দুশ্চিন্তা ভুলে গিয়েছিলাম। তক্ষকগুলো ডেকে যাচ্ছিলো আর পাহাড়ের ভালবাসার পরশে আমাদের দেহমনের সব প্রার্থনা গেয়ে শোনাচ্ছিল লুসি দিদি- সাড়ে তিন হাত নৌকার খাঁচা, মন মন মাঝিরে, ঘন ঘন জোড়া; সেই নৌকাখান বাইতে আমরন, হাড় হইলো গুড়া রে...
আপোষ ফুরোবে কখন, হিসেব করাই অপচয়!
শাহবাগের সেই অসাধারণ দিন গুলোতে একটা জনপ্রিয় স্লোগান ছিল- আপোষ না সংগ্রাম, সংগ্রাম সংগ্রাম (গগনবিদারী আওয়াজে আমাদের উত্তর)। স্লোগানটা যখনই শুনতাম বা এখন অনেকদিন পর যখন ভাবি তখন অবাক হতে হয়। এ যেন ভুতের মুখে রাম রাম। সেই একাত্তরের পর থেকেই আমাদের আপোষ ছাড়া আর তেমন কোনো ইতিহাস নাই যাদের, তারাই দাবী করছি সংগ্রামের কঠিন পথে যাবার। তাই কবি আর আবৃত্তিকারেরা যতই বলুক আপোষ করিনি কখনো এই আমার ইতিহাস। তাতে আমি বরং বিরক্ত হই। কে করি নি আপোষ? যে বলে আপোষ করে নি সেও তার কিছুদিন পর কারো না কারো পোষ মেনেছেই। এ ছাড়া উপায় কি? যে পরিবেশে আমরা বড় হই আর বেড়ে উঠি তাতে যতই আর এফ এলের চেয়ারে বসি না কেন, আমাদের মেরুদন্ড শক্ত নয়, দাঁড়াতেও পারিনা শক্ত করে। তাই আপোষের হিসেব করা অপচয়ই। কখনো ফুরোবেনা এই হিসাব, প্রতিদিনই তো করছি নানান মানুষ নানান ভাবে, জাতিগত ভাবে!
বিপ্লব কতদুর?
প্রথমেই স্বীকার করে নেওয়া ভালো দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদ সম্পর্কিত কোনো জ্ঞান আমার নেই। যদিও আমার স্ত্রী একমত হবে না আমার সাথে তারপরও আমার ধারণা সামান্য হলেও কান্ডজ্ঞান আমার আছে। রাশিয়া, চীন, কিউবা বলিভিয়া আর্জেন্টিনার বিপ্লবের ইতিহাস পড়ে অনেক জ্ঞান অর্জনের আগ্রহ কখনও হয় নি। তাই দেশ বিপ্লবের জন্যে প্রস্তুত হয়েছে কি না, কিংবা কোন পথে বিপ্লব সংঘটিত হবে এই সংক্রান্ত আলোচনাগুলো দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদ বিশেষজ্ঞ পক্ককেশ এবং অপক্ককেশী বিপ্লব বিশেষজ্ঞদের জন্যেই বরাদ্দ রাখা ভালো। তারা হিসেব কষে, রাস্তা মেপে যখন বলবেন এই পথ থেকে সামনে সামান্য বাঁয়ে গেলেই বিপ্লবের শুরু হবে, তাদের মতামতের প্রতি আমি যতই আস্থাহীনতায় ভুগি না কেনো তাদের বিশেষজ্ঞতাকে সম্মান জানাবো।