ইউজার লগইন
ব্লগ
আমার প্রবচনগুচ্ছ
আমার লেখা ৭০ টা প্রবচনের মধ্য থেকে টোকাইয়া-টাকাইয়া ৬০ টা প্রবচন সংকলন এখানে প্রকাশ করলাম। কেমন হল জানাবেন।
১। প্রেম প্রতিক্ষা হল বৃষ্টি প্রতিক্ষার মত। গ্রীষ্মের খর রৌদ্রে শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেলেও আপনি এক ফোঁটা বৃষ্টি পাবেন না। অথচ বর্ষাকালে অতিবৃষ্টিতে আপনার জীবন হবে বিপর্যস্ত।
২। যে প্রেমিক বন্ধুর ডাকে প্রেমিকার পাশ থেকে উঠে চলে যায়, তাকে ছেড়ে দেয়া ওয়াজিব। আর যে বন্ধু প্রেমিকার ডাকে বন্ধুর পাশ থেকে উঠে চলে যায়, তাকে ছেড়ে দেয়া ফরযে আইন।
৩। আপনার প্রেমিকা যদি সন্দেহের বশে আপনাকে প্রশ্ন করে পর্যুদস্ত করে তোলে তাহলে বুঝবেন সে একজন সাবেক বারবণিতা। কারণ, পোড় খাওয়া গরু সিঁদুরে মেঘ দেখলেই ডরায়।
৪। কারও মাথায় আকাশ ভেঙে পড়লে কবি তাকে সান্ত্বনা দেয়। অথচ কবি যখন বিপদে পড়ে তখন তার কবিত্ব শুধু খসেই যায় না, রীতিমত উর্ধ্বপাতিত হয়ে উড়ে যায় ;যেমনটা হয়েছে আমার ক্ষেত্রে।
ফেসবুকে জীবনযাপন
ফেসবুক ক্রমশঃ আমাদের অস্তিত্বের বিজ্ঞাপনে পরিণত হয়েছে। ফেসবুকের বন্ধুদের কাছে আমাদের আনন্দ উল্লাস বেদনা দীর্ঘশ্বাস উন্মুক্ত করছি। মুহূর্ত যাপনের আনন্দগুলো যখন লাইক আর ফলোয়ারের পরিমাণের পরিসংখ্যানে নিরুপিত হয় তখন বর্তমানকে আড়াল করে এক ধরণের কল্পিত বর্তমান নির্মাণের ঝোঁক বাড়ে।
করুণা প্রত্যাশী কল্পনা বিলাসী প্রেমময় উক্তিসমগ্র নির্বাচন এবং বিভিন্ন ধরণের সময়সীমায় মন্তব্য এবং লাইকের সংখ্যা গুণে উপযুক্ত সময়ে উপযুক্ত বক্তব্য সম্প্রচার করে জনপ্রিয় হতে চাওয়ার প্রবনতা ফেসবুকের আগে এতটা নগ্ন ভাবে প্রকাশিত হয় নি। ফেসবুক প্রজন্মের কাছে টয়লেটের দরজা ঘেরা আব্রুর বাইরে এখন একান্ত ব্যক্তিগত তেমন কিছুই নেই। ব্যক্তির প্রচারমুখীতা ব্যক্তির প্রাইভেসীবোধকে বদলে দিয়েছে।
গান-গল্প-সিনেমা
১.
কি বই পড়বো? এটা নিয়ে মাঝে মাঝেই মুশকিলে পড়ি। কারণ এখনও আমার কাছে পড়া হয়নি বা অল্প পড়েছি এমন বইয়েরও সংখ্যাও অনেক। মন এখন কেমন আছে এর উপরও নির্ভর করে কি বই পড়বো?
বইমেলা থেকে কিনেছিলাম মহাদেব সাহার আত্মস্মৃতি-১৯৭৫ : সেই অন্ধকার, সেই বিভীষিকা-বইটি। পড়তে শুরু করেছিলাম। ইত্তেফাকে আমার সহকর্মী ছিলেন। কিন্তু কখনো তেমন কথা হয়নি। দূর থেকে দেখতাম। আর বাসায় তাঁর কবিতা পড়তাম। কিন্তু বইটি পড়তে গিয়ে প্রচণ্ড হতাস হলাম। কারণ আত্মস্মৃতি বলতে তেমন কিছু পেলাম না। অথচ ৭৫ এর সেইসব দিনগুলো নিয়ে প্রচন্ড আগ্রহ আছে। এই বইটি মূলত বন্দনা সমগ্র। মহাদেব সাহা সেই সময়ের বাংলাদেশ নিয়ে যতটা লিখেছেন তারচেয়ে বেশি আছে বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনা বন্দনা।
২.
বৈশাখী মেঘের কাছে!
আজ তেমন গরম নেই, নেই লোডশেডিংয়ের যন্ত্রনা, ফ্যান চললে আরামদায়ক এক অবস্থা, বিকেল থেকে বৃষ্টি হবার শত সম্ভাবনা দেখা দিলেও কয়েক ফোটা মাত্র বৃষ্টি হলো। তাতে কি আর এই তীব্র তাপদহের জ্বালা কমে? তবে আগামী দুয়েক দিন নাকি এরকম মাঝে মাঝে ঠান্ডা হাওয়া আসতে পারে বিকেলের দিকে, হয়তো হালকা বৃষ্টি, এতোটুকুই আশাবাদের জায়গা!
আমার উঠোনে তোমার এক টুকরো রোদ
আজ অনেক দিন পর ক্যাম্পাস গেলাম। আশে পাশে যেখানে তাকাই সব জুনিয়র। নাই কোন পরিচিত মুখ। নিজেকে বুড়ো ভাম বলে মনে হচ্ছিলো। ছোট থেকে একদম হঠাত করে বুড়ো হয়ে গেলাম। মাঝে আর কিছুইতো নাই দেখা যায়। স্ট্রাগল!! কবে শেষ হবে আমার!!
শহরের উষ্ণতম সব দিনগুলোতে!
এই তীব্র তাপদাহ নিয়ে নতুন করে আর কি বলবো, ভুক্তভোগী তো সবাই। এমন কি যাদের এসিতে থাকার ব্যাবস্থা আছে তাদেরও এই গরমে রক্ষে নাই খুব একটা। কারন বাইরে বের হলেই এসিতে থাকা আরামের বাদামী চামড়া, ছ্যাত ছ্যাত করে উঠে গরমে। এই এক্সপিরিয়েন্স আমার বেশী হয় শান্ত ভাইয়ের বাসা থেকে যখন বাইরে বের হই। মনে হয় ডাইরেক্ট আগুনে নেমে গেছি। দশ মিনিট লাগে বাইরের গরমে ধাতস্থ হতে। এত আরামে যে থাকে শান্ত ভাই তার মুখেও শুনতে হয় গরমের কেচ্ছা প্রলাপ। আমার হাসি পায়, কাকে কি বলে মানুষ?
রানা প্লাজার এক বছর!
আজ এক বছর হয়ে গেলো রানা প্লাজার বা এভাবেও বলা যায় ১১৩৪ টি প্রাণ গত বছরের এই দিনে লাশ হয়ে গিয়েছিলো। এই দিনটিকে নিয়ে আজ মিডিয়া, ফেসবুক সবাই কথা বলছে। কারণ আজ এক বছর হলো। মধ্যখানে আমরা সবাই (কিছু মানুষ ছাড়া) রানা প্লাজার এই হত্যাকাণ্ডটি ভুলেই গেসলাম। আমাদের কি এইটা মনে রাখার কথা!
১১৩৪ - সংখ্যা নয়, প্রাণ
বাংলাদেশের পোষাক শ্রমিকদের প্রাণ হারানো যেন নিত্যনৈমত্তিক বিষয়, দিনে দিনে বাড়ছে সেই বঞ্চনা নিপীড়নের গল্প। হ্যা, সব কিছু একসময় গল্পই হয়ে যায়! পোষাক কারখানার কষ্টকর জীবনযাপন তো চলছেই দিনমান, তবে পোষাক শ্রমিকদের প্রাণ হরণের যে যজ্ঞ শুরু হয়েছিল ২০১৩ সালের ২৪শে এপ্রিল, সেই অভিষপ্ত রানা প্লাজা'র কথা ভুলতে পারা যায় না। ১১৩৪ এর পরও অগুনিত প্রাণের আত্নাহুতি হয়েছিল মৃত্যুকূপ রানা প্লাজায়। এই ১১৩৪ কেবলি হাতে গোনা সংখ্যা নয়, এই গুনিতব্য সংখ্যার হারিয়ে যাওয়া মানুষগুলোর সাথে জড়িয়ে ছিলো আরো হাজারো প্রানের আশা আকাঙ্ক্ষা, স্বপ্ন। সেই হাজারো স্বপ্ন কি অবলীলায় চুরমার হয়ে গেল। বছর পেরিয়ে আসছে ভয়াবহ সেই দিন।
বাংলা নববর্ষ বরণ
পহেলা বৈশাখ উদযাপন নিয়ে নানা জনের নানা কথা পড়েছি। সবগুলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। পড়ে, মনে হলো আমিও কিছু বলি। সে সব খুবই সাধারণ কিছু কথা এখানে বলতে চাই।
পোশাক প্রসঙ্গে শুরু করি। আমাদের গ্রামের মানুষদের প্রধান পোশাক লুঙ্গি। মেয়েদের শাড়ি। অবশ্য প্যান্ট, টি-শার্ট গ্রামের পথ চিনেনি, ভাবলে ভুল হবে। সালোয়ার কামিজ ও স্কার্ট সম্পর্কে গ্রামের মানুষ অবগত নয়, তা ভাবা ঠিক নয়। শিক্ষা, টেলিভিশনসহ নানা যোগাযোগ মাধ্যমের ফলে, এখন আর প্রাচিন কালের গ্রামের মতো গ্রাম খুঁজে পাওয়া মুশকিল। গ্রাম রূপান্তরিত হয়েছে মফস্বলে, মফস্বল শহরে। আচরণে, চিন্তায়।গ্রামের মানুষ সুযোগ সুবিধা পাক, তা আমি চাই। ভালো কথা,শহরের মানুষের অনেকরই ঘরের আরামদায়ক পোশাকের নাম, লুঙ্গি।
বৃষ্টি অথবা ছুটি.. [এলোমেলো কাব্যকথন!]
শহরবন্দী মেঘ,
ছুটি দাও।
ছুটির ঘন্টা বাজাও;
বিষণ্ণ দুপুরের গায় -
আজ আমি স্নান করবো না,
বৃষ্টি না হলে।
শহরবন্দী মেঘ,
ছুটি দাও।
ছুটির ঘন্টা বাজাও,
বাউণ্ডুলের আকাশভরা নীলে।
আজ আমি বালুকাবেলার ডাকহরকরা,
সুপ্রিয় সমূদ্র ছোঁব না;
আর কিছুতেই -
বৃষ্টি না হলে।
শহরবন্দী মেঘ,
ছুটি দাও।
ছুটির ঘন্টা বাজাও,
একলা বিকেলের রোদ্দুরে;
সন্ধ্যার মায়াভরা রাস্তায়।
শহুরে অন্ধকারে,
হারিয়ে যাক;
নিকোটিন ধোঁয়া।
আজ বন্ধ -
চায়ের কাপে ঝড়,
বৃষ্টি না হলে।
বন্ধ খামের ভেতরেই থাক,
দুরের পাহাড়ের ডাক।
টিকেট কেটেও যাওয়া হবে না,
কু ঝিক ঝিক রেলে চড়ে বাড়ি।
যেখানে একাকী দরজায়,
কলিং বেলের অপেক্ষায়;
ভালোবাসা হৃদয়।
আজ আমি কোথাও যাবো না,
বৃষ্টি না হলে।
শহরবন্দী মেঘ,
ছুটি দাও।
ছুটির ঘন্টা বাজাও,
বাক্সবন্দী পথচলায়।
জানোই তো,
এখানে;
আমাদের চোখে -
বৃষ্টি হলেই ছুটি।।
টূ স্টেটস!
বিজেপির এক নেতা বাংলাদেশের জমির বিশাল অংশের মালিকানা দাবী করেছেন, তা নিয়ে নানান মানুষের প্রতিক্রিয়া ফেসবুকে দেখে হাসি পেল। কোথাকার কোন হরিদাস পাল দাবী করলো আর ওমনি সব দখল শুরু হয়ে যাবে এমন যারা ভাবে তাঁদের মাথায় আদৌ কিছু আছে নাকি তা নিয়ে আমি সন্দিহান। আমিও তো চাইলে কত কী দাবী করতে পারি, যেমন কাল ভাবছিলাম আলিয়া ভাটের মতো গার্লফ্রেন্ড পাইলে জীবনটা রঙ্গীন হতো, এখন মহেশ ভাটের কন্যা কি এই দাবীতেই আমার বউ হয়ে যাবে। পুলকের একটা ব্যাপার আছে, যেই মেয়েকে ওর ভালো লাগে তাকেই এক নায়িকার নামের আশ্রয়ে মিলিয়ে দেয়। একদিন আমাকে জিগেষ করলো, নেহা শর্মার মতো নায়িকা কি বউ হিসেবে পাবো?
অন্ধকার বর্তমান
২০০৯ সালে বাংলাদেশের পুলিশ ১২৯০৬টি নারী নির্যাতনের অভিযোগ লিপিবদ্ধ করেছিলো, ২০১০ সালে সংখ্যাটি বেড়ে দাঁড়ায় ১৬২১২।
২০১১ সালে পুলিশী হেফাজতে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছিলো ৪টি, ২০১২ সালে আইন শৃঙ্খলা রক্ষীবাহিনীর সদস্যদের হাতে ধর্ষিত এবং নির্যাতিত হন ১৩ জন নারী।
২০১১ সালে ৭১২টি নারী ধর্ষণের ঘটনার অভিযোগ থানায় লিপিবদ্ধ হয়েছিলো, ২০১২ সালে ৮০৬ জন নারী ধর্ষণের অভিযোগ লিপিবদ্ধ করেছে থানায়।
দ্রোহ ও দহন ১৯০৪১৪
http://www.amrabondhu.com/meghkanya/7265
সিলেট যাবার জন্যে রূপা সিঙ্গাপুরে পাওয়া ট্রেনিংটা ও একরকমের এভয়েড ই করেছে। বাসের টিকেট ফেরত, হোটেল বুকিং ক্যান্সেল সব মিলিয়ে মেজাজটা চটাং হবার জন্যে যথেষ্ট। মাথা ব্যথায় অস্থির হতে হতে কোনরকমে রূপা একটা রিকশায় চড়ে বসে। বাসায় গিয়ে ঢুকতে পারলে হয়, সটান শুয়ে পড়বে। আজকে বাসায় মানুষজনও কম। মা বাবা গ্রামের বাড়ী, ভাই ভাবী আছে হয়তো। শরীর এত খারাপ লাগার কোন যুতসই কারণ খুঁজে পাচ্ছে না রূপা মোটেই।
এই গতানুগতিক গল্প লিখে আমি কি করব? রূপার গল্পটা তেমন জমছে না, এজন্যই তিনবছর হলেও লেখা হয় না। মেয়েদের সেই স্ট্রাগলের প্যানপ্যানে কাহিনী।
-রূপা তুই বাসায় আসার পরে কি হলো?
ফোনের সাউন্ডটা লাউড স্পীকারের মতো, মোবাইলের ভলিউম একটু কমিয়ে রূপাকে জিজ্ঞেস করলাম।
দ্রোহ ও দহন
রূপবতী কন্যাদের কাহিনী যেমন হয় ঠিক তেমন লাগলো না আমার রূপার গল্পটা। কয়েক দশক ধরে রূপা নামের যে চরিত্র আমরা চিনি তেমন নয় কেন রূপা এ প্রশ্নটা স্ট্র দিয়ে জ্যুস খেতে খেতে আমার মনে হচ্ছিলো। এ মনে হওয়াটা আজ প্রায় তিন বছর হতে চললো কিন্তু আমার মাথা থেকে অক্ষরের রূপ দিতে সময় পাওয়া গেল না। আজ আবার রূপার সাথে দেখা হওয়াতে আমার মাঝে ফ্ল্যাশব্যাক মতো হচ্ছে। এও আমি জানি বরাবরের মতো নিজের দৈনন্দিনে আবার ডুবে যাবো। এসব মনে করার মতো যে মনটা লাগে সেটা আমার ঘুমিয়ে পড়বে কোন উত্তেজনা ছাড়াই।
কেন যে লেখালেখি নামক ঘুণপোকা এভাবে ঘোরে! বাচ্চাদের চিৎকারে কথায় মনোযোগ কি কোথাও থিতু হবার জো আছে! এ রাত সাড়ে আটটায় কোথায় জ্যান্ত হাতি পাওয়া যাবে চিন্তা করতে করতে চুল আরেক দফা পেকে যাবার যোগাড় যখন তখন রূপা আমার সাথে একই টি-শার্টের নীচে ঘুরতে থাকাই ভালো।
সময় যে বহে যায় ( ২য় ও শেষ পর্ব)
সময় যে বহে যায় ( ২য় ও শেষ পর্ব)
হাজারও ভাবনা ভাবতে ভাবতে এক সময় মসজিদের শহর ঢাকা, আর আমার বাসা থেকে ২০০ মিটার দুরের মসজিদ থেকে মাইকের সাহায্যে মোয়াজ্জিনের কন্ঠকে বহুগুণ বৃদ্ধি করে আল্লাহু আকবর, আল্লাহু আকবার আরবী শব্দ উচ্চারনে আজান ভেসে আসতে লাগল। ঠিক এ সময় মন্দির প্যাগোডা হতেও কাসার ঘণ্টায় এবং প্রত্যেক ধর্মই যেহেতু প্রভাত প্রার্থনার জন্য আহবান জানান। তারাও নিশ্চয়ই আহবান জানাচ্ছে, কিন্তু আমার বাসস্থানের এ স্থান
থেকে তা আমার কর্ণ গোচর হচ্ছে না। তা হোক বা না হোক, আমার বা পৃথিবীর প্রতিটি প্রানীর জীবন থেকে আরও একটি সুন্দর দিন ও সুন্দর রাত বিয়োগ হয়ে গেল। তা প্রার্থনার আহবানে সাড়া দিয়ে আমরা প্রভুর দানের কৃতজ্ঞতা জানাই বা না জানাই।