সুদূরের পিয়াসী'এর ব্লগ
স্বগতোক্তি
আজ আর কোথাও ফুল দেখিনা , দেখি ফুলের ছাঁচে বিষাক্ত যত ক্ষত ।
কংক্রিটবাণী কান-মাথা খায় , ঘাসফুলেদের ফাঁসির ধ্বনি থাকে অশ্রুত ।
আজ নাটাই-সুতো-ঘুড়ি দেখিনা , দেখিনা আকাশ , অখন্ড নীল আকাশ !
দেখি গুগোলার্থ্ আর লাশকাটা ঘর , দেখি সেথানে আস্ত আকাশ যেন খণ্ড খণ্ড লাশ !
আর দেখিনা জোত্স্না , পূর্ণিমাচাঁদ , দেখি , বিজলিবাতির মহামারী কত রোগী !
আজ চাষাভোষাদের গ্রাম চিনিনা , চিনি , কোট-টাই-বুটে নব্য চাষা , তারাই যোগী ও ভোগী ।
আঁধার
অন্ধকারের ব্যান্ডেজে বাঁধা
আষ্টেপৃষ্ঠে জগতের ক্ষত ;
রসাতল জুড়ে অধিক্রমণ
আগুন জলের আদিম খেলার ।
জলকেলি আর জলকেলি চলে
তরল তরল আগুন আর জলে ।
নিরুত্তাপ ফুসফুসীয় দহনে
ঝলসানো চাঁদ , শীতল সূর্য , জোনাকি কিংবা প্রদীপশিখা ;
সব আলোর আজ একটা ধর্ম -
আঁধার এবং আঁধার বিলানো ।
একটি পরীক্ষা ও দুটো কথা
বন্ধুরা সবাই কেমন আছো ?
বহুদিন পর এসে হুট করে খবর জিজ্ঞেস করতে কেমন যেন লাগে ! তবু আমি দুঃখের সাথে স্বীকার করছি আমার এবিতে আসার অপারগতাকে । জানিনা এতোদিন কিভাবে এবিতে না এসে থাকতে পারলাম , তবে যাই হোক এটা পরিস্থিতির শিকার বা নিজের লেখার অপারগতা যাই বলি , তা কিছুমাত্র কম নয় । কিন্তু আজ হঠাত এসেই সবার কাছে দোয়া চাইলে কেমন লাগে !! তবু চাইছি সবার মন থেকে দোয়া ও শুভকামনা (ভোটের ক্যানভাস করছিনা তা নিশ্চিত থাক)। কিন্তু কিসের দোয়া ?
একটি প্রেমের কবিতা কষছি
একটি প্রেমের কবিতা কষছি মনে মনে
এমন হবে
যে ভালোবাসা - অন্ধ অথবা আলোকিত নয়
যে আবেগ - প্রকট কিংবা প্রচ্ছন্ন নয়
যে স্বপ্ন - ঘুমিয়ে নয় , জেগে জেগে ও নয়
যে বাস্তবতা - স্বপ্নহীন নয় , কুসুমাস্তীর্ণও নয় ।
আমি সেই প্রেমের কবিতা লিখতে যাচ্ছি
যে প্রেমে - দুই এক এ দুই নয় , এক হয় ।
যে প্রেমের সমীকরন তুমি ছাড়া সিদ্ধ নয়
যে প্রেমের স্বতস্ফূরণ তুমিহীনা সম্ভব নয়
যে প্রেমের অনুসঙ্গে তুমিই পুরো শব্দভান্ডার
সে প্রেমের কবিতা লেখা
আজ আর হলোনা আমার ।
কেন এসেছিলে
বসন্ত তুমি কেন এসেছিলে
কোকিলের কুহু ডাকে ,
মুকুলের ঘ্রাণে , শিমুলের ডালে ,
কাদাজল নদী বাঁকে ।
দাঁড়কাক এক উঠোনের কোনে
সারাদিন কাচ্ছিল আনমনে ।
কোথা থেকে উড়ে এসে হেসে ওঠে
কোকিল ধুরন্ধর ।
ভুলে যায় কাক মানায়না তার
কোকিলের মধুস্বর ।
তুমিহীন
নিভু নিভু বিকেলের তুমিহীন এক আকাশ জুড়ে
মেঘের হতাশা , কবেকার শুকিয়ে যাওয়া অশ্রু , নীল নীল বেদনায় উড়ে যায় দুরের পাখি ।
তুমিহীন সাঁঝের আঁধার - ঝাপসা স্মৃতির এক ধুলিধূসর প্রেম উপাখ্যান ।
তারার রাত্রি জাগা , অহেতুক প্রলাপ গুনে গুনে রাতচোরা পাখির আহাজারি ।
উদাসী ভোরের প্রাণে বিদায়ী নিশিথ সঙ্গীত
ঝরে যায় শেফালির সাথে ।
তুমিহীন তপ্ত দুপুরে পথহারা পথিকের দীর্ঘশ্বাস , হঠাত্ দমকা হাওয়া কেঁদে ওঠে বৃষ্টি হয়ে ।
তুমি কিংবা তুই
"তোমাকে চায়"
রাত ১০:৩১, বুধবার ১৩-০৭-২০১১
মেঘলা রাতের জোছনা এবং জোনাকি মিলে
কলমিলতার ঘ্রাণে পাগল কাজল ঝিলে
ঘাসফরিংয়ের ডানায় উড়ি নিরবতায়
এসব কিছু কেবল যেন তোমাকে চায় ।
"তোর আবেশ"
10:47pm, Sat 21-05-2011
আজ আমার আকাশ জুড়ে ওড়েনি গাংচিল।
ফোঁটা জল তোলেনি ঢেউ, স্তব্ধ বিল-ঝিল।
ধোঁয়া ধোঁয়া বিকেল হঠাত্ তারায় ঝিলমিল।
তোর আবেশে আনাড়ি কবি খুঁজে অন্তমিল।
চুমু না চুমুক
ওষ্ঠে অধর লেপ্টে একটা চুমু দিতে গিয়েই
জিহ্বায় একটা লাগল দারুন ছ্যাঁকা ,
মুখটা হঠাত্ সরিয়ে নিতে গিয়েই
খেলাম একটা বিষম ভ্যাবাচেকা ।
সেই ওষ্ঠ বিমুখ ছিল বোধয় নিজেকে রাঙিয়ে ,
উষ্ণ ছোঁয়ার আবেগ বুকে নিয়ে
আমায় ডেকে ডেকে শেষে
অবহেলার রেশে
অভিমানে ফিরিয়ে তো দেবেনা !
তখন ওসব কিছুই মাথায় নেই
ওষ্ঠাধরে জুড়ে গেছে ডানা ।
উড়ে উড়ে নেশায় কেমন বুঁদ
চোখের পাতায় সপ্ন নীল হলুদ ।
হঠাত্ দুচোখ মেলে ধরি যেই
টগবগিয়ে উঠছে দেখি ধোঁয়া ।
ওষ্ঠে অধর ছুঁইয়ে দিতেই ছ্যাঁকা
বাপ রে বাপ !
ওষ্ঠ নয় , সে গরম চায়ের কাপ !
মাতৃভূমি
- - - - - - - -
- - - - -
- - -
- -
-
-
.
. .
. . . .
. . . . . .
. . . . . . . .
. . . . . . . . . . . .
. . . . . . . . . . . . . . . . .
কাজলা মেঘের আঁচল তলে
হাজার নদীর শুদ্ধ জলে
সিক্ত করে করুন ডাঙা ,
সে আমারই মাতৃভূমি ।
ছায়াঘেরা শ্যামল গহন
জুরায় তনু শীতল পবন
পাখপাখালীর কলগুঞ্জন
কোখায় গেলে পাবে তুমি !
রক্তে ভেজা পবিত্র মাটি ,
তারই উপর গতর খাটি
কৃষাণ ফলায় সোনার আঁটি
শ্রদ্ধায় বারে বারে নমি ।
আকুল করে এই বাংলার
স্নেহে ভরা শত উপাচার
মরণেও তাতে পাই যেন ঠাঁই
মাতৃভূমির চরণ চুমি । ।
১১/০৩/০৭
(অন্য কোখাও)
ফুটপাথ
প্রথমত , ক্ষমা চেয়ে নিই , বেশ কিছুদিন বাদে ব্লগে আসার মার্জনীয় অপরাধের জন্য । দ্বিতীয়ত , এই উছিলায় ব্লগার বন্ধুদের সামনে পেশ করি এক বিশেষণহীন বস্তু (কবিতা ট্যাগ দিলাম , ভুল হল বোধ হয়) যাতে চোখ বোলালেও ক্ষতি নেই ।বস্তুটি নিম্মরূপ :
ভাবুকের
কামুকের
পাথুরের
শরীরী তেজী বুকের
গত বাঁধা রক্তের
আবেগী উষ্ণতা ,
রাতজাগা ঝিঝিদের
প্রহরী কুকুরদের
ধূর্ত শৃগালদের
বেমালুম নীরবতা ,
হৃদয়ের হিমালয় গলে
নেমে আসে ঐ
স্বগত কল্লোলে -
সকলে মিলেমিশে করে হৈ চৈ -
শীতের ফ্যাকাশে রাত ,
নাক ডাকা রাজপথ ,
কম্পমান ফুটপাখ
এবং
কুয়াশার শরীরী উত্তাপে উত্তপ্ত
মোমের মত
গলে পড়া শত শত
শতভাগ ফুটপাথ মানব !
আস্থার রেখা কে দেবে এঁকে
. . . . .
. . . . . .
. . . . . .
. . . . .
. . . . . . . . . . . .
. . . . . . . .
. . . .
. . . . . . .
. . . .
১. আছি জনসমুদ্রে ডুবে,
তবু কেউ নেই,
আমি একাকী চলেছি অথবা ভেঙেছি,
টুকরো করেছি,
ধুলোয় মিশিয়ে পথে নামিয়েছি
এই আমিকেই !
২. আমি চেনা অচেনার জটিল ধাঁধায়
ছেড়েছি আবার ধরেছি হাত,
আমি ঝড়ের তুমুল মেঘের কান্না
শুষে নিলাম এ দুই চোখে ।
আমি চিনেছি রাতি, চিনেছি সকাল,
চিনিনাই তবু একটাও হাত ।
আমি , আজো খুঁজি ফিরে শূণ্য হাতে
আস্থার রেখা কে দেবে এঁকে !!
দরজায় কি কেউ কড়া নাড়ছে ?
কেউ একটা এসেছে নিশ্চয়, দরজায় কড়া নাড়ছে মৃদু শব্দে । জানলার জীর্ণ পর্দাটা হঠাত্ কেঁপে উঠে আবার থেমে গেল কি ভেবে , তা বুঝে ওঠার আগেই আবার শব্দ । মৃদু নয় , এবার তা সজোরে শোনালো । মৃন্ময় দ্বার খুলে দিতে যাবে ভাবছে , এমন সময় মনে পড়ল দরজাটা তো খোলাই পড়ে আছে । এখানেও কি চোর আছে নাকি ! তবে কে হতে পারে ? এই রাতদুপুরে ঘোর অন্ধকারপুরীতে কোন অমানুষের কাজ থাকতে পারে ? কিংবা কোন কামাতুর মোহিনীর ? যে রাতযাপন শেষ না হতেই ফিরে যাবে অন্য দরজায় ? কিন্তু শব্দ তো স্পষ্টই শোনা গেল । তবে কি কেউ এলো এই স্বেচ্ছা নির্বাসনে শরিক হতে ?
ভুলের মাশুল
চরম একটা কথা কইছ তুমি ,
তোমার কথায় স্বর্গ হলো পাতাল ।
দীর্ঘশ্বাস ছাড়লা যখন তুমি ,
বাতাস কেমন হলো টাল মাতাল ।
আমি বুঝিনি , বুঝছো কেবল তুমি ,
এতো বুঝেও করলা বিরাট ভুল ।
আমার কথা শুনলানাতো তুমি ,
ক্যামনে দিমু এ ভুলের মাশুল ??
আমরা বন্ধু
তোমরা আমরা
আমরা তোমরা
সবাই আমরা একসাথে
হেথায় সেথায়
সেথায় যেথায়
স্বপ্ন পাড়ি দেয় রাতে ,
যখন তখন
উড়ন পতন
ঘাসের বুকে শীতল প্রাতে
ফুলের ঘ্রাণের
প্রাণের গানের
সুরে মিলাই হাত হাতে ।
তবু ওরা বাঁচতে চায়
ক্ষুধা রোগে শোকে যন্ত্রনা বুকে
অনাহারি কেঁদে মরে ধুকে ধুকে ।
দীনতার সাথে লড়ে যায় অসহায় -
তবু ওরা বাঁচতে চায় ।
সারাটা জীবন খেটে মরে তবু
কাটেনা দুঃখদুর্দশা কভু ।
রক্তপিয়াসী তবু খুন শুষে যায় ,
তবু ওরা বাঁচতে চায় ।
সাগরের নির্মম দেও দানা
বেদনার বালুচরে দেয় হানা ,
সব গ্রাস করে অভিশাপ রেখে যায় -
তবু ওরা বাঁচতে চায় ।
হাহাকারময় মনে সংশয় ।
বিধাতারে স্মরে ব্যাথা পরাজয়
সব ভুলে গিয়ে বুক বাঁধে আশায় -
তবু ওরা বাঁচতে চায় ।