চলোনা বৃষ্টি নামাই
১.
ওরা একই বিশ্ববিদ্যালয়ের একই বিভাগে পড়তো। ছেলেটা যখন মাস্টার্স-এর ক্লাশ শুরু করেছে, মেয়েটি তখন সদ্য ক্লাশ করতে এসেছে। প্রথম বর্ষের ছাত্রী। তাদের মধ্যে বিয়ে হল আরও ১০ বছর পরে। প্রেমের বিয়ে না। এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ে তাদের মধ্যে কখনো দেখাও হয়নি।
জুন মাসে বাংলাদেশ থাকে তপ্ত। গরমের লু হাওয়া বয়। আবার জুনে স্বস্তিও আছে। অবিরাম বৃষ্টি পড়ে। ২০০২ সালের সেই জুনে বৃষ্টি হচ্ছিল না। সেরকম এক সময়ে বিয়ে হলো ওদের। যেন বিয়ে হওয়ার জন্যই অপেক্ষা। বৌভাত পার হয়ে ওদের হানিমুনে যাওয়ার দিন থেকে শুরু হল অবিরাম বৃষ্টি।
কক্সবাজারে তখন এখনকার মতো এতো হোটেল ছিল না। লাবনী পয়েন্টে কেবল লাবনী, সিগালে মাত্র ইট বসানো শুরু হয়েছে। ওরা উঠেছিল কলাতলীতে, একটা রেস্ট হাউজে।
ডায়মন্ড নামের রেস্ট হাউজটি ছিল প্রায় ফাঁকা। বাইরে পা দেওয়ার কোনো উপায় ছিল না। দিনরাত অবিরাম বৃষ্টি। ভরা জোয়ারের সময়ে অবিরাম বৃষ্টি দেখার স্বাদ তাদের হয়েছিল, কিন্তু বৃষ্টির তোরে যেতে পারেনি।
সেবার বৃষ্টি থেমেছিল মাত্র এক বেলা। দেরি করেনি ওরা সৈকতে যেতে। ছিল জোয়ার। পানিতে নামতেও অসুবিধা ছিল না। কিন্তু বিপত্তি বাধলো ফেরার সময়ে। টানা বৃষ্টিতে রাস্তা পিচ্ছিল। লাবনী পয়েন্ট পার হয়ে সামনে একটু আগাতেই পিচ্ছিল রাস্তায় পা পিছলে পড়ে গেল মেয়েটি। তখনো তার হাতে ছিল মেহেদী। সেই হাত তখন রক্তে ভেজা।
এখনো মনে আছে ৯ বছর আগের সেই দিনটির কথা। বাকি দুটো দিন সেই হাত ধরে থাকতে হয়েছিল ছেলেটিকে। থেতলে যাওয়া হাত আলতো করে ধরে রেখেছিল ছেলেটি। হানিমুন মাটি হয়ে গিয়েছিল। ডাক্তার আর ওষুধ থাওয়াতেই ব্যস্ত থাকতে হয়েছিল বেশি। দিনগুলো তবুও খারাপ ছিল না।
২.
উপরের গল্পটা আসলে আমার। সেই ৯ বছর আগের ঘটনা। তাই স্মৃতি হয়তো পুরোপুরি বশে নেই। যেমন ধরেন, হাত থেতলে যাওয়ার ব্যাপারটি। এমনো হতে পারে সামান্য চামড়া উঠে গিয়েছিল, যার চিহ্ন হয়তো একদিন পরে আর হাতে ছিল না। রক্ত বের হয়েছিল কীনা সেটিও ঠিক মনে পড়ছে না। ডাক্তার তো দূরের কথা, প্যারাসিটামলও কিনতে হয়নি।
তবে এটা ঠিক যে, প্রচন্ড বৃষ্টি হয়েছিল। আর বৃষ্টি না হলেই যে আমরা খুব বাইরে বাইরে থাকতাম, তাও না। নতুন বউ নিয়া হানিমুনে কে কবে খালি বাইরে বাইরে ঘুরছে? আজব!
৩.
৯ বছর পর আবার সেই কক্সবাজার। সেই একই সময়ে। প্রচন্ড বৃষ্টির মধ্যে। এবার সঙ্গে ছেলে ও মেয়ে। প্রিয়ন্তী ও রাইয়ান। ওরা প্রথম সমুদ্র দেখবে। ভাগ্য কিছুটা ভাল ছিল, যখনই রাস্তায় থাকতাম তখন প্রচন্ড বৃষ্টি। অন্যসময় বৃষ্টি নেই। ফলে সমুদ্রে নামতে ঝামেলা হয়নি।
সমুদ্রে নেমে বৃষ্টিতে পড়লাম কেবল ইনানীতে। প্রিয়ন্তী মাত্রই জ্বর থেকে ভাল হয়েছে। তাই মেয়েটাকে নিয়ে একটু সাবধানী আমরা। তাই সমুদ্র থেকে উঠতে হলো। প্রিয়ন্তীকে বললাম, চলো মা যাই, বেশি ভিজলে জ্বর হবে।
কেন জানি মনে হলো রাইয়ানকে সমুদ্র যতোটা আকর্ষণ করেছে, ততোটা প্রিয়ন্তীকে করেনি। তাই প্রিয়ন্তী সমুদ্র থেকে উঠলো ঠিকই তবে, রেস্ট হাউজে ফিরতে চাইলো না।
তখন বৃষ্টি হচ্ছে, আমরা রেস্ট হাউজের কাছে। প্রিয়ন্ত্রী তখন বললো, বাবা আরেকটু থাকি?
আমি বললাম, কেন মা?
প্রিয়ন্তী বললো, বাবা, আমি কখনো বৃষ্টিতে ভিজি নাই। আজ প্রথম ভিজলাম। আরেকটু থাকি?

প্রচন্ড বৃষ্টি পছন্দ করা এই মেয়েটি প্রতিদিন অপেক্ষা করে কবে স্কুল থেকে ফেরার পথে প্রচন্ড বৃষ্টি নামবে আর সে ভিজবে।





বৃষ্টিকে নামাইবেনই? নামান তাইলে!
এ আর কী কঠিন কাজ
১. হানিমুনে গিয়ে এই বিপত্তি! স্মৃতি টা করুণ হলেও পড়তে মধুর লাগলো


২. সমুদ্র দেখতে গিয়ে সমুদ্র না দেখে ফিরে আসা খুব খ্রাপ
৩. রাইয়ান আর প্রিয়ন্তী দুইটা মিষ্টি বেবী। প্রিয়ন্তীটা কেমন একটু বিষণ্ন বিষণ্ন, ওরে দারুণ লাগে, বৃষ্টিতে ভিজতে দিয়েন, বৃষ্টিতে ভিজলে ওর মন খারাপ ভাবটা চলে যাবে
সমুদ্র দেখতে গেছিলাম এই কথা তোমারে কে বললো?
কি রোমান্টিক গল্পটারে ব্যাখ্যা দিয়ে নিরস বানানির তাল করলেন! থাকত সে আপনভাবে ভাব নিয়ে। নতুন বৌ নিয়া বাইরে না গিয়া উপায় নাই, ফ্যামিলি/বন্ধুদের কাছে ছবি দেখাইতে হবে না সমুদ্রের কাছেধারের। রাইয়ান চুপচাপভাবে নেয়া হলেও দারুন দূষ্টু টাইপ, প্রিয়ন্তীটাকে দেখা হইলো না, মেয়েটা গম্ভীর হবে নাকি?
খালি ছবি দেখানো? একটা ছবি ফ্রেমেও রাখতে হয়। এটাই নিয়ম।
মেয়েটার সব কথা বাসায়, বাইরে গেলে গম্ভীর।আর রাইয়ান তো দুষ্ট।
আহা বেচারী ! এই সামান্য ইচ্ছেটা পূরণ হোক ওর
হয়ে যাবে।
আহারে, হানিমুনে পা পিছলে আলুর দম। দারুন স্মৃতি।
বাচ্চাদের বৃষ্টিতে ভিজতে দিয়েন বৃষ্টিতে ভিজলে জ্বর হয় না। অভ্যাস হয়ে গেলে কখনই ঠান্ডা লাগবে না।
ভাল থাকুন সবসময় মধুর স্মৃতির মত মধুরতম সময় কাটান সারাটা জীবন। অনেক অনেক শুভেচ্ছা।
হুম, বৃষ্টিতে ভিজতে দেবো
ভালো মত ধইরা থাকতেন যদি তাইলে নতুন বৌটা আছাড় খাইতোনা।
কঠিন সহমত
আছাড় না খাইলে তো এই পোস্টটাও আসতো না
ধাক্কাটা আমি দেই নাই কিন্তু
রাইয়ানের তো অনেক ভাব দেখা যায়।
প্রিয়ন্তীর বৃষ্টি ভেজার ইচ্ছা পূরণ হোক। আমার ভাইয়ের মেয়েও অপেক্ষা করে স্কুল থেকে ফেরার পথে বৃষ্টিতে ভিজবে বলে। বেচারীকে ওর মা রেইনকোট পরিয়ে স্কুল থেকে বের করে।
খিক, খিক
আমার মেয়েরও প্রায় একই অবস্থা
এবার যেন বিপত্তি না ঘটে। বাচ্চা দুটো তো দারুন মিষ্টি শওকত ভাই।
বাবার মতো
ছবিটা যিনি তুলেছেন তিনি যে ছাঁটঘাইয়া না সেইটা বোঝাই যাচ্ছে ( সামনে থেকে তোলা
)
সেই মাস্টার্স পড়া ছেলেটার সাথে ১ম বর্ষের সেই নতুন মেয়েটার পরিচয় না হয়েই ভালোই হয়েছিলো, নচেৎ সেই চির তরুন ছেলেটির এত্ত এত্ত প্রেম করা হইতো না, একটাতেই সন্তুস্ট থাকতে হতো।
নতুন বউ নিয়ে ঘরের বাইরের বেশী যাওয়া ঠিক না
পুরান বউ নিয়াও বাইরে যাওয়া ঠিক না
রাইয়ানের চাহনীটা তো মারাত্মক!
আমার ছেলে তো।
কি মধূর স্মৃতি! যুগ যুগ ধরে এমন মধু মাখানো জীবনযাপন করেন। সবসময়ই হাত ধরে থাইকেন, তাইলে আর আছাড় খাইবেন না।
ছেলে মেয়ে দুইটা দারুণ মিষ্টি। মাশাল্লাহ।
ধইন্যা তোমারে
তারপর বড় হলে ভাববে, কোন রকম নিজেকে বাঁচিয়ে বাড়িতে ঢুকি তারপর যেনো বৃষ্টি নামে
জীবন তো এভাবেই বদলায়।
দুই পিচ্চিসহ আপনাকে দারুণ লাগছে মাসুম ভাই!
তাইতো ছবিটা দিলাম
এই অপেক্ষা আমি গত তিনবছর ধরে করছি।

কে মানা করছে?
বৃষ্টি, সমুদ্র, আর আমি
হাতে হাত, প্রবল ঘোর আর তুমি।
মন্দ নয়।ঝাক্কাস।
বৃ
ঝাক্কাস।
আপনি যে লুমান্টিক লুক আছিলেন , তা বুঝাই যায়।
ভাতিজির জন্য মায়া হচ্ছে । এরা কেমন করে খাঁচার মধ্যে মানুষ হচ্ছে ।
ভাগ্যবান লোক। বিয়ের নয় মাস পার হয়ে গেল হানিমুনের কোন হদিস পেলাম না। আগামী নয় মাসেও পাব বলে মনে হয় না
মন্তব্য করুন