ব্লগবাকুম-৩
১.
আমাদের ছোটবেলায় রোববার রেডিওতে ছোটদের একটা অনুষ্ঠান হতো। সরাসরি। একটা আপা থাকতেন। আর বাচ্চারা। একেকজনকে ডাকতেন, কেউ গান, কেউ কবিতা বা ছড়া শোনাতেন। খুব আগ্রহ নিয়ে শুনতাম।
তখন থাকি নাখালপাড়ায়। পাড়ার বড় ভাই হাবিব ভাইরা খেলাঘর করতেন। আমরাও যেতাম। একবার খেলাঘর থেকে কেমনে কেমনে যেন ব্যবস্থা হল। আমরা কয়েকজন গেলাম রেডিওতে। শুরুতে একটা রিয়ার্সালের মতো হয়েছিল। সেখানে আমি একটা ছড়িা পড়েছিলাম। কিন্তু গন্ডগোল করে ফেলেছিলাম লাইভ অনুষ্ঠানে। 'আমার নাম মাসুম, আমি একটা ছড়া বলবো। ছাড়ার নাম........(মনে নেই)।' এই পর্যন্ত ঠিকই ঠিল। তারপরেই বিপত্তি। ভুলে অন্য একটা ছড়া বলে ফেলেছিলাম। এরপর আর আমি আমার প্রতিভা বিকাশের সুযোগ পাই নাই।
২.
শুনছিলাম একটা এফএম রেডিও। ছোটদের নিয়ে সেরকমই এক অনুষ্ঠান। তবে বাচ্চারা সব ইংরেজি স্কুলের। সঞ্চালক মেয়েটা প্রশ্ন করলো স্কুলের কোন মিসকে তারা বেশি পছন্দ করে। একটা বাচ্চা বললো, নাসরিন মিস। কেন?
বাচ্চাটা বললো, 'এক্সায়ামের সময় কোন্নো রং হল্লে মিস সেটা রাইটট করে দেয়'। তবে আসল জায়গায় বাচ্চাটা ঠিক আছে। একটা 'বাংলা রাইম' বলা শুরু করেছিল। অর্ধেক বলে হেসে দিয়ে বললো, ভুলে গেছি।
৩
একটা কাজে গেছিলাম উত্তরা মটোর্স-এ। দীর্ঘ সময়ের কাজ। তাই বসতে হলো। ওয়েটিং রুমটা ভালই। ঠান্ডা বাতাসের ব্যবস্থা আছে। কিন্তু তিন ঘন্টা একা বসে থাকা সহজ না। একটা পত্রিকা ছিল, কাজের সূত্রে পত্রিকাটির অনেক লেখাই আগের রাতে পড়তে হয়। তাই বেশি আর আগানো গেল না। অনেক খুঁজে পেলাম পুরোনো একটা ম্যাগাজিন। সেখানে মিনার মাহমুদের একটা লেখা পেলাম। শেষটুকু বলি---
'সেদিন স্যারের (আবু হেনা মোস্তফা কামাল) বাসায় অতিথি বাংলাদেশ বেতারের মোবারক হোসেন খান। তার বেতার কর্মকান্ডের একটা অভিজ্ঞতা বলছিলেন। প্রতি রোববার সকালে পিচ্চিদের সঙ্গীত, ছড়া ও গল্প বলার আসর হতো। সরাসরি সম্প্রচার। সম্পাদনার কোনো সুযোগ নেই। একজন আপা এটি সঞ্চালন করতেন। সচিবের ছেলের পর যুগ্ম সচিবের মেয়ে, তারপর থাকতো অন্যদের ক্রমিক। জনৈক যথারীতি ব্যস্ত আমলাপুত্রের রেডিওর লাইভ পারফরম্যান্স নিয়ে। অগত্যা শ্যালককে দায়িত্ব দেন, নিজের ছেলে অর্থ্যাৎ ভাগ্নেকে যেন কিছূ্ একটা গল্প শিখিয়ে দেওয়া হয়। দেওয়া হল গল্প শিখিয়ে। পরদিন লাইভ।
তুমি এদিকে এসো তো, কী নাম তোমার?
আমার নাম মিটুন, ক্লাশ টুতে পড়ি।
এইটুকুন মিটুন টুতে পড়ে। আপা যুগপৎ অবাক ও বিস্মিত হন পেশাদার ভঙ্গিতে।
এইবার মিটুন একটা গল্প বলবে।
'আমাল মামা না ছুন্দলবন গেছেন বাঘ ছিকাল কলতে......। হালুম কলে বাঘ চলে এলো। মামার কাছে ছিল না বন্দুক। তাই বাঘের নুনু ধলে ঘুলিয়ে ঘুলিয়ে ওঠাকে মেলে ফেলে........।'
কর্তব্যপরায়ন আপা তখনই সংশোধনের উদ্যোগ নেন মটিুনকে থামিয়ে।
'উহু উহু ওটা ওই না। লেজ হবে, লেজ ধরে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে ....।
'নানানানাহ, নুনু নুনু'। মামার প্রতি অবিচল আস্থায় ভাগ্নে মিটুন।





হিহিহি...বাচ্চা ভয়ঙ্কর, কাচ্চা ভয়ঙ্কর
...না পেয়ে এক দৌড়ে মঞ্চ থেকে নেমে কান্না জুড়ে দিয়েছিলাম 
আপনি তো তা-ও 'আমার নাম মাসুম, আমি একটা ছড়া বলবো। ছাড়ার নাম........ এটুকু বলেছিলেন। আমার প্রথম মাইক্রোফোনের সামনে দাঁড়ানোর অভিজ্ঞতা খুব্বি লজ্জাজনক। পিচ্চিকালে স্কুলের অনুষ্ঠানে প্রথমবার মঞ্চে উঠে মাইক্রোফোনই খুঁজে পাইনি :
হা হা হা হা , ভয়াবহ অবস্থা !!
একবার স্কুলে... আমরা নিউটেন... ওল্ড টেন দের বিদায় অনুষ্ঠান হবে... রিহার্সেল হচ্ছে... ক্লাসমেটর একজন বিটলামি কইরা ইংরেজী স্যারকে (উনি ভয়াবহ পাঁজি ছিলেন) দিয়া আমারে স্টেজে ডাকাইলেন... বললেন, "যা পারস তাই কইরা দেখা"
... একটা গান মুখস্ত ছিল ... দিলাম ঝাইড়া
...
নামার টাইমে স্যার কইলো... "কিরে, তর পা কাপতাছিল ক্যান?"
মিটুনের বাঘ শিকার জোশ ;(
ঐ জন্য একবার আপনেরে এক রিয়েলিটি শো এর লাইনে খাঁড়ায় থাকতে দেখেছিলাম।

প্রতিভায় শান দেন।পরে বড় হইলে কামে লাগবো।
ব্লগবাকুম ভালা পাই।এই সিরিজ টা আরেকটু ঘন ঘন দেওয়ার দাবি জানায়ে গেলাম!ভাল থাকেন,ভাই।
হাসতে হাস্তে পেটে খিল লেগে গেল। ভাই এই রেডিওর অনুষ্ঠানের অভিজ্ঞতা আমারও হইছিল। তবে আজকাল্কার পিচ্চিগুলান আমাদের চেয়ে অনেক অনেক স্মার্ট।
পোস্ট, বিশেষ করে পোস্টের লাস্ট লাইনটা পড়ে এই ইমোটার মতোই দশা আমার

শিকারী মামুর শিকারী ভাগিনা।

বাচ্চাটাই ঠিক। লেজ ধরে কি বাঘ মারা যায়? ম্যাডাম এত বড় হয়েও কিস্সু জানে না।
পরে কোন সময় এই ভাইগ্না যদি গান ধরে "বাঘ শিকারে যামু আমি আর মামু! " মামু তো ডরাইবো!
মন্তব্য করুন