নাজ'এর ব্লগ
আমার যাদুমনি (৯)
গত ৫ই এপ্রিল আমরা বন্ধু'র অনেক বন্ধু এসেছিলেন ঋহানের নতুন দাঁত ওঠা উপলক্ষ্যে ঋহানকে শুভেচ্ছা জানাতে। নানা কারনে এতদিন ঐদিনের ছবি গুলো হাতে পাইনি। কিছুদিন আগে পেলাম। কিন্তু টার্ম ফাইনাল নিয়ে এই কয়দিন ব্যস্ত ছিলাম। আজ একটু ফ্রি হলাম। চলুন দেখি ঐদিনের কিছু মুহুর্ত।
মুহুর্ত গুলো'কে এত সুন্দর ভাবে ক্যামেরাবন্দি করার জন্য মৌসুম আপুকে অসংখ্য ধন্যবাদ!
জনগনের উদ্দেশ্যে ঋহানের ভাষন
জেবিন ফুপ্পির সাথে কি হাসি
হ য ব র ল - ৫
১.
গত ৫দিন যাবৎ বিশাল দৌড়ের উপরে আছি। টার্ম পেপার, প্রেজেন্টেশন, টার্ম ফাইনাল, বৈশাখ, ঋহান, ঋহানের বাপ, সব নিয়া পুরা বেরাচেরা অবস্থা। তবুও মাঝে সাঝে ব্লগে এসে অফলাইনে দুই একটা লেখা পড়েছিলাম, কিন্তু কমেন্ট করা হয়নি। আজ যখন সব কমেন্ট করতে বসলাম, দেখি একটু পর পর বিদ্যুৎ মামা বেড়াইতে চইলা যান। এমন তো কথা ছিলো না।
২.
আমার যাদুমনি (৮)
সেদিন বলছিলাম, কিভাবে হঠাৎ করেই একগাদা ভালো বন্ধু পেয়েছি আমি।
এই শুনে ঋহান আগে ভাগেই জানিয়ে দিয়েছেন যে উনিও নাকি উনার মায়ের মত একসাথে একগাদা বন্ধু পেতে চান। তো আমাদের ঋহান সেদিন সেইসব বন্ধু’র উদ্দেশ্যে গুরুত্বপূর্ন ভাষন(!) দেয়ার জন্য সবাই’কে ডেকে পাঠালেন পাবলিক লাইব্রেরিতে।
অনেকেই এলো। ঋহানও ঠিক ৫টা বাজার ৫মিনিট আগে উপস্থিত। কিন্তু উপস্থিত হওয়ার সাথে সাথে যেমনে সবাই তারে নিয়া কাড়াকাড়ি আর ডলাডলি শুরু করলো, বেচারা! 
তো সেইসব কাড়া-কাড়ি, ডলা-ডলি, হাসি-ঠাট্টা, খাওতা-খাওই মিলিয়ে বিকেলটা বেশ ভালোই কেটেছিলো। অনেকে আবার ঋহানের ভাষন শুনে খুশি হয়ে ঋহানকে ফুলের মালার পরিবর্তে সুন্দর সুন্দর জামা-কাপড় আর ভালোবাসা উপহার দিয়েছেন। ঋহানও সব মিলিয়ে খুব খুশি। 
.........এরই মাঝে চলো মোরা হারিয়ে যাই!
আজ সেমিস্টারের শেষ ফাইনান্স ক্লাস করলাম। যদি কোন রকমে পাশ করে যেতে পারি তাহলে এইটা হয়তো আমার জীবনের শেষ ফাইনান্স ক্লাস। কারন তো আগেই বলেছি। তার মাঝে আবার শেষের কয়েকটা ক্লাস করে তো কানে ধরছি ভাই, মাফ চাই! এখন আমাকে কেউ ফ্রি ফাইনান্স পড়াবে বললেও আমি আর জীবনেও এই পাগলা কোর্সের কাছে যামুনা। 
তো যাইহোক, আজ মীর এর পোস্টে "69" মেগা সিরিয়াল'টার কথা পড়ার পর থেকে একটা গান মাথার মাঝে ঘুরছে। আগেও শুনেছেন সবাই, তাই আমি গানের লিরিক'টা শেয়ার করলাম।
প্রতিটি রাস্তায় প্রতিটি জানালায়
হাসিমুখ
হাসিমুখে আনন্দধারা
তুমি চেয়ে আছো তাই
আমি পথে হেটে যাই
হেটে হেটে বহুদুর বহুদুর যেতে চাইরোদ উঠে গেছে তোমাদের নগরীতে
আলো এসে থেমে গেছে
তোমাদের জানালায়
আনন্দ হাসি মুখ চেনা চেনা সবখানে
এরই মাঝে চলো মোরা হারিয়ে যাইতুমি চেয়ে আছো তাই
আমি পথে হেটে যাই
হেটে হেটে বহুদুর বহুদুর যেতে চাই ।।হারিয়ে যেতে চাই
তোমাদের রাস্তায় ।।
অনেক অজানা ভিড় স্বচ্ছ নিরবতায়
রোদ উঠে গেছে চেনা এই নগরীতে
নাগরিক জানালা হাসিমুখে একাকার
হ য ব র ল - ৪
২০১০ সালের শেষ লগ্নে আমার ফেসবুক ফ্রেন্ড লিষ্টের প্রায় ৬০% মানুষের স্টেটাসটি এরকম ছিলো যে “২০১০ সালের মত এমন খারাপ বছর যেন আর দেখতে না হয়”। আসলেই কি তাই হচ্ছে? ২০১১ সালের শুরু থেকে চারিদিকে কেবল মৃত্যু আর মৃত্যু। মাত্র এপ্রিল মাস শুরু, এই তিন মাসের মাঝে চেনা পরিচিতদের মাঝে প্রায় ৭-৮টি মৃত্যু সংবাদ।
১. আমার এক চাচী (আব্বার কাজিনের ওয়াইফ), আগুনে পুড়ে গিয়ে ঝলসে যাওয়া দগদগে শরীর নিয়ে কষ্ট করলেন। মৃত্যুর সাথে যুদ্ধ করলেন টানা দুই মাস। কিন্তু শেষমেশ কিছুদিন আগে পরাজিত হলেন মৃত্যুর কাছে।
২. কিছুদিন আগে সিলেটে এক তরুনী তার ঘরের কাজের মেয়েটি সহ খুন হলেন। অনেকেই হয়তো খবরটি জানেন, পেপারে পড়েছেন। সেই মেয়েটিও আমার দূরসম্পর্কের আত্মীয়। সামান্য ৩০ হাজার টাকার জন্য কত নৃশংস ভাবে মৃত্যু হলো তার। সেদিন তার নিকটাত্মীয়র কাছে শুনলাম পুরো কাহিনী। মারা যাওয়ার পর আটদিন তার লাশ পরে ছিলো ঘরের মেঝেতে। আটদিন? মৃত্যুও তো শান্তি দিলো না মানুষটাকে।
হ য ব র ল - ৩
১. আজ বেশ কিছুদিন যাবৎ নিজেকে কেমন জানি অগোছানো লাগছে। সবই ঠিক আছে। বাবা-মা, ছেলে-স্বামী, ভাই-বোন, সংসার – সব ঠিক আছে। কোন কিছুতেই তেমন কোন অসুবিধে নেই, তবুও কেন এমন লাগছে আমি জানিনা।
২. আমার জীবনের বেশি’র ভাগ সময় আমি ঘর কুণোই ছিলাম। বন্ধু-বান্ধব, আড্ডা, ঘুরে বেড়ানো এগুলোতে খুব পাগল কখনই ছিলাম না। এমনকি বৃষ্টি’তে ভেজা, অজানা উদ্দেশ্যে হেঁটে বেড়ানো, এগুলোর জন্যও নিজের মধ্যে কখনো কোন আকর্ষন বোধ করিনি। কিন্তু আজ-কাল কেন জানি এই সমস্ত কিছু আমাকে খুব টানে। এগুলো’তে ডুবে থাকতে খুব ইচ্ছে করে আমার। কিন্তু কেন করে, আমি জানিনা।
৩. আমি খুব ছোটবেলা থেকেই খুব জেদী স্বভাবের। না এটা আমার কোন গুন না। এটা আমার একটা দোষই বলা যায়। কিন্তু আমি এরকমই। একটা সময় চেষ্টা করেছিলাম নিজেকে বদলাতে। সেই চেষ্টা’র ফলে আমার জেদ করার পরিমানটা কমেছে ঠিকই, কিন্তু জেদ এর গভীরতা কমেনি। মানে জেদ করিনা করিনা, কিন্তু যখন মাথায় জেদ চাপে তখন সব শেষ। তবে এখন আর সেই জেদ দমানো’র চেষ্টাও ছেড়ে দিচ্ছি আস্তে আস্তে। কারন, আমার জন্য যেহেতু দুনিয়ার কোন নিয়ম বদলায় না, তাহলে আমি কেন “দুনিয়া কি মনে করবে” ভেবে নিজেকে বদলাবো?
তাহলে ঐ কথাই রইলো, দেখা হবে সবার সাথে.. (updated)
“ভালো বন্ধু খুজে পাওয়া বড় কঠিন”। আসলেই? হয়তো।
কিন্তু, আমি জীবনের একটা সময়ে এসে অনেক সহজেই একগাদা ভালো বন্ধু এক সাথে পেয়ে গেছি। সেই সাথে ঐ একগাদা বন্ধু'র মাঝে থেকে পেয়েছি তাকে, যাকে আজ জীবন সঙ্গী করে এগিয়ে চলেছি। আর আমার জীবন সঙ্গীর সাথে পথ চলার সিদ্ধান্তে সাক্ষ্য রেখেছিলো আমার সেই একগাদা বন্ধু। তারপর সময়ের সাথে সাথে সেই একগাদা বন্ধু’র তালিকায় যুক্ত হলো আরও একগাদা ভালো বন্ধু। এই দল আবার আমার এবং আমার জীবন সঙ্গীর ভালোবাসা’র ছোট্ট একটি নতুন অংশের সাক্ষ্য হয়ে থেকেছে প্রতিনিয়ত। সেই ভালোবাসা’র ছোট্ট অংশটি’র আমার মাঝে বেড়ে ওঠা, এই পৃথিবীতে তার আগমন, তার নামকরন.. এরকম প্রতিটা আনন্দ-বেদনার মুহুর্তে সাক্ষ্য দিয়েছে আমার এই একগাদা বন্ধু। সাথে আগের একগাদা বন্ধু'রা তো ছিলোই।
হ য ব র ল - ২
১। আজ সারাদিন আকাশ’টা খুব মেঘলা ছিলো, সেই সাথে সারাদিন ছিলো প্রচুর বাতাস। দুপুরেও রুম অন্ধকার দেখে রুমের জানালা খুলে দিলাম। ঠান্ডা বাতাস এসে মখে ঝাপ্টা দিলো, কি যে ভালো লাগছিলো, বলে বুঝাবার নয়। ভালো লাগা'কে আরেকটু বেশি অনুভব করার জন্য ফোন দিলাম টুটুল’কে। ভাবলাম এত সুন্দর দিনে তার সাথে একটু রোমান্টিক আলাপ-সালাপ করি
। হঠাৎ নিজের মধ্যে কই থেকে এই ভাবোদয় হইলো বুঝলাম না। অবশ্য বুঝাটা জরুরি মনে করলাম না।
তো ফোন করে বললাম, “বাহির’টা দেখছো? কি সুন্দর। এই সুন্দর দিনে তুমি অফিসে। আজ অফিস ফেলে আমার সাথে রিক্সা দিয়ে ঘুরতে ইচ্ছা করছে না?" 
টুটুলের উত্তর “এইদিনে? নাহ!"
আমি তো খুব কষ্ট পেলাম। আবার বললাম, “একটুও ইচ্ছে করছে না? দেখো না বাইরে কি সুন্দর বৃষ্টি”।
টুটুল কিচ্ছুক্ষন চুপ থেকে, “ঠিক দেখতেছো তো? আমি কিন্তু দেখতেছি বাইরে কটকটা রোদ।”
হায়রে মোর কপাল! এত্তদিন পর একটু রোমান্টিক হইতে চাইলাম, তাও এই প্রকৃতি’র রঙ বদলের চিপায় পইরা হইলো না। 
আমার আকাশে প্রচুর বৃষ্টি আর টুটুলের আকাশে প্রচুর রোদ খেলা করছিলো।
হ য ব র ল - ১
ভাবনা’র কোন শেষ নেই। আর সেই ভাবনা গুলো যদি হয় এলোমেলো তাহলে তো আরো শেষ নেই।
এমনই অনেক অনেক ভাবনা অনেক সময় মনে এসে ঘুরে ফিরে যায়। অনেক সময় কিছু কিছু ভাবনা’র উপর ইতিহাস লিখে ফেলার কথা ভাবি। কিন্তু, প্রায়ই ইতিহাস লেখা’র মত সময় আমার হাতে থাকে না। না, আমি মহা ব্যস্ত না। কিন্তু তবুও আমার দিনের সময় গুলো কিভাবে যে মিলিয়ে যায়, নিজেও বুঝিনা। তারপরেও যখন একটু সময় বের করে লিখতে বসি, তখন আবার ইতিহাস তো দূরের কথা ৪-৫ লাইনের বেশি লিখতেই পারিনা। লেখা এত্ত ছোট হয় যে সেটা একটা ব্লগ আকারে দিলে মানুষ আমারে দৌড়ানি দিবে।
আবার ভাবনা গুলো না লেখা পর্যন্ত একটু পর পর এসে মাথায় উকি দিয়ে যায়।
আমার যাদুমনি (৭)
আজকে'র ছবি গুলো'তে ঋহানের সাথে রয়েছে রোহা। রোহা, আমার বড় ভাইয়া'র মেয়ে। আমাদের ভাই-বোন'দের বাচ্চা'দের মাঝে সে সবার বড়, লক্ষী একটা জান আমাদের!
ঋহান আর রোহা মিলে কি করে, আসুন দেখি। ওহ, ছবি গুলো দেখা'র আগে আমি একটা মজার ঘটনা বলে নেই।
আমার যাদুমনি (৬)
তানবীরা আপু'র কথা অনুযায়ী এবার বাছাবাছি না করে সব ছবি দিয়ে দিলাম, জনগন কার কোনটা পছন্দ, বেছে নিন
ঋহানঃ কানে ধচ্চি মা, মাফ করে দাও। আর দুষ্টুমি কব্বো না
আমার বাবামনি'টা, মাশাল্লাহ!
মন খারাপের দিস্তা
একটু আগে ঋহান’কে বকা দিচ্ছিলম “তোমার সাথে আর কথা নেই। তুমি গত ৩দিন যাবৎ দুধ ছাড়া কিচ্ছু খাও না”। বলে রাগ মাখা মুখ নিয়ে ওর জন্য দুধ বানাচ্ছি, দেখি সে আমাকে ফলো করছে। যেই আমি ওর দিকে তাকালাম সে হেসে দিলো। আমি বললাম, “কোন লাভ নেই। তুমি ভেবেছো হাসলেই মা’র রাগ কমে যাবে? জ্বী না!” বলে আবার অন্য দিকে তাকালাম। এবারও সে আমাকে ফলো করছে। দুধ বানানো শেষ। ফিডার দেয়ার জন্য যখন আবার তাকালাম, এবার সশব্দে হেসে দিলো। পরাজিত হলাম ওর কাছে। আমিও হেসে ওকে কোলে তুলে জড়িয়ে ধরলাম।
আমার যাদুমনি (৫)




খেলা খেলা আর খেলা

খেলা করবে আর মারামারি করবেনা? সেও কি হয়?

মারামারি করে একজন চিৎপটাং!



ঋহান ঋহান ঋহান.....................

আমার যাদুমনি (৪)
আজকের ছবি গুলো বিভিন্ন দিনের, বিভিন্ন মূহুর্তে তোলা। আসলে স্টকে অনেক অনেক ছবি আছে ঋহানের। কিন্তু সেগুলো থেকে যে ভালো গুলো বেছে আলাদা করবো, সময়ের অভাবে সেটা হয়না। আর এত এত ছবি'র মাঝে কোনটা দিলে ভালো হয় বুঝে পাইনা। হাতের কাছে যে কয়টা পেলাম তার মাঝে যেগুলো ভালো লাগলো সেগুলোই দিয়ে দিলাম।
খেলার ফাঁকে
ঋহানঃ পোলাপাইন কিবোর্ডটাও ঠিক মত চালাইতে শিখে নাই। এই দেখো সবাই, এইভাবে লেখালেখি করতে হয়

ক্ষুধার্ত ঋহান

:.সময় যেন এই বাঁধন কখনো ছিড়তে না পারে.:
যখন বাসার পথে রওয়ানা দিলাম তখন ঘড়িতে প্রায় পৌনে নয়টা। ঢাকার অতি পরিচিত জ্যাম ঠেলে বাসায় পৌছালাম রাত সাড়ে দশটা। ঋহান তার সব চাচা, ফুপ্পি, খালা আর মামাদের আদরের চটে অস্থির হয়ে গাড়িতে উঠার একটু পরেই আমার কাঁধে মাথা ঠেকিয়ে ঘুমিয়ে গেছে। আমি আর কি করবো, বসে বসে ভাবছিলাম আজ কি নিয়ে লিখবো। আজ-কাল অনেক কিছুই মাথায় ঘুরে। কিন্তু যখন লিখতে যাই, কিচ্ছু আসে না হাতে। তাই তখন ভাবছিলাম, “যদি এমন কোন পদ্ধতি থাকতো যে, আমি এখন যা ভাবছি তা আটোমেটিক কোথাও লেখা হয়ে যাচ্ছে! তাহলে আজ অনেক বড় একটা লেখা দিতে পারতাম এবি’তে”।
এক.