ছবি ব্লগ: পদ্মার বুকে
আহমাদ মোস্তফা কামাল ভাইয়ের কথায় ছবির গল্প নিয়া পোস্ট দেয়ার আইডিয়া মাথায় আসল। গত ফেব্রুয়ারিতে আমার প্রাক্তন অফিসের ডাচ মালিক কেইস নেইবার বাংলাদেশে আসলে তাকে নিয়ে ঘুরতে যাওয়ার কথা হয়। আমার প্রস্তাবে ঠিক হয় পদ্মায় যাওয়া। এর কয়দিন আগে সাঈদদের সাথে গিয়ে প্রেমে পরে গেছি এযায়গার।

কেইস নেইবার। যার জন্যই এই ভ্রমন।

মানিকগঞ্জের ভিতর দিয়া যাওয়া, পথে পরে একটা ফেরি। নদীর নাম সম্ভবত বংশী।

সকাল বেলা নদীর ঘাটে গায়ের বধুঁ।

চরের উপর দিয়ে হেটে নদীর দিকে যাওয়া।

ঘাটে বাধাঁ ছিল তরণী।

একটা ট্রলারে করে পদ্মার বুকে ভেসে যাওয়া।

নদীতে ঘের দিয়ে মাছ ধরার ফাঁদ।

নৌকাতে থাকা নৌকাতেই রান্নাবান্না।

ট্রলারের মাঝির পরামর্শে, খোঁজ নেয়া তাজা মাছ পাওয়া যায় কীনা । পরে অবশ্য আমরা নদীর মাঝে ইলিশ ধরা জেলেদের কাছ থেকে দুইটা বড় ও দুইটা ছোট ইলিশ কিনি। পরে গঞ্জের এক হোটেলের রাধুনিকে দিয়ে সেগুলো ভাজা করে খাই। 

তারপর চরে নৌকা ভিরিয়ে পানিতে হাটা। হঠাৎ দেখি কেইস পানিতে কী যেন করে। মাছ ধরে নাকি? না, মোবাইল পরে গেছিল।

সে এক অদ্ভূত সুন্দর নির্জন স্থান। দুই পাশে নদী মাঝখানে ধুধু চর। নেই কোনো মানুষ। কিন্তু বসে আছে দুই একটা ভুবন চিল। আমরা হাটতে থাকি অপার আনন্দে।

পদ্মায় গোসল না করলে কি হয়! মাঝির থেকে লুঙ্গি ধার করে দেয়া হয় বিদেশিকে।

মাল বহনের জন্য ঘোড়ার গাড়ি ব্যাবহার হয় এই এলাকায়।

খেজুড়ের রসের প্রতি আমাট ফেসিনেসন আছে। কিন্তু বছরের পর বছর শীতকাল চলে যায় রস খাওয়া হয়না আমার! ফেরার পথে পেয়ে গেলাম হাড়ি সহ খেজুড় গাছ। আর তখনই যেন ছবির জন্য পোজ দিতে উড়ে এসে বসল শালিক দুটি।

হাতে বইখাতা নিয়ে পড়ন্ত বিকালে ওরা হয়ত ফিরছে ক্লাস করে।

সর্ষে ফুলের মৌসুম ছিল তখন শেষের দিকে।

গঞ্জের স্কুলের মাঠে কাঠের আসবাবপত্রের হাট।

সূর্য তখন অস্তাচলে যাওয়ার অপেক্ষায় আর তারপর আমরা ফিরি আমাদের ডেরায়।





ইস কবে যে আপনার মতন ছবি তুলতে পারবো ওস্তাদ।
কি দারুণ জায়গা! কি অসাধারণ সব ছবি। জট্টিল।
আমাদের নেন নাই, তাই মাইনাস।
জোশ জায়গা মনে হৈতাছে ।
চলেন আম্রা আম্রা যাই একবার
প্রস্তাবে ভোট দিলাম।
যাইতে পারুম না তাই বলে ভোট দেয়া যাবে না এমনতো না।
দিলাম ভোট।
১১ নং ছবি দেখে মনটা হু হু করে উঠলো।

একমত
সুন্দর দৃশ্যপট !!
হিিব্ব হইছে
পদ্মার ঢেউরে------- রাজশাহীর পদ্মা নদীতে অনেক গেছি । খুবই সুন্দর ছবিগুলি।
দারুণ হয়েছে ছবিগুলো।
কিছুদিন আগে যমুনা নদীর চরে গেছলাম.। টাংগাইলের ঐদিকে
.। রাটের বেলা.। চাদ ছিলনা.। চাদ থাকলে আরো জমত... লাংগলবন্দের ঐদিকে নদীর উপর ছিলাম রাতের বেলা.. চাদ ছিল.। সেইরকম পরিবেশ
..।
স্কুল শেষে সাইকেলে করে বাড়ী ফেরা.। তাও আাবার এইরকম রাস্তা দিয়া... পুরা মাস্ত..
পদ্মায় এমন জলযানেও যাত্রী বহন করা হয়, আপনার চোখে পড়েনি ? সবুজ চর নদীকে খণ্ড-বিখণ্ড করে ফেলেছে । নৌকাটা যাচ্ছে ঘোলা পানির উপর দিয়ে, নদীর যে অংশ দূরে দেখা যাচ্ছে সেখানকার পানি স্বচ্ছ, উপর থেকে দেখলে নিচে অনেকদূর পর্যন্ত নজরে আসে ।
আপনার এত সুন্দর ছবির মাঝে আমার আনাড়ি হাতের ছবি লজ্জ্বা পাবে, তবুও কেন যেন পদ্মা নামটি আমাকে এই দুঃসাহসিক কাজে টেনে নিয়ে এলো ।
চমৎকার হইসে হুদা ভাই...
দারুণ ছবি!
লুঙি পড়া সাহেব দেখতে মজা
ভাইএর এই পোস্টটায় কি যে করতে ইচ্ছা করতেসে সেটা লিখে বোঝাতে পারছি না। শুধু একটা কথা বলতে পারি। রায়হান ভাইএর যে কাজটি সবচে' ভালো পাই- তাকে পোস্টাতে দেখা।
হাতে বইখাতা নিয়ে পড়ন্ত বিকালে ওরা হয়ত ফিরছে ক্লাস করে
এই ছবিটা মন কাড়া। অতীব সৌন্দর্য মেজর
আফসুস
অনেক সুন্দর!!
আমি ছবি গুলো দেখতে পারছি না। বরফের ভিতর একটা ব্যাঙ! নীচে লিখা ডোমেইন আন রেজিস্টার্ড! কাকে রেজিঃ করতে হবে!
ছবি গুলো দেখতে চাই।
আপনি কে?
রায়হান ভাই লাস্টে এসে সবার মন্তব্যের একটা গণউত্তর দিয়ে যাবে

মানি না মানি না
হা হা । ইজি কাজে বিজি ছিলাম।
এটা কি মানিকগঞ্জের হরিরামপুর এলাকা? দেখে সেরকমই মনে হচ্ছে, যদিও ওদিকটায় যাওয়া হয় না বহুদিন! যদি হরিরামপুর হয়ে থাকে তাহলে... ওখানে আমার বাড়ি ছিল, পদ্মার গ্রাসে বিলীন হয়ে গেছে, তারপর আবার চর জেগেছে! আপনারা হয়তো আমার পূর্বপুরুষের ভিটে থেকে বেড়িয়ে এসেছেন! এরপর ওদিকটায় কখনো গেলে আমার জন্য একমুঠো একমুঠো মাটি নিয়ে আসবেন রায়হান ভাই।... আমার তো যাওয়া হয় না, গেলে বড়ো মন খারাপ লাগে...
ও হ্যাঁ, বলা হয়নি - ছবিগুলো দুর্দান্ত! পোস্টের জন্য ধন্যবাদ...
মন্তব্য করুন