বাংলাদেশের ক্রিকেট: শুধুই হতাশা?
বাংলাদেশ প্র্যাকটিস ম্যাচ সহ পরপর পাঁচ ম্যাচ জিম্বাবুয়ের মাটিতে হেরে গেছে। সমানে ৫-০ তে হোয়াইট ওয়াশের আতংক। দেশের লাখ লাখ ক্রিকেট সমর্থক দলের এ দুরবস্থায় হতাশাগ্রস্ত। এই ব্লগেও দুইজন ব্লগার ইতিমধ্যে এ নিয়ে পোস্ট দিয়েছেন। আমি আগেই ভাবছিলাম এ নিয়ে লিখব। নানা কারণে লেখা হয়ে উঠেনি। এখন ওদের সাথে সাথে ক্রিকেট ভক্ত আমিও দুইটা কথা লিখে রাখি।

বিশ্বকাপের সময় থেকে বাংলদেশের সময় ভালো যাচ্ছেনা। প্লেয়ারদের প্রায় সবারই একযোগে খারাপ সময় যাচ্ছে। কিন্তু এটা নতুন কিছু না। আসলে বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের সবসময়ই এমন অবস্থা ছিল। এটাই এই দলের স্বাভাবিক অবস্থা। সব সময়ই খেলোয়াড়দের ফর্ম খারাপ যায়। বিশেষ করে ব্যাটসম্যানদের। এর মধ্যে দুই একজন ভালো খেলে ম্যাচ জিতিয়ে দেয়। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে যেমন সাকিব একাই জিতিয়ে দিয়েছিল দলকে। এর আগে তামিম বা আশরাফুল।
বাংলাদেশের খারাপ পারফরম্যান্সের জন্য দায়ি অনেক কিছুই। আমি প্রধান কারণ বলব দেশের উইকেট। আমাদের খেলোয়াড়রা দেশের যে লো টার্নিং উইকেটে খেলে অভ্যস্ত হয় আমার মতে ব্যাটসম্যানদের খারাপ করার এটাই অন্যতম কারণ। এই উইকেটে খেলতে খেলতে ভালো রান করার মত ব্যাটসম্যান তৈরি হয় না, পেসার তো দূরের কথা। নিচুমানের স্পিনাররা গন্ডায় গন্ডায় ঈকেট পেয়ে যায়। আহামরি স্পিনার হয়ে গেছে এমন অবস্থা। যদিও বাইরে গেলেই এইসব লো কোয়ালিটির স্পিনারদের আসলা চেহারা বেরিয়ে যায়।
আরেকটা কারণ আমাদের খেলোয়ারদের খুব নিচু লেভেলের মানসিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক অবস্থা বা নীচুমানের নার্ভাস সিস্টেম। যদিও এইটা না শুধু খেলোয়াড়দেরই না, নির্বাচক, বিসিবি ও পুরা দেশের মানুষেরই লেভেল। তাই দেখা যায় হাস্যকর ভাবে টেস্টে খেলোয়াড়রা খেলে ওয়ানডের মত করে আবার ওয়ানডেতে উল্টা। বাউন্সি উইকেটে নির্বাচকরা দল গঠন করে তিনজন বাহাতি স্পিনার নিয়ে।
এছাড়াও ঘরোয়া লিগ গুরুত্ব না দিয়ে দায়সারা ভাবে আয়োজন, অবকাঠামো দুর্বলতা, অযোগ্য বিসিবি প্রধান, পরিকল্পনাহীনতা ইত্যাদি দেশের ক্রিকেটের মান না বৃদ্ধির কারণ।
পক্ষান্তরে জিম্বাবুয়ে টিম কিছুটা উন্নতি করছে। এই জয়ে ওদের নিজেদের উপর আস্থা আসবে। যদিও আমার মতে এই দুই দল গুণগত মানে প্রায় সমান সমান। ভালো টীমের বিপক্ষে পরীক্ষা হয়ে যাবে আসল শক্তির। তবে বছর দুয়েকের মধ্যে জিম্বাবুয়ে তার আগের শক্তির কাছাকাছি চলে যেতে পারবে যদি তাদের বর্তমানের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকে।
বাংলাদেশের বর্তমানের যে দল আছে তাদের কাছে আসলে আমার আশা নাই তেমন। এই সফরে জিম্বাবুয়ের এ টিমের কাছে হেরে যাওয়ার পরই বোঝা গেছে দলের মান। এখন ৫-০ তে হোয়াইট ওয়াশ হলেও অবাক হবনা। বাংলাদেশের সামগ্রিক আর্থসামাজিক অবস্থার মতই ক্রিকেট দলও ব্যার্থতা ও হতাশার প্রতীক।
তারপরও আশা থাকে। হ্যা আমি আশা করি পরবর্তি দল নিয়ে। যারা দ্রুতই উঠে আসছে। আমি নিশ্চিত, অপার সম্ভাবনা সেই দলের। ওরা যখন জাতীয় দলে খেলবে দলের চেহারা পাল্টে যাবে। টিনএইজ একদল খেলোয়াড় বাংলাদেশ একাডেমি দলের খেলে। এখন দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে। দক্ষিণ আফ্রিকা একাডেমি দলের সাথে সমান তালে লড়ছে সেখানে। ওয়ানডে সিরিজ দুই একে হারলেও প্রথম চারদিনের ম্যাচ বৃষ্টির জন্য জয়ের দ্বারপ্রান্ত গিয়েও ড্র করেছে। দেশের মাটিতে বছরের প্রথম দিকে এ দুই দলের মোকাবেলায়ও দুই দলই সমান সমান ছিল। আমি নিশ্চিত আনামুল হক, মনিনুল, মাহমুদুল, রাব্বি, আল আমিন, শোহাগ গাজি এই তরুন তুর্কিরা যখন এখনকার সিসিফাইডদের সরিয়ে জাতীয়দলে আসবে দলের চেহারাই বদলে যাবে। বিশ্বের কোন দলকেই বাংলাদেশ তখন ছেড়ে দেবেনা।
ছবি: ক্রিক ইনফো





পরবর্তি দল আসতে আর কত সময় লাগবে? মানে এই পেইন আর কত দিন দেখতে হবে?
দুই বছরের মধ্যে।
আরো আগেও আইসা পড়তে পারে...
হ্যা তা পারে, যেমন সোহাগ গাজি এখনই দলে ঢুকতে পারে। কিন্তু একাডেমি দল টা জাতীয় দল হতে কিছু প্রক্রিয়ার মধ্যে যাবে। এক বছর একাডেমি দলে থাকতে হবে। তারপর এ টিম তারপর বাংলাদেশ দলে।
রায়হান ভাই এমন ব্যুরোক্রেসিতে ক্রিকেট চললে আমরা অনেক ইন্টারন্যাশনাল সেলিব্রিটি প্লেয়াররে এখন পাইতাম না...একটা ফার্স্ট ক্লাস ম্যাচ খেইলা অস্ট্রেলিয়ার মতোন দলে ডাক পায় অনেকে। শহিদ আফ্রিদি যখন প্রথম টিমে ডাক পায় তখন তারে দলের অন্য কেউ চিনতোই না...ট্যালেন্ট/জিনিয়াসের মর্যাদা খালি ক্রিকেটেই দেওয়া সম্ভব।
আমি তো বললামই পাইতে পারে। না করছি? কিন্তু সবাই তো আর জিনিয়াস না। একটা সিস্টেমে ধরে আসার জন্য ক্রিকেট খেলা দেশে একাডেমি , এ টীম এর ব্যাবস্থা করা হয় । যাতে একটা খেলোয়াড় টপ লেভেলে গিয়ে খেই হারিয়ে না ফেলে এবং কিছু অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারে।
যখন সাকিব-তামিমরা এসেছিলো তখনও তো সবাই বলেছিলো এইবার আর কারো রক্ষা নাই। কিন্তু কি হলো?
যেই লাউ সেই কদু!!!
দুইদিন ভালো খেলবে আমরা তাদের নিয়ে লাফালাফি-নাচানাচি করবো,কিছু টাকা কামাবে দিয়ে মনে করবে ''আমি কি হনু রে'' দেমাগে মাটিতে পা পড়বে না।
একমত।
সমস্যা হল, দলে বিশ্ব মানের খেলোয়াড় এই দুই জন মাত্র। এই রকম পাঁচ ছয় জন হলেই দলের চেহারা পাল্টে যাবে।
আমরা মুমিন জনগন তাই নিরাশ হই না
আমার আব্বু খেলা দেখে আমাদের নতুন কেনা ৫০ ইঞ্চি প্লাজমা টিভি ভাঙ্গতে গেসে।

আরে!!!!!!!!! ঝাঁপায় পড়ার আগমুহুর্তে আমার আম্মুর আর আমাদের তিনবোনের চিল চিৎকারে শেষপর্যন্ত আর ঝাঁপ দিতে পারে নাই।

চিল চিৎকারে
আজকে তো ভালই খেলল।
আজকে ভিটোরি ছিলো না জিম্বাবুয়ে ইলেভেনে...
আশ্রাফুলো ছিলোনা
ছাগল দিয়ে কি আর হাল চাষ হয় ?
নাচতে না জানলে উঠানে কারপেট বিছাইয়া দিলেও লাভ হবে না
মন্তব্য করুন