ইউজার লগইন

সুমন মজুমদার'এর ব্লগ

প্রত্নবৎ পাললিক

হাতের কাছে রাখা কি-বোর্ড, একটু চেপে দিলেই হাজির হবে রাজনীতির ইঁদুর দৌড়। অস্ত্র উদ্ধার, কিশোরি ধর্ষণ, বা বাস চাপায় নিহত হয়েছে খানকতক মর্মান্তিক মানুষ। আরেকটু এগিয়ে আত্মঘাতী হামলায় নাকি আফগানিস্তান, পাকিস্তানে প্রতিদিন উড়ে যায় সভ্যতা বেল্লিকটার মাথা। অবশেষে বাকি থাকে কূটনৈতিক চাল, অস্ত্র বিরতি প্রস্তাব, আর ষড়যন্ত্রের শীত-বসন্ত আনাগোনা। জলের গ্লাসে অতঃপর ক্লান্তির চুমুক আর ঠোঁটে জ্বলে অশান্তির সিগারেট। মিইয়ে আসা চোখে তখন ভাবে সে অন্য কথা। একদিন রাত গভীর হলে, সে সব ছেড়েছুড়ে নেমে যাবে রাস্তায়। অনাদি কালের আশ্রয়ে সে হাঁটবে ছায়ার কোল ঘেঁষে ঘেঁষে। অথচ কোথায় কি, প্রতি রাতে ঘড়ির কাটা বলে উঠলে কথা ফিরে চলে সে পুরোন ঠিকানায়। মাথার ভেতর মৃত্যু আর মধ্য আফ্রিকার অনাহারি মানুষের জ্বলজ্বলে উজ্বল চোখ। আজ নাহয় ক্ষান্ত দাও জীবন, আধুনীক সভ্যতায় জেগে থাকা এই অসভ্য হারামজাদা ঘুমাক এবার…
{(c)MNI, 23/05/12}

কথার জাদুকর

কথার রাজপুত্র, কথা দাও
কথার অশ্লীল মুদ্রাদোষে-নিজের
রঙ বেরঙ কথা খাবে তুমি
সৌধস্বপ্ন সাজিয়ে রেখেছে কথক পণ্ডিত
কথার সিলমোহরও পড়েছে কথকতার গায়ে
ভালোবেসে যত কথা বল তুমি
অন্য আর কিছু থাকে না প্রেমের পদ্যপিটে।
তবু কথার পিঠে কথা দিয়েই চালো কূটচাল
তোমার কথায় বারবার ডুবিভাসি
কেন কথা শুধু কথার জন্যে নয়
কথা কি তবে বেহায়া সর্বনাশী!
{(c) MNI, 28.04.12}
(আমার প্রিয় লেখক মানিক বন্দোপাধ্যায়কে)

স্বভাব ও আভাব কবি এবং কাক বিষয়ক জটিলতা

যে কথাগুলো বলতে চাচ্ছি বা যে কথাগুলো লিখছি তা দেখলে অনেকেই আঁতকে উঠবেন, আবার কেউ কেউ ক্ষোভে দুঃখে হয়তো গালিবর্ষণও করতে পারেন। তবে এক শ্রেণী কিন্তু ঠিকই থাকবে তা আমি হলফ করেই বলতে পারি। যারা এই লেখা পড়ে ঠোঁটের কোণে যুদ্ধজয়ী হাসি ফুটিয়ে বলবেন- অবশেষ বোধোদয়।

প্রায়ই কেউ কেউ বলে থাকেন বাংলাদেশে নাকি যত কাক আছে তার চেয়ে কবির সংখ্যা ঢের বেশি। এর কারণ নাকি বাঙ্গালীর আবেগচিত্ত মন। সেদিন কে যেন আমাকে ব্যাঙ্গ করে শুনিয়েছিলো- -

কাব্য পঁচেছে কুষ্ঠ রোগেতে
কবিতা হয়েছে বাঁশি
আমার দেশে কাকের চাইতে
কবির সংখ্যা বেশি।

অলৌকিক লন্ঠন

কেমন এলোমেলো দাঁড়িয়ে আছো তুমি
হাতে নিয়ে অনিশ্চয়তার অলৌকিক লন্ঠন
যে যখন ভিক্ষা মাগে পথ
কেমন নির্লিপ্ত হাতেম তাইয়ের মত, তুমি নাকি
এদিক ওদিক দোলাও লন্ঠনের আলো।
পথ ভুলে কানাগলিতে চলে এলে কোন বেভুল, শুনেছি
নিঃশব্দে তাকেও চিনিয়ে আনো হাত ধরে।
তোমার অলৌকিক লন্ঠন যেন ক্রমাগত দোল খায় বাতাসে
অন্ধকার রাত্রিতে তুমিই নাকি হও নাবিকের শেষ বাতিঘর।
প্রবল শীতে বেড়ে গেলে রক্তের ডাক
তোমার লন্ঠনই নাকি উম হয়ে ধরা দেয় শহরগামী কোন শ্রমিকের কাছে
অথচ আমি, এই ঘোর দুঃসময়ে দাঁড়িয়ে রইলামতো রইলামই
সেকেন্ড গেছে, মিনিট গেছে, দিন গেছে, চলে গেছে ঘুমের পরে ঘুম
অথচ তোমার অলৌকিক লন্ঠন কেবল দুলতেই লাগলো পেন্ডুলামের মত
আর যখনি ছুঁতে গেলাম, হয়ে গেলো পলায়নপর
অস্পস্ট ধুধু মরিচিকা
{(c) MNI, 04/03/2012}

জন্মতাড়িত

জন্মটা কি অনিবার্য ছিলো?
নাকি বাবা-মায়ের হঠাৎ আবেগরাঙ্গা
টুকটুকে বৃক্ষফল আমি!
জন্মটা যদি নিছক সত্যিই হবে
তবে পৃথিবীর আলো হাওয়া
চন্দ্রাক্রান্ত রমণী, ছোট্ট বাবুই পাখি
কেন লাগে তাপদাহ?
জন্মটা যদি এভাবেই হবে
তবে মানুষ রুপে কেন!
মানুষের বড্ড কষ্ট ক্লান্ত জীবন
মানুষ বড্ড একা।
বরং কাব্য তাড়িত শূণ্য ছাদে
তারের দোলনায় হলুদরঙ্গা কাপড় হলে,
তবুওতো জানতাম- ওই জল আগুনে
জীবন একবার ভেজে, একবার শুকায়।
{(c) MNI, 02.03.2012}

অবিনাসী

শব্দ থেমে যাবে
চিৎকার থামবে না কোনদিন
ঝড় থেমে যাবে
তবু থামবে না গর্জন
রাস্তার স্লোগান, গলাবাজি, ক্যানভাস
থেমে যাবে, থেমে যাবে
খাদ্যের ভাগাড়, অশ্লীল ঢেকুর
বেহুদা বনবাস, দেখো একদিন ঠিকই থামবে সব।
তবু যে ভালোবাসা আমি লিখেছি কবিতায়
পরতে পারতে পাতার পতঙ্গ পেয়েও পাবে ফুল
সে রুপকথাতো থামবার নয়।
যে পথে এসেছিলো গান
অথবা যে পথে যাওয়া যায় একেবারে চলে
সে পথ ধরে আজীবন রয়ে যাবে আগন্তুক আনাগোনা।
থেমে যাবে, দেখো অন্য সব থেমে যাবে
শুধু তোমার কপালে টিপের লাল
থামবে না কোনদিন....
থামবে না মুগ্ধ মন
আর কলমের কাঙ্খিত কুরুক্ষেত্র
{(c) MNI, F.B 25.02.2012}

অসুখের জবানবন্দি

ইদানিং একটা অদ্ভুত সমস্যায় ভুগছি। এগুলো কি কোন ধরনের রোগ নাকি কেবলই আমার আঁতলামো একাকিত্বের ফসল কে জানে। কোন একটা অদ্ভুত কারণে আমি যেন একটা একটা করে দিন গুনতে শুরু করেছি। কিন্তু অনেক ভেবেও দিনটা যে কি তা বের করতে পারলাম না। মাঝে মাঝে মনে হতে থাকে আমার সারাটা দিন, সমস্ত ভাবনা, সব যেন বিশাল একটা ক্যালেন্ডারে বন্দি। জানুয়ারি গেলেই ফেব্রুয়ারি। তারপর মার্চ, এপ্রিল....। চোখ বন্ধ করলেই মনে হয় লাল রঙের কতগুলো সংখ্যা যেন সেøামোশনে ভাসছে। ৪, ৬, ১৬ জানুয়ারি, ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২৬ মার্চ, ৩০ মার্চ, ১৯ জুন, ২৯ জুলাই, ২৮ সেপ্টেম্বর, ৩০ অক্টোবর, ৩ নভেম্বর, ২২ নভেম্বর, ২৫ ডিসেম্বর।

এক-দুই

১. আগুনের ফুল ধরে হাতে
চোখে জলের নৌকা ভাসাই
তুমি কি এমনি উৎপাদক
হৃদয়ের গ্রন্থি ধরে দাও টান?
ঘুমন্ত সিংহের গুহায় আমি যেন কম্পমান হরিণ
তুমি যখনি তোমার কেশর দুলিয়ে জেগে উঠবে
আমি স্থির হয়ে যাবো
নখর সুখে তখন তুমি যেমন ইচ্ছে খেলো
উন্মোচনের খেলা।

২. জালটাকে ক্রমান্বয় জৈবিক করো জেলে
জলের যোনিতে জাগছে জাগতিক আঁচ
ছায়া পুরু মেঘ রঙ ঠোঁটের আধার পেলে
চমকাবে চকিতে সোনারঙ মাছ।
{(c)MNI, 30.01.12}

দ্বৈত-অদ্বৈত

চমৎকার টকটকে লাল তুমি লেলিহান
খুব ভালো আবার জ্বলছো বুকে ধিরে ধিরে
অলিন্দ থেকে অলিন্দে, স্মৃতিকোষ থেকে স্মৃতি কোষে বিস্তৃতি
প্রিয় শত্রুর মত কেমন গ্রাস করছো পাঁজর।
যে হৃদপিন্ড ঘুমায়নি বহুকাল
কি স্নেহে তার শরীরে বুলাচ্ছো হাত
খুব সুন্দর লেলিহান.....
এসো তোমার পাতাবাহার ঠোঁট দিয়ে চুমু খাও তবে
আর আমি প্রশান্ত পরখে ইঞ্জিনটাকে শোনাই
ঘুমপাড়ানি স্বউৎসাহ কবিতা
খোকা ঘুমালো পাড়া জুড়ালো গান।

২। ইদানিং রাস্তা দাপিয়ে বেড়ায় একটা নির্ভেজাল কুত্তা
ঈশ্বরকে ধন্যবাদ, ও মানুষকে কখনো কাটেনি।
ছয় আঙ্গুলের জীবন কত যন্ত্রণার, যদি জানতো কুত্তাটা
তবে কি আর আমাকে কাটতো?
তখন হয়তো কোন মানুষকেই.....

{(c)MNI, 27.01.12}

অচেনা

আমার এমন কেন হয়ে যাচ্ছে সব
কিযেন একটা থেকেও হাতড়ে পাচ্ছিনা খুঁজে।
চেনা টেবিল কিংবা টুল
কোথাও যেন এতটুকু যায়গা নেই বসবার।
কাকে যেন কি বলার ছিলো
অথচ মনে আসছে না কিছুই
কে যেন বলেছিলো দেখা করো
তবু দেখা করা হয়না কারো সাথে।
আমি হাটলে পথও কেবল হাটছে
ভাবনার সময় শুধুই মগ্নতা
স্বপ্নের ভেতরে কেমন যেন একটা দেয়াল
আমি কেবলই ভাঙ্গছি আর ভাঙ্গছি
ভাঙ্গতে ভাঙ্গতে মিশে যাচ্ছি ধুলোর কণায় কণায়
রক্তের ভেতরে কিসের যেন একটা অনুভব
বুকের ভেতর কেমন যেন একটা দীর্ঘশ্বাস।
আমার এমন কেন হয়ে যাচ্ছে সব?
আমার কেন এমন হয়ে গেলো?
{(c)MNI, 24.01.12}

নিশিমনের নৌকাযাত্রা

পর্ব: ২

নিশিমনের নৌকাযাত্রা

পর্বঃ ১

অধরা

কিন্নর পাখির দেশে, উত্তর-পশ্চিম অবশেষে
কোথা আর যাবো প্রিয়তমা?
নির্লিপ্ত জল সাক্ষি
নদী-নেত্র ময়ুরাক্ষী
প্রমিত প্রেম হয়ে থাক জমা..
{(c)MNI, 18.01.12}

ত্রিমোহনী

১.
বিধিবন্ধের পিদিম পেয়ালা
প্রজাপতি আর ধুয়া
হৃদ তরঙ্গে কাটছে সাতার
মীন ও মহুয়া

২.
এসো তবে বিভা আগুন জ্বালাই পথে
আমরা হবো জীবের থেকে জড়
এই সমাজের কৃতদাশ নই আমি
ভালোবাসা জেনো এমনই তীব্রতর।

৩.
তীক্ষè তিরে বিদ্ধ পৃষ্ঠদেশ
টকটকে লাল পদ্মের মত খুন
বুক জুড়ে আজ স্বপ্নের অবশেষ
সামনে আবার অন্য এক অর্জুন....
(c)MNI, 16.01.12}

(বন্ধুরা আজ আমার মনটা খুব খারাপ। কেউ আমাকে একটা সুসংবাদ শোনাতে পারো?}

ব্লেড

বানাতে চাইছে ব্লেড রক্ত মুর্ছালোক
এ শুধু রক্ত নয়, আগাগোড়া পাপের মোড়ক
প্রায়শ্চিত্ব শূণ্য সব অচৈতন্য বোধে
ব্লেড ঝলকায় অন্ধ অতিত ক্রোধে
বর্তমানের ভোগ্য পণ্য বিষ
ব্লেড চিনে গেছে জন্মের ইবলিশ
ফেঁড়ে ফেলে দিতে পাপের জুয়াচুরি
ব্লেড হয়ে গেছে সোজাসাপ্টা ছুরি
টাটকা রক্তের নেষা পরীক্ষিত
ব্লেডের হিংসা জীবনে বিচ্চুরিত
গর্ভফুলের জন্মের ছলাকলা
এসো তবে ব্লেড দুই ফাঁক করো গলা.....
(c)MNI, 05.01.12

{বিদায় বন্ধুরা, আমি আমার লেখক জীবনের ইতি টানলাম।}