সুমন মজুমদার'এর ব্লগ
শোকসভা
সেই মুহূর্তে আমি গিয়েছিলাম আমার শোক সভায়। প্রহরী আর শিকারি এই দুয়ের পার্থক্য বুঝিয়েছিলো আমন্ত্রিতরা। কিছুক্ষণ আগেই নাকি ওরা আমার মৃতদেহে শ্রদ্ধাভরে দিয়ে এসেছে সান্তনার ফুল। সভায় ওরা সবাই আমাকে বোঝালো দেশ, অপেক্ষার পাঁচদিন, সন্ধ্যা, দুই গজ জমিন ইত্যাদি। কে নাকি ব্লেডের এমাথা ও মাথায় রক্ত দেখে বলেছিলো-আহারে, এটা ওর শেষ চিহ্ন। রেখে দিতে হবে উপমা করে কবিতায়। শোকসভায় চলছিলো কাঠঠোকরার আবাদ। অবশেষে খুব পরিচিত এক চিত্রশিল্পী যখন আমার লাশের ছবি এঁকে দেখালেন-আশ্চর্য সেই মুহূর্তে আমার আর কারো কথাই মনে পড়লো না! না স্বজনের, না প্রেমিকার....
(c)MNI, 03.01.12}
এসব দেখি কবির হাট-বাজার
কখনো কখনো কবিতা লেখার চেষ্টা আমার বদঅভ্যাসগুলোর মধ্যে একটি। আবার কখনো বা গল্পও লিখতে চেষ্টা করি। তবে নিজেকে কখনো কবি বা গল্পকার হিসেবে দাবি করার মত কলিজা যে আমার নেই তা আমি অকপটেই সবসময় সবার কাছে স্বীকার করি। কখনো কখনো কেউ কেউ আমাকে বারবার প্ররোচিত করেছে, কেন একটা বই বের করছি না। তাদেরকে কিভাবে বলি আমি আসলে দুর্বল মনের মানুষ। ওটার কথা ভাবতে আমার সাহস হয় না। হাজার হাজার লেখকের মূল্যবান বইয়ের ফাঁকে আমার কায়া সাদৃশ্য একটি বই পাঠক বিনা অথর্ব অপেক্ষা করে রয়েছে যুগের পর যুগ। কিংবা কোন এক নিভৃত কোণে তা চমৎকার ব্যাবস্থা করেছে উই-ইঁদুরের অন্নসংস্থানের, এ কথা মনে হলেই আমার কলজে শুকিয়ে আসে। ল্যাংড়া, বোবা, কালা যাই হোক সমাজের সবার কাছে তা বোঝার মত হলেও সন্তানটি কিন্তু জন্মদাতার প্রিয়ই থাকে। তার সামাণ্য অবহেলা জন্মদাতার বুকের মধ্যে শেলের মত বিঁধে। এছাড়া প্রমথ চৌধুরী বলেছিলেন “মুদ্রণ যন্ত্র সহজ লভ্য হওয়
ম্যাডোনা
হাসিগুলো সামলে রেখো ম্যাডোনা
ঝট করে হেসে ফেলো না ওর মত
আশ্চর্য ভালোবাসার ডালে সে রেখেছিলো মৌচাক
অবশেষে সব খেয়ে গেছে বাতাসের মৌমাছি।
অবশ্য তার মত কখনোই হাসতে পারবে না তুমি
ভেবে দেখো-পূর্ণিমা বা রোদ্দুর
দুটো কি এক হয় কখনো?
তাই টক-ঝাল কামের ট্যাটু যতই আঁক ঠোঁটে
জেনে রেখো, তোমার চেয়ে ওর হাসিই
আমার প্রিয় ডিনার।
(c)MNI, 30.12.11}
কিমিত ক্রমান্বয়
ইব্রাহিমের সামনে ধিরে ধিরে ঘুমের ঘোর পাতলা হতে লাগলো। তার মনে হলো এখনো শরীরে চরম আলস্য লেগে রয়েছে। সে আবার চোখ বন্ধ করে। মনে হয় এই অতলান্তিক অন্ধকারটায় যেন ভাসছে, আর ভাসছে। আবার চোখ খোলে ইব্রাহিম। এই ঘরটার একটা মাত্র জানালা। সেখানে ঝুলছে ভারি কালো রংয়ের পর্দা। বাইরে সবে মাত্র অন্ধকার ধরে এসেছে। আলোর আভাস মিলিয়ে যায় নি এখনো। এখানে ওখানে নানান জিনিষের বিভিন্ন আকারের ছায়া। ইব্রাহিম শুয়ে শুয়ে সেসব ছায়া দেখতে থাকে। ঘরের পাতলা অন্ধকারকে স্পর্শ করে সে। ছায়াগুলো নরম, পাতলা, তুলতুলে কোনটা আবার ককর্শ। ঘরে কোন বাতি নেই। ইব্রাহিম উজ্বল আলো সইতে পারে না। তার কালো কিংবা অন্ধকার ভালো লাগে। সে অন্ধকারে নিজেকে নিরাপদ ভাবে। উজ্বল আলো দৃষ্টিসীমায় আলোর বন্যা আনে। ইব্রাহিমের ভালো লাগে না তা। সে তার বাক্স ভর্তি করে অন্ধকার জমিয়ে রাখে। কত মানুষ কত ধরনের শখের কারবার করে । ইব্রাহিমের শখ অন্ধকার। সে স্বযতনে অন্ধকার
আজ এই দিন
এই শীতটা খুব ভালো, আত্মহত্যার উপযুক্ত সময়
খুব একটা কুয়াশা নেই
অথচ সকালে ঘাসের মাথায় শিশির জমে ঠিকই।
অতিথিরা এখনো আসেনি
জলে ডুব দেয়নি মাছের আশায়
আবেগের মত, প্রেমের মত
স্বেচ্ছাচারী উষ্ণতারা এখনো বিদায় নেয়নি
বুকের বাতাস থেকে।
এখনো পথে আগুন জ্বালায়নি কেউ
বাড়তি ঊমের আশায় হাত সেঁকে নেয়নি
এখনো কোন পুরাতন।
তাই আজ সন্ধ্যায় যদি
ওই পথে পড়ে থাকে বকুলের ফুল
একটা একটা করে কুড়িয়ে নেবো পেেকটে
আর নাতিশীতোষ্ণ চাঁদের দিকে তাকিয়ে বলবো
হাতের কাছে এখনা পড়ে আছে অনুভবের সুর, দেখো
আজ তোমার আত্মঘাতি হবার শ্রেষ্ঠ কাল।
{(c)MNI ২৯.১২.১১}