কুড়িয়ে পাওয়া হাততালি আর খুঁচরো পয়সার জলসায়
ভ্রান্ত সময় পাড়ি দিতে দিতে মাঝেমাঝেই থমকে দাঁড়াই। ধোঁয়াশার ভেতর দিয়ে চলছে এই পথ। সম্মুখে সব কিছুই ধোঁয়ায় ঢাকা, অজানা গন্তব্যটাও ঢাকা পড়ে আছে ঘোর অনিশ্চয়তায়। পাড়ি দেয়া পথের দিকে ফিরে তাকালে সেখানেও ধোঁয়া ছাড়া কিছুই দেখা যায় না। মাঝেমাঝেই লু-হাওয়ার দমকে ধোঁয়া কেটে যায়। কুৎসিত দৃশ্যপটগুলো নগ্ন হয়ে ধরা দেয়। ক্ষণিকেই আবার ধোঁয়াশায় সব ঢেকে যায়, আমি উদ্ভ্রান্তের মত চলতে থাকি ভ্রান্ত পথে। ধোঁয়াটা কখন যে আপন আচ্ছাদনে রূপ নিয়েছে একদম টের পাইনি।
বহু ব্যাবহারে অন্তর্বাসগুলো ক্ষয়ে গেছে, কয়েক জোড়া মোজার ছেড়া গলিয়ে বেরসিকের মত গোড়ালি বেড়িয়ে পড়ে। সেগুলোকে প্রতিস্থাপনের দরকার বোধ করে গতকাল একটা বিপনিতে ঢুকলাম, বিপনিলোতে এখন খুব ভীড়। ওরা সব কিছুতেই এখন ভালোবাসার রঙ চড়িয়েছে, বাদ যায়নি অন্তর্বাসও। দুদিন পরই নাকি ওদের ভালোবাসার দিন। ভালোবাসা নামক কাল্পনিক বস্তুটা বছরের একটা দিনে অন্তত মাথাগোজার ঠাঁই পেয়েছে, খারাপ কি? তবুও কেন জানি হাসি পায়।
খুচরো কেনাকাটা শেষে বেড়িয়ে আসার সময় চমক খেলাম। অনেকটা হাওয়ায় ভর করে এক অনিন্দিতা বিপনি দ্বারের দিকেই এগিয়ে আসছে। দামি প্রসাধনের ছোঁয়া অনিন্দিতাকে মলিন করতে ব্যর্থ হয়েছে। মনে হচ্ছিলো কাছে গিয়ে বলি, এই শোনো! প্রসাধনগুলো তোমার জন্য তৈরী হয়নি। চাইলেই সব কিছু সম্ভব নয়। মেয়েটার সাথে ঘনিষ্ট হয়ে চলছে হনুমান দর্শি এক যুবক। চুলে রঙ মেখে এমন উদ্ভট পোষাক পড়া অন্তত মনুষ্য গোত্রের কারো সম্ভব নয়। উপরওয়ালা নামক ব্যাক্তিটির তিব্র রস বোধ নিয়ে ভাবছি ঘরে ফেরার পথ ধরে হাটতে হাটতে। আচ্ছা কি এমন ক্ষতি হতো যদি এপথে আমার হাতে থাকতো অনিন্দিতার হাত?
আজ ফোনে কথা হলো এক বন্ধুর সাথে। খুব বিচলিত মনে হলো তাকে। বান্ধবীকে ভালোবাসা দিবসের দামি উপহার দিতে হবে। বেকার বিধায় অর্থ সংকুলান হচ্ছে না। কিছুক্ষণ অর্থহীন কথাবার্তার পর ফোন রেখে ভাবছি ভালোবাসা বিষয়ক রসায়ন নিয়ে। বেচারা ভালোবাসা অসহায়ের মত আটকা পড়েছে মানিব্যাগ আর পাজামার ডুরিতে।
অনেকটা সময় পেড়িয়ে গেলো এই রঙের মেলায় জলসা ঘরে। দেনা পাওনার খাতা খুলে হতবাক হয়ে যাই। আমার সিন্দুক ভরে গেছে আবর্জনায়। এখনো নিজেকেই খুঁজে ফিরি তোমাদের এই কুড়িয়ে পাওয়া হাততালি আর খুঁচরো পয়সার জলসায়।
বিদ্রঃ এইটা একটা আবজাব পোষ্ট





সব কিছুর দিবস আছে একটা ভালোবাসা দিবস থাকলে ক্ষতি কি; ভালোই তো লাগে তারুন্যের উচ্ছলতা দেখতে; "মেয়েটার সাথে ঘনিষ্ট হয়ে চলছে হনুমান দর্শি এক যুবক। চুলে রঙ মেখে এমন উদ্ভট পোষাক পড়া অন্তত মনুষ্য গোত্রের কারো সম্ভব নয়।" -- এইখানে পোড়া পোড়া গন্ধ পাওয়া যাইতেসে
অন্তরদেশ পুড়ে ছারখার
দিবস নিয়া কবি নিরব
হি হি হা হা...কথার কি ছিরি-ছাঁদ...
চিত্তে সুখ থাকলে সব দিনই বিশেষ দিবস। না থাকলে সবকিছুই আরোপিত, মেকি।
লেখাটায় কেমন যেন হাহাকারের সুর...
ঠিকই বলেছেন
হাহাকারের সুর ছিলো
চিত্তে সুখ থাকলে সব দিনই বিশেষ দিবস। না থাকলে সবকিছুই আরোপিত, মেকি।
ইহার চেয়ে সত্যি আর কিছু নেই।
বানী চিরন্তনীঃ ছেকু ও দুষ্ট লুকের ছলের অভাব হয় না।
হ!
দেনা পাওনার খাতা খুলে হতবাক হয়ে যাই। আমার সিন্দুক ভরে গেছে আবর্জনায়।
==========================
লাইনটা আমার দারুন পছন্দ হলো। তুলে রাখলাম কোটেশানে।
হাঃহাঃহাঃ ধনিয়াজ নীড়'দা
হনুমানে মতো দেখতে বইলা কি ভালবাসা পাব না? খুবই আঘাত পাইলাম।
আঘাতের জন্য ছরিত
ভালোবাসার গুষ্টি কিলাই!

মাইগড দিকে দিকে একি শুনি
মুকুলের জন্য সহমর্মিতা
সামিল হইলাম
কাজী সাহেব মেলা দিন বাদে? কারো লগে কি বিজি ছিলেন?
চারিদিকে নাকি বসন্ত
না ভাইডো মিজাজ বিলা তার উপ্রে চামের কামে আছি।
আজকে বসন্ত
হুম! গতকাল বসন্ত ছিলো
পৃথিবীতে প্রেম বলে কিছু নেই !!!
হয়তো!
কোনো কোনো দেশে ভালোবাসা দিবস আবার দুইটা....দুইটাি আবার গিফ্ট নির্ভর....১৪ ফেবু ছেলেরা মেয়েদের গিফ্ট দেয়, ১৪ মার্চ, মেয়েরা ছেলেদেরে....শা হা হা
হ কুরিয়াতে সিস্টেম নাকি উল্টা
পোস্ট পৈড়ে ভালু লাগলো। কাজীদা'র হাতে অদ্ভুত লেখার শক্তি।
মন্তব্য করুন