ইউজার লগইন

মীর'এর ব্লগ

কিছু বিষয় যেগুলো কেবল আমিই জানি

বন্ধু দেবরাজ সেদিন একটা কথা বলেছিল, আমার সম্পর্কে- 'ও বোধহয় মরে গেলেও বলবে না যে আমি মারা যাচ্ছিলাম'। আপাতদৃষ্টিতে অর্থহীন ওই কথাটা ভাল লাগার কোনো কারণ ছিল না। একটা মানুষ মরে গেলে তারপর সে কিভাবেই বা কথা বলবে? তারপরও কথাটা মনের ভেতর তৎক্ষণাত বিঁধে গিয়েছিল তীক্ষ্ণভাবে। আসলেই কি আমি এমন? নিজেকে কখনো বোঝাতেই পারি নি? কারও কাছে?

আমাদের ছোট ছোট সুখগুলি

জীবন প্রায়ই ছোট ছোট সারপ্রাইজ দিয়ে আমাদেরকে মুগ্ধ করার চেষ্টা চালায়। আমরা সবসময় সেগুলো ধরতে পারি না। বিশেষত অনভ্যাসের কারণে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ছোট বিষয়কে ছোট হিসেবে অগ্রাহ্য করে নিজেদেরকে বঞ্চিত করি। যদিও কাজটা আসলে ঠিক না।

ব্লগ আর ফেসবুকের মাধ্যমে চেনাজানা হয়েছিল এক বড়ভাইয়ের সাথে। তিনি সবসময় কি যেন একটা কষ্টের মধ্যে থাকতেন। তাকে যদি বলি ভাই দুশ্চিন্তা পাশে সরিয়ে রেখে কিছুক্ষণের জন্য একটু হাসেন তো। উনি গোমড়া মুখে উত্তর দিতেন, আমার সাথে ভাল কিছু কখনও ঘটে না। উনার সিরিয়াসনেস দেখে আমারই মাঝে মাঝে হাসি পেয়ে যেতো।

ক্যাসপার তোমার জন্য

১.
আমার এখানে যখন সকাল হয়, তখন দেশে হয়ে যায় দুপুর। দুপুর হতে হতে দেশের সূর্য পশ্চিমের পথে পাড়ি দেয় বিকেলের পথ। সময়ের হিসেব রাখাটা সবসময় সহজ হয় না তাই। মাঝে মাঝে গভীর রাতে দেশের কোনো বন্ধুকে হুটহাট টেক্সট পাঠিয়ে বিব্রত হয়ে বসে থাকি। হয়তো বেচারী গভীর ঘুমে। আমি তো টেক্সট পাঠিয়েছি আমার সময় বুঝে।

সাগরের গভীর থেকে মাঝে মাঝে কান্না উঠে আসে

১.
আচ্ছা, আপনাদের কারও কি কখনো কারণ ছাড়া কান্না পায়? উথাল-পাতাল কান্না। অনুভবের গভীর থেকে আর্তনাদের মতো উঠে আসা কান্না। কাঁদতে কাঁদতে চোখ ফুলে রক্তজবা হয়ে গেলেও, গলায় আটকে থাকা কিসের যেন ওই দলাটা ঠিক একই জায়গায় রয়ে যায়। নিচে বা উপরে ওঠে না। এমন কি কখনো হয়?

যেসব দিনে সাগরের তলদেশ থেকে উঠে আসার পথে জ্ঞান হারাই

১.
সেসব দিনের ঘোর ভাঙানোর জন্য চারপাশ থেকে ম্যাকলুহানের মিডিয়াম থিওরী, ইউরোপীয় পার্লামেন্ট নির্বাচন, লার্নিং এনভায়রনমেন্টে ফেসবুক ব্যাবহার, সাইবার বুলিং এবং কোয়ানটিটেটিভ রিসার্চ মেথডেরা আমায় ফিসফিস করে ডাকতে থাকে, আর অবচেতনে আমি শরীরের সমস্ত শক্তি দিয়ে সাঁতরে তীরে ওঠার যুদ্ধ চালাই। হুট করে এক সময় বাস্তবে ফিরে আসি। রবার্টের আমাকে বলা একটা কথা মনে পড়ে যায়, You have the loudest whisper of the world!

রোদ ঝলমলে একটা সবুজ দুপুরকে মাঝে মাঝে গ্রাস করে নেয় কালো মেঘেরা। সে সময় আমার বুকে দামামা বাজে, চোখে প্লাবন ডাকে আর নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে যায় অনির্দিষ্টকালের জন্য। অনেক হাতড়ে একটা সিগারেট বানাই। ওটাকে জ্বালিয়ে বাইরে এমনভাবে তাকিয়ে থাকি যেন আমার কোনো অস্তিত্ব এই মহাবিশ্বের কোথাও কখনো ছিল না।

তারপর এক সময় নিজেই হেসে ফেলি। এত আবোল-তাবোল ভাবনা মানুষ কিভাবে ভাবে?

সুখে থেকো শাদা ফুল

১.
আমাদের ক্যাম্পাসে যে ছোট্ট স্পোর্টস সেন্টারটা আছে, সেটা আর কার কাছে কেমন লাগে জানি না কিন্তু আমার কাছে খারাপ লাগে না। একটা ৮০০ মিটারের ট্র্যাক, তার একপাশে বাস্কেটবল আরেকপাশে ভলিবল গ্রাউন্ড, মাঝখানে বিশাল সবুজ মাঠ, ফুটবল আর রাগবি খেলার জন্য ব্যবহার হয় সাধারণত, মাঠের পাশে ইনডোর ফ্যাসিলিটি, সেখানে আছে অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি সম্বলিত দুইটা জিমনেশিয়াম, সালসা-ব্যালে ইত্যাদি শেখার জন্য একটা ডান্সরুম, কিক-বক্সিংসহ যাবতীয় ইনডোর হাতাহাতি শেখার জন্য একটা রিংরুম আর বেশ কয়েকটা চেঞ্জ রুম।

একা একা বৃষ্টিতে ভেজার গল্প

১.
রাত্র বাজে তিনটা। প্রায় ঘন্টা দেড়েক বিছানা-বালিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তির পর, এই খানিক আগে ক্ষ্যান্ত দিয়েছি। হবে না আজ রাতে আর। ভাবলাম এরকম ভিন্ন একটা সময়ে কিছু লেখার চেষ্টা করলে সেটা কেমন দাঁড়ায় দেখা যাক।

২.
ঢাকা শহরে আমার সবচেয়ে প্রিয় রাস্তা ছিল গুলশান-২ নম্বর থেকে কূটনৈতিক পাড়ার দিকে চলে যাওয়া শুনশান রাস্তাটা। অফিস যাওয়ার পথে ওই রাস্তাটাই সাধারণত ব্যবহার করতাম। একটা চায়ের দোকান ছিল, রাস্তার মাঝামাঝি পর্যায়ে। ওরকম বড়লোকী এলাকায় ছোট্ট চায়ের টঙ দেখলে কার না চা পানের ইচ্ছে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। আমি যেদিনই ওই রাস্তাটা দিয়ে অফিসে যেতাম, সেদিনই ওখানে একটা টি-ব্রেক নিতাম।

গল্প: কেপলার ৪৫২'র বাসিন্দারা

সকাল থেকে আকাশ কালো করে বৃষ্টি ঝরছে। থেমে থেমে দমকা হাওয়া এসে আছড়ে পড়ছে কাচেঁর জানালায়। আজ যেন একটু বেশিই ঠান্ডা। ঘুম ভেঙ্গে যাবার পরও অনেকক্ষণ চোখ খুলতে ইচ্ছে করে না। কম্বলটা আরও একটু ভাল করে জড়িয়ে নিয়ে বিছানার আরামে ডুবে থাকতেই বেশি ভাল লাগে। ছোট-বড়, দরকারী-অদরকারী কত রকমের ভাবনারা যে সে সময় এসে মাথায় ভিড় জমায়, তার হিসাব কে রাখে।

কবিতা: ভীষণ বাজে

আমরাবন্ধু ব্লগে কবিতা পোস্ট করার একটা ছোট্ট সমস্যা আছে। কবিতা বেশি বড় না হলে, পুরোটা বাইরে থেকে দেখা যায়। বিষয়টা আমার কাছে কিছুটা অশ্লীলমতো লাগে। যে কারণে সাধারণত এ ধরনের পোস্টের শুরুতে কিছু অপ্রয়োজনীয় বাক্য জুড়ে, কবিতা ঢেকে রাখার চেষ্টা করি। তো এবার ভেবেছি, কবিতার শানে নুযুলকে এই অংশে অন্তর্ভূক্ত করে দেবো।

তোমার ঘরের আলমারিটার ঝুলন-চাবি আমায় দেবে?

১.
বাংলাদেশ আর দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যকার শেষ দুইটা ম্যাচ দেখে মনে হলো, আমার ভেতরে ক্রিকেটের প্রতি আগে যে আকর্ষণটা ছিল, সেটা কমতে শুরু করেছে। আজকাল এত হেসেখেলে নিজের দেশকে জিততে দেখলেও সেই আনন্দে ফেটে পড়তে ইচ্ছে করে না, যেটা একসময় মোহাম্মদ রফিককে একটা ছক্কা পিটাতে দেখলে করতো। মুস্তাফিজ-সৌম্যদের চোখ ধাঁধানো বোলিং-ব্যাটিং দেখে সেই উত্তেজনা টের পাই না, যেটা একসময় অনিশ্চিত আফতাবকে ব্যাট হাতে মাঠে নামতে দেখলেই টের পেতাম। তবে নিজের কথা বাদ দিয়ে যদি ভাবি, তাহলে বলতে হবে- বাংলাদেশের খেলা দেখাটা এখন একটা শান্তির উপলক্ষ হয়ে গড়ে উঠেছে। পুড়ে যাওয়া ৫৬ হাজার বর্গমাইলের বাতাসে আমি কি কখনো খুব বেশি সুসংবাদ ভাসতে দেখেছি? রাজাকার কাদের মোল্লা আর কামারুজ্জামানের ফাঁসি এবং ক্রিকেট দলের উন্নতি ছাড়া?

২.

একটা সাধারণ, কোনো কিছুতে মন না বসা দিনের গল্প

তাতানো গরম পড়েছে ইউরোপে এবার। তাপমাত্রার কাঁটা সেই যে একবার ৩০ এর উপরে উঠে গেল, তারপর থেকে আর নামার কোনো আগ্রহই যেন ওটার নেই। সিটি সেন্টারে একটা বিশাল থার্মোমিটার আছে। রাস্তার পাশে ভাস্কর্যের বদলে এ শহরে দেখা যায় আতিকায় থার্মোমিটার! সেদিন ব্যাংকে যাওয়ার পথে খানিকক্ষণ আলাপ-চারিতা চালানোর চেষ্টা করেছিলাম ওটার সাথে।

-হেই মিস্টার পারদভর্তি শিশি, খবর কি তোমার? ৩০-এর ঘর থেকে নিচে নামবা কবে?
-সেটার আমি কি জানি? মানুষ-জন গাছপালা সব কেটে সাফ করে ফেলছে, আমি চাইলেই কি আর ৩০-এর ঘর থেকে নেমে আসতে পারি?
-হুম, সেটাও ঠিক। আমার অবশ্য ৩০-এর ঘরের তাপমাত্রায় সমস্যা ছিল না কিন্তু এই শীতের দেশে কোথাও কোনো সিলিং ফ্যান বা এয়ারকুলার নাই, সেইটাই যতো সমস্যা।
-ছোট দেখে একটা টেবিল ফ্যান কিনে নাও।

প্রিয় বাংলাদেশ

তুমি ভালো নেই, তাই না?

ছুঁয়ে দেখবার মন মরা আশ ভালবাসে জল হয়ে ঝরতে

১.
সেদিন কাউফল্যান্ড থেকে এক জোড়া জুতা কিনছি। ফিলা ব্র্যান্ডের। সাধারণত ওদের জুতা ৪০ ইউরোর নিচে পাওয়া যায় না। অ্যাডিডাসের শুরু ৫০ থেকে। রিবুক ৫৫। দাম দেখলেই ইচ্ছারা চুপসে যায়। তবে সেদিন এক জোড়া পেয়ে গেলাম নাগালের মধ্যে। বিশেষ অফার চলছিল। সাইজমতো পেয়ে আর দেরি করলাম না। বাডা বিম, বাডা বুম।

রবার্টকে বলে রেখেছিলাম শপিং-এ যাবো। পরে একা একাই জুতা কিনে ফেলেছি শুনে রাগের চোটে একটা বিয়ার একাই টেনে ফেললো। তারপর আরেকটা খুলে খুব হম্বিতম্বি শুরু করলো। প্রিসকা ঘটনা শুনে আমাকে ফোন করে দিলো একটা রামধমক। কেন আমি ওকে নিয়ে শপিং-এ যাবার কথা বলেও একা একা জুতা কিনে ফেলেছি? এখন হ্যাপা সামলাবে কে?

পৈশাচিকানন্দে উইকেন্ড উদযাপন

টানা দুই ওয়ানডে জিতে ভারতের বিপক্ষে যেভাবে সিরিজ নিজেদের করে নিলো বাংলাদেশ, তা দেখে যারপরনাই সুখ আর শান্তি অনুভূত হয়েছে। এ দুই জয়ে হৃদয়ে সৃষ্ট অনেকগুলো ক্ষত পুরোপুরি সেরে উঠলো। বিশ্বকাপের সময় বানানো মওকা মওকা বিজ্ঞাপনটা ছিল ক্ষতগুলোর মধ্যে গভীরতম। বিশেষ করে উল্লেখ করতে চাই বিজ্ঞাপনের সেই মুহূর্তটির কথা, যেখানে আমাদের প্রাণের মুক্তিযুদ্ধকেও হেয় করা হয়েছিল। যদিও আমি মনে-প্রাণে বিশ্বাস করি, অপরকে ছোট করার মধ্যে কোনো মাহাত্ম্য নেই। সেটা বরং নিজের দেউলিয়াত্ব খুব খোলাখুলিভাবে প্রকাশ করে দেয়। তারপরও আশা করে ছিলাম বিশ্বকাপেই ভারতকে হারিয়ে ওই বিজ্ঞাপনের একটা দাঁতভাঙ্গা জবাব দেয়া হবে। হয়তো সেটা হতোও। কিন্তু বাঁধ সাধল পাকিস্তানি আম্পায়ার আলীম দার।

কোনো কারণ ছাড়াই এক প্রস্তুতিহীন মেরুভালুক বরফ ভাঙছে

ফ্রাঙ্কফুর্ট এয়ারপোর্টে যখন আমার ড্রিমলাইনার ল্যান্ড করে তখন মনের ভেতর অস্থিরতা ছাড়া আর কিছুই চলছিলো না। টানা ১৫ ঘন্টার বিমান ভ্রমণের পর আসলে, কখন এ বন্দিদশা থেকে মুক্ত হবো- তার অপেক্ষায় অস্থির হওয়া ছাড়া কিছু করার থাকে না। মাঝে একবার বিমান পরিবর্তনের জন্য ঘন্টা তিনেকের বিরতি পেয়েছিলাম। তাতে অস্থিরতা বেড়েছেই কেবল, কমে নি কারণ গন্তব্যে পৌঁছে সবকিছু ঠিকঠাকমতো করতে পারবো কিনা, আমার জানা ছিল না। কেবল জানতাম- যেকোন মূল্যে আমাকে গন্তব্যে পৌঁছুতেই হবে। বিকল্প কোনো রাস্তা আমার জন্য খোলা ছিল না।