ইউজার লগইন

মীর'এর ব্লগ

আমাদের হাতে বেশি সময় ছিল না

১.
আমি জীবনে খুব বেশি ভ্রমণ করি নি। অল্প কয়েকবার কক্সবাজার গিয়েছি। যার মধ্যে একবার ছিল হানিমুনের জন্য যাওয়া। সেটাই হচ্ছে কক্সবাজারে আমার সবচেয়ে আনন্দদায়ক আর উত্তেজনাকর ভ্রমণের স্মৃতি। তবে কক্সবাজার ভ্রমণের চেয়ে অনেক বেশি উত্তেজনার, আনন্দের আর শিহরণের ছিল প্রত্যেকটা বান্দরবান ভ্রমণের স্মৃতি।

টেকনোলজি ও সবুজ কোক

ফেসবুক বন্ধ থাকার কারণে যদি দেশের একটা মানুষ খুশি হয়ে থাকে, তাহলে সেইটা ছিলাম আমি Crazy কারণ ভাবছিলাম অন্তত এই কারণে দুই-চারজন ব্লগার এইদিকে পদধূলি দেবে Big smile যাই হোক, সেই আশার গুড়ে বালি পড়ছে। এক মেসবাহ ভাই আর এক টুটুল ভাই ছাড়া কারও দেখা পাই নাই Puzzled

অবশ্য আমার আলোচনার বিষয় সেটা না। আমার আইজকার বিষয় হৈল টেকনোলজি Wink কেউ কি জানে ব্লগে কিছু যান্ত্রিক সমস্যা দেখা দিছে? Shock Shock Shock যার মধ্যে অন্যতম ও একমাত্র হৈল গিয়া, বিগড়ানো ছবি আপলোড করার যন্তর মন্তর।

আমি কয়েকবার ছবি আপলোড করার চেষ্টা করে দেখলাম, কিছুই হয় না Puzzled ফটোব্লগ টিউটোরিয়ালে ঢুকে দেখি লেখা আছে কিন্তু ছবি নাই Shock ছবি মুছে যাওয়ার বিষয়টা দেখে মনে হইলো, এইভাবে যদি লেখাও মুছে যায়, তাহলে তো বিরাট সমস্যা Sick

কবিতা: কেন?

কেন তুমি মারিয়া বা ফ্রান্সির মতো
ক্লাবে বা ক্যাফেটেরিয়ায় বা রাস্তায় বা সিটি সেন্টারে
মুখোমুখি হয়ে যাও না?
কেন তুমি জাস্ট কোনো কারণ ছাড়া
আরও একবার মেয়েদের কমন রুমের সামনে দাঁড়িয়ে
আমার জন্য অপেক্ষা করো না?
সময়টা আমরা পার হয়ে এসেছি তাই না?
অনেকদূর চলে এসেছি তারপর, একা একা
আমাদের একসাথে চলাটা এবং একসাথে ভালবেসে বেসে
কাছে থাকাটা, বোধহয় এখন খুব দুঃখিত মুখে
বসে আছে কোথাও, একা একা।
কোথায় বলোতো, হয়েছিল আমাদের প্রথম দেখা?
প্রথম ক্লাসে? যখন তুমি বলেছিলে- সত্য কথাটা কেবল তুমিই বললে।
হাহাহা, সেটা আসলে ঠিক না,
যেদিন তুমি প্রথম আমাদের ডিপার্টমেন্টে আসলে, যেদিন একটা ছেলে প্রথম
তোমায় দূর থেকে দেখেছিল,
যাক সেসব কথা, শুধু বলি তুমি সেদিন একমাত্র যে ছেলেটার সাথে কথা বলেছিলে
সে ছেলেটা তোমার কথা নেয়ার মতো ছিল না, এবং
যে ছেলেটা সেদিন দূর থেকে শুধুই তোমায় দেখছিল,

একটি মানুষের আত্মকাহিনী

আমার যে ভার্সনটা আমি সবচেয়ে অপছন্দ করি সেটা ঘুরে ফিরে আসে। প্রতি দুই-তিন মাসে একবার। কয়েকটা দিন খুব মাজুল অবস্থায় কাটে। মার্ফি'জ ল-কে সত্য প্রমাণ করতে সেই দিনগুলো আসে সেমিস্টারের ব্যস্ততম সময়গুলোতে। পড়া-শোনা লাটে উঠে থাকে আর আমি বায়বীয় কষ্টের সমুদ্রে ভাসতে ভাসতে অশরীরি মাথা নাড়িয়ে সিস্টেম অফ আ ডাউন শুনি।

চিঠির যুগ শেষ হয়ে গেছে। শুধু আমরা আমাদেরকে যেসব চিঠি লিখেছিলাম সেসব রয়ে গেছে। কি আশ্চর্যের বিষয়, তাই না? পাখি উড়ে যায়, রয়ে যায় ঝরা পালক। ভালবাসা মরে যায়, রয়ে যায় বিবর্ণ স্মৃতি।

ডাক্তার বলেছে সিঙ্গেল রুম চেঞ্জ করে জয়েন্ট অ্যাপার্টমেন্টে উঠতে। একা থাকাটা নাকি এখন আমার জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকর। আমি নাকি এখন খুবই ভালনারেবল। এ সময়টায় আমাকে নাকি সবসময় বন্ধু-বান্ধব অথবা জনমানুষের কাছাকাছি থাকতে হবে। যাতে একেবারে শেষ মুহূর্তে যদি ফিরে আসতে চাই, অন্তত যেন সাহায্যের জন্য কাউকে ডাকতে পারি।

পাওলো কোয়েলহোর পেন্সিল

সময় নামের বইটার পাতা পেছনে উল্টিয়ে মাঝে মাঝে তোমার আমার যৌথ জীবনে উঁকি দিতে যাই। সাধারণত ঘটনাটা ঘটে যখন রাতের আকাশ আলো করে চাঁদের আনাগোনা দেখা দেয়। অথবা প্রকৃতির খুব কাছাকাছি চলে গেলে (যতোটা কাছাকাছি গেলে পৃথিবীর প্রতিটি জিনিসের সৌন্দর্য্যই চোখে পড়ে) তোমার কথা মনে পড়ে।

কক্সবাজারের ইনানী সৈকতে গিয়ে তোমায় শিশুর মতো খুশি হতে দেখেছিলাম। তখনই মনে মনে ঠিক করে ফেলেছিলাম আমরা পৃথিবীর প্রতিটি সুন্দর জায়গায় ঘুরতে যাবো। তোমাকে হাসতে দেখলে আমার মাঝে এক অজানা শিহরণ জন্ম নিতো। শুধুমাত্র সেই অনুভূতিটা বারবার পাওয়ার জন্য অনেকটা স্বার্থপরের মতোই তোমায় নিয়ে ঘুরতে বের হওয়ার সিদ্ধান্তটা নেয়া হয়েছিল।

কখনও রিকভার হবে বলে মনে হচ্ছে না

অথচ আমি খুব যে কষ্টে আছি তাও কিন্তু না। খালি মাঝে মাঝে সঞ্জীবদা'র 'চোখটা এতো পোড়ায় কেন' গানটা শোনার জন্য অদ্ভুত এক অস্থিরতা অনুভব করি। ভেতরে ভেতরে। ধ্রুব সেদিন জানতে চাচ্ছিল, আপনি কি রিকভারি করে ফেলেছেন? আমি নিজের ভেতরে প্রশ্নটার উত্তর খুঁজে যা পেয়েছিলাম তা হলো, না। এখনও রিকভারি করতে পারি নি। সারাটা দিন যতো হিহিঠিঠি-ই করি না কেন, বেলাশেষে কোথায় যেন একটা কষ্টের সুর বাজে, শুনতে পাই। মনে হয় অনেক দূর থেকে কোনো রাজকুমারীর কান্নাভেজা কণ্ঠের গান ভেসে আসছে। সেই সময়টায় ভীষণ অস্থির লাগে। একটার পর একটা সিগারেট পোড়াই। হুমায়ুন আজাদ স্যারের সেই কবিতাটার মতো,

"শুধু তোমার মুখের ছাঁয়ায় বুকটা কেঁপে উঠলে
রাতটা জেগেই কাটাই, বেশ ভাল লাগে
সম্ভবত বিশটির মতো সিগারেট বেশি খাই।"

তাদের সাথে দেখা হওয়ার অপেক্ষায় আছি

আচ্ছা, যদি বলি ইদানীং হিন্দি গান শুনছি তাহলে কি কেউ আমাকে মারতে চাইবেন? খুবই কমন গান শুনছি তাও আবার। লাগ যা গালে..., হিনা কি খুশবু.., আর দিলবর জানিয়া। কি যে সমস্যা, বুঝি না। আর অালসেমী রোগটা আবার বাসা খোঁজা শুরু করেছে। যতোই বলি আমার বাড়িতে জায়গা নেই, ততোই আরও জেঁকে ধরতে চায়। কাজও আজকাল এত কম করি আর এত অদরকারী কাজ করি, যে বলার মতো না। তবে একটা জিনিস জানলাম।

কিছু বিষয় যেগুলো কেবল আমিই জানি

বন্ধু দেবরাজ সেদিন একটা কথা বলেছিল, আমার সম্পর্কে- 'ও বোধহয় মরে গেলেও বলবে না যে আমি মারা যাচ্ছিলাম'। আপাতদৃষ্টিতে অর্থহীন ওই কথাটা ভাল লাগার কোনো কারণ ছিল না। একটা মানুষ মরে গেলে তারপর সে কিভাবেই বা কথা বলবে? তারপরও কথাটা মনের ভেতর তৎক্ষণাত বিঁধে গিয়েছিল তীক্ষ্ণভাবে। আসলেই কি আমি এমন? নিজেকে কখনো বোঝাতেই পারি নি? কারও কাছে?

আমাদের ছোট ছোট সুখগুলি

জীবন প্রায়ই ছোট ছোট সারপ্রাইজ দিয়ে আমাদেরকে মুগ্ধ করার চেষ্টা চালায়। আমরা সবসময় সেগুলো ধরতে পারি না। বিশেষত অনভ্যাসের কারণে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ছোট বিষয়কে ছোট হিসেবে অগ্রাহ্য করে নিজেদেরকে বঞ্চিত করি। যদিও কাজটা আসলে ঠিক না।

ব্লগ আর ফেসবুকের মাধ্যমে চেনাজানা হয়েছিল এক বড়ভাইয়ের সাথে। তিনি সবসময় কি যেন একটা কষ্টের মধ্যে থাকতেন। তাকে যদি বলি ভাই দুশ্চিন্তা পাশে সরিয়ে রেখে কিছুক্ষণের জন্য একটু হাসেন তো। উনি গোমড়া মুখে উত্তর দিতেন, আমার সাথে ভাল কিছু কখনও ঘটে না। উনার সিরিয়াসনেস দেখে আমারই মাঝে মাঝে হাসি পেয়ে যেতো।

ক্যাসপার তোমার জন্য

১.
আমার এখানে যখন সকাল হয়, তখন দেশে হয়ে যায় দুপুর। দুপুর হতে হতে দেশের সূর্য পশ্চিমের পথে পাড়ি দেয় বিকেলের পথ। সময়ের হিসেব রাখাটা সবসময় সহজ হয় না তাই। মাঝে মাঝে গভীর রাতে দেশের কোনো বন্ধুকে হুটহাট টেক্সট পাঠিয়ে বিব্রত হয়ে বসে থাকি। হয়তো বেচারী গভীর ঘুমে। আমি তো টেক্সট পাঠিয়েছি আমার সময় বুঝে।

সাগরের গভীর থেকে মাঝে মাঝে কান্না উঠে আসে

১.
আচ্ছা, আপনাদের কারও কি কখনো কারণ ছাড়া কান্না পায়? উথাল-পাতাল কান্না। অনুভবের গভীর থেকে আর্তনাদের মতো উঠে আসা কান্না। কাঁদতে কাঁদতে চোখ ফুলে রক্তজবা হয়ে গেলেও, গলায় আটকে থাকা কিসের যেন ওই দলাটা ঠিক একই জায়গায় রয়ে যায়। নিচে বা উপরে ওঠে না। এমন কি কখনো হয়?

যেসব দিনে সাগরের তলদেশ থেকে উঠে আসার পথে জ্ঞান হারাই

১.
সেসব দিনের ঘোর ভাঙানোর জন্য চারপাশ থেকে ম্যাকলুহানের মিডিয়াম থিওরী, ইউরোপীয় পার্লামেন্ট নির্বাচন, লার্নিং এনভায়রনমেন্টে ফেসবুক ব্যাবহার, সাইবার বুলিং এবং কোয়ানটিটেটিভ রিসার্চ মেথডেরা আমায় ফিসফিস করে ডাকতে থাকে, আর অবচেতনে আমি শরীরের সমস্ত শক্তি দিয়ে সাঁতরে তীরে ওঠার যুদ্ধ চালাই। হুট করে এক সময় বাস্তবে ফিরে আসি। রবার্টের আমাকে বলা একটা কথা মনে পড়ে যায়, You have the loudest whisper of the world!

রোদ ঝলমলে একটা সবুজ দুপুরকে মাঝে মাঝে গ্রাস করে নেয় কালো মেঘেরা। সে সময় আমার বুকে দামামা বাজে, চোখে প্লাবন ডাকে আর নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে যায় অনির্দিষ্টকালের জন্য। অনেক হাতড়ে একটা সিগারেট বানাই। ওটাকে জ্বালিয়ে বাইরে এমনভাবে তাকিয়ে থাকি যেন আমার কোনো অস্তিত্ব এই মহাবিশ্বের কোথাও কখনো ছিল না।

তারপর এক সময় নিজেই হেসে ফেলি। এত আবোল-তাবোল ভাবনা মানুষ কিভাবে ভাবে?

সুখে থেকো শাদা ফুল

১.
আমাদের ক্যাম্পাসে যে ছোট্ট স্পোর্টস সেন্টারটা আছে, সেটা আর কার কাছে কেমন লাগে জানি না কিন্তু আমার কাছে খারাপ লাগে না। একটা ৮০০ মিটারের ট্র্যাক, তার একপাশে বাস্কেটবল আরেকপাশে ভলিবল গ্রাউন্ড, মাঝখানে বিশাল সবুজ মাঠ, ফুটবল আর রাগবি খেলার জন্য ব্যবহার হয় সাধারণত, মাঠের পাশে ইনডোর ফ্যাসিলিটি, সেখানে আছে অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি সম্বলিত দুইটা জিমনেশিয়াম, সালসা-ব্যালে ইত্যাদি শেখার জন্য একটা ডান্সরুম, কিক-বক্সিংসহ যাবতীয় ইনডোর হাতাহাতি শেখার জন্য একটা রিংরুম আর বেশ কয়েকটা চেঞ্জ রুম।

একা একা বৃষ্টিতে ভেজার গল্প

১.
রাত্র বাজে তিনটা। প্রায় ঘন্টা দেড়েক বিছানা-বালিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তির পর, এই খানিক আগে ক্ষ্যান্ত দিয়েছি। হবে না আজ রাতে আর। ভাবলাম এরকম ভিন্ন একটা সময়ে কিছু লেখার চেষ্টা করলে সেটা কেমন দাঁড়ায় দেখা যাক।

২.
ঢাকা শহরে আমার সবচেয়ে প্রিয় রাস্তা ছিল গুলশান-২ নম্বর থেকে কূটনৈতিক পাড়ার দিকে চলে যাওয়া শুনশান রাস্তাটা। অফিস যাওয়ার পথে ওই রাস্তাটাই সাধারণত ব্যবহার করতাম। একটা চায়ের দোকান ছিল, রাস্তার মাঝামাঝি পর্যায়ে। ওরকম বড়লোকী এলাকায় ছোট্ট চায়ের টঙ দেখলে কার না চা পানের ইচ্ছে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। আমি যেদিনই ওই রাস্তাটা দিয়ে অফিসে যেতাম, সেদিনই ওখানে একটা টি-ব্রেক নিতাম।

গল্প: কেপলার ৪৫২'র বাসিন্দারা

সকাল থেকে আকাশ কালো করে বৃষ্টি ঝরছে। থেমে থেমে দমকা হাওয়া এসে আছড়ে পড়ছে কাচেঁর জানালায়। আজ যেন একটু বেশিই ঠান্ডা। ঘুম ভেঙ্গে যাবার পরও অনেকক্ষণ চোখ খুলতে ইচ্ছে করে না। কম্বলটা আরও একটু ভাল করে জড়িয়ে নিয়ে বিছানার আরামে ডুবে থাকতেই বেশি ভাল লাগে। ছোট-বড়, দরকারী-অদরকারী কত রকমের ভাবনারা যে সে সময় এসে মাথায় ভিড় জমায়, তার হিসাব কে রাখে।