কর্পোরেট ফুটানি
বাপের হোটেলে থাইকা মায়ের কাছে হাত পাইতা ঝাড়ি খাওয়া যখন শেষ... তখন আর পায় কে। চাক্রিটা আমি পাইয়া গেছি... ... শুঞ্ছ। ফুটানি আর ভাবে বাঁচিনা। বেবাক্তেরেই জ্ঞান দেই। অফিস... ম্যানেজম্যান্ট... এডমিন... একাউন্টস... অপারেশন... কত্ত ভারি ভারি শব্দ আওরাই।
মা যখন বলে চল একটু গ্রাম থেকে ঘুরে আসি... অনেক দিন যাওয়া হয় না। মারে শুনাই ... “শোন মা... গ্রামের লোকজনের সাথে আমার ঠিক যায় না... সব ক্ষেতু টাইপ লোকজন... কিরম খ্যাঁক্ খ্যাঁক্ কইরা হাসে... ভাল লাগে না। ছোটলোক প্রত্যেকটা
।
মাকে বলি... এখন আমি যখন তখন যেখানে খুশি সেখানে যেতে পারি না। সোসাইটিতে আমার এক্টা প্রেস্টিজ আছে। ম্যানেজম্যান্ট এসব এলাউ করে না... আন্ডারস্ট্যান্ড?”। আমার এক্টা স্ট্যাটাস আছে না মা? মা হা কৈরা শুনে। ‘আন্ডারস্ট্যান্ড’ এ জোর দেইখা হয়তো মনে মনে খাড়াইয়া যাইতে চায়।
শুক্রবার জুম্মা নামাজ শেষে সব্বাই একত্রে দুপুরের খাবার খেতাম। খাওয়ার সময় চলত খোঁচা খুঁচি
। আর এটা এখন ফ্রাইডের স্পেশ্যাল লাঞ্চ। এভরি উইকের এই লাঞ্চ টাইমটাই শুধু ফ্যামিলির সাথে মিট করি। খাওয়া শেষে যখন “এক্সকিউজমি” বলে টেবিল ছাড়ি... সবাই একটু কিরম কৈরা তাকায়। আমি কেয়ার করি না। মনে মনে ভাবি... কার্টেসি শিখানো গেল না এদের। অন্যরা মুচকি হাসে।
এইটা হইল পুত্রের কর্পোরেট ফুটানির প্রথম জায়গা...
পুরাতন বন্ধুরা দিন দিন ব্যাকডেটেড হয় ... নতুন কর্পোরেট বন্ধু তৈরি হয়। রাস্তাঘাটে আড্ডানোর দিন সেই কবেই শেষ করে এসেছি... অফিসে শেষে এখন আড্ডাই বড় কোন হোটেলে। চোখ লাল করে গভীর রাতে বাড়ি ফিরি।
আচ্ছা তখন মায়ের মনে কী ভাবনা আসে? মা কি ছেলের পরিবর্তনে কষ্ট পায়? হয়তো মা ভাবে ... আহা পোলাডা আমার বড় অফিসার হৈছে
। কত কাজ করতে হয় আমার ছেলেটার। আর আমি ভাবি মায়ের আদিখ্যেতা
।
প্রতিদিন দূরত্ব বাড়ে মায়ের সাথে। নিজেকেই হারিয়ে ফেলি। অজান্তেই কি সুখের দরজা বন্ধ করছিনা? হায়রে সুখ... কি যে এটা বুঝলাম না।
ভাবি... হায়রে আমার বোকা মা... দুনিয়াটা ক্যান যে তোমার মত এত্ত সহজ হয় না?





হ
হ
এহনো চাক্রিবাক্রি পাই নাইক্কা
আসলেই।
হায়রে আমার বোকা মা... দুনিয়াটা ক্যান যে তোমার মত এত্ত সহজ হয় না?

আমার ক্ষেত্রে পুরা উল্ডা। হা করলেও মায় বুঝে আম খাইতে চাই না বিস্কুট।
humm
হুমমম
কথা ঠিক।
মা'রা সবসময় বোকাই হয়...
মা'রা বোকা নাকি আমরাই বোকা...
স্মার্ট আর আঁতেল এই দুই শ্রেণী থেকে আমি দূরত্ব বজায় রাখি (চোখ টিপির ইমো)
গল্পের নায়ক কর্পোরেট লাইফে ইনকর্পোরেটেড হইতে পারে নাই। কারণ এখনও মায়ের সাথে একই বাসায় থাকে।
আরে মা ছাড়া আমিতো অচল :)
আর ঘটনা দেইখা শুইনার বর্ণনা :)
আমি এই জীবনে চাকরিই পাইলাম না, কর্পোরেট হই কেমনে?
মন্তব্য করুন