ইউজার লগইন

ফাঁসির আদেশ :: মাওলানা আবুল কালাম আজাদ ওরফে বাচ্চু রাজাকার

অবশেষে ...
দায়মুক্তির পালা শুরু হলো... প্রথম রায়... যুদ্ধাপরাধের রায়... বাচ্চু রাজাকারের ফাঁসির আদেশ... আশে পাশে মিছিল... এত এত মানুষের দাবী ... কেউ কর্ণপাত করেনি... স্বাধীনতার ৪ দশক পর... প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে যে অপরাধের বোঝা বয়ে বেরিয়েছি আমরা... আজকের শুরুটা তার কিছুটা হয়তো লাঘব হবে। শহীদদের রক্তের কাছে আমাদের অনেক ঋন... অনেক দায়...

আজ শহীদ জননী জাহানারা ইমামের কথা মনে পরে।

"মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জামায়াতে ইসলামীর সাবেক সদস্য (রুকন) আবুল কালাম আযাদের ফাঁসির আদেশ হয়েছে। আযাদ পলাতক থাকায় তাঁর অনুপস্থিতিতে এ মামলা রায় ঘোষণা করা হয়।
আজ সোমবার বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ রায় দেন। এটি একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধকালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় করা মামলার প্রথম রায়।
আজ বেলা পৌনে ১১টায় রায় পড়া শুরু করেন ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান। ১১টা পাঁচ মিনিটে রায় পড়া শেষ হয়। এ সময় ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি শাহিনুর ইসলাম ছিলেন।
স্থানসংকুলান না হওয়ায় আজ ট্রাইব্যুনাল-২-এর কার্যক্রম ট্রাইব্যুনাল-১-এ বসে। শুরুতে ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বলেন, এটা ১১২ পৃষ্ঠার একটি রায় এবং এখানে ১৩৪টি অনুচ্ছেদ রয়েছে।
আযাদের বিরুদ্ধে মামলায় গত বছরের ২৬ ডিসেম্বর যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়। আযাদের বিরুদ্ধে মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি ছিলেন সাহিদুর রহমান। এ মামলায় রাষ্ট্রনিযুক্ত আসামিপক্ষের আইনজীবী ছিলেন আবদুস শুকুর খান।"
সূত্র: প্রথম আলো

এই রাজাকারের জন্ম ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার যদুনন্দী ইউনিয়নের বড় খাড়দিয়া গ্রামে। গ্রামের নামে এলাকায় পরিচিতি পায় খাড়দিয়া বাচ্চু নামে।বক্তৃতায় বরাবরই ভালো ছিল। গেলমানগিরীতেও ভালো, তাই সহজেই ফাকি সেনাদের সাথে সুসম্পর্ক গড়ে তোলে। ফাকী সেনারাও খুশি হয়ে তাকে প্রচুর অস্ত্র, গোলাবারুদ দেয় বাঙ্গালি নিধনের জন্য, যা দিয়ে সে গঠন করে খাড়াদিয়া মিলিটারি বাহিনী
ফরিদপুরের প্রায় ৫০ গ্রামে শুরু করে হত্যা, ধর্ষন,অগ্নি সংযোগ, লুট ও চাঁদাবাজি। নতুন নাম পায় বাচ্চু রাজাকার।

এই বাচ্চু ও তার বাহিনী একাত্তরে নৃসংশ ভাবে হত্যা করে হাসামদিয়ার হরিপদ সাহা, সুরেশ পোদ্দার, মল্লিক চক্রবর্তী, সুবল কয়াল, শরৎ সাহা, শ্রীনগরের প্রবীর সাহা, যতীন্দ্রনাথ সাহা, জিন্নাত আলী ব্যাপারী, ময়েনদিয়ার শান্তিরাম বিশ্বাস, কলারনের সুধাংশু রায়, মাঝারদিয়ার মাহাদেবের মা, পুরুরার জ্ঞানেন, মাধব, কালিনগরের জীবন ডাক্তার, ফুলবাড়িয়ার চিত্তরঞ্জন দাস, ওয়াহেদ মোল্লা, দয়াল, মোতালেবের মা, যবদুল, বাদল নাথ, আস্তানার দরবেশ সহ বিভিন্ন জনপদের প্রায় শতাধিক মানুষকে।

খাড়দিয়া বাচ্চু
দরিদ্র পরিবারে বড় হওয়া বাচ্চু মাদ্রাসা শিক্ষা শেষ ভর্তি হয়েছিল ফরিদপুর রাজেন্দ্র কলেজে। বাকপটুতার কারণে কলেজে সহজেই পরিচিতি পেয়েছিল বাচ্চু। কলেজে থাকাকালীন সময়েই শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ। পাকি সেনাদের সাথে সখ্যতা গড়ে বাচ্চু কবজা করে প্রচুর অস্ত্র, গোলাবারুদ। এই গোলাবারুদ, অস্ত্র নিয়ে খাড়দিয়ায় তৈরি করে নিজস্ব এক মিলিটারি বাহিনী। গ্রামের প্রায় শতাধিক যুবককে নিয়ে তৈরি এই মিলিটারি বাহিনী স্থানীয়দের কাছে পরিচিত ছিল, “খাড়দিয়ার মেলিটারি” নামে। পাক- বাহিনীর দোসর এই বাহিনী খাড়দিয়ার আশে পাশের প্রায় ৫০ গ্রাম জনপদে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে চালিয়েছিল তান্ডবলীলা।

স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, এই বাচ্চু ও তার বাহিনী একাত্তরে নৃসংশ ভাবে হত্যা করে হাসামদিয়ার হরিপদ সাহা, সুরেশ পোদ্দার, মল্লিক চক্রবর্তী, সুবল কয়াল, শরৎ সাহা, শ্রীনগরের প্রবীর সাহা, যতীন্দ্রনাথ সাহা, জিন্নাত আলী ব্যাপারী, ময়েনদিয়ার শান্তিরাম বিশ্বাস, কলারনের সুধাংশু রায়, মাঝারদিয়ার মাহাদেবের মা, পুরুরার জ্ঞানেন, মাধব, কালিনগরের জীবন ডাক্তার, ফুলবাড়িয়ার চিত্তরঞ্জন দাস, ওয়াহেদ মোল্লা, দয়াল, মোতালেবের মা, যবদুল, বাদল নাথ, আস্তানার দরবেশ সহ বিভিন্ন জনপদের প্রায় শতাধিক মানুষকে।
ফতোয়া সম্পর্কিত হাইকোর্টের যুগান্তকারী রায়ের রিরুদ্ধে লিভ আবেদন কারী ও বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ বাচ্চুর বর্তমান অবস্থা দেখে দীর্ঘশ্বাস ফেলেন, নগরকান্দা উপজেলার দাদপুর ইউনিয়নের নতিবদিয়া গ্রামের শোভা রানী বিশ্বাস। একাত্তরে তিনি এই আবুল কালাম আজাদের কাছে হয়েছিলেন ধর্ষিত। এ গ্রামেরই নগেন বিশ্বাসের স্ত্রী দেবী বিশ্বাসেরও সম্ভ্রম লুটেছিলেন বাচ্চু। নতিবদিয়ার প্রবীন দুই মৎস্যজীবি নকুল সরদার ওরঘুনাথ দত্ত ২০০০ সালে প্রকাশিত জনকন্ঠের “তুই রাজাকার” শীর্ষক ধারাবাহিক রিপোর্টের রিপোর্টার প্রবীর সিকদারকে জানান, লুটপাট- হামলা না করার শর্তে আমরা চাঁদা তুলে বাচ্চুকে দু’হাজার চার শ’ টাকা দিয়েছিলাম। তারপরও সে লুটপাট করেছে, গ্রামের দুই নববধূর ইজ্জত হরণ করেছে। পুরুরা গ্রামের জ্ঞানেন জীবন বাঁচাতে পুকুরে ঝাঁপ দিয়ে কচুরিপানার নীচে আশ্রয় নিয়েছিল। বাচ্চু সেখানেই তাকে নৃসংশ ভাবে হত্যা করে। বাচ্চুর রাইফেলের গুলিতে মর্মান্তিকভাবে প্রাণ হারান ফরিদপুরের ফুলবাড়িয়ার চিত্তরঞ্জন দাস। সেদিন তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী জ্যোৎস্না পালিয়ে রক্ষা পেলেও একাত্তরে বিনা চিকিৎসায় মারা যায় তার তিন শিশু সন্তান।

স্বাধীনতা পরবর্তী দীর্ঘদিন জ্যোৎস্না শুধু তার স্বামী হন্তারকের বিচার চেয়েছিলেন মনে মনে। অবশেষে এ বছর ৩ মে জ্যোৎস্না রানী দাস রাজাকার মাওলানা আবুল কালাম আজাদ ও তার শ্যালক মোহাম্মদ কাজীসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ মামলা করে।

এছাড়াও ২০ এপ্রিল সালথার পুরুরা গ্রামের ভক্ত রঞ্জন বিশ্বাস (৬৫) মাওলানার নামে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে হত্যা, লুটতরাজ, অগ্নিসংযোগ ও ধর্ষণের অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে। মাওলানা ছাড়াও তার শ্যালক মোহাম্মদ কাজীসহ অজ্ঞাত আরও ১০/ ১২ জনকে আসামী করে দায়ের করা এই মামলার আদালত ও এজহার সূত্রে বাদী পক্ষ থেকে জানা যায়, ১৯৭১ সালের পহেলা জ্যৈষ্ঠ দুপুর ১টায় জেলার সালথা উপজেলার ভাওয়াল ইউনিয়নের পুররা নমপাড়া গ্রামে আবুল কালাম আজাদ ও তার শ্যালক মোহাম্মদ কাজীসহ ১০/১২ রাজাকার সশস্ত্র অবস্থায় বাড়ি ঘেরাও করে। এ সময় তার বাবা মাধব চন্দ্র বিশ্বাস পালাতে গেলে আবুল কালাম আজাদ তার হাতে থাকা রাইফেল দিয়ে গুলি করে তাকে হত্যা করে। মামলায় আরো উল্লেখ করা হয়, ঘটনার দিন মাধব চন্দ্রের বাড়িতে আসা (আত্মীয়) জ্ঞানান্দি বিশ্বাসকে আবুল কালাম আজাদ, শ্যালক মোহাম্মদ কাজী ও তার সঙ্গীরা নিষ্ঠুরভাবে গুলি করে হত্যা করে। পরে তারা তার প্রতিবেশী মন্টু বকসির বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে চলে যায়। মামলায় বলা হয়, আসামিরা মাধব চন্দ্র বিশ্বাস, জ্ঞানান্দি বিশ্বাসকে হত্যা করা ছাড়াও নগরকান্দার ওহাব সরদার, মো. টুকু মোল্লা, কাঞ্চুন ফকির, আ. আদম মোল্লা, আ. হাচেন মিয়াসহ বহু মুক্তিযোদ্ধাকে নির্মমভাবে হত্যা করে। আসামিরা মুক্তিযোদ্ধা চলাকালে পাক হানাদারদের সঙ্গে আঁতাত করে এলাকার মুক্তিবাহিনী ও নারীদের ধরে পাক সেনাদের কাছে তুলে দিতো।

পরে জেলা জুডিশিয়াল কোর্টের প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট বিচারক মোতাহারাত আক্তার ভূইয়া সালথা থানাকে মামলা হিসেবে গণ্য করার নির্দেশ দেন।

সেক্টর কমান্ডার্স ফোরাম এর দেওয়া ৫০ যুদ্ধাপরাধীর তালিকায় ৪২ নম্বরে থাকা মাওলানা আবুল কালাম আজাদ সম্পর্কে ঐতিহাসিক আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার আসামি বীর মুক্তিযোদ্ধা নূর মোহাম্মদ ক্যাপ্টেন বাবুল সমকালকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানান, ‘বাচ্চু রাজাকার ’৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় অসংখ্য মুক্তিযোদ্ধাকে পাকবাহিনীর কাছে ধরিয়ে দিয়েছে এবং আর্মি ক্যাম্পে গিয়ে বন্দিদের মধ্য থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের শনাক্ত করেছে। বিভিন্ন এলাকা থেকে মেয়েদের ধরে এনে বাচ্চু রাজাকার পাক সেনাদের ক্যাম্পে সাপ্লাই দিত। ’৭১ সালের মাঝামাঝি সময়ে আমি মুক্তিযোদ্ধাদের বড় একটি দল নিয়ে ফরিদপুর শহরে প্রবেশের পথে বাচ্চু রাজাকারের বাহিনীর বাধার সম্মুখীন হয়েছিলাম, যদিও তাদের পরাস্ত্র করে আমরা শহরে ঢুকে পড়ি। ’৭১ সালের আনুমানিক ২ মে পাকবাহিনী ফরিদপুরের হাসামদিয়া ও ময়েনদিয়া গ্রামে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ চালায়। এ সময় তাদের প্রধান দোসর হিসেবে বাচ্চু রাজাকার তাদের সঙ্গে ছিল এবং সে নিজে চারজন নিরীহ গ্রামবাসীকে হাত বাঁধা অবস্থায় গুলি করে হত্যা করে।

১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালে মাওলানা আবুল কালাম আজাদের স্বাধীনতাবিরোধী ভূমিকার প্রত্যক্ষদর্শী জেলা বোয়ালমারীর কালিনগরের মুক্তিযোদ্ধা মো. ইদ্রিস ফকির জানান, “১৯৭১ সালে জুলাই মাসের শেষদিকে বাচ্চু রাজাকারের (আবুল কালাম আজাদ) নেতৃত্বে বোয়ালমারী ডহরনগর এলাকার বাবুবাড়ীর সুধাংশ বাবু ও তার পরিবারের সদস্যদের গুলি চালিয়ে হত্যা এবং তাদের বাড়ি লুটপাট করে। তিনি বলেন, সেদিন তারা (আবুল কালাম আজাদ) বাবুবাড়ীতে হত্যাকা- চালিয়ে ডহরনগর এলাকার সাব-রেজিস্ট্রার অখিল চন্দ্রের বাড়িতে গিয়ে জীবন চক্রবর্তীকে ধরে এনে রূপাপাত বাজারের হারান সাহার দোকানের সামনে গুলি চালিয়ে হত্যা করে”।

মুক্তিযোদ্ধা এ কে এম আবু ইউসুফ সিদ্দিকী জানান,
“আমি পাকবাহিনীর হাতে ধরা পড়ে ফরিদপুর স্টেডিয়ামের পাশে বন্দিশিবিরে আটকা পড়ি। তিনি বলেন, আমি দেখেছি বাচ্চু রাজাকার জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে নারী-পুরুষ এনে পাক সেনাদের হাতে তুলে দিতো। তিনি জানান, বাচ্চু পাক দোসরদের সঙ্গে বন্দিশিবিরের আটককৃতদের নির্যাতন করতো। আমি একদিন বাচ্চুর এ কাজের প্রতিবাদ করলে সে আমাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন চালায়”।
ফরিদপুরের মুক্তিযোদ্ধা ইউনিট কমান্ডার আবুল ফয়েজ শাহনেওয়াজ জানান,
“বাচ্চু রাজাকার জেলার নগরকান্দা, সালথা ও বোয়ালমারী অঞ্চলে রাজাকার আলবদর বাহিনীর নেতৃত্ব দিয়েছিল। সে (বাচ্চু) মুক্তিযোদ্ধাদের ধরে এনে পাক সেনাদের হাতে তুলে দিতো”।
ফরিদপুর সদর উপজেলার চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট শামসুল হক ভোলা মাস্টার জানান,
“১৯৭১ সালে ১৬ ডিসেম্বরের পর দীর্ঘদিন এলাকা ছেড়ে পালিয়েছিল বাচ্চু রাজাকার। তিনি বলেন, রাজাকার আবুল কালাম আজাদ দেশ স্বাধীনের পর যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে দীর্ঘদিন হাজতবাস করেছে”।
মুক্তিযুদ্ধকালীন নগরকান্দা এলাকার কমান্ডার আলতাফ হোসেন জানান,
“একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে রাজাকার বাচ্চু পাকিস্তানি হানাদারদের প্রত্যক্ষ সহযোগিতা করে। সে এলাকায় সশস্ত্র রাজাকার বাহিনী গড়ে তুলে ফরিদপুর, নগরকান্দা ও বোয়ালমারীতে হত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ চালায়। তার বাহিনীকে এলাকার মানুষ ‘খাড়দিয়ার মিরিটারি’ নামে চিনতেন।’ তিনি আরো বলেন,‘৭১ সালে আমি মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে ৩ বার তাকে ধরার জন্য হানা দেই। কিন্তু রাজাকার বাচ্চু তার শ্বশুর চাঁন কাজীর বাড়িতে পালিয়ে যাওয়ায় প্রতিবারই জানে বেঁচে যায়”।
১৯৭১ সালের ডিসেম্বরে মুক্তিযুদ্ধে চুড়ান্ত বিজয় অর্জিত হবার পরএলাকা থেকে পালিয়ে যায় বাচ্চু। আবু সাঈদ খান প্রণীত ‘মুক্তিযুদ্ধে ফরিদপুর’ গ্রন্থের ১৬৯-১৭০ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করা হয়েছে,
‘বাচ্চু রাজাকারের বিরুদ্ধে ফরিদপুরের বোয়ালমারী থানায় ’৭২ সালে দালাল আইনে যে মামলা হয়েছিল তার নম্বর-১৯ ও ২০, তারিখ ২৩/৩/৭২, ধারা। এই মামলার কারণে পরবর্তীতে তাকে গ্রেফতার করে হাজতে ঢোকানো হয়। কিন্তু পঁচাত্তর পরবর্তী রাজনৈতিক পট পরিবর্তনে জেল থেকে ছাড়া পান বাচ্চু। জেল থেকে বের হয়ে তিনি মাওলানা আবুল কালাম আজাদ নাম নিয়ে নতুন জীবন শুরু করে। স্বাধীনতার সময় লুট করা কোটি টাকার সম্পদ দিয়ে ধীরে ধীরে প্রভাব বিস্তার শুরু করে । আগের বাহিনীর সদস্যের জমা করে শুরু হয় স্বাধীন দেশে বাচ্চুর নতুন তান্ডব। ততদিনে বিশিষ্ট মাওলানা হয়ে যাওয়া বাচ্চুর একাত্তরের কুকীর্তি প্রচার করতে যেয়ে খুন হয়েছিল, ফরিপুরের যুবলীগ নেতা ছিরু মিয়া। আদালতে তার (বাচ্চু) নামে হত্যা মামলা দায়ের করা হলেও, মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে সে জামিন পেয়েছিল।
উল্লেখ্য, ২০০০ সালে সাংবাদিক প্রবীর সিকদার দৈনিক জনকণ্ঠে বাচ্চুসহ ফরিদপুর অঞ্চলের রাজাকারদের নিয়ে ‘তুই রাজাকার’ শীর্ষক প্রামাণ্য সিরিজ প্রতিবেদন করায় তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে অস্ত্র, গুলি ও বোমা হামলা চালানো হয়।

0002.jpg
0001.jpg

এই বক্তব্য টিভিতে প্রচারিত হবার পর, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি ফরিদপুর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান খোকন এ ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন,
"খাড়দিয়ার বাচ্চু এখন মাওলানা আবুল কালাম আজাদ সেজে টিভিতে যেসব কথা বলছে তা হাস্যকর। ফরিদপুরের সর্বস্তরের মানুষ জানেন, ৭১ সালে সে রাজাকার ছিল। সরকার যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করতে বিলম্ব করাতে এসব মুক্তিযুদ্ধবিরোধী ব্যক্তি এতো বড়ো বড়ো কথা বলার সাহস পাচ্ছে। এই বাচ্চু একাত্তর সালে তার নিজ এলাকা ও ফরিদপুর শহরে পাকিস্তানি সেনাদের সহায়তায় নারীদের ধরে এনে নির্যাতন চালাতো। ফরিদপুর শহরের দুটি হিন্দু বাড়ি দখল করে সেখানে নির্যাতন ক্যাম্প বসিয়েছিল এই কুখ্যাত রাজাকার। লুটের টাকা দিয়ে সে ঢাকার মিরপুরের ২নং পুলিশ ফাঁড়ির সামনে একটি বাড়িও কিনেছে। তাকে ধরে আইনের আওতায় এনে পুরো জাতির সামনে বিচার করতে হবে। সাংবাদিক প্রবীর সিকদারসহ অন্যান্য সাংবাদিকদের ব্যাপারে সে যেসব কটুক্তি করেছে তার জন্য তাকে প্রকাশ্যে নি:শর্ত ক্ষমা চাইতে হবে। নইলে আমরা তার শাস্তির দাবিতে আন্দোলনে নামবো"।
সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন খবর এবং বর্তমানে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের গন দাবী ওঠায় দেশ ছেড়ে কয়েকদিন আগে আমেরিকা চলে যান বাচ্চু। এনটিভি বাচ্চুকে বাদ দেয় তাদের অনুষ্ঠান থেকে। আমেরিকা চলে গেলেও কুকর্ম করা ছাড়েন নি এই সো কল্ড মাওলানা। ২৫ জানুয়ারী২০০৯ সন্ধ্যায় জ্যামাইকার একটি মসজিদে তহবিল সংগ্রহের নামে মৌলবাদীদের তহবিল সংগ্রহ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতা রাখার সময় প্রতিবাদ জানায় এবিসিডিআই সহ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সংগঠনসমূহ। এই সময় বিক্ষোভকারীদের অশালীন ভাষায় (মা-বোনসূচক) গালাগালি করা হয়।এবং পরে প্রতিবাদী সমাবেশের উপর কুখ্যাত রাজাকার বাচ্চু ও ৭১’এর ঘাতক রাজাকার আশরাফুজ্জামানের প্ররোচনায় জনৈক মকবুল হোসেন জহির ছুরি নিয়ে হামলা করে। মুখঅবয়বে ঘুষি ও ছুরি দিয়ে আঘাত করে বিশিষ্ট বীর মুক্তিযোদ্ধা ও যুক্তরাষ্ট্র শ্রমিকলীগ সভাপতি এম,আর,আমিনকে মারাত্মকভাবে আহত হয়েছিল। পরে নিউইয়র্ক পুলিশ এসে হামলাকরী জহিরকে গ্রেফতার করে এবং তহবিল সংগ্রহ অনুষ্ঠান বাতিল করে দেয়।

সংগ্রহ: http://warcrimebd.blogspot.com/2012/04/blog-post_04.html

ফরিদপুরের আতঙ্ক বাচ্চু রাজাকার

বাচ্চু রাজাকার- মৌলানা নামের আড়ালে কুৎসিত হায়েনা

বাচ্চু রাজাকার গুলি করে মাধবকে হত্যা করে : সাক্ষী

পোস্টটি ৯ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

নুরুজ্জামান মানিক's picture


জয় বাংলা !

তানবীরা's picture


পলাতক আসামী দিয়ে শুরু হলো!!!!! মনোবেদনা Sad(

টুটুল's picture


শুরু যাকে দিয়েই হোক... সেটা বিবেচ্য নয়... শুরুটা জরুরী ছিল

নিভৃত স্বপ্নচারী's picture


চার দশক পরেও হলেও জাতির দায়মুক্তির পর্ব শুরু হল। অভিনন্দন ! Smile

শওকত মাসুম's picture


আজকের রায় কেবল মানবতা বিরোধী অপরাধের রায়ই নয়, একটা অভিযোগ ছিল গণহত্যার। এই প্রথম বাংলাদেশে গণহত্যারও রায় হল। তিনটি অভিযোগ ছিল মানবতাবিরোধী অপরাধের, একটি গণহত্যার। চারটিতেই মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সুতরাং এই রায় গণহত্যারও

আরাফাত শান্ত's picture


পলায়া থাকুক আর জাহান্নামে থাকুক রায় তো হলো ফাসির তাতেই শুকরিয়া!

রাফি's picture


আনন্দের খবররে ভাই। এই কথাগুলো লেখতেও আনন্দ লাগতেছে।

দেশের ইতিহাসে এইটা একটা যুগান্তকারী রায়। আর টেকনিক্যালিও ঠিক আছে। কারন বাচ্চু রাজাকার পলিটিক্যালী ছোট চাই। তাই এইটা দিয়ে শুরু হওয়ায় বিচার হবে কিনা তা নিয়ে সংশয় কেটে যাবে, আর পাব্লিকও মানসিকভাবে প্রস্তুত হবে বড়গুলোর জন্য।

যারা এতদিন মনের কোনে ক্ষীণ আশা নিয়ে বসে ছিলো যে "বিচার হবে না মনে হয়", "আলীগ এত সাহস করবে না","ইস্লামী দেশগুলা খেপবে"-- আইজ তাদের আশার বাত্তির কেরোসিন ফুরাবে।

জ্যোতি's picture


রায় আনন্দের। তবে ফাঁসি কার্যকর হলেই পূর্ণ আনন্দ আসবে।

মীর's picture


খুশির খবর। একটা রাজাকারের ফাঁসির আদেশ হইসে। বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো। এটা একটা জাতিগত অর্জন। স্বাধীনতা আর বাংলাদেশের পক্ষের প্রতিটি মানুষই এ খবরে খুশি হয়েছে। আমিও খুশি। কিন্তু একই সঙ্গে একটা কথাও বলতে চাই।

ফাঁসি কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত এই রায়ে হালকা খুশি হওয়া ছাড়া আর কিছু হওয়ার কোনো কারণ নাই। একে তো পলাতক আসামী, তারপরে আবার কোথায় আছে কেউ জানে না।

যেখানে দেশের ভেতর একটা মেয়েকে অ্যাসিড মেরে পালিয়ে যাওয়া দুবৃত্তকে পুলিশ এক সপ্তাহে ধরতে পারে না, সেখানে বিদেশে পালিয়ে থাকা একটা রাজাকার, যুদ্ধাপরাধী, গণহন্তারককে খুঁজে এনে ফাঁসি দেয়া হবে- সেই আশা খুব বেশি হালে পানি পাচ্ছে না।

দেলু রাজাকারের মামলাও প্রায় শেষ পর্যায়ে। যেকোন সময় রায় ঘোষিত হবে। সেই ঘোষণা যখনি দেয়া হবে, তখনি সেটার বাস্তবায়ন দেখতে চাই। বাচ্চু রাজাকার পলাতক বলে তার জন্য অপেক্ষা করতে রাজি আছি। অন্যদের কারো জন্যই কিন্তু অপেক্ষা করতে রাজি নই। এ ট্রাইব্যুনালে রায় একবার হয়ে যাওয়ার পর কিন্তু অন্য কোথাও আপিলের আর সুযোগ নাই। কেবল রাষ্ট্রপতির ক্ষমার অপশন ছাড়া আর সব অপশন বন্ধ। তাই এরপরে যারই রায় ঘোষিত হবে, ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে বাস্তবায়নও দেখতে চাই।

দেশের অবস্থা খুব একটা ভালো না। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এত খারাপ যে, আমরা নিজেদের নিরাপত্তা আজকাল নিজেরাই দিই। এছাড়া আর কোনো উপায় সরকার রাখে নাই। নিজেকে নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হলে খুন-ধর্ষণ-নারকীয় নৃশংসতার শিকার হই এবং সেটা মুখ বুজে সহ্য করে নিই। কেবল একটা কারণে। তা হলো, রাজাকারদের বিচার হচ্ছে।

প্রথম রায়টা একটা পলাতক আসামীর বিরুদ্ধে এসেছে। পরের রায়গুলো পলাতক আসামীদের বিরুদ্ধে আসবে না। তখন কিন্তু কোনো দেরি সহ্য করা হবে না। এই কথাগুলো সরকারের জানা থাকা দরকার।

১০

টুটুল's picture


অবশ্যই

১১

বিষণ্ণ বাউন্ডুলে's picture


টিপ সই

১২

স্বপ্নের ফেরীওয়ালা's picture


অবশেষে ...

যারা পালাতে সাহায্য করেছে তাদের একটু খোঁজ লাগানো দরকার...

~

১৩

বিষণ্ণ বাউন্ডুলে's picture


ফাঁসির রায় কার্যকর করাটা যেন আগামি নির্বাচনের নির্বাচনী ইস্তেহার না হয়ে দাড়ায়, এটাই প্রার্থনা।

১৪

মিশু's picture


জয় বাংলা

বাংলাদেশ

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

টুটুল's picture

নিজের সম্পর্কে

আমি আছি, একদিন থাকবো না, মিশে যাবো, অপরিচিত হয়ে যাবো, জানবো না আমি ছিলাম।

অমরতা চাই না আমি, বেঁচে থাকতে চাই না একশো বছর; আমি প্রস্তুত, তবে আজ নয়। আরো কিছুকাল আমি নক্ষত্র দেখতে চাই, শিশির ছুতেঁ চাই, ঘাসের গন্ধ পেতে চাই, বর্ণমালা আর ধ্বনিপুঞ্জের সাথে জড়িয়ে থাকতে চাই, মগজে আলোড়ন বোধ করতে চাই। আরো কিছুদিন আমি হেসে যেতে চাই।

একদিন নামবে অন্ধকার-মহাজগতের থেকে বিপুল, মহাকালের থেকে অনন্ত; কিন্তু ঘুমিয়ে পড়ার আগে আমি আরো কিছু দুর যেতে চাই।

- হুমায়ুন আজাদ